Category: বাংলাদেশ

  • মোংলায় ঈদের রাতে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি

    মোংলায় ঈদের রাতে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলায় ঈদের দিন রাতের আঁধারে চিংড়ির ঘেরের বাঁধ কেটে অন্য ঘেরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা তলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহিল মারুফ সহ তার দলবল। এতে ঘের মালিকের কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘের দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

    মোংলা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার জয়খাঁ গ্রামের দীর্ঘদিন ধরে নিজের ১৮ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করে আসছে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ নাজিম উদ্দিন (৫৩)। তার ওই ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য শনিবার দিবাগত রাতের অন্ধকারে (ঈদের দিন রাতে) ২৫/৩০ জন নিয়ে ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ও যুবদল নেতা মহিদুল সহ ঘেরে গিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে পাশের ঘোরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।

    সোনাইলতলা ইউনিয়নের প্রভাবশালী এ বিএনপির সভাপতি মারুফ (৪৫) ও মহিদুল শেখের নেতৃত্বে নাজিমের ঘেরের ভেঁড়ীর ৮ জায়গায় বাঁধ কেটে দেয়। এতে মাছ বেরিয়ে যাওয়া ঘের মালিকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মারুফ ও মহিদুল এরআগেও নাজিমের এই চিংড়ি ঘের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

    এ ঘটনায় ঘের মালিক রোববার দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ও যুবদল নেতা মহিদুলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন

    মোংলা থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান জানান, সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয়খাঁ গ্রামের চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান। সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন থানার এ কর্মকর্তা।

  • কুমিল্লার ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহত ১২ জনের পরিচয় প্রকাশ, নেপথ্যে কী কারণ?

    কুমিল্লার ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহত ১২ জনের পরিচয় প্রকাশ, নেপথ্যে কী কারণ?

    এবিএনএ: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার বই থেকে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (৪৬), যশোরের সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুরের সায়েদা (৯), ঝিনাইদহের জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম (৬৮)।

    এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায় ট্রেনটি।

    দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। এই দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে সকাল ৮টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

    দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ছাত্রীনিবাসে দুঃসাহসিক গণচুরি, নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষোভ

    ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ছাত্রীনিবাসে দুঃসাহসিক গণচুরি, নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষোভ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ফাঁকা পড়ে থাকা একটি ছাত্রীনিবাসে সংঘটিত হয়েছে পরিকল্পিত গণচুরির ঘটনা। শহরের মুণিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস্)-এর আবাসিক ভবনে চোরের দল প্রবেশ করে একাধিক কক্ষ ভেঙে মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, চারতলা বিশিষ্ট এই ছাত্রীনিবাসের অন্তত ১৫টি কক্ষের তালা ভাঙা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জিনিসপত্র, যা থেকে চুরির ব্যাপকতা স্পষ্ট।

    ছাত্রীনিবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নাইমা ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ছাত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় ভবনটি প্রায় খালি ছিল। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা নিচতলার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কক্ষে চুরি চালায়।

    তার দাবি, চোরেরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, জামাকাপড়, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট রাউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে। দূরে অবস্থান করেই তিনি ফোনে এ ঘটনার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

    অন্যদিকে, আবাসিক ছাত্র তন্ময় দাস জয় ও অন্তর শীল জানান, চুরির ঘটনা একদিনে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রথম দিন নিচতলার কয়েকটি কক্ষে চুরি হয়, এরপর পরদিন আবার অন্য তলায় ঢুকে একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল সংকট রয়েছে এবং রাতে কোনো নৈশপ্রহরী দায়িত্ব পালন করেন না। এই নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগ নিয়েই চোরের দল বারবার ভবনে প্রবেশ করতে পেরেছে।

    তারা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থায়ী পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    বাগেরহাট সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিচতলার গ্রিল কেটে চোরেরা ভেতরে ঢুকে কক্ষগুলোতে চুরি চালায়। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

  • বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের আবেগ: ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢল, তিন দফায় জামাত অনুষ্ঠিত

    বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের আবেগ: ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢল, তিন দফায় জামাত অনুষ্ঠিত

    এবিএনএ,বাগেরহাট : হালকা বৃষ্টি যেন থামাতে পারেনি ঈদের আনন্দ। ভোর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে ভিড় জমান হাজারো মুসল্লি। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মানুষদের এই উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

    শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তার আগেই সকাল ৬টা থেকে মুসল্লিরা মসজিদ প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উপস্থিতি। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই ঐতিহ্যবাহী স্থানে নামাজ আদায় করতে।

    জামাত শুরু হওয়ার আগেই মসজিদের ভেতরের স্থান পূর্ণ হয়ে যায়। পরে মসজিদের আশপাশের খোলা জায়গাতেও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেও মুসল্লিদের ভিড় ছিল উপচে পড়া।

    প্রথম জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ, যিনি খানজাহান (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ঈদের নামাজে অংশ নেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক ও সাবেক সভাপতি এম এ সালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

    নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। পাশাপাশি মুসল্লিরা নিজেদের পরিবার ও প্রয়াত স্বজনদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন এবং দান-খয়রাতে অংশ নেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম ঈদের জামাত। তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ঈদের এই মিলনমেলা ঐক্যের প্রতীক এবং এই ঐক্য ধরে রেখে বাগেরহাটকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    তিনি সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন করতে পারায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আগামীর দিনগুলোতে সংযম ও আত্মশুদ্ধির চর্চা চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

    এদিকে, প্রথম জামাত ছাড়াও আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, যেখানে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব নাসির উদ্দিন। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়, এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মো. এনামুল হক।

    সব মিলিয়ে, বৃষ্টিভেজা সকালেও ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের নামাজ এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে—যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলন একাকার হয়ে যায়।

  • ঈদের ছুটিতে বাগেরহাট ভ্রমণ: ষাটগম্বুজ ছাড়িয়ে লুকানো দর্শনীয় স্থানগুলোর সন্ধান

    ঈদের ছুটিতে বাগেরহাট ভ্রমণ: ষাটগম্বুজ ছাড়িয়ে লুকানো দর্শনীয় স্থানগুলোর সন্ধান

    এবিএনএ,বাগেরহাট : ঈদের আনন্দ মানেই শুধু নতুন পোশাক আর সুস্বাদু খাবার নয়—এই উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে পারে একটি ছোট্ট ভ্রমণ। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গিয়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে বাগেরহাট হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির অনন্য মিশেলে এই জেলা যেন জীবন্ত এক ঐতিহ্যের ভাণ্ডার।

    অনেকের কাছে বাগেরহাট মানেই শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ। কিন্তু বাস্তবে এই জেলার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য অনেক বিস্তৃত। এখানে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন এবং প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান, যা একসঙ্গে উপভোগ করা যায় না একদিনেই।

    বিশ্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়া

    বাগেরহাটের অন্যতম আকর্ষণ সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ—দুটিই বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া। সুন্দরবনের করমজল, দুবলার চর কিংবা আলীবান্দা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা আর সবুজের সমারোহ মনকে প্রশান্ত করে।

    অন্যদিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি এক অসাধারণ স্থাপত্য নিদর্শন। প্রায় ৬০০ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদের গম্বুজ, কারুকাজ এবং পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাশেই অবস্থিত জাদুঘরটি ইতিহাস জানার জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

    ইতিহাসের পথে হাঁটা

    ষাটগম্বুজের কাছেই রয়েছে সিঙ্গাইর মসজিদসহ আরও অনেক প্রাচীন মসজিদ, যা সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলী তুলে ধরে। চুনখোলা, বিবি বেগুনি কিংবা রেজা খোদা মসজিদগুলো ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

    হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এবং সংলগ্ন দিঘি একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। দিঘির জলে ভেসে থাকা কুমির ও মাছ পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা এনে দেয়। কাছেই নয় গম্বুজ মসজিদ, যা সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের এক চমৎকার উদাহরণ।

    ব্যতিক্রমী আকর্ষণ

    যাত্রাপুর এলাকায় একটি বজ্রপাতে মৃত গাছকে কুরআনের রিহাল আকারে রূপান্তর করা হয়েছে, যা শিল্প ও ধর্মীয় ভাবনার এক অনন্য নিদর্শন।

    এছাড়া বারুইপাড়ার অযুদ্ধার মঠ ১৬ শতকের স্থাপত্য ঐতিহ্য বহন করে। পোড়ামাটির অলংকরণ আর নকশা দর্শকদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

    বিনোদন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

    বাগেরহাটে শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। চন্দ্রমহল, বারাকপুর ও দশানী পার্কে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা, যা পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য উপযোগী।

    শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরে অবস্থিত রিভারভিউ ইকোপার্কে গিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারবেন মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত। নদীর পাড়ে সময় কাটানো কিংবা ছবি তোলা—সবকিছুই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

    আরও যেসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন

    বাগেরহাটে ঘুরতে গেলে মোংলা বন্দর, দড়াটানা সেতু, ফকিরহাটের জোড়া শিব মন্দির, লাউপালার রথ মন্দির, মুনিগঞ্জ সেতু এবং ডিসি ইকোপার্কও তালিকায় রাখতে পারেন। প্রতিটি স্থানেই রয়েছে আলাদা আকর্ষণ।


