Category: লাইফ স্টাইল

  • লকডাউনে মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কী করবেন

    লকডাউনে মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কী করবেন

    এবিএনএ : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি থমকে আছে। দীর্ঘ সময় ঘরে থেকে মানুষের মনে ভর করছে বিষন্নতা। এতে অনেক ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারি মোকাবেলায় অনেকে হয়তো নিজেকে গৃহবন্দী রাখছেন, সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন। তবে যারা নিয়মিত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, কিংবা ঘন ঘন ভ্রমণ করেন তাদের জন্য লকডাউনটা খুব কঠিন সময়। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের এক জায়গায় থাকতে থাকতে মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

    এই সময় মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। যেমন-

    ১. নিজেকে দিনভর সচল রাখুন।

    ২. নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা দূর করতে গান শুনুন, বই পড়ুন, ছবি আঁকুন । পারলে ঘরে ফুলের গাছ লাগান।  বিনোদনমূলক কিছু দেখার চেষ্টা করুন।

    ৩. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।

    ৪. বয়স্ক মানুষেরা মৃত্যু ভয়ে ভুগতে পারেন। তাদের সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটান।

    ৫.  শিশুদের এমনভাবে ব্যস্ত রাখুন যাতে তারা বিষন্নতা এবং একাকীত্বে না ভোগে।

    ৬. উদ্বেগ অনুভব করলে কয়েক মিনিটের জন্য শান্তভাবে বসে গভীর শ্বাস- প্রশ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন করুন।

    ৭. অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

    ৮.  রাগ এবং বিরক্ত বোধ হলে পেছন থেকে সংখ্যা গোনা অর্থাৎ ১০ থেকে ১ পর্যন্ত গণনা করে মনকে শান্ত করুন।

    ৯. একাকীত্বে ভূগলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।

    এই সময় অনেকেই সর্দি, কাশিসহ ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার ঝুঁকি থাকায় এমন ব্যক্তিদের শুরু থেকেই আইসোলেশনে থাকার পরামর্শে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতেও অনেকের মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন-

    ১. কারণ ছাড়া অযথা আতঙ্কিত হবেন না।

    ২. চাঞ্চল্যকর সংবাদ বা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলি থেকে দূরে থাকুন।

    ৩. কে অসুস্থ হলেন? কতজন অসুস্থ হলেন এবং কীভাবে হলেন সে সম্পর্কে জানা বন্ধ করুন।

    ৪. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

    ৫. তামাক, অ্যালকোহল এবং অন্যান্য নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলি মানসিক স্বাস্থ্যকে আরও খারাপ করতে পারে।

    ৬. করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হবেন না। মনের জোর বজায় রাখুন।  মনে রাখবেন এই রোগে বেশিরভাগ মানুষই সুস্থ হয়ে উঠছেন।

    ৭. সকাল এবং সন্ধ্যায় কিছু শারীরিক যোগ ব্যায়াম ও মেডিটেশন করুন।

    ৮. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, ফলমূল খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

  • করোনা পজেটিভ হলে ঘরে যেভাবে চিকিৎসা করবেন

    করোনা পজেটিভ হলে ঘরে যেভাবে চিকিৎসা করবেন

    বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। দেশেও এর সংক্রমণ বাড়ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব করোনা রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই। তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় রোগীকে ঘরে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কী হবে সেই চিকিৎসা পদ্ধতি? করোনা পজেটিভ রোগীর ঘরোয়া চিকিৎসা বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কনসালট্যান্ট ডা. রাজীব কুমার সাহা।

    তিনি বলেন, ‘অনেকের ধারণা করোনা পজেটিভ হলেই মনে করেন, তিনি আর বাঁচবেন না। আমি প্রথমেই বলতে চাই- করোনা মানেই জীবনঘাতী কোনো রোগ নয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীর সমস্যা জটিল নয়। অন্যসব সাধারণ ঠান্ডা, কাশি, জ্বরের মতো তাদেরও বাসায় চিকিৎসা করা সম্ভব। অবশ্য এক্ষেত্রে তাদের বাসায় কিছু পরিবর্তন এবং কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।’

    পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের রোগীরও করোনার চিকিৎসা বাসায় থেকে হচ্ছে। এটি খুব স্বাভাবিক। বিষয়টিকে ‘হোম আইসোলেশন’ পদ্ধতি উল্লেখ করে ডা. রাজীব কুমার সাহা করোনা পজেটিভ রোগীর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরামর্শ দেন:

    * বাসায় রোগীর জন্য অবশ্যই আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    * আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে।

    * রোগীর জামা-কাপড়, ব্যবহারের জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।

    * রোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে চার সপ্তাহ আলাদা থাকবেন। তবে একই পরিবারের সবাই কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে তারা একসঙ্গে থাকতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পরিবারের কেউ বাইরে যেতে পারবেন না অথবা বাইরে থেকে কেউ বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

    * বাসায় রোগী এবং অন্যান্য সবার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

    * হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

    * রোগীকে বাসায় পর্যাপ্ত পরিমাণে (দিনে দুই থেকে তিন লিটারের মতো) পানি খেতে হবে।

    * গরম পানি দিয়ে দিনে ২-৩ বার গার্গেল করতে হবে। তবে গরম পানি পানের প্রয়োজন নেই।

    * সব ধরনের স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে। তবে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। লেবু, কমলা, মাল্টা বেশি খেতে পারেন।

    * বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। এতে রোগ সংক্রমণ আশঙ্কা কমানো সম্ভব।

    * বাসার মেঝে জীবাণুমুক্ত করতে বারবার অ্যান্টিসেপ্টিক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

    করোনায় আক্রান্ত রোগী কী ধরনের ওষুধ গ্রহণ করবেন। এ প্রসঙ্গে ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তিনিই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। তবে-

    * সাধারণভাবে জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথার জন্য রোগী তিন বেলা প্যারাসিটামল খাবেন। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে।

    * ঠান্ডা, শুকনো কাশির জন্য এন্টি হিস্টামিন যেমন ফেক্সোফেনাডিন, লরাটিডিন, রুপাটিডিন ইত্যাদি খাওয়া যাবে।

    * বাসায় নেবুলাইজার দিয়ে গ্যাস দেওয়া যাবে না।

    * অন্যান্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে পারবেন। যেমন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।

    * ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ আগে থেকে যারা খাচ্ছেন তারা সেগুলো চালিয়ে যাবেন।

    মনে রাখতে হবে, রোগী মানসিকভাবে সুস্থ থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন। তাছাড়া যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। কী কারণে হাসপাতালে যেতে হতে পারে এ প্রসঙ্গে ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, যাদের বাসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ আলাদা কক্ষ নেই, দেখাশোনা করার লোক নেই বা পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনেক। এছাড়া-

    * রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে।

    * রোগীর যদি কাশি বা জ্বর অনেক বেড়ে যায়।

    * রোগী যদি অতিরিক্ত দুর্বল অথবা অজ্ঞান হয়ে যায়।

    * যাদের অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যানসারসহ জটিল রোগ আছে।

    সবশেষে এই মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, এ সময় সব ধরনের গুজব এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার এড়িয়ে চলতে হবে। সারাদিন করোনা নিয়ে চিন্তায় পড়ে থাকবেন না। নিজ ধর্ম চর্চার প্রতিও তিনি এ সময় মনোযোগী হতে বলেছেন। তবে অবশ্যই তা সম্মিলীতভাবে নয়।

  • মসজিদে নয় বাসায় শবে বরাতের আমলের আহ্বান আলেমদের

    মসজিদে নয় বাসায় শবে বরাতের আমলের আহ্বান আলেমদের

    এবিএনএ : মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে শবেবরাত উপস্থিত মুসলমানদের সামনে। আজকের রাতটি মুসলিম মিল্লাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। সামাজিক বিচ্ছিন্নতার স্বার্থে সারা দেশে মসজিদগুলোতে বড় জামায়াতে নামাজের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করছেন আলেমরা। এমতাবস্থায় আজকে শবেবরাতের নামাজ ও অন্যান্য এবাদত বাসায় একাকী আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    করোনাভাইরাসের কারণে পবিত্র শবে বরাতে মসজিদ, কবরস্থান ও মাজারে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইফা বলেছে শবে বরাতের রাতে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ না পড়ে ঘরে নামাজ পড়তে। একই সঙ্গে মাজার ও কবরস্থানের গেট বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটাহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, শবে বরাতে একাকী ইবাদত করা রাসূল সা.-এর সহীহ হাদীস ও আছারে সাহাবা (সাহাবীদের আমল) থেকে প্রমাণিত। তাই বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করুন। নিজেদের কৃত গুনাহ থেকে তওবা করুন। বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িতে না গিয়ে নিজ নিজ ঘরে একাকী ইবাদতের মাধ্যমে শবে বরাত পালন করা উচিত।

    প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র শবে বরাতে ঘরে বসে ইবাদত করতে মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

    বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শবে বরাতে আমাদের দেশের মানুষ মসজিদে সমবেত হয়ে ইবাদত করেন। কিন্তু ইবাদত ব্যক্তিগত বিষয়, সম্মিলিত নয়। তারাবির নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নফল নামাজের জন্য মানুষকে ডাকাডাকি করে মসজিদে উপস্থিত করা- শরীয়ত অনুমোদিত নয়।

