ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল: সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেল পর্যটন কেন্দ্র

এবিএনএ:  ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। বিশেষ করে সুন্দরবন এবং ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকাজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট—বিশেষ করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র—এবারের ঈদে ছিল পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী এবং দুবলার চরসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়।

দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সীমিত সংখ্যক বনপ্রহরী দিয়ে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে কিছু ফুট ট্রেইল ভাঙা এবং অপরিষ্কার থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের মতে, পর্যটকদের সুবিধার্থে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকে টানা কয়েক দিনে করমজলেই প্রায় ১২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়েছে।

অন্যদিকে, ঐতিহাসিক নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখে তারা দারুণ সন্তুষ্ট।

এছাড়া শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী ইকোট্যুরিজম স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের চার দিনে প্রায় ২২ হাজারের বেশি দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

পর্যটকদের এমন ব্যাপক আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *