Category: লাইফ স্টাইল

  • ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে যে ৫ ধারণা অনেকেরই থাকে, বিপদ বাড়ে তাতেই

    ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে যে ৫ ধারণা অনেকেরই থাকে, বিপদ বাড়ে তাতেই

    এবিএনএ: ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আজকাল সাধারণ হয়ে উঠছে। এর জন্য শুধু অ্যালকোহলই দায়ী নয় আরও অনেক কারণ রয়েছে যা লিভারকে ফ্যাটি করে তুলছে। প্রায়ই লোকেদের বলতে শোনা যায় যে, ফ্যাটি লিভারের রোগ নিরাময় করা যায় না।

    কিন্তু এটা একটা মিথ। ফ্যাটি লিভার একটি সমস্যা যা অনেক রোগের কারণ। এমন অবস্থায় লিভারে জমে থাকা চর্বি কমানো যায়। তার আগে চলুন জেনে নিই ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে যে পাঁচ ধারণা অনেকেরই থাকে।

    শুধু বেশি ওজনের মানুষেরই ফ্যাটি লিভার হয়

    এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে, শুধু স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের মানুষের ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে। সত্যিটা হলো- রোগা মানুষদেরও খারাপ খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভারে চর্বি জমে সমস্যা দেখা দেয়।

    ফ্যাটি লিভার শুধু মদ্যপানের কারণে হয়

    অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ সম্পর্কে সবাই জানেন কিন্তু বর্তমান সময়ে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঘটনা বেড়েছে। এটি দেখায় যে বিয়ার বা অ্যালকোহল পান না করেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হতে পারে। ফল থেকে অতিরিক্ত চিনি বা ফ্রুক্টোজ গ্রহণের ফলেও ফ্যাটি লিভার হয়।

    লিভার স্বাভাবিক থাকলে ফ্যাটি লিভার হয় না

    রক্তের রিপোর্টে লিভারের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকলে তার মানে এই নয় যে লিভার চর্বিযুক্ত নয়। ফ্যাটি লিভার রোগ শনাক্ত করতে, একটি পৃথক আল্ট্রাসাউন্ড বা ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা করতে হবে। অনেক সময় ফ্যাটি লিভার থাকা সত্ত্বেও লিভারের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে।

    ফ্যাটি লিভার শুধু খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত

    এটা সম্পূর্ণ সত্য নয় যে ফ্যাটি লিভার শুধু খাদ্যের সাথে যুক্ত। ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। যখন আপনি সঠিক ঘুম না পান এবং আপনার স্ট্রেস লেভেল বেশি থাকে, তখন ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দেয়।

    ফ্যাটি লিভারের কোনো প্রতিকার নেই

    এটিও একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে, ফ্যাটি লিভারের কোনো প্রতিকার নেই। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা সঠিক ডায়েট এবং লাইফস্টাইলের সাহায্যে নিরাময় করা যায়।

  • সন্তান অবাধ্য হওয়ার কয়েকটি কারণ

    সন্তান অবাধ্য হওয়ার কয়েকটি কারণ

    এবিএনএ: বাবা মায়েরা চান সন্তান তাদের সব কথা শুনুক, বুঝুক এবং মেনে নিক। কিন্তু এই চাওয়া পুরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব। শিশুর নিজের চিন্তা, চেতনা, ধ্যান, ধারণা আছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছন, শিশু অবাধ্য হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ আছে।

    অধুনা জীবন-যাপনে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। বাবা-মায়েরা অনেক সময় টিভি-মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এই সময়ে শিশু বাবা মায়ের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। এরপর মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হলে অনেক সময় অতিরিক্ত রাগের প্রকাশ করে। বাবা মায়েরা শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য টিভি বা মোবাইল দিয়ে রাখেন। এগুলোর অধিক ব্যবহারের ফলে শিশুর নার্ভ উত্তেজিত হয়। ফলে তাকে কোনো কথা বললে সে মানতে চায় না বরং উল্টো উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

    অনেক সময় বাবা মায়ের নির্দেশনা শিশুর কাছে অস্পষ্ট মনে হয়। ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারে না যে তার কি করা উচিত। আবার ক্লান্তি, অবসাদ বা হতাশা থেকে শিশু অনেক সময় চুপচাপ হয়ে যায়। সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই অবস্থায় শিশু বাবা মায়ের কথা উপেক্ষা করতে পারে। সুতরাং শিশু অবাধ্য কেন হচ্ছে তার কারণ বোঝা উচিত এবং সেই অনুযায়ী শিশুর সঙ্গে আচরণ করা উচিত।

    ইউনিসেফের পরামর্শ,  সন্তানের সঙ্গে কথা বলার জন্য আপনার দৈনন্দিন রুটিন থেকে কমপক্ষে ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করুন। শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে ঘরের কাজ করতে পারেন। শিশুর কোনো আচরণে বিরক্ত হলে তাকে বকাবকি করবেন না। বরং এমন কিছু করতে পারেন যাতে সে আনন্দ খুঁজে পায়।

  • সাংবাদিক শেখ শিমুলের মেয়ে ফাতেমার শুভ জন্মদিন আজ

    সাংবাদিক শেখ শিমুলের মেয়ে ফাতেমার শুভ জন্মদিন আজ

    আরমান হোসাইন, ঢাকা: আমেরিকা বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (এবিএন)’র চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ শওকত আলী শিমুলের বড় কন্যা খাইরুন কাওছার ফাতেমার ১৪ তম শুভ জন্মদিন আজ।

    ২০১০ সালে এই দিনে পৃথিবী আলো করে তার মা-বাবার কোলজুড়ে জন্ম নিয়েছিল খাইরুন কাওছার ফাতেমা। এই শুভ জন্মদিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন সাংবাদিক শেখ শিমুল ফাউন্ডেশন, সেই সাথে দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন খাইরুন কাওছার ফাতেমার পিতা-মাতা, দাদী, চাচ্চু, নানা-নানী, ও ভাইয়া সহ সকল আত্মীয় স্বজনরা।

    তারা তার আগামী দিনের সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষে বাগেরহাট সদরে বাদেকাড়াপায় নিজগ্রাম সহ নারায়ণগঞ্জ,কেরানীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,ঢাকা ও আমেরিকায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও এতিম শিশু, দুস্ত, অসহায়,শ্রমজীবী মানুষ, প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়দের মাঝে তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় নিত্য নিঝুম,সাদমাম,এক মনোজ্ঞ জাদুর আয়োজন করা হয় যাদু পরিচালনা করেন বাংলাদেশ যাদু সমিতির অন্যতম সদস্য প্রিন্সেস রাসেল,গোড়ার নিত্য পরিচালনা করেন সাহা।

    ফাতেমার শুভ জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন সাংবাদিক শেখ শিমুল ফাউন্ডেশন। ফাতেমার পিতা সাংবাদিক শেখ শওকত আলী শিমুল ও মাতা নার্গিস আক্তার সাংবাদিক শেখ শিমুল ফাউন্ডেশন এর সকল কর্মকর্তা ও ফাতেমার জন্মদিনে সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

  • রক্তশূন্যতা কেন হয়

    রক্তশূন্যতা কেন হয়

    এবিএনএ: বয়স ও লিঙ্গভেদে হিমোগ্লোবিন যখন কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে অবস্থান করে, তখন আমরা একে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বলি। হিমোগ্লোবিন শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয় সঞ্জীবনী অক্সিজেন।

    রক্তশূন্যতা হলে কী হয়?

    হিমোগ্লোবিন কমতে থাকলে ক্লান্তি দানা বাঁধে। শরীরে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। স্বল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠে শরীর। হৃৎপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এমনকি তীব্র রক্তশূন্যতা হার্ট ফেইলিওর পর্যন্ত করতে পারে। তখন গায়ে-পায়ে পানি জমে যায়। শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট লাগে। রক্তশূন্যতার কারণে ঠোঁটের কোণে ক্ষত হয়, জিহ্বায় ঘা হয়। জিহ্বার গোড়ায় থাকা পাপিলা ক্ষয় হয়ে হতে পারে মাংসের মতো লালচে। চুলের ঝলমলে উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়, চুল ফেটে যায়, নখ ফেটে যায়। এর ফলে দেখা দিতে পারে স্নায়বিক দুর্বলতা। দীর্ঘস্থায়ী রক্তশূন্যতায় খাদ্যনালি ওপরের দিক চেপে যায়। ফলে ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, নারীদের মাসিক হয়ে পড়ে অনিয়মিত। লোহিত কণিকা ভেঙে রক্তশূন্যতা হলে জন্ডিস দেখা দেয়। সুতরাং রক্তশূন্যতার লক্ষণ কারণভেদে বিভিন্ন হতে পারে।

    কেন রক্তশূন্যতা হয়?

