Category: লাইফ স্টাইল

  • গরম নয় বাসি ভাতেই কমবে ওজন, শরীর থাকবে ঠান্ডা

    গরম নয় বাসি ভাতেই কমবে ওজন, শরীর থাকবে ঠান্ডা

    এবিএনএ: বাসি ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। আবার অনেকে শখ করেও বাসি ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা কিংবা বিভিন্ন ভর্তা খেতে পছন্দ করেন। জানলে অবাক হবেন, গরম ভাতের চেয়ে নাকি বাসি ভাতেই থাকে বেশি পুষ্টিগুণ। এমনই মত পুষ্টিবিদদের।

    গবেষণায় দেখা গেছে বাসি ভাতে নানা ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টিকর খনিজ পদার্থ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক, ফসফরাস, ভিটামিন বি ইত্যাদি।

    বাসি ভাতের উপকারিতা

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাসি ভাতে থাকা পুষ্টিকর পদার্থগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীরের হাড়গুলোকে শক্ত রাখে ক্যালসিয়াম। শরীরে নিঃসৃত এনজাইমকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে ম্যাগনেসিয়াম। বাসি ভাতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-সিটোস্টেরল, কেম্পেস্টেরোলের মতো মেটাবলাইটসও থাকে, যা শরীরকে প্রদাহ বা যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। এসব কোলেস্টোরেল কমাতেও এসব সাহায্য করে।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাসি ভাতে ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাধারণত টকদইয়ের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। অর্থাৎ বাসি ভাত খেলে শরীরে প্রোবায়োটিকও মিলবে।
    প্রোবায়োটিকের কারণে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকে ও হজমশক্তি বাড়ে। বিপাকক্রিয়া উন্নত হওয়ায় ওজনও কমতে শুরু করে।

    তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভাতের ফারমেন্টেশন হলে সেখানে অ্যালকোহলের উপাদান তৈরি হয়। ওই বাসি ভাত খাওয়ার পর শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঘুম পেতে পারে। এছাড়াও বাসি ভাত যদি পরিষ্কার পাত্রে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে রাখা না হয়, তাহলে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে।

    সাধারণত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো অণুজীবের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে ওঠার ভয়েই বিশেষজ্ঞরা পানতা বা বাসি ভাত খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। তবে চাইলে কয়েকটি বিষয় মেনে সংরক্ষণ করতে পারেন বাসি ভাত।

    রান্না করার এক ঘণ্টার মধ্যে পাত্রটি ঠান্ডা করে একটি বক্সে ফ্রিজে রাখুন। অবশ্যই এয়ার টাইট পাত্রে ভাত রাখতে হবে। রান্না করা ভাত কখনো ঘরের তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় রেখে দেবেন না। না হলে সেগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হবে। ফ্রিজে রাখলেও তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রিতে রাখুন। অন্তত তিন দিন এভাবে বাসি ভাত সংরক্ষণ করে খেতে পারবেন। আর অবশ্যই ফ্রিজ থেকে বের কারার পর ঘরের তাপমাত্রায় আসার আগেই ভাত খেয়ে নিতে হবে।

    সূত্র: ফুড এনডিটিভি/টাইমস নাউ নিউজ/বিবিসি

  • ডিম হাফ বয়েল করবেন যেভাবে

    ডিম হাফ বয়েল করবেন যেভাবে

    এবিএনএ: স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। ডিম নানাভাবেই খাওয়া যায়। তবে পুষ্টিকর নাস্তা হিসেবে সেদ্ধ ডিম শরীরে শক্তি যোগায়। ডিম আধা সেদ্ধ (হাফ বয়েল) হোক বা পুরো সেদ্ধ (হার্ড বয়েল), যেকোনো অবস্থাতেই অত্যন্ত পুষ্টিকর। সেদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে অনেকেরই পছন্দ হাফ বয়েল ডিম। কিন্তু ডিম হাফ বয়েল করতে গিয়ে অনেকেই তা ঠিকভাবে করতে পারেন না। ফলে দেখা যায়, হাফ বয়েলের পরিবর্তে তা হয়ে যায় হার্ড বয়েল অর্থাৎ কুসুম শক্ত হয়ে যায়। হাফ বয়েল ডিমের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

    সুতরাং ডিম সঠিকভাবে হাফ বয়েল করার উপায় জেনে নিন।

    * পানির পাত্রটি চুলায় বসান। চুলার জ্বাল বাড়িয়ে পানি ফুটন্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পাত্রটি ঢাকনা চাপা দিতে পারেন, তাহলে পানি তাড়াতাড়ি ফুটবে।

    * ঘড়ি ধরে ৭ মিনিট ফুটতে দিন। ঠিক ৭ মিনিট পর ডিমের পাত্রটি চুলা থেকে তুলে দ্রুত ফুটন্ত পানি ফেলে দিয়ে এতে কলের স্বাভাবিক ঠান্ডা পানি ঢেলে দিন। এক্ষেত্রে দেরি করবেন না। ঠান্ডা পানিতে ভর্তি ডিমের পাত্রটি ১ মিনিট রেখে দিন, এতে ডিম ঠান্ডা হয়ে যাবে।

    * ১ মিনিট পর পাত্র থেকে ডিম তুলে সাবধানে খোসা ছাড়ান। এবার ছুরি দিয়ে ডিমটা দুই টুকরো করে দেখুন, বাইরের সাদা অংশটা সেদ্ধ হলেও ভেতরের কুসুম রয়েছে অবিকৃত। অর্থাৎ পারফেক্ট হাফ বয়েল ডিম।

  • সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখাবেন

    সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখাবেন

    এবিএনএ : একজন মানুষের সুন্দর আচরণ অন্যকে সম্মানিত করার পাশাপাশি সম্মানিত করে নিজেকেও। একই সঙ্গে শিশুর সুন্দর আচরণ পারিবারিক অনুশাসন ও পারিবারিক শিক্ষার প্রতিফলনও বটে। আপনার সন্তানের সুন্দর আচরণ অন্যের কাছে আদতে আপনাকেও সম্মানিত করে। আচরণ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর সুন্দর আচরণ তার মাঝে মানবিকতা, আত্মবিশ্বাস, সামাজিকতাসহ আরো বেশ কিছু অসাধারণ গুণ গড়ে তোলে। তাই শিশু বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভালো আচরণ শেখানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের বাড়ন্ত বয়সে শেখানো উচিত এমন কিছু মৌলিক আচরণ নিয়েই এ প্রতিবেদন।

    * দুষ্টুমি শিশুরা করবেই। কিন্তু আপনি তাকে শেখান তার দুষ্টুমি যেন কারোর ক্ষতির কারণ না হয়। কারো বাসায় বেড়াতে গেলে সেখানকার এটে-সেটা অনুমতি ছাড়াই নিয়ে নেওয়া কিংবা দুষ্টুমি করতে গিয়ে সেখানকার কোনো জিনিস নষ্ট করার মতো বিষয় যেন তার দ্বারা না ঘটে।

    * শেয়ার করার অসাধারণ গুণটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন সুন্দর করে তেমনি মানসিক প্রশান্তিও বাড়ায়। সন্তানকে ছোট থেকেই শেয়ারিং শেখাতে পারেন। নিজের ভাই-বোন বা কাজিনদের সঙ্গে নিজের খেলনা শেয়ার করা, মাঝে মাঝে একজন দুস্থ মানুষকে সাহায্য করা কিংবা বাসায় এনে তার সঙ্গে খাবার শেয়ার করার মাধ্যমে ছোট থেকেই সন্তানের মাঝে এই অসাধারণ গুণটি গড়ে তুলুন।

    * দুজন ব্যক্তির কথোপকথন চলাকালীন তাদের মাঝখানে ব্যাঘাত ঘটানো উচিত নয়, যদি না খুব প্রয়োজন হয়। এই ধরনের আচরণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আপনার সন্তানকে এই ধরনের আচরণ করতে নিষেধ করুন।

    * কারো চারিত্রিক বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে মন্তব্য করাটা কেন উচিত নয় তা বোঝান, যদি তা প্রশংসামূলক না হয়। কোন বিষয়গুলো বুলিং-এর পর্যায়ে পড়ে তা সন্তানকে শেখান। কারো নাম ব্যঙ্গ করা, শারীরিক গড়নের জন্য কাউকে নিয়ে মজা করা, স্কুলে পড়ালেখায় দুর্বল ছাত্রটিকে নিয়ে মজা করা; এমন আরো যেসব বুলিং রয়েছে সেসব নিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। এতে বুলিং-এর শিকার মানুষটি কতটা কষ্ট পায় তা সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন।

    * কিভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয়, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নোট লিখতে হয় তা শেখান। বিশেষ করে সে যখন কারো কাছ থেকে কোনো উপহার গ্রহণ করে তখন প্রদানকারীকে ধন্যবাদ দেয়ার আগে তা খুলে দেখা বা ব্যবহার করা উচিত নয়।

    * স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কেও আপনার সন্তানকে সচেতন করা উচিত। হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল দিতে শেখান এবং অন্যের সামনে দাঁত ও নাক খোঁচানো থেকে বিরত থাকতে বলুন এবং সবসময় তাকে টিস্যু ব্যবহার করতে শেখান।

    * কেউ যখন তাকে কেমন আছো প্রশ্ন করবে তখন বিনয়ের সঙ্গে জবাব দেওয়া শেখান এবং প্রশ্নটি তাকেও করতে বলুন।

    * তাকে বলুন, অন্যের গোপনীয়তাকে সম্মান করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারো রুমে প্রবেশের দরকার হলে দরজায় নক করা এবং অনুমতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলুন।

    * আপনার সন্তানকে টেবিলে খাবার সময় ভদ্রতা সম্পর্কে সচেতন করুন। খাবারের প্লেট তার সামনে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে শেখান।

    * অন্যের সুবিধার জন্য সবসময় দরজা খুলে তা ধরে রাখতে শেখান এবং কেউ যদি তার সুবিধার জন্য দরজা খুলে ধরে রাখে তবে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে বলুন।

    * পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সে সম্পর্কে বলুন। খেলাধুলা এবং খাবার পর কিভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হয় তা তাকে শেখান।

    * পরিচিত কিংবা অপরিচিত কারো সঙ্গে কথা বলার সময় কিভাবে সম্বোধন করতে হয় সে সম্পর্কে আপনার সন্তানকে অবগত করুন।

