Category: বাংলাদেশ

  • বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতি নদীর চরের সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। বিশ্বাস ও শেখ—এই দুই প্রভাবশালী পক্ষের দ্বন্দ্বে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কে আচ্ছন্ন।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত সহিংসতায় শেখ পক্ষের যুবক রাজিব শেখ (২৫) নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    শনিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রাজিব শেখকে চিংগড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

    🔥 গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ধ্বংসস্তূপ

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের টুকরো। দুই গ্রামেই বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর এখন কেবল ছাইয়ের স্তূপ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

    নিহত রাজিবের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর জন্য বড় পরিসরে রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের হারানো সম্পদ ও ভিটেমাটির শোকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

    এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের অনেকেই ঘরবাড়ি ফাঁকা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

    ⚔️ দীর্ঘদিনের বিরোধের পটভূমি

    স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে মধুমতি নদীর চরের সরকারি জমি দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। একপক্ষে রয়েছেন মচন্দপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাসের অনুসারীরা, অন্যপক্ষে চিংগড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীরা।

    এই বিরোধে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বের এক ঘটনায় আলম শেখ নিহত হন। এরপরও থামেনি সংঘাত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেক দফা সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে একজন নিহত হন।

    স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনও এই সংঘর্ষকে আরও উসকে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    👮 পুলিশের অবস্থান

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, রাজিব শেখ হত্যাকাণ্ডসহ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: একই সঙ্গে প্রাণ গেল শিশুসহ ৫ জনের

    টাঙ্গাইলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: একই সঙ্গে প্রাণ গেল শিশুসহ ৫ জনের

    এবিএনএ,টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় একটি মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ছুটে এসে পরিস্থিতি দেখেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    যমুনা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবুজেল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

    এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতের অপেক্ষায় রয়েছে স্বজনরা।

  • চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে টানা প্রায় চার ঘণ্টার সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে।

    নিহত যুবকের নাম রাজিব শেখ (২০)। তিনি উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফারুক শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিংগড়িয়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। আগুনে একের পর এক বাড়ি পুড়তে থাকলেও তা নেভানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল। একটি পক্ষ বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্য পক্ষ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পক্ষ পরিবর্তন নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি একই এলাকায় সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন, যা বর্তমান সহিংসতার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাজিব শেখ নিহত হওয়ার পর সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

    ঘটনার পরপরই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এদিকে, এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

  • স্বাধীনতা দিবসে মোংলায় জনস্রোত—নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখার বিরল সুযোগ

    স্বাধীনতা দিবসে মোংলায় জনস্রোত—নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখার বিরল সুযোগ

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বন্দরনগরী মোংলায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ। দিনটি ঘিরে সেখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এই বিশেষ আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় করেন।

    নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিগরাজ নেভাল জেটিতে অবস্থানরত বিএনএস আবু বকর যুদ্ধজাহাজটি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সময় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জেটিতে বিসিজিএস কামরুজ্জামান যুদ্ধজাহাজটিও সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

    শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারসহ এসে এসব যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখেন। জাহাজে অবস্থানরত নাবিকরা দর্শনার্থীদের জাহাজের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সমুদ্র নিরাপত্তায় এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

    এই আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আধুনিক নৌ-সামরিক শক্তি সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ পান। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন আরও নিয়মিত করার দাবি জানান।

  • দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পদ্মায় বাস ডুবি, জীবিত উদ্ধার ১১—নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া স্বজনরা

    দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পদ্মায় বাস ডুবি, জীবিত উদ্ধার ১১—নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া স্বজনরা

    এবিএনএ,রাজবাড়ী: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর অন্তত ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

    ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখনও অনেক যাত্রীর খোঁজ মেলেনি, যা স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে।

    ঘাট এলাকায় নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রিয়জনের খোঁজে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

    এদিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শুরুতে কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছে।

    ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি করছেন।

    রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।

    জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী ফেরি ‘হামজা’সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবন এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত আসাবুর বাহিনীর প্রধান সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসাবুর বাহিনীর প্রধান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিউল ইসলামকে অস্ত্রসহ সুন্দরবনে পাঠানো হয়।

    এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও নলিয়ান আউটপোস্টের সমন্বয়ে শিবসা নদীর কুমারখালি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    আটক রবিউল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সে আসাবুর বাহিনীর হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের ফলে আসাবুর বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং তাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল: সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেল পর্যটন কেন্দ্র

    ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল: সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেল পর্যটন কেন্দ্র

    এবিএনএ:  ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। বিশেষ করে সুন্দরবন এবং ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকাজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট—বিশেষ করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র—এবারের ঈদে ছিল পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী এবং দুবলার চরসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়।

    দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সীমিত সংখ্যক বনপ্রহরী দিয়ে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

    ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে কিছু ফুট ট্রেইল ভাঙা এবং অপরিষ্কার থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের মতে, পর্যটকদের সুবিধার্থে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকে টানা কয়েক দিনে করমজলেই প্রায় ১২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়েছে।

    অন্যদিকে, ঐতিহাসিক নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

    মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখে তারা দারুণ সন্তুষ্ট।

    এছাড়া শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী ইকোট্যুরিজম স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

    প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের চার দিনে প্রায় ২২ হাজারের বেশি দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

    পর্যটকদের এমন ব্যাপক আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে বাহিনীটি জানতে পারে যে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা চিলা ইউনিয়নের ফেলুরখন্ড-বৈদ্যমারী এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে বৈদ্যমারী বাজারের আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ইয়াছিন শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি ছোট সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবনের ধানসিঁড়ির চর খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনালা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    আটক ইয়াছিন শেখ মোংলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলিও জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

  • মীরসরাইয়ে প্রবাসী অপহরণ ও হামলা: দীর্ঘদিন পলাতক আসামি অবশেষে পুলিশের জালে

    মীরসরাইয়ে প্রবাসী অপহরণ ও হামলা: দীর্ঘদিন পলাতক আসামি অবশেষে পুলিশের জালে

    এবিএনএ,মীরসরাই: চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার হাদি ফকিরহাট এলাকায় প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিমকে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ সালমান (৩০), যিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি। সোমবার (২৩ মার্চ) তাকে গ্রেফতার করে মীরসরাই থানা পুলিশ।

    মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইশতিয়াক রুবেল জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নিজ জমিতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছিল।

    গত ১৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার পিঠে আঘাত ও ডান গালে ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে হাদি ফকিরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

  • বাগেরহাটে র‍্যাবের বড়সড় অভিযান: ৬৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

    বাগেরহাটে র‍্যাবের বড়সড় অভিযান: ৬৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

    এবিএনএ,বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় র‍্যাব-৬ এর এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মুঞ্জারুল শিকদার (৪২), যার বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার চালিতাখালী গ্রামে।

    রবিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৬ এর টুআইসি মেজর নাজমুল ইসলাম।

    র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-০৬৬২) থামানো হয়। এসময় গাড়ি তল্লাশি করে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মুঞ্জারুল শিকদারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছিলেন। উদ্ধার হওয়া এই চালানটি পিরোজপুর জেলার চালিতাখালী গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জব্দ করা গাঁজার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। এ ঘটনায় র‍্যাব-৬ এর ডিএডি কুদ্দুছ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।