    এটি হতে পারে আয়রনের অভাবে। এ ছাড়া লোহিত কণিকা ভেঙে গেলে এমনটি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেমন– কিডনি কিংবা লিভার বিকল, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, ক্যান্সার, যক্ষ্মাসহ নানাবিধ রোগে হতে পারে রক্তশূন্যতা। হিমোগ্লোবিনের নিজস্ব রোগ, যেমন– থ্যালাসেমিয়াসহ অসংখ্য রোগে সৃষ্টি হতে পারে রক্তশূন্যতা। আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি। এর পেছনে রয়েছে অপুষ্টি, পেপটিক আলসার, বেদনানাশক ওষুধ ও স্টেরয়েডের ফলে পাকস্থলীর ক্ষত, কৃমির সংক্রমণ, পায়খানা কিংবা রজঃস্রাবের সময় রক্তক্ষরণ, ঘন ঘন গর্ভধারণ ইত্যাদি।

    করণীয় : রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হলে প্রথমে পরখ করে নিতে হবে এর তীব্রতা কতটুকু। এর পেছনের কারণ খুঁজে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেহেতু আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়, সে জন্য খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে লৌহসমৃদ্ধ খাবার। এ ছাড়া ভিটামিন বি-১২ এবং ফলিক এসিডের ঘাটতি হলেও হতে পারে রক্তশূন্যতা। লাল মাংস, গিলা, কলিজা, ছোট মাছ, লালশাক, কচুশাক, সবুজ শাকসবজি আর ফলমূলের জোগান বাড়াতে হবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়। ক্ষেত্রবিশেষে ফলিক এসিড ভিটামিন খেতে হবে। কোনো কোনো রক্তশূন্যতায় আয়রন গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেটাও জানতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে।

    লেখক : লে. কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা।

  • রেস্টুরেন্টের মতো পর্দা বিরিয়ানি রাঁধবেন যেভাবে

    রেস্টুরেন্টের মতো পর্দা বিরিয়ানি রাঁধবেন যেভাবে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে পর্দা বিরিয়ানি বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে দারুণ স্বাদের পর্দা বিরিয়ানি পাওয়া যায় সহজেই। একটি বড় রুটির মধ্যেই থাকে বিরিয়ানি, এ কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে পর্দা বিরিয়ানি।

    বাইরে থেকে এটি দেখতে রুটি মনে হলেও তা ফুটো করতেই বেরিয়ে আসে বিরিয়ানি। এই খাবার দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও দারুণ মাজার এই বিরিয়ানি সবারই এখন পছন্দের। চাইলে ঘরেই খুব সহজে তৈরি করতে পারেন এই বিরিয়ানি। রইলো রেসিপি-

    মাংস রান্নার জন্য উপকরণ

    ১. গরু/ খাসি/ মুরগির মাংস ১ কেজি

    ২. ঘি ১/৪ কাপ

    ৩. পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
    ৪. আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ করে
    ৫. লবণ স্বাদমতো
    ৬. ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ
    ৭. জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ
    ৮. আস্ত গরম মসলা পরিমাণমতো
    ৯. বাসমতি বা পোলাওর চাল ২ কাপ ও
    ১০. পানি ৬ কাপ বা পরিমাণমতো।

    পদ্ধতি

    ঘি গরম হলে একে একে আস্ত গরম মসলা দিয়ে হালকা ভেজে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে মাংস দিয়ে একে একে আদা ও রসুন বাটা, ধনে ও জিরা গুঁড়া ও লবণ মিশিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন।

    এরপর চাল ও মাংস সেদ্ধর জন্য পানি পরিমাণমতো দিয়ে দিন। মাংস সেদ্ধ হলে পানি থেকে তুলে আলাদা করে রাখুন। বাকি পানিতে চাল ধুয়ে দিয়ে ভাত রান্না করে নিন। ভাত রান্নার পর সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নিন।

    মাংসের গ্রেইভির জন্য উপকরণ

    ১. ঘি ৩-৪ টেবিল চামচ
    ২. পেঁয়াজ-কুচি ১ কাপ
    ৩. আদা ও রসুন বাটা ১ চামচ করে
    ৪. লবণ স্বাদমতো
    ৫. কাঠবাদাম বাটা ১ টেবিল-চামচ
    ৬. লেবুর রস ১ চা চামচ
    ৭. চিনি ১ টেবিল চামচ ও
    ৮. টকদই ২ টেবিলচামচ।