    * তাকে বলুন, কেন সবসময় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, হেরে যাওয়া বা জয়ী হওয়াটা বড় কথা নয়।

    * আপনার সন্তানকে শেখান, সে অন্যের বাড়িতে প্রবেশের সময় অবশ্যই যেন জুতা খুলে প্রবেশ করে।

    * আপনার সন্তানকে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হতেও শেখান। তার দ্বারা যেন পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় তা শেখান। চারপাশ অপরিষ্কার না করতে শেখান এবং পরিবেশের জন্য এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলুন। শুরু করতে পারেন যেখান সেখানে ময়লা বা থুথু না ফেলার অভ্যাস তৈরি করার মাধ্যমে।

    * নিজেদের ভুল তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। এতে বোঝা যায়, কেউ এই পৃথিবীতে নিখুঁত নয়। সবার ভুলভ্রান্তি হতে পারে। ‘আমি ভুল করতে পারি না’ এই অহংকার যেন নিজের ভুল হলে স্বীকার করতে আর এ জন্য ক্ষমা চাইতে নিবৃত্ত না করে।

    * সন্তান কোনো ভুল করলে তাকে দুঃখিত/স্যরি বলা শেখান। অভিভাবক হিসেবে আপনি যদি কোনো প্রকার ভুল করে ফেলেন তবে সরি/দুঃখিত বলুন। আপনি স্যরি বলার অভ্যেস না করলে সেও বলবে না। সে ধরেই নেবে যে স্যরি বলা খুবই অপমানজনক কাজ।

    কীভাবে আপনার সন্তানকে শিষ্টাচারগুলো শেখাবেন

    * প্রথম পদক্ষেপটি হলো ভালো অভ্যাসগুলোকে আপনার নিজের মধ্যে আয়ত্ত করা। বাচ্চারা তাদের মা–বাবাকে তাদের রোল মডেল হিসেবে দেখে। আপনি যদি চান যে আপনার সন্তানের মধ্যে শিষ্টাচারগুলো গড়ে উঠুক, তবে আপনি তাকে যা শেখাতে চান তা তাদের সামনে নিজেও অনুশীলন করুন। এমনকি হতাশার মুহূর্তগুলোতেও বাচ্চাদের সামনে যেন আপনার শিষ্টাচার, ভালো আদব–কায়দা বজায় রাখা থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়বেন না।

    * নম্র ও বিনয়ী হয়ে ওঠা, দরজায় খটখট করা, কাজ হয়ে যাওয়ার পর ঘরদোর গুছিয়ে নিজেকে ফিটফাট ও পরিষ্কার রাখা, খাবার টেবিলের আদবকায়দা ইত্যাদির মতো সুঅভ্যাসগুলো বাসায় আপনার বাচ্চার সঙ্গে বারবার অনুশীলন করতে পারেন, যতক্ষণ না সেগুলো তাদের মনের মধ্যে এবং আচরণে পাকাপাকিভাবে স্থায়ী হয়ে যায়।

    * আপনার সন্তান যখন সু–অভ্যাসগুলো কাজে লাগিয়ে দেখায়, তখন তার প্রশংসা করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন এবং প্রতিবার ভালো কিছু করার সঙ্গে তাকে উৎসাহ প্রদান করলে তা তাকে আরও ভালো হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। সন্তানের সু–অভ্যাস এবং ভালো আচার-আচরণগুলোকে উপেক্ষা করার বিপরীত প্রভাব হতে পারে, কারণ তারা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য হয়তো খারাপ আচরণ করতে পারে।

    * আপনার সন্তান যখন কিছু ভুল করে তখন তা তাকে সংশোধন করে দিন, এমনকি সেটা যদি অন্য কারও সঙ্গে কথোপথনের মাঝে হয়ে থাকে তখনও আপনার বাচ্চাকে কয়েক মুহূর্তের জন্য থামান এবং দ্রুত তার ভুলটিকে শুধরে দিন। তবে আপনার শিশুটি যদি অত্যন্ত আত্মমর্যাদা মনোভাবী হয়ে থাকে তাহলে পরে ব্যক্তিগতভাবে তাকে সেটা বলতে পারেন।

    * বাচ্চাদের কম মনোযোগ এবং দুরন্তপনা আপনাকে হয়তো একাধিকবার বিরক্ত ও হতাশ করে তুলবে, কিন্তু ধৈর্যশীল হন। ধৈর্যচ্যুত না হওয়া এবং সন্তানের ওপর রেগে না যাওয়া উচিত। আপনি যদি শান্ত ও অনড় থাকেন, তবে আপনার সন্তানও সেই একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, ফার্স্ট ক্রাই

  • কীভাবে বুঝবেন পায়ুপথে ফিস্টুলা

    কীভাবে বুঝবেন পায়ুপথে ফিস্টুলা

    এবিএনএ : পায়ুপথের ফিস্টুলা (এনাল ফিস্টুলা বা ফিস্টুলা-ইন-এনো) রোগ শুরু হয় পায়ুপথের বাইরের ত্বক ও ভেতরের পেশির মধ্যে জীবাণুযুক্ত সংযোগ পথ সৃষ্টির মাধ্যমে। বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ বেশ পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ছেন কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বৃহদ্রান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল হক মাসুম।

    সাধারণত পায়ুপথের গ্লান্ডগুলোয় ইনফেকশন হতে এনাল ফিস্টুলার শুরু। ইনফেকশন হতে ফোড়া হয় এবং সেই ফোড়া ফেটে গিয়ে অথবা অপারেশনের মাধ্যমে পুঁজ বের করে দিলে পায়ুপথের বাইরের ত্বকের সঙ্গে এনাল গ্লান্ডের সংযোগ স্থাপিত হয় এবং পায়ুপথের বাইরের ত্বকের সঙ্গে এনাল গ্লান্ডের মাঝে এক সুড়ঙ্গের মতো পথ তৈরি হয়। পুঁজ বেরিয়ে যাওয়ার পর উপসর্গের উন্নতি হয়। পুঁজ আস্তে আস্তে আবার জমতে থাকে এবং একটা সময়ের পর ফোলা ব্যথা জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গগুলোর মাত্রা রোগীভেদে কম বেশি হয়। দীর্ঘস্থায়ী ফিস্টুলা বাইরে এবং ভেতরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক ছিদ্র বা মুখ থাকতে পারে এবং ভেতরের মুখ যদি পেশির বেশ ওপরে হয় তবে চিকিৎসা জটিলতার সম্মুখীন হয়।

    রোগ নির্ণয়

    সফল চিকিৎসার জন্য ফিস্টুলা পথ কোথা থেকে শুরু হয়ে কোন পথ দিয়ে পায়ুপথের দেয়ালের মধ্য দিয়ে গিয়ে কোন স্থানে ভেতরের মুখটা খুলেছে- রোগ নির্ণয় ও আরোগ্য নিশ্চিত করতে সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অত্যাবশ্যক।

    বাইরের অর্থাৎ ত্বকের ওপরে যে মুখটা লাল ও প্রদাহময় যেখান থেকে পুঁজ অথবা রক্ত বেরিয়ে আসে। বাইরের মুখটা সহজেই চোখে পড়ে। পায়ুপথের ভেতরের মুখটা খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। এমআরঅ্যাই স্ক্যান, এন্ডো-এনাল আল্ট্রাসাউন্ড ফিস্টুলা পথকে সঠিকভাবে চিত্রিত করতে পারে। যদি ফিস্টুলোগ্রাম এক্সরে ব্যবহার করা হয়, ফিস্টুলা পথটা যেহেতু সবসময় খোলা থাকে না দূষিত ময়লাযুক্ত শক্ত পুঁজ দ্বারা বন্ধ থাকতে পারে, ফিস্টুলোগ্রাম এক্সরে দ্বারা ঠিক পথ নির্ণয় সাধারণত কষ্টকর, সব সময় বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

    উপরিউক্ত পরীক্ষাগুলো সাধারণত জটিল ফিস্টুলার জন্য সীমাবদ্ধ থাকে। বেশিরভাগ ফিস্টুলা জেনারেল এনেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করার পর লকহার্ট ম্যামারি নামে একজন ইংরেজ ব্রিটিশ সার্জন আবিষ্কৃত ধাতু নির্মিত ‘প্রব’ (লকহার্ট ম্যামারি প্রব) বাইরের মুখ থেকে ফিস্টুলা পথ দিয়ে ভেতরের মুখ দিয়ে বের করে এনে ফিস্টুলা পথটা পুরোপুরি শনাক্ত করা যায় এবং ফিস্টুলা পথটা পায়ুপথের মাংসপেশির ওপরে অথবা নিচের দিকে খুলেছে কিনা সেটা বুঝতে পারা যায়।

    অপারেশন

    যদি ফিস্টুলা পথের ভেতরের মুখ পায়ুপথের মাংসপেশির নিচের দিকে থাকে তবে ফিস্টুলা পথ আচ্ছাদিত পায়ুপথের চর্ম ও পেশি কোনো মারাত্মক জটিলতা ছাড়াই কেটে দেয়া যায় এবং ফিস্টুলা থেকে আরোগ্যলাভ সম্ভব হয়। কিন্তু যদি ফিস্টুলা পথের ভেতরের মুখ পায়ুপথের মাংসপেশির ওপরে উন্মুক্ত হয় তাহলে ফিস্টুলা পথ আচ্ছাদিত পায়ুপথের পেশি কেটে আরোগ্যলাভ তো সম্ভবই নয়, মল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে পায়ুপথ দিয়ে অবিরত মল ঝরতে থাকে এবং রোগীর জীবন দুর্বিষহ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভবে পরিণত হয় সে কারণে উচ্চ অবস্থিত ফিস্টুলা চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা এবং কয়েকবার অপারেশনের মাধ্যমে হয়ে থাকে যাতে করে পায়ুপথ নিয়ন্ত্রণ নষ্ট না হয়ে যায়। যে বিভিন্ন অপারেশনের মাধ্যমে উচ্চ অবস্থিত ফিস্টুলার রোগ মুক্তি সম্ভব তার মধ্যে সিটন, ফিস্টুলা প্লাগ, প্লাস্টিক ফ্ল্যাপ এবং অন্যান্য জটিল শল্যচিকিৎসা উল্লেখ্য।