    ঈদের ছুটিতে স্বল্প খরচে যদি ইতিহাস, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা পেতে চান, তবে বাগেরহাট আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। এখানে কাটানো একটি দিনও হয়ে উঠতে পারে আজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি।

  • ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের ঠিক আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে ৯টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

    ঈদের আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক ব্যবসায়ীর জন্য এসব দোকানই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম।

    ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি জানান, ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন পণ্য মজুদ ও দুটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

    অন্যদিকে ‘মীম অ্যান্ড মুন’ সারের দোকানের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা পুরোপুরি আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র, লন্ড্রি ও সেলুনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। ‘আল আমিন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র দস্যু তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অপহৃত জেলে মিজান শেখ (৪০) মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজ্জাক শেখের ছেলে।

    মিজানের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই আল আমিন শেখ জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি (পাস) নিয়ে তারা গত ১৪ মার্চ সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মাছ ও কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। ১৬ মার্চ রাতে বনাঞ্চলের একটি খালে অবস্থানকালে হঠাৎ করে দস্যুরা তাদের ঘিরে ফেলে।

    এ সময় দস্যুরা মিজান শেখকে জোরপূর্বক নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে থাকা আল আমিন শেখকে নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি বাড়িতে গিয়ে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের খবর দেন।

    অপহরণের পরপরই বনদস্যুরা মিজানকে মুক্তি দিতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় মিজানের বড় ভাই হুমায়ন শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ঋণ করে জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েছিল আমার ভাই। এখন একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চাপ—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।”

    তবে মোংলা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মহরম জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় কর্মরত জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

  • বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নাদিম শেখ (৩৩)কে গ্রেপ্তার করতে এসআই আনিছুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে ফিরিয়ে আনার সময় হামলার শিকার হয় পুলিশ।

    এ সময় নাদিমের ছোট ভাই সাগর শেখ ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলার একপর্যায়ে কনস্টেবল রাজু খানকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়।

    এই সুযোগে নাদিম ও সাগর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • মোংলায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ২১ জন, আশঙ্কাজনক ২ জন খুলনায়

    মোংলায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ২১ জন, আশঙ্কাজনক ২ জন খুলনায়

    এবিএনএ,মোংলা : বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কানাইনগর এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বিঘা আয়তনের একটি চিংড়ি ঘেরের মালিকানা ও লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমিটির মালিক হিসেবে সেলিম রেজা বাচ্চু ও মৃণাল নামের দুইজনের নাম উল্লেখ করা হলেও লিজ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

    ২০২৫ সালে মো. সেলিম হাওলাদার ঘেরটি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন। তবে পরবর্তীতে হিসাব-নিকাশ নিয়ে তার সঙ্গে মালিক পক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের বকেয়া মেটানো ছাড়াই ২০২৬ সালে ঘেরটি জাকির গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে করে পূর্বের লিজগ্রহীতা ও নতুন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।

    বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেলিম হাওলাদারের সমর্থক রশিদ গ্রুপ এবং জাকির গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    সংঘর্ষে রশিদ গ্রুপের অন্তত ১১ জন আহত হন। অন্যদিকে জাকির গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    এদিকে, এক পক্ষের অভিযোগ—জাকির স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তার সমর্থকরাই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অপর পক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, দুপুরের পর থেকে একাধিক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

    অন্যদিকে পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে।

    পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনার পেছনে জমির মালিকদের ভূমিকা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    ঘটনার পর পুরো কানাইনগর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে মোংলা এলাকায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে একাধিক সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

  • আইজিপির বাড়িতেই চুরি! বাগেরহাটে বিদ্যুতের মিটারের তার কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    আইজিপির বাড়িতেই চুরি! বাগেরহাটে বিদ্যুতের মিটারের তার কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: দেশের পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের নিজ বাড়িতে ঘটেছে চুরির ঘটনা। দুর্বৃত্তরা বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে নিয়ে যাওয়ায় পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় চোরেরা বাড়িতে প্রবেশ করে মিটারের সংযোগ তার কেটে নিয়ে যায়।

    মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একই দিন দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এসে পুনরায় সংযোগ চালু করে দেন।

    বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, আইজিপির ওই চারতলা বাড়িটি বর্তমানে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। তিনি বাগেরহাটে গেলে সাধারণত দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিটে অবস্থান করেন।

    চুরির ঘটনায় পুরো বাড়িতে রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে একাধিক টিম কাজ করছে।