    পদ্ধতি

    ঘি গরম করে পেঁয়াজ বেরেস্তার মতো ভাজা হলে একে একে সিদ্ধ মাংস দিয়ে নিন। এরপর উপরের সব উপকরণ একে একে মিশিয়ে নেড়ে সামান্য পানি দিয়ে তারপর কষিয়ে নিন। মাংসের গ্রেইভি কোর্মার মতো হলে নামিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নিন।

    রুটির খামিরের জন্য উপকরণ

    ১. ময়দা ২ কাপ
    ২. লবণ ১ চা চামচ
    ৩. চিনি ২ চা চামচ
    ৪. ইস্ট ২ চা চামচ
    ৫. তেল ১ টেবিল চামচ
    ৬. কুসুম গরম দুধ ১/৪ কাপ
    ৭. পরিমাণমতো কুসুম গরম পানি
    ৮. ডিম ১টি
    ৯. তিল ইচ্ছেমতো
    ১০. পেঁয়াজ বেরেস্তা
    ১১. বাদাম ও কিশমিশ পরিমাণমতো

    পদ্ধতি

    ময়দার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে খামির তৈরি করে নিন। এরপর ডো ফুলে ওঠার জন্য ঢেকে গরম কোনো জায়গায় ঘণ্টাখানেকের জন্য রাখুন। ডো ফুলে উঠলে পিৎজার মতো মোটা রুটি বেলে নিন। তারপর পছন্দের আকারে কোনো গোল বাটি নিয়ে তাতে তেল ব্রাশ করে নিন আগে।

    এরপর রুটিটা গোল করে বাটির সমান বিছিয়ে ভেতরে ভাত, এর ওপর মাংস ও উপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা, বাদাম কুচি এভাবে স্তরে স্তরে দিয়ে দিন। বাটির সমান হলে হালকা চেপে সমান করে রুটি দিয়ে ঢেকে দিন। এবার যে প্যানে বেইক করবেন সেটাতেও তেল ব্রাশ করে নিন। এখন পুডিংয়ের মতো রুটির বোলটা প্যানে উল্টিয়ে নিন আস্তে করে। এবার উপরে ডিম ব্রাশ করে তিল ছিটিয়ে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেইক করুন ১৫-২০ মিনিট। রুটির ওপর বাদামি রং হলে নামিয়ে গরম গরম কেটে পরিবেশন করুন।

  • গরমে দ্রুত ওজন কমাবে যে পানীয়

    গরমে দ্রুত ওজন কমাবে যে পানীয়

    এবিএনএঃ গরমে ঠাণ্ডা কিছু পান না করলে যেন প্রশান্তি মেলে না। তাই বলে বাজারের বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান না করাই ভালো। এগুলো ওজন বাড়িয়ে দেয়। তার চেয়ে বরং সুস্থ থাকতে ও ওজন কমাতে গরমে নিয়মিত পান করুন ৩ ওয়েট লস ড্রিংকস।

    লেবু-আদার পানীয়

    উপকরণ:

    ১. পানি ১ লিটার
    ২. লেবু ২টি
    ৩. আদা ১ ইঞ্চি
    ৪. গোলমরিচ সামান্য ও
    ৫. মধু ১ চা চামচ মধু।

    জিরা-দারুচিনির পানীয়

    উপকরণ:

    ১. পানি ১ লিটার
    ২. জিরা ৩ চা চামচ
    ৩. দারুচিনি ৩ ইঞ্চি
    ৪. মধু ১ চা চামচ ও
    ৫. লেবু ১ চা চামচ।

    পদ্ধতি : একটি বড় প্যানে ১ লিটার পানিতে জিরা ও দারুচিনি মিশিয়ে ৫ মিনিট সেদ্ধ করুন। কিছুক্ষণ পর নামিয়ে ছেঁকে ঠান্ডা করুন পানি। এরপর এতে মধু ও লেবু রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন।

    চিয়া-লেবুর পানীয়

    উপকরণ:

    ১. চিয়া বীজ ২ চা চামচ
    ২. পানি ২ কাপ
    ৩. মধু ১ চা চামচ ও
    ৪. লেবু ১ চা চামচ।

    পদ্ধতি : চিয়া ও লেবুর পানীয় তৈরি করতে প্রথমে চিয়া বীজ ১ কাপ পানিতে ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। অন্যদিকে আরও এক কাপ পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। চিয়া বীজ ভিজে ফুলে উঠলে অন্য গ্লাসের পানি তাতে মিশিয়ে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে যাবে ওয়েট লস ড্রিংকস চিয়া-লেবুর পানীয়। সকালে খুম থেকে উঠে খালি পেটে পান করুন এই ওয়েট লস পানীয়।

