Category: বাংলাদেশ

  • মার্চেই তাপপ্রবাহের আঁচ, কালবৈশাখীর ঝাপটা—কতটা বাড়বে তাপমাত্রা?

    মার্চেই তাপপ্রবাহের আঁচ, কালবৈশাখীর ঝাপটা—কতটা বাড়বে তাপমাত্রা?

    এবিএনএ: চলতি মার্চ মাসে দেশে গরমের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। মাসের শেষ দিকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে দু-এক দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় দিনের তাপমাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

    মার্চজুড়ে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে ২ থেকে ৩ দিন বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ঝড় হতে পারে। পাশাপাশি এক থেকে দুই দিন তীব্র কালবৈশাখীর ঝাপটা লাগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মার্চ মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য আভাস নেই। নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় থাকতে পারে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি আবহাওয়ার দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে দৈনিক গড় বাষ্পীভবনের হার বাড়তে পারে। ফলে জমিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাব্য ঝড় ও তাপপ্রবাহের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের আগাম প্রস্তুতি ও সেচ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

  • খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পরিবেশ বন ও জলবায়ু পারিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবে না, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন দীর্ঘ চার দশক পর এই খালগুলো খননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের সুবিধা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন শেষ। মোংলা-রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, স্চ্ছোয় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, শহীদ জিয়ার খাল খনন বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায় এই প্রকল্পের আওতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোংলার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মাদুরপাল্টা খাল, ভোলা নদী খাল, পালেরখন্ড খাল এবং বেনীরখন্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন শুভ উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন।

    শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ঐতিহাসিক খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ খালের উদ্বোধনের মাধ্যমেই সূচিত হলো মোংলা-রামপালের কৃষকদের এক নতুন স্বপ্নযাত্রা।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এই খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানা যায়, মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ও বেনীরখন্ড খালের সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে চলবে এই খনন কাজ। ৪টি খাল থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে। খালগুলোর উপরের প্রস্থ হবে ২৫ ফিট, নিচের প্রস্থ হবে ৫ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট নিশ্চিত করা হবে, যাতে অনায়াসে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করতে পারে। আর এ প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন সহ সিএনআরএস এর প্রতিনিধি সহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের প্রবাহ সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    মাটি কাটার কাজ শুরু হতেই স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ এক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ৪০ বছর পর এই খালে আবার পানির কলকল শব্দ শুনব, এটা ভাবতেই চোখ ভিজে আসছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লোনা পানির অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে বলে বিশ্বাস এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের। তাই দীর্ঘ চার দশক পর অবরুদ্ধ এই খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি কাটা নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক লড়াই, এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেতে সকলেই সহায়তা করবে। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের অধীনে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহাগ এন্টার প্রাইজ-এর কারিগরি সহায়তায় এই কাজ মোংলার মানচিত্র বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন “মোংলা-রামপালের কোনো সরকারি খাল আর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, সব হবে জনগণের। উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন বিপ্লব আজ থেকে এই জনপদে পুনরায় শুরু হলো। কোনো ইজারা নয়, কোনো দখল নয়, প্রতিটি সরকারি খাল হবে উন্মুক্ত। যারা এতদিন সাধারণ মানুষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে পকেট ভরেছে, তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্তা নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • শনিবার সিলেটের বহু এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট: কোন কোন এলাকায় বন্ধ থাকবে বিদ্যুৎ

    শনিবার সিলেটের বহু এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট: কোন কোন এলাকায় বন্ধ থাকবে বিদ্যুৎ

    এবিএনএ: বার্ষিক জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে গাছের ডালপালা অপসারণের কারণে শনিবার সকাল থেকে টানা ৯ ঘণ্টা সিলেটের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই গ্রাহকদের প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর আওতাধীন লাক্কাতুরা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র থেকে সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

    যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না:
    লাক্কাতুরা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের অধীন ১১ কেভি ঘোপাশাল ফিডার, ১১ কেভি কাকুয়ারপাড় ফিডার, ১১ কেভি ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস ফিডার এলাকা; ওসমানী বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকা, কাকুয়ারপাড়, সিলেট ক্লাব, ফরিদাবাদ হাউজিং, এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড, আবদানী, বড়শালা বাজার মসজিদের পাশের অংশবিশেষ, পর্যটন এলাকা, ফরিণাবাদ, সিলভার সিটি, কেওয়াছড়া, হিলুয়াছড়া চা-বাগান, ঘোপাশাল, মহালদিক, উমদারপাড়া, আলাইবহর, লিলাপাড়া, দাপনাটিলা, সাহেবের বাজার, কালাহল, লালবাগ, পীররগাও, ছালিয়া, রতিলিলা, সালুটিকর ঘাট ও আশপাশের অঞ্চল।

    কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে আগেভাগে বিদ্যুৎ চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • সুন্দরবনে দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: গভীর অরণ্যে টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: গভীর অরণ্যে টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ:  সুন্দরবনে বনদস্যুতা দমনে চলছে কম্বিং অপারেশন। এ অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ অংশ নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান (কম্বিং অপারেশন) সুন্দরবন বনদস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। তবে, অভিযান চললেও অপহরণের দশ দিন পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। এসব জেলেরা কি অবস্থায় তারও সঠিক তথ্য জানতে পারেননি মহাজন ও তাদের পরিবার।
    মহাজনরা জানিয়েছেন, জিম্মি জেলেদের মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা করে দাবি করেছে বনদস্যুরা। দস্যুদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মিদের ভাগ্যে করুণ পরিনতি নেমে আসবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রচন্ড চাপ ও শঙ্কায় পড়েছেন মহাজনরা।

     

    সোমবার (১৬ ফেব্রæয়ারি) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মৎস্য আহরণকালে ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বন ও জলদস্যু সুমন এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীর শসস্ত্র দস্যুরা। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি উৎপাদন পল্লীর আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে।

    অপহৃত জেলেরা হলেন, হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    গত দেড় বছরে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনীর উত্থান ঘটেছে। সুন্দরবন হয়ে ওঠে এসব দস্যু বাহিনী নিরাপদ আশ্রয় স্থল। সম্প্রতি এসব বন ও জলদস্যু বাহিনীর দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে জেলে ও ব্যবসায়ীরা। উদ্বেগ দেখা দেয় বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রæয়ারি) সকাল থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান (কম্বিং অপারেশন)। এ অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে রয়েছে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। এক সাথে ২০ জেলে অপহরণ এবং সম্প্রতি সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জেলে অপহরণ ও নির্যাতনের মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নড়েচড়ে বসে প্রশসান। যে কোনোভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ঘোষনা দেয় সরকার।

    একপর্যায়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউসে জরুরী বৈঠক করেন সরকারের পরিবশে, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়।

    কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জেলে-মহাজনরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিষয়টি খোদ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দেয়। সরকারের নির্দেশে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে য্যেথ অভিযান শুরু হয়েছে। দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

    সুন্দরবনের দুবলরা চরের শুঁটকি পল্লীর মহাজন মোতাসিম ফরাজী, জাকির শেখ, আব্দুর রউফ মেম্বর ও পঙ্কজ বিশ^াস জানান, দস্যুদের কারণে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র দিনের বেলা মাছ ধরছেন জেলেরা। ২০ জেলের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুনেছি যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযানের কোনো সুফল দেখছিনা।

    অপরদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বলেন, ৫আগস্টে পট পরিবর্তনের পর সুন্দরবনে দস্যুদের আধিপত্য বেড়ে গেছে। সুন্দরবন সেই পূর্বের ভয়াবহ অবস্থায় ফিরেছে। বনজীবীরা বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও আছেন আতঙ্কে। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। চলমান যৌথ অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাক ঢোল পিটিয়ে দস্যু দমন করা যায় না। বর্তমানে যেভাবে যৌথ অভিযান চলছে তাতে শুধু মহড়াই মনে হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দস্যু নির্মুল করতে হলে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। এভাবে হুইসেল বাজিয়ে শুটিং করে কোনো কাজ হবে বলে মনে হয় না। পূর্বে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল সেই পদ্ধতিতে অভিযান পরিচলনা করলে সফলতা আসতে পারে।

    দুবলা ফিমারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন আবারও দস্যুদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে। এমের নির্মুল করতে না পারলে মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত জেলেদের অপহরণ করছে দস্যুরা। এখনো দস্যুদের কাছে ২০ তেকে ২২জন জেলে বন্দি রয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গোপনে ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযান পরিচালনা করলে তা সফল হবে। মহড়া দিয়ে অভিযান করলে দস্যুরা সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আরো শক্তি সঞ্চয় করে পরবর্তীতে তাদের অপতৎপরতা চালাতে পারে।

    সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। দস্যুদমনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। স্বরাস্ট্র মন্ত্রী এব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    এবিএনএ: শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন উপকূলে হঠাৎ করে ভয়াবহ কম্পনে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি গাছপালাও দুলে ওঠে। পুকুর-দিঘির পানিতে স্পষ্ট ঢেউ দেখা যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকে মুখে দোয়া পড়তে পড়তে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

    বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা লীলা দেবনাথ জানান, নাতিকে খাওয়ানোর সময় হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে শিশুটিকে কোলে নিয়েই বাইরে ছুটে যান তিনি। তার ভাষায়, জীবনে এমন দোল কখনও টের পাননি। একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। বাজার এলাকায় দোকানের মালামাল পড়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র নড়ে ওঠে এবং রান্নাঘরের থালা-বাসন মেঝেতে পড়ে যায়। জুমার নামাজ চলাকালে একটি মসজিদেও কম্পন অনুভূত হয়। মুসল্লিরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    পুরোনো সরকারি কোয়ার্টারে থাকা এক চাকরিজীবী নারী বলেন, কম্পনে দেয়ালের ফাটল বড় হয়েছে—এ অবস্থায় সেখানে থাকা নিরাপদ নয় বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এনজিওকর্মী ও দোকানিরাও জানান, প্রথমে ভারী যানবাহনের কম্পন মনে হলেও পরে চারদিকে ‘ভূমিকম্প’ চিৎকার শুনে তারা দ্রুত বাইরে চলে যান।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। উপকূলজুড়ে অনুভূত এই কম্পনে বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে ভয় ও উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ: সুন্দরবন জুড়ে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে সাগর ও নদীঘেঁষা জনপদে জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের দাবিতে নিপীড়নের খবরে গত কয়েক দিনে বহু জেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রাণভয়ে সাগরে নামা বন্ধ করায় উপকূলজুড়ে কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা ঘাটে নোঙর করে আছে। স্থানীয় মহাজনদের দাবি, এতে শেষ মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যু দমনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বনের ভেতরে বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু হয়েছে। দুবলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ দুর্গম খাল ও চ্যানেলে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার বা দস্যু আটক সম্ভব না হলেও অভিযান থামছে না। অপহৃতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং বনাঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করাই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    জেলে প্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্ধার ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাগরে নামতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

  • শরণখোলায় বিআরডিবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মো. কামরুল ইসলাম

    শরণখোলায় বিআরডিবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মো. কামরুল ইসলাম

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট):বাগেরহাটের শরণখোলায় বিআরডিবির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোঃ কামরুল ইসলাম চেয়ার মার্কায় ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আম মার্কার মোল্লা মিজানুর রহমান তিনি ২৩ ভোট পেয়েছেন।

    ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় বিআরডিবি অফিস মিলনায়তনে ভোট শুরু হয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৭৫ জন ভোটার ভোট প্রদান করে। একটি ভোট বাতিল হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ আব্দুল হাই তার সহযোগিতায় ছিলেন বাগেরহাট জেলা সমবায় অফিসের অডিট কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান ও বিআরডিবি উপজেলা কর্মকর্তা লাবনী আক্তার।