    আল্লামা মাসউদ বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে বসে ইবাদত করে শবে বরাত পালনে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য ইবাদতকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ঘোরাঘুরি করা, শোরগোল করা শরীয়ত ও আইনবিরোধী।

    শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, দেশের আলেমদের পরামর্শ নিয়েই সবাইকে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সরকার যদি জনস্বার্থে শরীয়ত বিরোধী নয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় সেক্ষেত্রে তা মান্য করা জরুরি।

    সুতরাং সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে মসজিদে মুসুল্লিদের না যাওয়ার ব্যাপারে সেটা ওলামায়ে কেরামের পরমার্শ মোতাবেকই নিয়েছে। সবার জন্য এটা অনুসরণ করা কর্তব্য। লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, শবে বরাতে মসজিদে জামায়াতবদ্ধ হয়ে আনন্দ করা, হইচই করা ও গণজমায়েত করাও বিদআত। কেননা সালাফে সালেহীন থেকে এমন রীতি পাওয়া যায় না।

    বিশেষত মহামারীর প্রেক্ষিতে এ বছর কোনভাবেই মসজিদে জমায়েত করা যাবে না। শবে বরাতের রাতের আমল মুসতাহাব আর নিজের-সমাজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা ওয়াজিব। তিনি বলেন, বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শবে বরাতে নফল ইবাদতের জন্য মসজিদে জমায়েত হওয়ার কোন অনুমোদন কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী আইনে নেই৷ শরীয়তের বিধান অমান্য করে যারা আবেগের টানে মসজিদে যাবে,তারা ভুল করবে এবং অন্যের ক্ষতির কারণ হবে, যা নাজায়েজ।

  • ঘর জীবাণুমুক্ত রাখবেন যেভাবে

    ঘর জীবাণুমুক্ত রাখবেন যেভাবে

    এবিএনএ : প্রতিটি মানুষের কাছেই নিজ বাড়ি বা ঘর নিরাপদ জায়গাগুলোর একটি। তবে আপনার একটি ভুলে নিরাপদ স্থানটি হয়ে উঠতে পারে ভয়ানক। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার অজান্তে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে করোনা নামক প্রাণঘাতী ভাইরাসের জীবাণু। আপনারই খোলা হাত, জুতা, পোশাক বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে আসতে পারে করোনাভাইরাসের জীবাণু।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, পরিষ্কার করা আর জীবাণুমুক্ত রাখা দুটো আলাদা বিষয়। ঘর-বাড়ি দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও সেখানে থাকতে পারে জীবাণু। বিভিন্নস্থানে ভাইরাস বিভিন্ন সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারে। যা আপনার ও আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

    শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারকে রক্ষার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘর সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা। ঘর-বাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা নির্ভর করে মানুষের পরিস্থিতি ও চারপাশে কী ঘটছে তার উপর।

    অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের কেউ যদি অসুস্থ নাও থাকে, তারপরও সতর্কতা হিসেবে প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা উচিৎ। এর জন্য বাজারে পরিষ্কার করার যেসব পণ্য পাওয়া যায় তাই যথেষ্ট। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এমন জায়গাগুলোতে মনোনিবেশ করতে হবে, যেগুলো সবার সংস্পর্শে বেশি আসে। দরজার হাতল, বৈদ্যুতিক সুইচ, টেবিল, ফোন, কিবোর্ড, টয়লেট, কিচেন সিঙ্ক ইত্যাদি গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যেকোনো কিছু জীবাণুমুক্ত করার আগে, গ্লাভস পরা উচিত। আর পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত করার পর অবশ্যই হাত সাবান ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।’

    এই মাইক্রোবায়োলজিস্ট আরও জানান, সবচেয়ে বেশি জীবাণুর দেখা পাওয়া যায় রান্নাঘরে বা যেখানেই খাবার তৈরি করা হয় সেখানে। কিংবা, যেসব পাত্রে খাবার পরিবহন করা হয় সেগুলো জীবাণুদের অভয়াশ্রম। তাই, বাজারের ব্যাগ বারবার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    সবশেষে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরে না গেলেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের ঘন ঘন হাত ধুতে হবে। আর এই সময় বাড়িতে অতিথিদের আসতে নিরুৎসাহিত করা ভালো।’

  • করোনার একমাত্র ওষুধ ‘এক টুকরা লেবু আর এক কাপ গরম পানি’

    করোনার একমাত্র ওষুধ ‘এক টুকরা লেবু আর এক কাপ গরম পানি’

    এবিএনএ : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫শ’ ৯১ জন। প্রতিক্ষণে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ৯৫ হাজার আটশ’ ৯২ জন সুস্থ হয়েছেন। এই ভাইরাসের মহামারীতে যখন স্তব্ধ পুরো বিশ্ব তখন এ থেকে সুস্থ হওয়ার মূল রহস্য ফাঁস করলেন চীনের বেনজিং মিলিটারি হাসপাতালের সিইও প্রফেসর চেন হরেন।

    তিনি বর্তমানে গ্রেফতারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। মিনজি বলেছেন, করোনাভাইরাসে তেমন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। করোনা থেকে বাঁচাতে পারে এক টুকরা লেবু আর এক কাপ গরম পানি। এক্ষেত্রে একটি লেবু টুকরা করে কেটে এক কাপ গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। লেবুর এই পানীয়টি শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকায়। এই পানীয় ঠিক ওষুধের ন্যায় কাজ করে।

    প্রতিদিন এই পানীয় পান করার পরামর্শ দিয়েছেন এই গবেষক। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক ও চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি জানিয়ে এর প্রতিরোধের উপায় জানিয়ে মিনজি আরও জানান, লেবুর এই পানীয়টি করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করবে।

    এছাড়াও এটি শরীরের অন্যান্য ভাইরাস এবং ফ্লুর বিরুদ্ধেও লড়াই করতে সহায়তা করবে। লেবুর রসে রয়েছে কার্বলিক এসিড, যা উচ্চ রক্তচাপ কমায়। এমনকি বাতের ব্যথা ও রক্ত জমাট বাধার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে সাপ ও বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়িয়েছে এ মহামারি রোগটি। সেখান থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। এরপর এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

  • কেমন হবে একজন গৃহিণীর প্রতিদিনের রুটিন?

    কেমন হবে একজন গৃহিণীর প্রতিদিনের রুটিন?

    এবিএনএ : একটি বাড়ির প্রায় সব সদস্যই গৃহিণীর উপর নির্ভরশীল থাকেন। পুরো বাড়ির সবকিছু সুন্দরভাবে সামলে নেয়ার দায়িত্বটা যে গৃহিণীরই। প্রত্যেকের তার নিজস্ব কাজের একটি রুটিন থাকে। জীবন যাপনের ধরন, চাহিদা বুঝে তৈরি হয় সেই রুটিন। আপনি যদি একজন গৃহিণী হন, তবে নিশ্চয়ই আপনার কাজের নিজস্ব একটি রুটিন রয়েছে। কারও রুটিন হুবহু কারও সঙ্গে মিলবে না এটাই স্বাভাবিক। তবু একটু পরিকল্পনা করে গুছিয়ে কাজ করলে আপনার কাজগুলো আরও সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবেন-

    যতটা সম্ভব দ্রুত ঘুমিয়ে পরার চেষ্টা করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অযথাই দেরি করবেন না। আগেভাগে ঘুমিয়ে গেলে বেশ সকাল সকাল উঠতে পারবেন। তাতে পুরো দিনটি অনেক বড় মনে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন, খুব বেশি বা কম ঘুম কোনোটাই শরীরের জন্য উপকারী নয়। সকালের নাস্তা তৈরির সময় সবার পছন্দের দিকে নজর দিতে গিয়ে নিজের পছন্দ ভুলে যান বেশিরভাগ গৃহিণী। খুব একটা পছন্দের না হওয়ার পরেও অন্যদের পছন্দের খাবারই খেতে হয় তাকে। এমনটা করবেন না। অন্যদের মতো নিজের পছন্দকেও গুরুত্ব দিন। কারণ আপনি ভালো থাকলেই ভালো থাকবে পুরো পরিবার।

    নাস্তা তৈরি করে সবাইকে খাওয়ানোর ফাঁকে নিজেও খেয়ে নিন। এরপর সন্তানকে স্কুলের জন্য তৈরি করা কিংবা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব থাকলে বাসায় ফেরার পথে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতে পারেন। তাতে সময় বাঁচবে অনেকটাই। এরপর আবার দুপুরের রান্নার পালা। তাই বাড়ি ফিরেই ঝটপট রান্নার পাট সেরে নিন। কাটাকুটি, বাটা-বাটনা আগেই বেশি করে তৈরি করে রাখবেন। যাতে রান্নার সময় প্রতিদিন ঝামেলা পোহাতে না হয়। দুপুরের রান্নার পাশাপাশি এগিয়ে রাখতে পারেন রাতের রান্নাও।

    গোসল সেরে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। ক্ষুধা পেলে না খেয়ে কারও জন্য অপেক্ষা করবেন না। মনে রাখবেন, সবকিছুর আগে নিজের সুস্থতা। এরপর কিছুটা সময় পাবেন নিজের মতো। দুপুরের সময়টা অনেকে ঘুমিয়ে কাটান। আপনার সেরকম অভ্যাস না থাকলে পছন্দের কোনো কাজ করতে পারেন। গল্পের বই পড়া, গান শোনা বা টুকিটাকি রূপচর্চা। এসব কাজ আপনাকে সতেজ থাকতে সাহায্য করবে। বিকেলে সন্তানকে সময় দিন। অথবা গান শেখা, নাচ শেখানো বা সুইমিং আপনার শখ হলে সেসব শখ পূরণের জন্যও বরাদ্দ রাখতে পারেন কিছুটা সময়।

    সন্ধ্যার পর রাতের খাবার তৈরি করে নিন। চেষ্টা করুন বাড়ির সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে। বাড়িতে যদি বয়স্ক কেউ থাকেন, এই রুটিনের মধ্যেই তাকেও সময় দিন। তার যত্নের দিকে খেয়াল রাখুন। বাড়ির সবকিছুর খেয়াল রাখার দায়িত্ব আপনার। তাই আপনার ভালো থাকাটা সবার থেকে বেশি প্রয়োজন। নিজে ভালো না থাকলে কাউকে ভালো রাখা সম্ভব নয়। বাড়ির দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজেকে ভুলে যাবেন না যেন।

  • করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে যা করবেন

    করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে যা করবেন

    এবিএনএ : দিন যতই যাচ্ছে নতুন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ততই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মারা গেছে ৫৬ জন। আক্রান্ত হয়েছে হাজারো মানুষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ পরিস্থিতিকে এরই মধ্যে ভয়াবহ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এ মহাবিপর্যয় মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    তবে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনে হলেও সম্প্রতি এটি ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইউরোপের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এ ভাইরাস সম্বন্ধে ধারণা থাকা প্রয়োজন। করোনাভাইরাস মূলত পশুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির থেকেও অন্য ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সংস্পর্শে এলে বা তার সঙ্গে হাত মেলালেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    করোনোভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ-

    এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো হলো-জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি। তবে অসুখের মাত্রা আরও বাড়লে কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    করোনাভাইরাস মরণব্যাধি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো-এখনো এই ভাইরাস থেকে বাঁচার কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে যা করবেন-

    # বাইরে বের হওয়ার আগে সঙ্গে মাস্ক নিতে ভুলবেন না।

    # বাস, ট্রেন বা এ জাতীয় গণপরিবহনগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

    # বাইরে থেকে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ বা লিকুইড সোপ দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

    # ডিম কিংবা মাংস রান্নার সময় চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করতে। খেয়াল রাখবেন, এগুলো যেন অবশ্যই সেদ্ধ হয়।

    # ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে রাখার চেষ্টা করুন, দিন বা সপ্তাহ ধরে ফেলে রাখবেন না।

    # ঘর পরিষ্কার রাখুন। নিয়মিত আপনার থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিষ্কার করুন।

  • শরীরে ১১ লক্ষণে সাবধান

    শরীরে ১১ লক্ষণে সাবধান

    এবিএনএ : শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়। কথাটা বলা যত সহজ, শরীর ঠিক রাখা আসলে অতটা সহজ নয়। তা পুরোটাই নির্ভর করে যত্নআত্তি আর সচেতনতার ওপর। তাই এই মহাশয়ের প্রতি যত্নবান থাকাটা খুব দরকার। শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এ আর এমন কি—ভেবে অনেক সময় আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিই না। তবে কিছু উপসর্গ বা শরীরে কিছু বদলের পরিণতি ভয়ংকর হতে পারে। তাই ১১ লক্ষণে আগে থেকেই সাবধান।

    ১. বুকে ব্যথা: বিশ্বাস করুন আর না–ই করুন, বুকে ব্যথা হওয়ার ৩০ কারণ থাকতে পারে। বুকে ব্যথা হলে সাধারণত আমরা কারণটা ভাবি অ্যাসিডিটি। এটা কিন্তু হৃদ্‌রোগও হতে পারে। বুকে ব্যথা হলে তাই অবহেলা করবেন না। নইলে বিপদ আসতে পারে। শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, শীতকালেও ঘাম, নাড়ির অনিয়মিত বা দ্রুত স্পন্দন থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

    ২. ক্লান্তি: দিনের যেকোনো সময় যেকেউ ক্লান্তিবোধ করতে পারেন। কিন্তু প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়লে সতর্কতা প্রয়োজন। খুব বেশি কাজের চাপ না পড়লেও যদি আপনি প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। অপুষ্টি বা থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে।