  • যেসব খাবার শরীরের জন্য বিষ

    যেসব খাবার শরীরের জন্য বিষ

    এবিএনএ: মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য খাবার গ্রহণ করা জরুরি। দৈনন্দিন জীবনে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই ক্ষেত্রে কিছু খাবারের অভ্যাস ভালো খাবারের পুষ্টিগুণ থেকে আমাদের বঞ্চিত করে। সেই সঙ্গে শরীরে তা কাজ করে ধীরগতির বিষের মতো। তাই ভালো খাবারের পুষ্টিগুণগুলো পেতে এবং শরীরে ধীরগতির বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করতে অবশ্যই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে নিজ ও পরিবারকে দূরে রাখা উচিত।

    কোনো কোনো খাবার রয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে। আবার কোনো কোনো খাবারের কারণে ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করে থাকে। ত্বকের যত্ন ও সুরক্ষার জন্য যতই রূপচর্চা করুন না কেনো, ডায়েট লিস্টে যদি ক্ষতিকর খাবারকে প্রাধান্য দেন তবে তা আপনার ত্বকের ক্ষতির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।

    স্কিন বিশেষজ্ঞ ও ডায়েটেশিয়ানের মতে, নিয়মিত এই বিষাক্ত খাবারকে প্রাধান্য দিতে থাকলে আপনার ত্বকে বলিরেখা, ব্রণের মতো সমস্যা তো দেখা দেবেই, সঙ্গে রক্তের বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়ে নানান রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করবেন আপনি।

    শরীরে মেদ জমার পাশাপাশি রক্তে শর্করা আর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এসব মারাত্মক খাবার। বিষ হলেও খেতে ভীষণ সুস্বাদু এই খাবারগুলোকে আমরা হরহামেশাই খেয়ে ফেলি।

    বেশি তেল জাতীয় খাবার আমাদের শরীর এবং ত্বকের জন্য একদমই ভালো নয়। এতে ত্বকের ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। আমাদের জানতে হবে কোন খাবার গুলো ত্বকের যত্নে পুষ্টিকর আর কোনগুলো ত্বকের জন্য ভালো নয়। তাই আসুন আজ আমরা জেনে নেই ত্বকের যত্নে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন-

    ফাস্টফুড এবং ভাজাপোড়া

    স্বাদে লোভনীয় হলেও অতিরিক্ত ক্যালোরিসম্পন্ন এসব খাবার শরীরে মুটিয়ে যাওয়ার ভাব নিয়ে আসে। আর অতিরিক্ত ওজনের জালে ফেঁসে আপনার জীবনকে আরও নানা রোগে বেঁধে ফেলতে থাকে এসব খাবার। তাই বিষের মতো তাৎক্ষণিক মৃত্যু না হলেও, কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই খাবারের কারণে ধীরে ধীরে হঠাৎ মৃত্যুর ফাঁদে জীবন হারাবেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তেল, মশলা ও ঝালযুক্ত খাবার

    রান্নায় তেল, মশলা ও ঝালকে প্রাধান্য দিলে ত্বকের পাশাপাশি শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস নানা জটিল রোগে আক্রান্ত করার পাশাপাশি ত্বকে ব্রণ, র‌্যাশের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।

    কোল্ড ড্রিংকস ও অ্যালকোহল

    কোল্ড ড্রিংকস ও অ্যালকোহল এই দুই ধরনের পানীয়ই শরীরকে মারাত্মকভাবে ড্রিহাইড্রেট করে তোলে। যা ধীরে ধীরে আপনার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কেড়ে নেয়। পাশাপাশি অকালে ডেকে আনে বার্ধক্যও। ত্বকে ব্রন, বলিরেখা সহ নানান রকম সমস্যা দেখা দিবে। তাই অ্যালকোহল খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

    কার্বোহাইড্রেট

    অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন পাউরুটি, চকলেট, পাস্তা, সোডা ইত্যাদি খাবার শরীর ও ত্বকের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এসমস্ত খাবার খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন।

    চিনি

    চিনি শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। খুব বেশি পরিমাণে চিনি খেলে শরীরে কোষের ক্ষতি হয়। চিনি বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে গ্লাইকেশন নামের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হয়। এটিই মূলত ত্বকের ক্ষতির জন্য দায়ী। চিনি রক্তপ্রবাহে প্রোটিনের সঙ্গে খুব সহজে মিশে গিয়ে, অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন অ্যান্ড প্রোডাক্টস নামক ক্ষতিকর ফ্রি র্যা ডিক্যাল উৎপাদন করে। এছাড়া চিনি ওজন বাড়িয়ে দেয় অনেক। তাই যতটা সম্ভব চিনি কম খাওয়ায়র চেষ্টা করুন।