    পরে উপস্থিত ভোটার‌ ও সুধীজনদের সামনে ফলাফল ঘোষনা করেন প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ আব্দুল হাই।

  • আমেরিকায় অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার, আতঙ্কে হোগলাপাশা

    আমেরিকায় অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার, আতঙ্কে হোগলাপাশা

    এবিএনএ, বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জ উপজেলাহোগলাপাশা ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার নির্দেশেই এলাকায় নানা অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। দূরদেশ থেকে দেওয়া নির্দেশের জেরেই সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

    সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংস হামলা

    গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কিসমত বৌলপুর গ্রামের বাসিন্দা জহর আলী খার ছেলে আলামিন খান (৪৬)-এর বাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাজু শেখ, তুষার শেখ, সাব্বির কাজি, রুবেল শেখ, সাখায়েত শিকদার, এমরান খান, ভুট্টা খান, মিরাজ খন্দকার, রাব্বি শেখ ও বিলকিস বেগমসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে আলামিন খানকে বাইরে টেনে এনে মারধর করে।

    ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং এক পা ভেঙে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

    পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলামিন খানকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় গভীর ক্ষত এবং পায়ে গুরুতর ভাঙন রয়েছে। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

    তবে পরিবারের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বিচার দাবিতে সোচ্চার পরিবার

    আলামিন খান বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। তবুও পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।”

    এলাকাবাসীর একাংশও অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন ঘটনা ঘটছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আহত আলামিন খান কবে ন্যায়বিচার পান।

  • মীরসরাইয়ে ১৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিল পুলিশ

    মীরসরাইয়ে ১৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিল পুলিশ

    এবিএনএ,মীরসরাই: মীরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ১৫০টি মোবাইলফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে মীরসরাই থানা পুলিশ। তার ধারাবাহিকতায় গত সাপ্তাহে উদ্ধার হওযা ৫ টি ফোন উদ্ধার করে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মীরসরাই থানায় এই মোবাইলফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    মোবাইল উদ্ধারকারী অফিসার এএসআই মোঃ শামিনুর রহমান সুমন বলেন ” যখন কোন ব্যক্তির মোবাইল ফোন চুরি,ছিনতাই বা হারিয়ে যাওয়ার পর জিডি করার জন্য অসহায়ের মত থানায় আসেন এবং বলেন মোবাইলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আছে তখন তাদের দেখে খুবই মায়া লাগে এবং নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিজের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে মোবাইল উদ্ধারে চেষ্টা করি”।

    মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ভুক্তভোগীদের হাতে তাদের প্রিয় ফোনগুলো তুলি দিয়ে বলেন বিভিন্ন সময় মানুষের মোবাইল হারিয়েযায়, চুরি চিন্তায় হয়ে যায় সে প্রেক্ষিতে থানায় এসে তারা জিডি করে, আমি আসার পর থেকে এই পর্যন্ত ১৫০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি এবং গত এক সাপ্তাহে আমরা ৫টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    তিনি আরো বলেন নানা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমরা মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সব ফোন উদ্ধার করা সবসময় সম্ভব না হলেও পুলিশের আইসিটি টিম এ বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং আগামীতেও এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    দীর্ঘদিন পর নিজের হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • কচুয়ায় ভয়াবহ হামলা: জমি বিরোধে যুবকের হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    কচুয়ায় ভয়াবহ হামলা: জমি বিরোধে যুবকের হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে মঘিয়া ইউনিয়নের সম্মানকাঠি গ্রামের একটি বাগান এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মো. রহমতউল্লাহ শেখ (২৭)–কে উদ্ধার করে পুলিশ।

    স্থানীয়রা জানান, ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রহমতউল্লাহকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরিবারের দাবি, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    আহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় তার দুই হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। চোখ ও মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবার জানায়।

    কচুয়া উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। একাধিক অঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, সে কারণেই তাকে খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও চলছে।