    সতর্কবাণী

    পায়ুপথের ফিস্টুলা যেহেতু এক জটিল রোগ কোনো অবস্থাতেই বিশেষজ্ঞ কলোরেক্টাল চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও দ্বারা পায়ুপথের ফিস্টুলা চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন অচিকিৎসক দ্বারা ফিস্টুলা চিকিৎসা করিয়ে অনেক রোগী অহরহ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

  • সহবাসের সুখ বাড়াতে যা ব্যবহার করবেন

    সহবাসের সুখ বাড়াতে যা ব্যবহার করবেন

    এবিএনএ : সহবাসে অধিক আরাম পেতে ভ্যাজাইনা ও পেনিসে লুব্রিকেন্ট (লুব) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সকল লুব্রিকেন্টই একই মানের নয়। বাজারেপ্রাপ্ত বেশ কিছু লুব্রিকেন্টে কড়া কেমিক্যাল থাকে, যা গোপনাঙ্গের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। যৌনাঙ্গের ত্বক এতটাই সংবেদনশীল যে, লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। যেহেতু বাজারেপ্রাপ্ত কিছু লুব্রিকেন্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে ভোগাতে পারে, তাই অনেক চিকিৎসই প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

    নিউ ইয়র্ক মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলিসা ডোয়েক বলেন, সহবাসের সময় অস্বস্তিকর ঘর্ষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কেমিক্যালবিহীন লুব্রিকেন্ট মানে প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহারই বেশি নিরাপদ।

    চিকিৎসকেরা জানান- বাজারেপ্রাপ্ত কিছু লুব্রিকেন্টে এমনও কেমিক্যাল থাকে, যা অন্তরঙ্গ স্থানের ক্ষতি করতে পারে। যদি বাণিজ্যিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে চান, তাহলে লুব্রিকেন্টের প্যাকেটে এসব উপাদান লেখা থাকলে তা এড়িয়ে চলুন- ফ্রাগরানসেস, পারাবিনস, গ্লিসারিন ও প্রপাইলিন গ্লাইকোল। অতিরিক্ত সংবেদনশীল ত্বক, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় এসব উপাদানযুক্ত লুব্রিকেন্ট ব্যবহার না করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এসবের পরিবর্তে প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে পারেন, যা নিরাপদে সহবাসের সুখ বাড়াতে পারে। এখানে পাঁচটি প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট সম্পর্কে বলা হলো।

    * নারকেল তেল: ডা. ডোয়েক বলেন, ‘নারকেল তেল একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট, যেটাকে যৌনাঙ্গের সংবেদনশীল ত্বক সহ্য করতে পারে।’ এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো সুঘ্রাণ। এর স্বাদও ভালো, যেকারণে ওরাল সেক্সের জন্যও উপযুক্ত। নিশ্চিত হতে হবে যে, ভার্জিন বা আনরিফাইন্ড নারকেল তেল কিনছেন। রিফাইন্ড নারকেল তেলে অ্যাডিটিভস থাকতে পারে, যা ত্বককে উক্ত্যক্ত করতে পারে। কনডম ব্যবহার করলে অন্যকোনো লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। কারণ নারকেল তেল কনডমের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

    * অ্যালোভেরা জেল: রোদে পোড়া ত্বকের চিকিৎসায় প্রায়ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকে প্রশান্তিদায়ক অনুভূতি দেয়।এটা যৌনাঙ্গে ব্যবহার করলে ভ্যাজাইনা ও পেনিসের মধ্যকার ঘর্ষণের অস্বস্তি এড়ানো যাবে। সুখময় যৌনজীবনের কথা ভেবে বাসার টবে সীমিত পরিসরে অ্যালোভেরার চাষ করতে পারেন। আপাতত ফার্মেসি থেকে পিউর অ্যালোভেরা জেল কিনে ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্যাকেটের লেখা ভালোভাবে পড়ুন। সংবেদনশীল ত্বককে উক্ত্যক্তকারী উপাদান (যেমন- অ্যালকোহল) থাকলে ব্যবহার করবেন না।

    * অ্যাভোকাডো অয়েল: নারকেল তেল ও অলিভ অয়েলের মতো অ্যাভোকাডো অয়েলকেও লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই তেল খেলেও সমস্যা নেই, তাই ওরাল সেক্সেও ব্যবহার করতে পারবেন। এটি ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। অ্যাভোকাডো অয়েলকেও কনডমের সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। কারণ এই তেলও কনডমকে অকার্যকর করতে পারে।

    * ভিটামিন ই অয়েল: ভিটামিন ই অয়েলকেও লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে নিশ্চিত হতে হবে যে, পিউর ভিটামিন ই অয়েল ব্যবহার করছেন। এই তেলও কনডমের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত নয়।

  • লং কভিড থেকে মুক্তি দিতে পারে যে ৪ খাবার

    লং কভিড থেকে মুক্তি দিতে পারে যে ৪ খাবার

    এবিএনএ : বিশ্বজুড়ে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও ওমিক্রনের উপসর্গ ডেল্টার তুলনায় হালকা, তবে এ থেকেও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। লং কভিড হলো এমন একটি জটিলতা। এতে শরীর থেকে ভাইরাস ছেড়ে চলে যাওয়ার অনেক পরেও লক্ষণগুলো থেকে যায়।