    লবণ

    খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া একদমই উচিৎ নয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে চোখের নিচে কালি পড়ে যায়। অনেকের মুখের ফোলা ভাব চলে আসে। অনেক সময় দেখা যায় ঘুম পর্যাপ্ত হলেও চোখের নিচে কালো দাগ থেকেই যায়। তাই ত্বকের যত্নে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

    আপেলের বিচি

    আপেলের বিচির ভেতর খানিকটা পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। ফলে কারো শরীরের ভেতর যদি বেশি পরিমাণে আপেল বিচি বা বিচির নির্যাস প্রবেশ করে, তাহলে তা তাকে মেরে ফেলার মতো সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। আর সায়ানাইড হলো একটি মারাত্মক ধরনের বিষ।

    বুনো মাশরুম

    মাশরুমের ১০ হাজার জাতের মধ্যে বাংলাদেশে চাষ হয়ে থাকে ৮-১০টি জাতের। কিন্তু বাংলাদেশেই পাওয়া যায় মাশরুমের এমন অনেক জাত, বিশেষ করে বুনো মাশরুম, যা অনেক সময় শরীরের জন্য বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হতে পারে।

    ধুতরা ফুল ও ফল

    একসময় বাংলাদেশি বিভিন্ন কবিরাজি ওষুধে এই ফলের ব্যবহার হতো। কিন্তু এটি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি ফল এবং এর পাতাও বিষাক্ত হয়ে থাকে। শরীরের ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

    শেকড় জন্মানো আলু

    আলুতে শেকড়ের জন্ম হলে সেখানে গ্লাইকোঅ্যালকালোইড নামের এক ধরনের উপাদান তৈরি হয়। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন যাবৎ আলু পড়ে থাকলে এই ধরনের উপাদানের জন্ম হয়। অনেক সময় গাছের পাতায় বা কাণ্ডেও এই উপাদান থাকে। বিশেষ করে, আলুর গায়ে শেকড় জন্মালে যে লাল রঙের গাদ তৈরি হয়, সেখানে এই উপাদান বেশি থাকে। পুষ্টিবিদের মতে, এই গ্লাইকোঅ্যালকালোইড শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ডায়ারিয়া, মাথাব্যথা, এমনকি মানুষ কোমায়ও চলে যেতে পারেন।

    খেসারি ডাল

    বাংলাদেশে মসুর ও মুগডালের পাশাপাশি অনেকের খাদ্য তালিকায় খেসারি ডালও থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডালে বোয়া নামের এক প্রকার অ্যালানাইন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকতে পারে, যা বিষাক্ত নিউরোটক্সিন তৈরি করে। ত্বক ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই অ্যাসিড ‘নিউরো-ল্যাথারিজম’ বা স্নায়ুবিক পঙ্গুতা তৈরি করতে পারে। এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। এতে করে হাঁটতে গিয়ে অসুবিধা এবং অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া কিংবা পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পরে।

    টমেটো গাছের পাতা

    টমেটো গাছের পাতা এবং কাণ্ডে অ্যালকালাই থাকে, যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কাঁচা টমেটোর ভেতর এই উপাদান থাকে বলে মনে করা হয়। এই কারণে ভালো করে রান্না না করে কাঁচা টমেটো খাওয়া উচিত নয়। কারণ, বেশি পরিমাণে কাঁচা টমেটো খেলে যে কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

  • সকালের নাস্তায় কি শর্করা খাবেন?

    সকালের নাস্তায় কি শর্করা খাবেন?

    এবিএনএ: সকালের নাস্তা নিয়ে অনেকেই অবহেলা করে থাকেন। কেউ কেউ একেবারেই সকালে কিছু খান না। আবার কেউ হাল্কা খাবার খান। দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি পড়ে। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়।

    সকালের নাস্তায় শর্করা কতটা শক্তির যোগান দেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেমের অবসরপ্রাপ্ত চিফ নিউট্রিশন অফিসার আখতারুন নাহার আলো। অনেকে মনে করেন সকালের নাস্তা না খেলে ওজন কমে যাবে। আসলে তা হয় না। পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যকর নাস্তা আপনার দৈহিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। দেহের বিপাক ক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয় এবং সারা দিন ধরে প্রচুর শক্তি খরচ করতে সহায়তা করে। যদি নাস্তা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে কার্য প্রবণতা ও কর্মক্ষমতা কমে যাবে।