    ৩. মাথাব্যথা: মাথাব্যথার মাধ্যমে শরীর আপনাকে কিছু একটা জানাতে চায়। অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে সাময়িক উপশম পেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মাথাব্যথার কারণটা আরও গভীর হতে পারে। প্রচুর পানি পান ও মুক্ত পরিবেশে থাকার পরও সমস্যার সমাধান না হলে ভাবতে হবে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। পুষ্টিহীনতা, ঘুমের স্বল্পতা অথবা মানসিক চাপ থেকেও কিন্তু এমন ব্যথা হতে পারে।

    ৪. পেটের গোলমাল: পাকস্থলী প্রতিদিন পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি। প্রত্যেক মানুষের শরীরের আলাদা ধরন রয়েছে। তাই অভ্যাসগুলোও আলাদা। তবে যদি পেটের গোলমাল খুব বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসা প্রয়োজন। দিনে কয়েকবার প্রসাধন কক্ষে যেতে হলে, পেটের বর্জ্যে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

    ৫. ওজন কমে যাওয়া: হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া মারাত্মক একটি লক্ষণ। এ রকম হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। ডায়বেটিস, ক্যানসার, ভাইরাসের সংক্রমণ, পেটের অসুখ, হতাশাসহ নানা অসুখের কারণে ওজন কমে যেতে পারে। যত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন তত দ্রুত উপকার পাবেন।

    ৬. তিল ও আঁচিল: শরীরে হঠাৎ কোনো দাগ দেখতে পেলে সাবধান। শরীরে হঠাৎ করে তিল বা আঁচিলের সংখ্যা বেড়ে গেলেও নজরদারি দরকার। তিল বা আঁচিল ক্ষতিকর নয়। কিন্তু তিল বা আঁচিলের বদল থেকে বড় সমস্যা হতে পারে।

    ৭. চুল পাতলা হয়ে যাওয়া: নারীদের ক্ষেত্রে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়াটা ভয়ংকর। যদি খুব বেশি চুল পড়ে যেতে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। পুষ্টিহীনতা বা কোনো অসুখ থেকে এমনটা হতে পারে।

    ৮. নাক ডাকা: হৃদ্‌রোগ, ক্লান্তি নাক ডাকার কারণ হতে পারে। শরীর যথেষ্ট অক্সিজেন না পেলেও এমনটা হতে পারে। ওজন কমালে নাক ডাকা কমতে পারে। সমস্যাটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো।

    ৯. ত্বকের সমস্যা: ত্বক শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্বকে র‌্যাশ, একজিমা, সংক্রমণও শরীরের একধরনের বার্তা। শরীর এ রকম পরিস্থিতিতে কোনো গোলযোগের সংকেত দেয়। পুষ্টির অভাব, অ্যালার্জি থেকেও এমনটা হতে পারে।

    ১০. পিপাসা: দৈনিক দুই লিটার পানি পান করা শরীরের জন্য ভালো। এর চেয়ে বেশি পানি পান করলে বা অনিয়মিত পানি পান করলে জটিল সমস্যা হতে পারে। বারবার পানি পিপাসা হৃদ্‌রোগ বা কিডনিসংক্রান্ত জটিলতার কারণ হতে পারে। টাইপ ২ ডায়বেটিসের লক্ষণও হতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করাটা জরুরি।

    ১১. ঠোঁট ফাটা: আপনার কি প্রায়ই ঠোঁট ফেটে যায়? কখনো ভেবেছেন এর কারণ কী হতে পারে? ভিটামিন বি–এর অভাবে এমনটা হতে পারে। বি ভিটামিনের অভাব থাকলে রক্তশূন্যতা হতে পারে। পপকর্ন, লবণ, অলিভ ওয়েল, ঝাল লাল মরিচ খেলে বি ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হতে পারে।

  • ভালো অভিভাবক হতে করণীয়

    ভালো অভিভাবক হতে করণীয়

    এবিএনএ : ‘শাসন তাকেই মানায়, সোহাগ করে যে’ কথাটা মানেন তো। আর সন্তান তখনই সেরা হয়, যখন মা-বাবার আচরণ কঠোর-কোমলের মিশ্রণ ঘটে। আপনি কি সব সময় বাচ্চার সঙ্গে এমন ব্যবহার করেন? উত্তরে আপনি বলবেন, সব সময় পরিস্থিতি বা পরিবেশ তো আপনার বশে থাকে না।