    ডেল্টায় যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ভুগেছেন।  গন্ধ এবং স্বাদ চলে যাওয়া, হুপিং কাশি, দুর্বলতা এবং জয়েন্টগুলোতে ব্যথা, এমন কিছু লক্ষণ, যা অনেকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী হতে থাকে। দীর্ঘ কভিড ক্লান্তিকর এবং এই ধরনের সংক্রমণ এড়ানোর জন্য সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ কভিড প্রতিরোধ করতে এবং সুস্থ থাকার জন্য এই চারটি খাবার খাওয়া উচিত।

    কম্বুচা

    কম্বুচা হালকা উজ্জ্বল এবং সবুজ বা কালো চায়ের একটি মিষ্টি রূপ, যা হজম ভালো রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে ডিটক্সিফিকেশন এবং রক্তচাপ হ্রাস। যেহেতু এটি গাজন করা হয়, এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

    গাজানো দুধ

    অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এমন কোনো খাদ্য এড়িয়ে চলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার চাবিকাঠি। গাজন করা খাবার এবং পানীয়গুলিতে ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের জন্য ভালো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।

    গাজানো বাঁধাকপি

    সূক্ষ্মভাবে কাটা কাঁচা বাঁধাকপি বিভিন্ন ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গাজন করা হয় এবং এর একটি টক স্বাদ আছে। ল্যাকটিক এসিডের উপস্থিতির কারণে এটি অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া এই বাঁধাকপি খেলে ওজন কমতেও সাহায্য করে।

    কিমচি বা মসলাদার কোরিয়ান বাঁধাকপি

    যারা কোরিয়ান খাবার সম্পর্কে নতুন জানছেন, তাদেরকে বলে রাখা ভালো যে কিমচি একটি আকর্ষণীয় এবং বেশ মজাদার খাবার। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে কিমচি। আর পেট ভালো থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো থাকে।

    সূত্র : দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

  • শারীরিক সম্পর্কের ইচ্ছা কমিয়ে দেয় যে ৫ খাবার

    শারীরিক সম্পর্কের ইচ্ছা কমিয়ে দেয় যে ৫ খাবার

    এবিএনএ: কর্মব্যস্ততার কারণে আমরা অনেক সময় নিয়মিত খাবারের বিপরীতে নানা ধরনের খাবার খেয়ে থাকি। যেসব খাবার আসলে আমাদের তাৎক্ষণিক ক্ষুধা মেটালেও যৌন জীবনে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শারীরিক মিলনের প্রতি আকাঙ্ক্ষাও কমিয়ে দিতে পারে। একারণে অনেকেই না বুঝে বিভিন্ন ওষুধ সেবন করে থাকেন। যা আসলে শরীরে সাময়িক এনার্জি এনে দিলেও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে থাকে। তাই যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে আনতে পারে এমন খাবারগুলো এখন থেকেই এড়িয়ে চলা শ্রেয়।

    লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যৌন আকাঙ্ক্ষা বা যৌন ক্ষমতার ওপর কুপ্রভাব ফেলতে পারে যেসব খাবার-

    ১. অতিরিক্ত চিজ খেলে যৌনজীবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আসলে গরুর দুধে প্রচুর পরিমাণ সিনথেটিক হরমোন রয়েছে যা প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার ফলে শরীরে স্বাভাবিক হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।

    ২. অতিরিক্ত মদ্যপান যৌন জীবনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ইরেক্টাইল সমস্যাসহ, মিলনের শুরুতেই দ্রুত বীর্যপাতের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত মদ্যপান। তাছাড়া অ্যালকোহল শরীরে একটা অবসন্ন ভাব এনে দেয়। ফলে যৌন মিলনের সময় উপযুক্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার ঘাটতি দেখা দেয়।

    ৩. মাইক্রোওয়েভে তৈরি করা পপকর্ন খেলেও যৌন মিলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এই সব পপকর্নে থাকে অ্যাসিডের মতো কেমিক্যাল যা আস্তে আস্তে যৌন মিলনে ক্ষমতা হ্রাস করে।

    ৪. ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সয়া মিল্ক বা সয়া সস ব্যাপকভাবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যায়।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, যারা দিনে ১২০ গ্রাম সয়া খান তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে যায়। এতে সয়া কমিয়ে দেয় শুক্রাণুর পরিমাণও।

    ৫. যেকোনো ধরনের রিফাইন কার্বোহাইড্রেট (চিপস, পাউরুটি, ডোনাট) বা শর্করা যৌন মিলনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। রিফাইন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা শরীরে এস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা। ফলে যৌন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  • শারীরিক সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায় যে বয়সে

    শারীরিক সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায় যে বয়সে

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: শারীরিক সম্পর্ক কতটা উপভোগ করবেন, তা নির্ভর করে কীসের উপর? কোন সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন, তার উপর, না কি শরীর কতটা সুস্থ আছে, তার উপর? শারীরিক সম্পর্কের আগে কেমন খাবার খেয়েছেন, তার উপর? না কি একেবারে আলাদা কিছু। হালের গবেষণা বলছে, এর কোনোটি নয়। শারীরিক সম্পর্ক কতটা উপভোগ করবেন, তা নির্ভর করে কোন বয়সে সম্পর্কগুলি হচ্ছে, তার উপর। কারণ এটি পুরোপুরি বিভিন্ন হরমোনের মাত্রার উপর নির্ভরশীল।