    সকালের নাস্তা অবশ্যই সুষম হতে হবে। কারণ আমাদের দেহে প্রতিটি খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন আছে। এ সময় শর্করার দিকে জোর দিতে হবে। শর্করা আমাদের দেহে সেরোটোনিন নিঃসরণের মাধ্যমে মন, মেজাজ ও মানসিক অবস্থাকে উন্নত করে। ফলে মনকে সজীব ও সতেজ রাখে। অর্থাৎ শর্করা শুধু শক্তিই প্রদান করে না।

    সকালের নাস্তায় পানীয় হিসাবে রাখা যেতে পারে গ্রিনটি, চা-কফি, লাচ্ছি, ঘোল, ফলের রস ইত্যাদি। খুব ভালো হয়, যদি ঘুম থেকে উঠার দু’এক ঘণ্টা পর সকালের নাস্তা খেয়ে ফেলা যায়। যেহেতু এটা দিনের প্রথম খাবার এবং আগের রাতের পরিপূরক, সে কারণেই আগের রাতের খাওয়ার সময়ের সঙ্গে ভারসাম্য রেখেই নাস্তার সময় ঠিক করা ভালো। রাতের খাবার ও সকালের নাস্তার মধ্যে যেন বারো ঘণ্টার বেশি ব্যবধান না হয়। নাস্তা খাওয়া উচিত সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে।

  • ঘুমের জন্য দরকার সঠিক পুষ্টি

    ঘুমের জন্য দরকার সঠিক পুষ্টি

    এবিএনএ: নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য দরকার সঠিক পুষ্টি। যাদের ঘুমে সমস্যা আছে তারা খাবারের প্রতি দৃষ্টি দিন। ঘুম ঠিক মতো না হলে বিষণ্নতা ভর করবে শরীরে। রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধবে। সঠিক ঘুমের জন্য কী ধরনের খাবার দরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের পুষ্টিবিদ খানম উম্মে নাহার।

    ঘুমের ঘাটতি বা ঘুম কম হলে গ্লুকোজের বিপাক বাধাগ্রস্থ হয়, স্ট্রেস হরমোন লেভেল বৃদ্ধি পায় ও শরীরে প্রোটিন সংশ্লেষণ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানসিক দক্ষতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক সুস্থতা ব্যাহত হয়। ঘুম বা জাগরণ এই দুই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে যে বায়োলজিক্যাল সিস্টেম তা হল নিদ্রা-অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণকারী সারকাডিয়ান রিদম (circadian rhythm), যা সময় নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর ঘুম আনতে সাহায্য করে।

    মেলাটোনিন : পর্যাপ্ত পরিমাণে মেলাটোনিন নিঃসরণ ভালো ঘুমের জন্য খুব দরকার, যা অন্ধকারে নিঃসৃত হয়। মেলাটোনিন হল হরমোন, যা পেনিয়াল গ্ল্যান্ডে তৈরি হয় (এটি মস্তিষ্কের অ্যান্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ডে তৈরি হয়) যা শরীরের সারকাডিয়ান রিদম (circadian rhythms) বা আমাদের জেগে থাকা বা ঘুমানোর যে সিস্টেম তা নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও প্রদাহ হ্রাস করে। দিনের বেলা পেনিয়াল গ্ল্যান্ড সক্রিয় থাকে না, অন্ধকারে এই গ্ল্যান্ড সক্রিয় থাকে এবং মেলাটোনিন তৈরি হয় ও রক্তে চলে আসে। কিছু খাবারে প্রাকৃতিকভবেই মেলাটোনিন থাকে যেমন- চেরি, কলা, আঙুর, ভাত, শস্য জাতীয় খাবার, অলিভ অয়েল। তাই এগুলো ঘুম আসতে সাহায্য করে। মোবাইলের নীল আলো মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধাসৃষ্টি করে। তাই ঘুমানোর অন্তত দু’ঘণ্টা আগে মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

    সেরোটোনিন : সেরোটোনিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যা মেলাটোনিনের প্রিকারসোর হিসেবে কাজ করে। সেরোটোনিন আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি ঘুমাতে, খাবার ঠিকভাবে হজম করতেও সাহায্য করে। সিরোটোনিন অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফেন থেকে আসে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু ট্রিপটোফেন সমৃদ্ধ খাবার খেলে ঘুম ভালো হয়। যেসব খাবারে উচ্চ মাত্রায় ট্রিপটোফেন থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে- বাদাম, বিচি জাতীয় খাবার, পনির, মাংস, ওটস, শিম, ডিম।