    তাছাড়া, কাজের চাপ, টেনশন তো আছেই। তাই অকারণেই হয়তো অনেক সময় বেশি শাসন করে ফেলেন বাড়ির খুদে সদস্যটিকে। পরে তার কাঁদো কাঁদো মুখ মন ভার করে দেয় আপনার। এমনটা কঠোর অভিভাবক যদি সত্যিই হতে না চান তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মানতে হবে। বাচ্চার এক বছর বয়সে থেকেই তাকে নিয়ে বই পড়লে ওর তিন বছর বয়সে খুব ভালো অভিভাবক হবেন আপনি। তিন বছর বয়স থেকে এই অভ্যাস করলে ফল পাবেন বাচ্চার পাঁচ বছরে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, যে মা বা বাবা ছোট থেকেই বাচ্চাকে কোলের কাছে নিয়ে বসে গল্পের বই পড়েন বা বই পড়ানোর অভ্যেস করেন তিনি কিন্তু ভবিষ্যতে সন্তানের খুব কাছের একজন হয়ে ওঠেন।আর এতে দুরন্তপণাও অনেক কমে বাচ্চার। আপনাকে কাছে পেয়ে খুশি থাকে তার মনও। এবিষয়ে একমত জার্নাল অব ডেভেলপমেন্টাল অ্যান্ড বিহাইভালিয়াল পেডিয়াট্রিক্সও। তাদের সমীক্ষা বলছে, বাচ্চা পড়তে পারুক চাই না পারুক, মা-বাবার সঙ্গে বই পড়ার ছুতোতে আসলে সে অনেকটা সময় কাছে পায় মা-বাবাকে। আর এভাবেই গড়ে ওঠে মা-বাবা-সন্তানের মধ্যে চিরকালের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।

    শুধু যে নিয়ম করে বাচ্চাকে নিয়ে পড়তে বসালে সন্তান লেখাপড়ায় ভালো হবে তাই নয়, স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে অন্য সহপাঠীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সাহায়্য করতে পারবে সহজেই। এমনচাই জানিয়েছেন টর্গাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ও গবেষক ম্যানুয়েল জিমিঞ্জে। এছাড়া মা বাবারা  সন্তানের জীবনে সেরা শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন। সেটাকে কীভাবে?

    ম্যানুয়েল জিমিঞ্জের দাবি, মা-বাবা যদি এই ব্যপারগুলো মেনে চলতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতে তাঁরা সন্তানের খুব কাছের একজন হয়ে উঠতে পারবেন। শিখতে পারবেন, কীভাবে ভালো অভিভাবক হওয়া যায়। এই গবেষণা বাস্তবে কতটা সত্যি জানতে, গবেষকের একটি দল আমেরিকার ২০টি বড়ো শহরের প্রায় দু-হাজারেরও বেশি মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁরা কতটা, সময় বাচ্চাকে নিয়ে বই পড়তে বসেন। বা আদৌ বসেন কিনা।

    দুবছর পরে তাঁদের কাছে আবার জানতে চাওয়া হয়, সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে বাচ্চার ওপর  তাঁরা কতটা শারীরিক এবং মানসিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। সমীক্ষা বলছে, বাচ্চার এক বছর বয়সে থেকেই তাকে নিয়ে বই পড়লে ওর তিন বছর বয়সে খুব ভালো অভিভাবক হবেন আপনি। তিন বছর বয়স থেকে এই অভ্যাস করলে ফল পাবেন বাচ্চার  পাঁচ বছরে। অর্থাৎ, আর পাঁচজন মা বা বাবার মতো ততটাও কঠোর হবেন না আপনি। তাই যেসব মা ছোটো থেকেই বাচ্চাকে নিয়ে একসঙ্গে পড়তে বসেন, মায়ের সাহচর্যে সেই সব সন্তান অনেক নম্র, শান্ত হয়। আর মা-বাবাও সন্তানের সঙ্গে কঠোর-কোমলের মিশ্রণে আচরণ করেন।

  • ঢাকার দুই সিটিতে আ.লীগের ১১২ বিদ্রোহী প্রার্থী

    ঢাকার দুই সিটিতে আ.লীগের ১১২ বিদ্রোহী প্রার্থী

    এবিএনএ : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ১২৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৭টিতেই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের স্বদলীয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ১১২ জন, যাঁদের মধ্যে এক সাংসদের ছেলেও আছেন। এ ছাড়া ১০ জন বর্তমান কাউন্সিলর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।

    মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৪২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ৭২ জন। আর ঢাকা উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড ৫৪টি। এর মধ্যে ৩৫টিতে ৪০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। সবাই নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রচার-জনসংযোগ করছেন।

    বিদ্রোহী প্রার্থীদের এই ছড়াছড়ির মধ্যেও দক্ষিণের দুটি সাধারণ (২৫ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড) ও দুটি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে ভোট হবে। দুটিতেই ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট গ্রহণ করা হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোট হয় নির্দলীয়ভাবে। যদিও ঢাকার দুই সিটিতে কাউন্সিলর পদেও প্রার্থীদের দলগত সমর্থন দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

    বিদ্রোহী ১১ কাউন্সিলর
    গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন এমন ৩৬ জন এবার দলীয় সমর্থন পাননি। তাঁদের মধ্যে উত্তরে চারজন ও দক্ষিণে সাতজন দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হয়েছেন।

    উত্তরের বিদ্রোহীদের মধ্যে রয়েছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জহিরুল ইসলাম। সেখানে দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন পল্লবী থানার সহসভাপতি জিন্নাত আলী মাদবর। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ। সেখানে দলীয় প্রার্থী হলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মইজ উদ্দিন।

    ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাতারকুল ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মতিন। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামও নির্বাচনী মাঠে আছেন। তিনি দলের সমর্থন পেয়েছেন বলে দাবি করছেন।

    ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আনিছুর রহমান ওরফে নাঈম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। সেখানে দলীয় সমর্থন পান দক্ষিণখান ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সফিউদ্দিন মোল্লা।

    ঢাকা দক্ষিণের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তারিকুল ইসলাম, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল শাহ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়নুল হক ওরফে মঞ্জু, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেন খান, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বহিষ্কৃত কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তাঁদের মধ্যে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে আছেন ময়নুল হক।

    ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামান বলেন, ‘২০১৫ সালে দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচন করেছি। এবার প্রথমে দল সমর্থন দেয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার দলের উচ্চপর্যায় থেকে নির্বাচন করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

    ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম দলের এই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০১৫ সালে দলের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। এবারও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন।

    ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বিল্লাল শাহ। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোতোয়ালি থানা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তবে এই ওয়ার্ডে এবার দলের সমর্থন পেয়েছেন আবদুল মান্নান।

    দক্ষিণের বিদ্রোহী
    ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দক্ষিণ সিটির প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এবারও ৩৪টি সাধারণ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

    দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন খিলগাঁও থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম। তাঁর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসম্পাদক শাহাদাত হোসেন।

     ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথমে দলের সমর্থন পেয়েছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে বর্তমান কাউন্সিলর সুলতান মিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করে দল। সুলতান মিয়া বলেন, দল ইসমাইল জবিউল্লার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলেছে। কিন্তু তিনি এখনো মাঠ ছাড়েননি।

    ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোকাদ্দেস হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের লালবাগ থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তিনি এর আগে দুবার এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে হেরেছেন।

    ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর ওমর-বিন-আব্দাল আজিজ। তবে এই ওয়ার্ডে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক সাগর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সমর্থন নিয়েই নির্বাচন করছি। আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য দল থেকে কেউ কিছু বলেনি।’

    ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সালেহিন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের লালবাগ থানার সাবেক নেতা কামাল উদ্দিন (কাবুল)। তিনি এর আগেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে হেরেছেন।

    ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সমিন রায় ও সদস্য বাবুল দাস। তাঁরাও নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

    ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী আবুল কালামের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক।

    উত্তরের বিদ্রোহী
    উত্তর সিটির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পান ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসহাক মিয়া। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম।

    ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন না পেয়েও প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন। এই ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা।

    ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান। এই ওয়ার্ডে দলের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন মিরপুর থানা সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর আলী ও সহসভাপতি গাজী আলিয়ার রহমান।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম দলের সমর্থন পেয়েছিলেন জাহিদুর রহমান। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিছুদিন পর এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. নাছিরকে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি জাহিদুর রহমান।

     ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন তেজগাঁও থানা কমিটির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মঞ্জুর। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুজন। তাঁর হলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মীর আশরাফ উদ্দিন খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোকছেদ আলী মোল্লা।

    মোকছেদ আলী মোল্লা বলেন, ‘দলের সমর্থন চেয়ে আবেদন করেছিলাম, পাইনি। পরে তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’

    ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর শামীম হাসান। তিনি দলের তেজগাঁও থানার সাধারণ সম্পাদক। বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদ রানা। শামীম হাসান বলেন, ‘মাসুদ রানাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চিঠি দিয়েছিল মহানগর কমিটি। কিন্তু তা তিনি আমলে নেননি।’

    আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর অনেকে শক্তভাবেই মাঠে আছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। দলের অন্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’ তবে ঠিক কবে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।

    এর আগে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখা গেছে, কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ কারণে যেখানে সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা বেশি থাকে।

    সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে উন্মুক্ত নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পদটিতে দলীয় প্রার্থী সমর্থন দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থী যাচাইয়ে সুযোগ কম পাচ্ছেন। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে অনেক সময় মারামারি হয়। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। নিরাপত্তার কথা ভেবে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যান না। তাই কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী সমর্থনের সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরে আসতে হবে।