    এটা শুনে মনে হতে পারে, নির্ঘাৎ যৌবনের গোড়ায়, অর্থাৎ ২০ বছরের আশপাশে যৌনসম্পর্ক সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। কিন্তু গবেষণা বলছে, বিষয়টি একেবারেই তা নয়। তবে কি ত্রিশের ঘরে? তা হলে কোন বয়সে? সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে, বলে রাখা যাক, কেন ২০ বা ৩০-এর ঘরে যৌনতা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় উপভোগ করা যায় না।

    মনোবিদরা বলছেন, ২০-এর ঘরে যৌনসম্পর্ক নিয়ে মারাত্মক উত্তেজনা থাকে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি করে থাকে নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব। ফলে যৌনসম্পর্ক উপভোগ করার পাশাপাশি মনের মধ্যে চলতে থাকে নিজের শরীর নিয়ে সংশয়। ৩০-এর ঘরে পৌঁছে সেই সংশয় কিছুটা কমতে থাকে বটে, কিন্তু ভাবনার পুরোটাই থাকে অর্গাজম-কেন্দ্রিক। বয়স আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাবনাতেই বদল আসে।

    তা হলে কোন বয়সে যৌনসম্পর্ক সবচেয়ে বেশি মাত্রায় উপভোগ করেন মানুষ? গবেষণা বলছে, ৫০-এর পরে। শুনে হয়তো আপনার অবাক লাগছে। মনোবিদরা এর পরে যা বলেছেন, তা আরও অবাক করার মতো। তাদের মতে, নারীরা যে বয়সে পৌঁছে যৌনসম্পর্ক সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন, সেটি হল ৬৪। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই বয়সটি ৬২। মনোবিদদের দাবি, এই বয়সে পৌঁছে নিজের শরীর নিয়ে সমস্ত সংশয় কেটে যায়। এবং যৌনসম্পর্কে তাড়াহুড়োর বদলে মানুষ ধীর গতির যৌনসম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েন। তাতে ছোট ছোট অনুভূতিগুলি আরও বেশি মাত্রায় মন ছুঁয়ে যায়।

  • কখন শারীরিক সম্পর্ক করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে না?

    কখন শারীরিক সম্পর্ক করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে না?

    এবিএনএ: যারা এখনই সন্তান নিতে চাইছেন না, আবার নিয়মিত কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (যেমন পিল বা কনডম) ব্যবহারেও অনীহা, তাদের জন্য ন্যাচারাল মেথড একটি উপায় হতে পারে। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ওভুলেশন বা ডিম্বাণু স্ফুরণের সময়টি হিসাব করে ওই সময়ে সহবাস বন্ধ রেখে বা স্বল্প সময়ের জন্য কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

    কীভাবে গণনা করতে হবে

    যে নারীরা প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান, তাদের পূর্ববর্তী ছয় মাসের মাসিকের হিসাব রাখতে হবে। একবার মাসিক শুরু হওয়া থেকে পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়া পর্যন্ত কত দিনের ব্যবধান থাকে, তা লিখে রাখতে পারলেই ভালো। তারপর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যবধানের মাসিকচক্র থেকে ১৮ দিন বিয়োগ করতে হবে আর সবচেয়ে দীর্ঘ মাসিক চক্র থেকে ১১ দিন বিয়োগ করতে হবে। যেমন কারও মাসিকচক্রের হিসাব যদি এমন হয় যে ২৫ থেকে ৩০ দিন, তাহলে হিসাবটা হবে: ২৫-১৮ = ৭ ও ৩০-১১ = ১৯ তাহলে তার ওভুলেশনের সম্ভাবনা মাসিকের ৭ম থেকে ১৯তম দিন পর্যন্ত। এ সময়টাকে ডেঞ্জার পিরিয়ড বা ফার্টাইল পিরিয়ড বলে। এ সময় সহবাস বন্ধ রাখা বা স্বামী কনডম ব্যবহার করলে গর্ভধারণের ঝুঁকি কমে যায়।

    সীমাবদ্ধতাগুলো কী

    এই পদ্ধতি তাঁদের জন্যই প্রযোজ্য, যাঁদের মাসিক নিয়মিত। অনিয়মিত মাসিক যাঁদের, তাঁদের জন্য এ পদ্ধতি ফলপ্রসূ হবে না। নানা রকম গবেষণায় দেখা গেছে, এ পদ্ধতির ফেইলর রেট অনেক বেশি, এমনকি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

    যারা বাচ্চা নিতে চান

    যেসব দম্পতি বাচ্চা নিতে চাইছেন, তাঁরা ঠিক এভাবে হিসাব–নিকাশ করে ডেঞ্জার পিরিয়ডে সহবাস করলে ফলপ্রসূ হবে। ওভুলেশন হওয়ার পর ডিম্বাণু সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। আবার শুক্রাণু ৩-৫ দিন পর্যন্ত নারীর যোনিপথে জীবিত থাকতে পারে। এই পিরিয়ডে তাই প্রতিদিন সহবাস করতে হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসকেরা সাধারণত এক দিন অন্তর সহবাসের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