    সূর্যের আলো : পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো রক্তে ভিটামিন-ডি’র স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডি’র ঘাটতি হলে নিদ্রাহীনতা এবং ঘুমে ব্যাঘাত দেখা দেয়। ম্যাগনেসিয়াম : ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ ও অক্সিডেটিব ট্রেস বৃদ্ধি পায়, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় ও বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে। ম্যাগনেসিয়াম নিউরোট্রান্সমিটার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মেলাটোনিন মন শান্ত রাখে ও চিন্তামুক্ত রাখে। যেসব খাবারে উচ্চ মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে তাদের মধ্যে আছে- পালং শাক, বিচি (তিসি ও চিয়া সিড), মাছ, ডার্ক চকোলেট, স্বল্প ননীযুক্ত ইউগারট, কলা।

  • চুমুর কোনো উপকারিতা নেই!

    চুমুর কোনো উপকারিতা নেই!

    এবিএনএ: চুমু খেলে বাড়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা দাম্পত্য জীবনে চুমুর গভীর প্রভাব বা নানামুখি উপকারিতা রয়েছে। এ ধরনের বেশ কিছু তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যায়। এমনকি অনেক সময় বলে দেওয়া হয়- ‘চুমুই আপনার বাঁচার শক্তি বাড়াবে’ অথবা ‘চুমু খেলে আদান-প্রদান হয় ব্যাকটেরিয়া, যা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী’।

    অনেক সময় এ ধরনের সংবাদে গবেষণারও দাবি করা হয়। বলা হয়- চুমু খাওয়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জানতে এই গবেষণা। কিন্তু কোথায় বা কারা এ ধরনের গবেষণা করেছেন স্পষ্ট উল্লেখ থাকে না। বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত এ ধরনের একাধিক সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তথাকথিত সেই গবেষণা জানাচ্ছে, চুমু খেলে জিভ একে ওপরের সংস্পর্শে আসে। তখন একজনের লালা অন্যের শরীরের লালার সঙ্গে মিশে যায়। তখন একজনের শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া পৌঁছে যায় অন্যজনের শরীরে। এই সময় কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া আদান-প্রদান হয়। চুমু খাবার সময় ১০ সেকেন্ডে ৮ কোটি ব্যাকটেরিয়া আসা যাওয়া করে- এ ধরনের তথ্যও পাওয়া যায়। আর এতেই বাড়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা।

    এ ছাড়াও চুমু খাওয়ার ফলে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে, শরীরে ইমিউনিটি বাড়ে, উদ্বেগ কমে, দাঁতের উপকার হয়, মন-মেজাজ ফুরফুরে থাকে, রক্তচাপ কমায়, মুখের ব্যায়াম হয়, বয়সের ছাপ দূর হয়, মাইগ্রেনের ব্যথা দূর হয়, শরীরের ব্যথা বেদনা কমে- এমনটাও দাবি করা হয়। এর সবগুলোই যে ভুল ধারণা এমন নয়। দাম্পত্য জীবনে চুমুর প্রভাব রয়েছে।

    চুমু খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে কিনা এ প্রসঙ্গে জানতে কথা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হাসানাত ও চর্ম ও যৌন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হরষিত কুমার পালের সঙ্গে। তারা চুমুর কিছু উপকারিতা থাকলেও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নেই বলে জানান। এবং অনলাইনে এ প্রসঙ্গে যে তথ্যগুলো পাওয়া যায় এর অনেকগুলোই ‘ভ্রান্ত ধারণা’ বলে উল্লেখ করেন।

    চুমুর উপকারিতা আছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে ড. মুহাম্মদ আবুল হাসানাত বলেন, ‘এ ব্যাপারে আসলে আমার আইডিয়া নেই। তবে এগুলো মুখরোচক গল্প, এসব কাজের গল্প না।’ বিষয়টিকে তিনি ‘অবাস্তব টাইপের কথাবার্তা’ বলেন।

    ভালো লাগার মানুষকে চুমু খেলে তো ভালো লাগবেই। আবার ওই একই ব্যক্তিরই হয়তো এক সময় চুমু খেতে ভালো লাগবে না। উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, ‘সেক্স প্লের অংশ হিসেবে চুমু খাওয়া যেতে পারে। ভালোবাসার আদান-প্রদান বা বহিঃপ্রকাশের জন্যও বিশেষ মুহূর্তে চুমু খেলে ভালো লাগতে পারে।’