Category: বাংলাদেশ

  • ছাত্রনেতা মাসুম হত্যার প্রতিবাদে শরণখোলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

    ছাত্রনেতা মাসুম হত্যার প্রতিবাদে শরণখোলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

    এবিএনএ,শরণখোলা(বাগেরহাট): শরণখোলায় ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুমকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে এবং হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ৬ মার্চ (শুক্রবার) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর খুড়িয়াখালী গ্রামে নিহত মাসুমের বাড়ির সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেয়। উল্লেখ্য গত ১ মার্চ রাতে মাসুমকে হত্যা করা হলে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকী আসামীরা পালিয়ে যায়।

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীরা বলেন, মাসুমের হত্যায় যারা জড়িত তারা পূর্বে বনদস্যুতার সাথে যুক্ত ছিলো। বর্তমানেও পালিয়ে যাওয়া আসামীরা সুন্দরবনে অবস্থান করছে এবং রাতে তারা তাদের নিজেদের বাড়ীতে থাকে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন।

    নিহত মাসুমের পরিবার জানায়, আসামীর পরিবারের নারীরা সন্ধ্যা হলেই ধারালো দা নিয়ে রাস্তায় বের হয়। গতকাল রাতে নিহত মাসুমের বড় ভাইকে একা পেয়ে দা- বটি নিয়ে তেড়ে আসে অভিযুক্ত আসামী পরিবারের দুই নারী সদস্য। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে ওই নারীরা পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো বটি উদ্ধার করে।

    এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অভিযুক্ত আসামীরা ঘটনার পর থেকে এলাকা থেকে পালিয়েছে। তবে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে।

  • বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে চাঞ্চল্য: ব্যবসায়ীর ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও

    বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে চাঞ্চল্য: ব্যবসায়ীর ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট শহরের একটি ব্যাংকের লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, পূবালী ব্যাংকের সুরক্ষিত লকারে রাখা তার প্রায় দুইশ ভরি স্বর্ণালংকার আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী সড়কে অবস্থিত পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখায় এ ঘটনা সামনে আসে। খবর পেয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সুমন কুমার দাসের বাড়ি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

    সুমন কুমার দাস জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর তিনি তার মা, খালা, ভাই ও স্ত্রীরসহ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের প্রায় দুইশ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ব্যাংকের লকারে জমা রাখেন। সম্প্রতি বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ব্যাংকে গিয়ে লকার খুললে দেখতে পান ভেতরে কোনো স্বর্ণালংকার নেই।

    তিনি বলেন, লকার খালি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। এরপর বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানাই।

    ঘটনার পর ব্যাংকের অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই ব্যাংকের এক গ্রাহক মাহফুজুর রহমান বলেন, একজন গ্রাহকের লকার থেকে স্বর্ণালংকার হারানোর খবর শুনে আমিও আমার লকার পরীক্ষা করতে ব্যাংকে আসি। সৌভাগ্যক্রমে আমার জিনিসপত্র ঠিকঠাক রয়েছে।

    এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন বলেন, এক গ্রাহক তার লকারে রাখা কিছু মূল্যবান জিনিস দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে।

    বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ব্যাংকে গিয়ে লকার পরিদর্শন করেছে। কীভাবে ব্যাংকের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে এত বড় অঙ্কের স্বর্ণালংকার উধাও হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সুন্দরবনে থামছেনা বনদস্যুদের হাতে জেলে অপহরণ। বুধবার রাতে আরো দুই জেলেকে অপহরণন করেছে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা। শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়–য়াগাং এলাকায় বনদস্যুরা এই ৩ জেলেকে অপহৃত হয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে।

    তারা হলেন, রায়হান (২২) ও সুমন (২৪) এদের বাড়ী বাগেরহাটের শরণখোলার শরণখোলা গ্রামে। অপরদিকে,অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুইমহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।

    সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডে নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে।

    সুন্দরবনের শুটকি জেলে পল্লী শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইল ফোনে এতথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিন পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে ও বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল। এদেও মধ্যে মুক্তি পাওয়া ১৪ জেলে রয়েছে।

    এদিকে শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে গতকাল শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

  • বাগেরহাট-১ আসনের ভোট নিয়ে নতুন মোড়: পুনর্গণনার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

    বাগেরহাট-১ আসনের ভোট নিয়ে নতুন মোড়: পুনর্গণনার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট) সংসদীয় আসনের প্রাপ্ত ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের একক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতে আজ কপিল কৃষ্ণের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গাজী মোস্তাক ও অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম।

    আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম আরো জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ ( ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১৪৭টি। ভোটের ফল প্রকাশের পর ওই আসনের ১৫, ১৭, ২১, ২২, ২৫, ২৬, ২৭, ১১৬, ১১৭, ১২৮ ও ১৩৫ নম্বর কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরে যান বিএনপির প্রার্থী। প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত (আজ) ভোট পুনর্গণনার আদেশ দেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় জামায়াতের প্রার্থীরা। এরমধ্যে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন।

     

  • মোংলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

    মোংলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

    এবিএনএ,মোংলা : বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় একটি বড় মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের আগা মাদুরপাল্টা এলাকার কবিরাজ বাড়ির দিঘির পাড় সংলগ্ন ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘের মালিকসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আনসার সরদার তার পৈতৃক জমি এবং ইজারা নেওয়া প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার প্রভাবশালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল রাতের আঁধারে ঘেরটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালায়।

    এ সময় ঘেরের পাহারাদারদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করা হয় এবং ঘেরের ঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বাধা দিতে গেলে আনসার সরদার, আবু মুছা সরদার, মামুন সরদারসহ চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ঘের মালিক আনসার সরদার জানান, “আমরা বৈধভাবে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল জোর করে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে। বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”

    এ ঘটনায় আনসার সরদারের ভাতিজা মো. আকরাম সরদার বাদী হয়ে ফারুকুল ইসলাম মৃধা, তরিকুল ইসলাম মৃধা, জালাল মৃধা ও হানিফ হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    তবে অভিযুক্ত নেতারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।

    মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে সুন্দরবন ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • বাগেরহাটে বসতঘরে গোপন আস্তানা! ২ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক, নগদ অর্থ জব্দ

    বাগেরহাটে বসতঘরে গোপন আস্তানা! ২ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক, নগদ অর্থ জব্দ

    এবিএনএ,বাগেরহাট : বাগেরহাট সদর উপজেলার বাদেকাড়াপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে তাদের নিজ বসতঘর থেকেই ইয়াবা ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

    আটকরা হলেন সৈয়দ মুনির হোসেন খোকন (৪১) ও তার স্ত্রী রেশমা আক্তার (৩৪)। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    অভিযানকালে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৬৪ হাজার ২০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মাদক লেনদেনে ব্যবহৃত হতো।

    এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর থানা-র পরিদর্শক এস.এম. জাফরুল আলম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক দম্পতিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দেরও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ থাবা: ৮ হাজার মুরগি মারা, ঋণের চাপে পথে বসার উপক্রম খামারি

    বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ থাবা: ৮ হাজার মুরগি মারা, ঋণের চাপে পথে বসার উপক্রম খামারি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামে এক খামারির স্বপ্নভঙ্গের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে। কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা গেছে প্রায় ৮ হাজার ডিমপাড়া লেয়ার মুরগি। বিপুল লোকসান আর ঋণের বোঝায় এখন দিশেহারা পরিবারটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে খামারটিতে দেখা যায়, সারি সারি খাঁচায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে সাদা লেয়ার মুরগি। কিছুক্ষণ পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে একেকটি মুরগি। কর্মচারীরা মৃত মুরগি বস্তাবন্দী করে সরিয়ে নিচ্ছেন। একসময় যে খামারে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন হতো, এখন সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা।

    খামার মালিক সোহাগ শেখ প্রায় দুই দশক ধরে পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০০৬ সালে মাত্র এক হাজার মুরগি নিয়ে নিজ বাড়িতে “সোহাগ এগ্রোফার্ম” প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়ে, বাড়ে কর্মসংস্থানও। বর্তমানে ১০-১২ জন কর্মচারী এই খামারের ওপর নির্ভরশীল। সোহাগ ও তার স্ত্রী নিজেরাও সার্বক্ষণিক কাজ করতেন খামারে।

    কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে মুরগির মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। শুরুতে সাধারণ রোগ ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা যায় বলে জানান খামারি। বর্তমানে খামারে মাত্র তিন হাজার মুরগি রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

    সোহাগ শেখ জানান, “ডিম দেওয়া অবস্থায় অনেক মুরগি মারা গেছে। বড় বড় মুরগিগুলো বস্তায় ভরে সরাতে খুব কষ্ট হয়। অসুস্থ মুরগি কেউ কিনতে চায় না। তিন মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে ঋণ ও বাকিতে খাদ্য-ওষুধ আনতে হয়েছে। কিন্তু মুরগি মারা শুরু হওয়ার পর পাওনাদারদের চাপ বেড়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। টানা দুই মাস কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারায় অনেকেই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

    এদিকে বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর-এর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাস জানান, খামারে মুরগি মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জানা আছে। খামার পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে রোগের কারণ বলা যাবে। ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

    খামারির দাবি, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা না পেলে তার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। স্থানীয়ভাবে পোল্ট্রি খাতকে বাঁচাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • সুন্দরবনের দস্যু অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনের দস্যু অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,মাসুদ রানা,মোংলা: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্য আটক।

    মঙ্গলবার ৩ মার্চ  দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোস্ট গার্ড সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে কোস্ট গার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরম্ভ করেছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ৩ মার্চ  মঙ্গলবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, আউটপোস্ট নলিয়ান, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের সমন্বয়ে কয়রা থানাধীন নারায়নপুর এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আফজাল সরদার (৩২) কে আটক করা হয়।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  তথ্যের ভিত্তিতে, সকাল ১১টায় মোংলা থানাধীন পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি শট গান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়।

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু হলে উক্ত ডাকাত সদস্য আতঙ্কিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহ উক্ত এলাকায় পুঁতে রেখে কয়রার নারায়ণপুর এলাকায় আত্মগোপন করে বলে জানা যায়।

    আটককৃত ডাকাত আফজাল সরদার (৩২) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো। উল্লেখ্য  আটক  ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

    আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্টগার্ড আরো বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলা পৌর শহরের কমলার মোড় সংলগ্ন ৭ নং কলেজ রোডে মূল সড়কের নবনির্মিত ড্রেনের উপরে ভবনের পিলার গেঁথে ড্রেন দখল ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্বে।

    বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত একজন দেশী মদ বিক্রেতা সরোয়ার। তবে সরকারের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি করে পুরো শহর জুড়ে আতকং সৃস্টি করে রাখেন। প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে অর্থের বিনিময়ে আতাঁত করেন তিনি। মোংলা শহরে তিনি অসাধু ক্ষমতাবান লোকদের তার মদের ভাট্টি থেকে নিজ খরচে উপঢৌকন হিসাবে পাঠিয়ে থাকেন।

    সোমবার ২ মার্চ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার কমলার মোড় সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ড্রেনের উপর ১০ ইঞ্চি পিলার গেঁথে মূল ভবনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচল করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় বাড়ির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো সড়কের ড্রেনের উপর পিলার গেঁথেছে।

    পৌরসভার প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার বলার পরও পৌর কর্তপক্ষ এবিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ন ভবনের একাংশ সম্পূর্ণ ড্রেন জুড়ে। ভবন মালিককে বলার পরও আমলে না নিয়ে উল্টো ড্রেন দখল করেছে।

    স্থানীয়রা মনে করছেন পৌর কর্তপক্ষের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ভবন মালিক ম্যানেজ করে এমনটা করেছে। তার অপকর্ম সর্বদলীয় প্রভাবশালী অসাধু ব্যাক্তিদের অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে থাকেন।

    নিরাপদ সড়ক চাই মোংলা উপজেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ এবং ড্রেনের উপর এ ধরনের দখলদারিত্ব মোটেই কাম্য নয়। আশা করছি বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলো নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি জানান বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় জামায়াত কর্মীরা পিটুনিতে সাইথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নিহত হয়েছে। রবিবার (১লা মার্চ) রাত ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডের পর শরণখোলা উপজেলাজুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের মরদের ময়না তদন্ত সোমবার দুপুরে জেলা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

    নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার সাইথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে ও সাউথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রদল নেতা মাসুম মালয়েশিয়া চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

    এঘটনায় নিহত ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রবিবার দিবাগত রাতেই অভিযান চালিয়ে এঘটনায় ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামের এই তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।

    নিহত ছাত্রদল নেতার পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

    এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানান, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তরাই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাÐ ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকাÐে জড়িত জামায়াত ও শিবির কর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

    অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে জামায়াতের উপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।

    শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুমকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল নেতা মাসুম মোবাইল ফোনে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে জামায়াত কর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা মাসুম ও সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা ভর্তি করার পর মাসুম মারা যায়।

    পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের তিনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় এই তিনজন এজাহারনামীয় আসামী।

    সোমবার দুপুরে নিহতের ময়না তদন্ত বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।