    কনসালট্যান্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড

  • শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে যেসব খাবারে

    শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে যেসব খাবারে

    এবিএনএ: শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতে এবং যৌনশক্তি বাড়াতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন ঔষধি কৌশল এবং মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এখন প্রায় সেকেলে হয়ে পড়েছে। আজকাল যৌনশক্তি বাড়াতে প্রাকৃতিক কামোদ্দীপক বা যৌনশক্তি বর্ধক খাদ্যই অনেক বেশি কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বিবাহিত জীবনে যৌনতায় ফিট থাকতে হলে আপনাকে দৈনন্দিন খাবার দাবারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে। কারণ সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকার পাশাপাশি দরকার স্বাস্থ্যকর যৌন জীবন।

    কারণ প্রায়ই দেখা যায় যৌন সমস্যার কারণে সংসারে অশান্তি হয়, এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়। তাই আগে থেকে সতর্ক থাকলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি নাও হতে পারেন আপনি। আপনার যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য কোনো প্রকার ঔষধের প্রয়োজন নেই, তার জন্য দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবারদাবারই যথেষ্ট। আপনার খাবার মেনুতে নিয়মিত দুধ, ডিম এবং মধু রাখুন আর নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করুন, তাহলে যৌন দুর্বলতায় ভুগবেন না।

    ডিম

    যৌন দুর্বলতা দূর করতে ও যৌন উত্তেজনা বাড়াতে এক অসাধারণ খাবার দুধ। প্রতিদিন সকালে, না পারেন সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ১টি করে ডিম সিদ্ধ করে খান। এতে আপনার যৌন দুর্বলতার সমাধান হবে।

    দুধ

    যেসব খাবারে বেশি পরিমাণ প্রাণিজ-ফ্যাট আছে এমন প্রাকৃতিক খাদ্য আপনার যৌনজীবনের উন্নতি ঘটায়। যেমন, খাঁটি দুধ, দুধের সর, মাখন ইত্যাদি। বেশিরভাগ মানুষই ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু আপনি যদি শরীরে সেক্স হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ বাড়াতে চান তাহলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট জাতীয় খাবারের দরকার। তবে সবগুলোকে হতে হবে প্রাকৃতিক এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট।

    মধু

    যৌন দুর্বলতার সমাধানের মধুর গুণের কথা সবারই কম-বেশি জানা। তাই যৌন শক্তি বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।

    রসুন

    যৌন সমস্যা থাকলে এখনই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। স্মরণাতীতকাল থেকেই নারী পুরুষ উভয়েরই যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে এবং জননাঙ্গকে পূর্ণ সক্রিয় রাখতে রসুনের পুষ্টিগুণের কার্যকারিতা সর্বজনস্বীকৃত। রসুনে রয়েছে এলিসিন নামের উপাদান যা যৌন ইন্দ্রিয়গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

    কফি

    কফি আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়ানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আপনার যৌনতার মুড কার্যকর রাখে।

    জয়ফল

    গবেষণায় দেখা গেছে, জয়ফল থেকে এক ধরনের কামোদ্দীপক যৌগ নিঃসৃত হয়। সাধারণভাবে এই যৌগটি স্নায়ুর কোষ উদ্দীপিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনার যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়। আপনি কফির সাথে মিশিয়ে জয়ফল খেতে পারেন, তাহলে দুইটির কাজ একত্রে পাওয়া সম্ভব।

    চকলেট

    ভালোবাসা ও যৌনতার সঙ্গে সবসময়ই চকলেটের একটা সম্পর্ক রয়েছে। এতে রয়েছে ফেনিলেথিলামিন (পিইএ) ও সেরোটোনিন। এ দুটি পদার্থ আমাদের মস্তিষ্কেও রয়েছে। এগুলো যৌন উত্তেজনা ও দেহে শক্তির মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। পিইএ’র সঙ্গে অ্যানান্ডামাইড মিলে অরগাজমে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

    কলা

    কলার রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম মানবদেহের যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। আর কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ানও। যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতেও সহায়ক। আর সর্বোপরি কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ শর্করা যা আপনার দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে দীর্ঘসময় ধরে যৌন মিলনে লিপ্ত হলেও আপনার ক্লান্তি আসবে না।

    ভিটামিন সি জাতীয় ফল

    যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন। আঙ্গুর, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণা দেখা গেছে, একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়। এসব ফলে মধ্যে তরমুজের প্রভাব বেশি। অনেকে যৌন উদ্দীপক ওষুধ ভায়াগ্রার সাথে তরমুজের তুলনা করেছেন।

    গরুর মাংস

    গরুর মাংসে প্রচুর জিঙ্ক থাকে। তাই আপনি যৌন জীবনকে আরো আনন্দময় করতে কম ফ্যাটযুক্ত গরুর মাংস খান। যেমন গরুর কাঁধের মাংসে, রানের মাংসে কম ফ্যাট থাকে এবং জিঙ্ক বেশি থাকে। এইসব জায়গার মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে ১০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকে।