Category: ধর্ম

  • বৃহস্পতিবার থেকে মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অনুমতি

    বৃহস্পতিবার থেকে মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অনুমতি

    এবিএনএ : শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) জোহরের নামাজের পর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে মসজিদগুলোতে জামাতে নামাজ ও তারাবিহ পড়া যাবে। তবে সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করতে হবে। বুধবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্ম সচিব নুরুল ইসলাম।

    ধর্ম সচিব জানান, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশের মসজিদে তারাবিহ’র নামাজসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবেন মুসল্লিরা। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে এক সারি পর পর একজন থেকে অপরজনের দূরত্ব হবে তিন ফুট।

    এদিকে গণমাধ্যমকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর থেকে সারাদেশের মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ পড়ার সুযোগ পাবেন।

    তবে মসজিদে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতর নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী থাকবে। এসব শর্তাবলীর কথা সারাদেশের মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে জানিয়ে দেয়া হবে। ’

    করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত ৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের মসজিদগুলোকে মুসল্লি সংখ্যা সীমিত করা হয়। মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সমন্বয়ে পাঁচ ওয়াক্তের জামাতে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে এবং জুমআর জামাতে ১০ জন করে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

  • রমজানে ফরজ ইবাদত ও তারাবিহ ঘরে আদায়ের পরামর্শ সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমদের

    রমজানে ফরজ ইবাদত ও তারাবিহ ঘরে আদায়ের পরামর্শ সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমদের

    এবিএনএ : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবে রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ঠ পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপটে রোজা বিষয়ে সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমরা বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক থেকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    স্থানীয় দৈনিক উকাজ জানিয়েছে, নির্দেশনায় আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন, আত্মসমালোচনা ও ইবাদত পালনে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রমজানকে বরণ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে সবাইকে।

    শীর্ষ আলেমদের বৈঠকে সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ ও সুরক্ষামূলক যাবতীয় পদ্ধতি অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, ফরজ ও তারাবির নামাজ নিজ নিজ ঘরে আদায়ের পাশপাশি ইফতার ও সেহেরির আয়োজনে সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

    শীর্ষ আলেমরা বৈঠক থেকে মিথ্যা, প্রতারণা ও চুরির মতো আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজসমূহ হতে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আমাদেরকে ইবাদত ও সতর্কতা অবলম্বনে আদর্শিকতার পরিচয় দিতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, ইসলামি শরিয়ত ব্যক্তিকে যাবতীয় ক্ষতিকর বিষয়াবলী হতে বেঁচে ইবাদত পালনে উৎসাহিত করেছে।

    বৈঠক থেকে সবাইকে অধিক পরিমাণে দানের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং দান গ্রহণকারী ব্যক্তি দানকারী হতে কথা ও কাজে কোনো ধরনের কষ্ট যেন না পায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

    সময় বিবেচনায় আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে বৈঠক থেকে।

    এক. করোনা হতে বাঁচতে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজ অঞ্চলে অবস্থানরত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা।

    দুই. নিজের অবস্থানরত এলাকা ও অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ফরজ ও তারাবির নামাজ ঘরে আদায় করা।

    তিন. যেহেতু এই রোগটি সংক্রামক, তাই ইফতার ও সেহেরিতে যেকোনো সমাগম এড়িয়ে চলা। নিজের জীবন রক্ষায় ঘরেই ইফতারসহ যাবতীয় কিছু নিজ ঘরে সম্পাদন করা।

    চার. সওয়াব প্রত্যাশী সকল সামর্থ্যবান মুসলমানরা ফরজ জাকাত থেকে শুরু করে অন্য সাধারণ খাতে নিজেদের দানের হাতকে প্রসারিত করা, এসব কাজে যেকোনো ধরনের সমাগম ও ভিড় করা হতে বিরত থাকা।

  • দুর্দিনে শ্রমিকের পাশে থাকার তাগিদ

    দুর্দিনে শ্রমিকের পাশে থাকার তাগিদ

    মজুরি নিয়ে টালবাহানা অন্যায়

    বেতন ও পারিশ্রমিক কর্মজীবীর অধিকার—ইসলাম দ্রুততম সময়ে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩০)। অন্য হাদিসে পারিশ্রমিক ও প্রাপ্য অধিকার নিয়ে টালবাহানাকে ‘অবিচার’ বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘ধনী ব্যক্তির টালবাহানা অবিচার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২৮৭) অর্থাৎ সামর্থ্য থাকার পরও মানুষের প্রাপ্য ও অধিকার প্রদানে টালবাহানা করা অন্যায়। আর ঠুনকো অজুহাতে বেতন-ভাতা ও প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আরো ভয়ংকর অপরাধ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিপক্ষে থাকব।… আর একজন সে যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার পর তা থেকে কাজ বুঝে নিয়েছে অথচ তার প্রাপ্য দেয়নি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)

    করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা। হঠাৎ সৃষ্ট বেকারত্ব, কর্মস্থলের ছুটি ও অর্থনৈতিক মন্দা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে তাদের। ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের ভেতর। অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি তারা কর্তৃপক্ষের গাফলতিকেও দায়ী করছে। তাদের অভিযোগ সাধারণ ছুটি ঘোষণার কয়েক মাস আগের বেতন-ভাতাও বকেয়া রয়েছে এখনো। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

    ইসলাম শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের প্রাপ্য অধিকার প্রদানের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ ও দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছে। প্রধানত এই দায়িত্ব নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের; এরপর রাষ্ট্র ও সমাজের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন উপেক্ষা করে শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের ন্যায্য বেতন-ভাতা নিয়েও করা হচ্ছে টালবাহানা।

    শ্রমিকরা মালিকের পরিবারভুক্ত

    ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিক মালিকের পরিবারভুক্ত। ইসলাম শ্রমিককে ‘ভাই’ স্বীকৃতি দিয়ে তার জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে বলেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের দাসরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করেছেন, কাজেই কারো ভাই যদি তার অধীনে থাকে তবে সে যা খায়, তা হতে যেন তাকে খেতে দেয় এবং সে যা পরিধান করে, তা হতে যেন পরিধান করায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৪৫)

    পবিত্র কোরআনে শ্রমিক-মালিক শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি, পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নত করি, যাতে একে অপরের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারে। তারা যা জমা করে তা থেকে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ উত্কৃষ্টতর।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত : ৩২)

    শ্রমিকের জীবনজীবিকার নিরাপত্তা

    শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকেরই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মালিকানাধীন (অধীন) ব্যক্তির জন্য খাবার ও কাপড়ের অধিকার রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৬২)

    অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘যে আমাদের কর্মী নিযুক্ত হয়েছে সে যেন (প্রতিষ্ঠানের খরচে) একজন স্ত্রী সংগ্রহ করে, সেবক না থাকলে সে যেন একজন সেবক সংগ্রহ করে এবং বাসস্থান না থাকলে সে যেন একটি বাসস্থান সংগ্রহ করে। যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করবে সে প্রতারক বা চোর গণ্য হবে।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৯৪৫)

    দুর্দিনে শ্রমিকের পাশে থাকার তাগিদ

    ইসলাম সাধারণভাবেই দুর্দিনে অভাবগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আর অসহায় ও অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি যদি হয় তার সেবা দানকারী শ্রমিক—তবে এই দায়িত্ব বেড়ে যায় বহুগুণ। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) মালিকপক্ষকে শ্রমিকের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সে যা খায়, তা হতে যেন তাকে খেতে দেয় এবং সে যা পরিধান করে, তা হতে যেন পরিধান করায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৪৫)

    ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘যৌবনকালে যে ব্যক্তি শ্রম দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের সেবা করেছে, বৃদ্ধকালে রাষ্ট্র (কর্তৃপক্ষ) তার হাতে ভিক্ষার ঝুলি তুলে দিতে পারে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

    এসব বক্তব্য থেকে দুর্দিনে শ্রমিকের পাশে থাকার গুরুত্ব বোঝা যায়। এ ছাড়া পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত থেকেও প্রয়োজনের সময় অধীনদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা জীবনোপকরণে তোমাদের কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে তারা তাদের অধীন দাস-দাসীদের নিজেদের জীবনোপকরণ থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা তাদের সমান হয়ে যায়। তবে কি তারা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৭১)

    অসহায় শ্রমিক  রাষ্ট্রের দায়িত্ব

    জাতীয় দুর্যোগের সময় নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সম্পদের সুষম বণ্টন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থায় নেবে ইসলামী রাষ্ট্র। প্রখ্যাত তায়েবি আবু মুসলিম খাওলানি (রহ.) ও মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.)-এর মধ্যকার কথোপকথন থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-কে বলেন, ‘(রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে) আপনার দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির মতো—যে একজন শ্রমিক নিয়োগ দিল এবং তার পশুপাল তার হাতে অর্পণ করল। যেন সে তা যথাযথভাবে দেখভাল করে এবং তার পশম ও দুধ সংগ্রহ করে। যদি সে উত্তম দেখভাল করে—ফলে পশুপালের ছোট পশু বড় হয় এবং দুর্বলগুলো সবল হয়, তবে সে মজুরির উপযুক্ত হয়; কখনো বেশি পায়। আর যদি সে ঠিকভাবে দেখাশোনা না করে; বরং তা ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করে—ফলে পালের দুর্বল পশু ধ্বংস হয়ে যায়, শক্তিশালীগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং সে পশুর পশম ও দুধও ঠিকমতো সংগ্রহ না করে, তবে মালিক তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়, তাকে মজুরি দেয় না; বরং তাকে শাস্তি প্রদান করে।’ (আল্লামা ইবনে আসাকির (রহ.), তারিখু দামিস্ক : ২৭/২২৩)

    রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা  প্রশাসনের দায়িত্ব

    গণমাধ্যমে সরকারি ত্রাণ ও প্রণোদনা সামগ্রী নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি ত্রাণ ও প্রণোদনার অর্থ যথাযথ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করলে সে আল্লাহর দরবারে একজন দাতা হিসেবে গণ্য হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বিশ্বস্ত খাজাঞ্চি—যাকে কোনো কিছু নির্দেশ করলে সন্তুষ্টচিত্তে তা আদায় করে, সে দাতাদের একজন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২৬০)

    শ্রমিক ঠকানোর ভয়াবহ পরিণতি

    শ্রমিক ঠকানো ইসলামের দৃষ্টি জঘন্যতম পাপ; বরং ইসলামের নির্দেশনা হলো, শ্রমিক তার প্রাপ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলেও মালিক তাকে প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবে। যেমনটি শোআইব (আ.) মুসা (আ.)-কে ডেকে এনে পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তখন নারীদ্বয়ের একজন সলজ্জ পায়ে তার কাছে এলো এবং বলল, আমার পিতা আপনাকে আমন্ত্রণ করেছেন আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করানোর বিনিময় প্রদানের জন্য।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ২৫)। অথচ বর্তমানে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হয়। মহানবী (সা.) এই ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না সেই জাতি কখনো পবিত্র হতে পারে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪২৬)

    অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে জঘন্যতম পাপী হলো—যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করল। অতঃপর প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পর সে তাকে তালাক দেয় এবং তাকে মোহর থেকে বঞ্চিত করে; যে ব্যক্তি কারো কাছ থেকে শ্রম আদায় করল এবং তার পারিশ্রমিক না দিয়ে চলে গেল; অপরজন হলো যে অনর্থক কোনো প্রাণী হত্যা করে।’ (মুসতাদরাকুল হাকিম, হাদিস : ২৭৪৩)

  • করোনার সংকটকালে কাবার ইমাম শাইখ শুরাইমের বিশেষ নির্দেশনা

    করোনার সংকটকালে কাবার ইমাম শাইখ শুরাইমের বিশেষ নির্দেশনা

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন– পুণ্যভূমি আমাদের এই প্রিয় দেশসহ পুরো মুসলিম দেশসমূহে মর্মন্তুদ যে মহামারী দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন; যা সবাইকে ব্যথিত করে তুলেছে। কোনো সংশয় ছাড়াই আমাদের এতে ইমান রাখা দরকার যে, এটি আল্লাহর পক্ষ হতেই একটি সিদ্ধান্ত। যেসব দিয়ে আল্লাহ তার বান্দাকে পরীক্ষা করে থাকেন। যেমনটি আল্লাহ কোরআনে ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি। এবং আমারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।(সুরা আম্বিয়া-৩৫) আর আমরা এটিই বলব– হে ভাইয়েরা। এটি আল্লাহর ফয়সালা, তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। আল্লাহ বলেন, আমার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। (সুরা কাসাস-৬৮)

    যেহেতু আল্লাহ আমাদের ইসলামের মতো সুমহান এক নিয়ামত দান করেছেন। তাই আমাদের উচিত– তার সৌন্দর্যমণ্ডিত নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি দিয়ে কায়মনোবাক্যে তার কাছে মিনতি করা। যেন তিনি এই মুসিবতকে আমাদের নিকট থেকে উঠিয়ে নেন এবং আমাদের ক্ষমা ও সুস্থতার নিয়ামত দান করেন।

    প্রিয় ভাইয়েরা! প্রথমে আমি আপনাদের সতর্কতামূলক যে কথাটি বলতে চাই, তা হলো– সুস্থতার প্রথম সোপান নিজেদের সচেতনতার মাঝেই নিহিত। যে সচেতন হলো সে অবগত হলো। অবগত হওয়া ব্যক্তিই পালনে সচেষ্ট হয়। আর যে পালন করল, সেই নিরাপদ রইল। এই মুহূর্তে সেই শ্রেষ্ঠ, যে এখনও সুস্থতায় আছে। সুস্থতার সমপর্যায়ের আর কিছু হতে পারে না। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্থতার নিবেদন করুন।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্থতা চাও। কেননা সুদৃঢ় ইমানের পর সুস্থতা হতে উত্তম কোনো কিছু প্রাপ্ত হতে পারে না। (তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৫৮) এসব যা ঘটে গেল, তার ওপর ভিত্তি করে বলতে হচ্ছে, আমরা আমাদের নিজেদের মাঝে স্থাপন করে নেব এবং যাকে এই সময়ে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হচ্ছে, তা হলো– দায়িত্বে নিয়োজিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা গ্রহণ ও পালনে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। বাস্তবিকভাবেই আমরা একটি সমষ্টির অংশবিশেষ। প্রত্যেকেই একেকটি বৃষ্টিফোঁটার ন্যায়। যখন এসব বৃষ্টিফোঁটা জমা হবে, তখন একটি বিশাল স্রোতপ্রবাহ তৈরি করবে। সেসব দিয়ে আমাদের ওপর আপাতত মুসিবতকে ধুয়ে দেব। এসবের ওপর ভিত্তি করেই সবার প্রতি একটি নিবেদন রাখছি। তা হলো– যথাসম্ভব দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে ধ্বংসাত্মক এই মহামারী হতে রক্ষায় উপযোগী নানা উপায় অবলম্বন করা। প্রত্যেকেই তার সাধ্যপরিমাণ দায়িত্বশীল। দায়িত্বটি কিন্তু মহান। আর এতে অবহেলা দেখানোটাই বড় ত্রুটি। তাই এটি গুরুতর হওয়ার আগে নিজেদের সুরক্ষায় সামান্যও অবহেলা কিংবা দায়িত্বহীন আচরণের কোনো সুযোগ নেই। কেননা বিজ্ঞজন সবাই এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, প্রতিরক্ষা প্রতিষেধক হতে উত্তম।

    কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের অনেকেই আজ এটাকে সাধারণভাবে মোকাবেলা করছে। না দৃষ্টি রাখছে নিজের সুরক্ষার বিষয়ে, না সমাজের সুরক্ষার প্রতি। মূলত যে সুস্থতা তার নিজের সুদৃঢ় ভিত্তির একটি ইট। তাই আমরা এ বিষয়ে নিশ্চয়তার সঙ্গে বলতে পারি, যদি অন্য কোনো কারণ না পাওয়া যায়, তা হলে অবহেলাকারীই এসব প্রাণনাশের একমাত্র কারণ। অতএব সে এবং তার মতো অবহেলাকারী অন্যরা যেন জেনে রাখে, এগিয়ে আনা তো দূরের কথা, বরং তারাই কিন্তু সুখের দিনগুলোর আগমনকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অতএব ওই ব্যক্তির কথা কী বলবেন, যে সুস্থতা ও আরোগ্যতা চাইছে, তো সে কেন সুস্থতার পথ অবলম্বন করে না? যেমন বলা হয়ে থাকে, তুমি মুক্তির পথ চাইছ, অথচ সে পথে হাঁটছ না। তাই এ মুহূর্তে আমাদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত এবং নানা উপায় অবলম্বনের অংশ হিসেবে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা। আর এটি বাস্তবে অন্যভাবে সামাজিক ঘনিষ্ঠতার একটি। ঘরে থাকার বিষয়টি ব্যক্তিকে তার স্ত্রী সন্তানকে একত্রিত করে দেয়।

    আর আমাদের ঘরে থাকা এবং নানা দিকনির্দেশনা মেনে চলা দায়িত্বে অভিজ্ঞতা লাভের একটি অংশ। সঙ্গে পরিবারের প্রত্যেক সদস্য নিজেদের হক প্রদানের একটি সুবর্ণ সুযোগ, যার চর্চা অতীতে আমাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল না। তাই আমাদের নিজেদের প্রতি এবং নিজেদের পরিবারের প্রতি নানা কর্তব্য রয়ে গেছে।

    হে দ্বীনি ভাইয়েরা!

    এই করোনা মহামারী আক্রমণকারী বাঘের ন্যায়। পলায়ন ছাড়া তার আক্রমণ হতে মুক্তি মিলবে না। ঘরে আবদ্ধ থাকা ছাড়া তা হতে পলায়নের কোনো গন্তব্য নেই। যেমনটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কুষ্ঠ রোগী হতে বাঘের থাবা হতে পলায়নের ন্যায় পলায়ন করো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ৯৭২০)

    মূল বক্তব্য: সিনিয়র ইমাম ও খতিব, মসজিদুল হারাম ও মক্কার উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

    অনুবাদ: নাজমুল হুদা, শিক্ষার্থী, উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা

  • মসজিদে নয় বাসায় শবে বরাতের আমলের আহ্বান আলেমদের

    মসজিদে নয় বাসায় শবে বরাতের আমলের আহ্বান আলেমদের

    এবিএনএ : মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে শবেবরাত উপস্থিত মুসলমানদের সামনে। আজকের রাতটি মুসলিম মিল্লাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। সামাজিক বিচ্ছিন্নতার স্বার্থে সারা দেশে মসজিদগুলোতে বড় জামায়াতে নামাজের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করছেন আলেমরা। এমতাবস্থায় আজকে শবেবরাতের নামাজ ও অন্যান্য এবাদত বাসায় একাকী আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    করোনাভাইরাসের কারণে পবিত্র শবে বরাতে মসজিদ, কবরস্থান ও মাজারে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইফা বলেছে শবে বরাতের রাতে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ না পড়ে ঘরে নামাজ পড়তে। একই সঙ্গে মাজার ও কবরস্থানের গেট বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটাহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, শবে বরাতে একাকী ইবাদত করা রাসূল সা.-এর সহীহ হাদীস ও আছারে সাহাবা (সাহাবীদের আমল) থেকে প্রমাণিত। তাই বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করুন। নিজেদের কৃত গুনাহ থেকে তওবা করুন। বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িতে না গিয়ে নিজ নিজ ঘরে একাকী ইবাদতের মাধ্যমে শবে বরাত পালন করা উচিত।

    প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র শবে বরাতে ঘরে বসে ইবাদত করতে মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

    বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শবে বরাতে আমাদের দেশের মানুষ মসজিদে সমবেত হয়ে ইবাদত করেন। কিন্তু ইবাদত ব্যক্তিগত বিষয়, সম্মিলিত নয়। তারাবির নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নফল নামাজের জন্য মানুষকে ডাকাডাকি করে মসজিদে উপস্থিত করা- শরীয়ত অনুমোদিত নয়।

    আল্লামা মাসউদ বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে বসে ইবাদত করে শবে বরাত পালনে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য ইবাদতকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ঘোরাঘুরি করা, শোরগোল করা শরীয়ত ও আইনবিরোধী।

    শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, দেশের আলেমদের পরামর্শ নিয়েই সবাইকে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সরকার যদি জনস্বার্থে শরীয়ত বিরোধী নয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় সেক্ষেত্রে তা মান্য করা জরুরি।

    সুতরাং সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে মসজিদে মুসুল্লিদের না যাওয়ার ব্যাপারে সেটা ওলামায়ে কেরামের পরমার্শ মোতাবেকই নিয়েছে। সবার জন্য এটা অনুসরণ করা কর্তব্য। লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, শবে বরাতে মসজিদে জামায়াতবদ্ধ হয়ে আনন্দ করা, হইচই করা ও গণজমায়েত করাও বিদআত। কেননা সালাফে সালেহীন থেকে এমন রীতি পাওয়া যায় না।

    বিশেষত মহামারীর প্রেক্ষিতে এ বছর কোনভাবেই মসজিদে জমায়েত করা যাবে না। শবে বরাতের রাতের আমল মুসতাহাব আর নিজের-সমাজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা ওয়াজিব। তিনি বলেন, বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শবে বরাতে নফল ইবাদতের জন্য মসজিদে জমায়েত হওয়ার কোন অনুমোদন কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী আইনে নেই৷ শরীয়তের বিধান অমান্য করে যারা আবেগের টানে মসজিদে যাবে,তারা ভুল করবে এবং অন্যের ক্ষতির কারণ হবে, যা নাজায়েজ।

  • পবিত্র শবে বরাত বৃহস্পতিবার: কবরস্থান ও মাজারে জনসমাগম না করার আহ্বান

    পবিত্র শবে বরাত বৃহস্পতিবার: কবরস্থান ও মাজারে জনসমাগম না করার আহ্বান

    এবিএনএ : যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখে দিবাগত রাতটি মুসলমানগণ সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন।

    মহিমান্বিত এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। মুসলমানগণ এ রাতে মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ কামনা করে পবিত্র শবে বরাতের রাতে বিশেষ দোয়া করতে কবরস্থান ও মাজারে জনসমাগম না করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)।

    আজ বুধবার ইফার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। বিরাজমান এ পরিস্থিতিতে মহিমান্বিত এ রজনীতে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করে ইবাদত বন্দেগির সময় ব্যক্তিগত দোয়া ও প্রার্থনা ছাড়াও করোনাভাইরাসের মহামারির আক্রমণ থেকে দেশবাসী, প্রিয় মাতৃভূমি, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ববাসীকে সুরক্ষা ও নিরাপদ রাখতে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করার জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে । সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষকসহ সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ইফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতিপূর্বে লক্ষ করা গেছে, পবিত্র শবে বরাতে জিয়ারতের জন্য কবরস্থান ও মাজারে অনেক লোকের সমাগম হয়। এ ছাড়া কবরস্থান ও মাজারের ভেতরে ও বাইরে অনেক ভিক্ষুক, অসহায়, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সাহায্যের জন্য সমবেত হন। এ ধরনের জনসমাগমের কারণে করোনাভাইরাস ব্যাপক হারে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে শবে বরাতে কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরস্থানে না গিয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করে মৃত আত্মীয়স্বজনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কবরস্থান ও মাজারের গেইট বন্ধ রাখাসহ কবরস্থানের ভেতর ও বাইরে কোনো ধরনের জনসমাগম না করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনকে অনুরোধ করা হয়।

    এ ছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে গুজব ছড়ানো ও গুজবে বিশ্বাস হতে বিরত থাকার জন্যও সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।

    এদিকে বাসস চট্টগ্রাম থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শবে বরাতের নামাজ পড়াসহ অন্যান্য ইবাদত বাসায় সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। বুধবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান নগরবাসীকে এ অনুরোধ জানান। বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, মসজিদ, মাজার, কবরস্থান, মিলাদ মাহফিল বা অন্য যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানও এ অনুরোধের অন্তর্ভুক্ত। মূলত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই সাধারণের প্রতি এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রে ইমামসহ ৫ জনের বেশি নয়, জুমার ক্ষেত্রে ১০ জন

    মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রে ইমামসহ ৫ জনের বেশি নয়, জুমার ক্ষেত্রে ১০ জন

    এবিএনএ : মসজিদে ৫ ওয়াক্ত জামাতে ইমামসহ ৫ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া জুমার নামাজের ক্ষেত্রে ১০ জনের বেশি জামাত করা যাবে না। আজ সোমবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধকল্পে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ ব্যতীত অন্য সকল মুসুল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামায়াতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামায়াত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে অনধিক ৫ জন এবং জুমার জামায়াতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। জনস্বার্থে বাহিরের মুসল্লি মসজিদের ভিতরে জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

    একই সাথে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদেরকেও উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীগণও এ সময়ে কোন ধর্মীয় বা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।

  • ‘হজ নিবন্ধন কার্যক্রম ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে’

    ‘হজ নিবন্ধন কার্যক্রম ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে’

    এবিএনএ : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, চলতি ২০২০ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২০ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী এজেন্সিসমূহের ‘হজযাত্রী নিবন্ধন ব্যাংক হিসাব’ ব্যবহার বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশ গুরুত্ব সহকারে পালন করতে হবে।

    আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২ মার্চ থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বর্তমানে ওমরাহযাত্রী প্রেরণ ও সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ আছে। তবে পরিস্থিতি উন্নতি হওয়া সাপেক্ষে ২০২০ সালে হজযাত্রী প্রেরণের লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এসময় হজ সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত জানান।

    এগুলো হলো- বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বিমান ভাড়া এবং সার্ভিস চার্জ বাবদ ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকার অতিরিক্ত অন্য কোন ব্যয় বাবদ কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না। অবশিষ্ট অর্থ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমা প্রদান করার জন্য হজযাত্রীকে প্রস্তুত রাখতে হবে। নিবন্ধনের সময় হজযাত্রী এবং এজেন্সিকে আবশ্যিকভাবে নগদ লেনদেন পরিহার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই মধ্যস্বত্বভোগী বা তথাকথিত গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে না। নিবন্ধনের সময় হজযাত্রী কর্তৃক জমাকৃত অর্থ শুধুমাত্র হজ কার্যক্রমেই ব্যয় করতে হবে। নিবন্ধন ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। হজযাত্রী কর্তৃক এজেন্সির ব্যাংক হিসাব ব্যতীত কোনোভাবে নগদ লেনদেন করা হলে এজন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিবন্ধনের সময় হজযাত্রী কর্তৃক জমাকৃত অর্থ হজ কার্যক্রম ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। নিবন্ধনের জন্য জমাকৃত অর্থ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ব্যতিরেকে কোনো অবস্থাতেই উত্তোলন করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান না করা পর্যন্ত সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া বা অন্য কোনো খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ প্রেরণ করা যাবে না এবং বাংলাদেশেও বিমান ভাড়া বা অন্য খাতে অর্থ ব্যয় করা যাবে না। বিদ্যমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে হজযাত্রী প্রেরণ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে জমাকৃত অর্থ হজযাত্রী বরাবর ফেরত প্রদান করতে হবে।

  • সিলেটে মুখোমুখি তাবলিগের দুই পক্ষ, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

    সিলেটে মুখোমুখি তাবলিগের দুই পক্ষ, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

    এবিএনএ : তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাদপন্থীরা দোয়া মাহফিলের জন্য মৌখিক অনুমতি নিয়ে জেলা ইজতেমা করার পাঁয়তারা করলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন জুবায়ের অনুসারীরা। এতে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। দেখা দেয় তীব্র উত্তেজনা। যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রায় দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ।

    দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ইজতেমা মাঠের আশপাশ, চন্ডিপুলসহ নগরের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। ইজতেমা মাঠের পাশে উপস্থিত আছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ, উপ-কমিশনার (ডিসি দক্ষিণ) সুহেল রেজা, উপ-কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা, দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল ফজল। এর আগে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুই পক্ষের উত্তেজনা থামাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশের একজন কর্মকর্তা।

    দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, সকালে খোজারখলায় মার্কাজ মসজিদে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হলে কোনো সমাধান আসেনি। তবে এখন আপাতত সমাধানের পথে। যারা দোয়ার জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন তারা ইজতেমার মাঠে রান্নাবান্না করে খাওয়া-দাওয়া করছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় এখন একটি পর্যায় এসেছে।

    তিনি বলেন, ইজতেমা মূলত তিনদিন হয়। কিন্তু তারা দোয়ার জন্য মাত্র একদিনের অনুমতি নিয়েছিল। এ অবস্থায় অপর পক্ষ ইজতেমা ভেবে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েন। তবে এখন আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান এসেছে। মাঠে অবস্থানকারী সাদপন্থীদের সন্ধ্যার মধ্যে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে মাঠে অবস্থান করা তাবলিগ জামাতের একজন মুরব্বি নাম প্রকাশ না করে জানান, তারা এশার নামাজ শেষ করে মোনাজাতের পর মাঠ ছেড়ে দেবেন।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে সাদবিরোধীরা দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল পয়েন্টে একত্রিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সাদপন্থীরা বদিকোনা থেকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলযোগে মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে।

  • আজহারীর সব প্রোগ্রাম মার্চ পর্যন্ত স্থগিত

    আজহারীর সব প্রোগ্রাম মার্চ পর্যন্ত স্থগিত

    এবিএনএ : চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সব তাফসির প্রোগ্রাম স্থগিত করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। এই সময়ের মধ্যে তিনি রিসার্চের কাজে মালয়েশিয়ায় ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় আজহারী এ তথ্য জানান। ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ.., প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা। পারিপার্শ্বিক কিছু কারণে, এখানেই এ বছরের তাফসির প্রোগ্রামের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই মার্চ পর্যন্ত আমার বাকি প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করা হলো। রিসার্চের কাজে আবারও মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলে, আবারও দেখা হবে ও কথা হবে কুরআনের মাহফিলে ইনশাআল্লাহ।’

    ‘এ বছর বেশির ভাগ প্রোগ্রামগুলোতেই পারিবারিক ও সামাজিক ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেছি, পাশাপাশি কয়েকটি সূরার তাফসিরও করেছি। আশা করি, আলোচনাগুলো থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। পরিবারের সবাই মিলে আলোচনাগুলো শুনুন এবং কথাগুলো বাস্তব জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে, আমাদের পরিবার ও সমাজ সুখময় এবং শান্তিময় হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।’

    ‘আমি একজন নগণ্য মানুষ। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ছাত্র। কুরআনের ছাত্র হয়েই বেঁচে থাকতে চাই ও নিরলস কাজ করে যেতে চাই। তাই সুপ্রিয় শ্রোতাদেরকে বলবো, প্লিজ আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করবেন না। আমাকে জড়িয়ে কোনো ব্যাপারে কাউকে গালাগালি করবেন না, অন্য কোনো মতাদর্শের আলেমদের হেয় বা ছোট করে কিছু বলতে যাবেন না। যদিও তাদের কেউ কখনো আমাকে ছোট করে কথা বলে। অনুরুপভাবে, কোথাও আমাকে ডিফেন্ড করে তর্ক বা কমেন্ট করতে চাইলে, ভদ্রতা বজায় রেখে, যৌক্তিকভাবে এবং বিনয়ের সঙ্গে সেটা করুন। সত্য একদিন উন্মোচিত হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    ‘আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে, দেশের আপামর জনতার যে ভালোবাসা পেয়েছি, জানি না সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝরালে এবং কোন ভাষায় শোকরগোজার হলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে। মালিকের দরবারে আলীশানে লাখো কোটি শুকর এবং সুজুদ। ওয়ালহামদু লিল্লাহি ‘আলান্নি’ আম।’

    ‘প্রোগ্রামগুলো বাস্তবায়নে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার জন্য রইলো আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়া। বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা উত্তম প্রতিদান দান করুক।’

    ‘আমার এ জীবনের ছোট্ট অভিজ্ঞতায় যা দেখলাম, সেটা হলো : আমরা আমাদের জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়ে দেই অন্যকে হিংসা করতে করতে। নিজেরা কাজ না করে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে আমরা মহা ব্যস্ত। আসলে, অপপ্রচার করে তেমন কোন লাভ নেই। অপপ্রচারে আমি কখনো মনক্ষুণ্ন হই না। আমার বিশ্বাস আপনারাও হবেন না। কারণ অপপ্রচারগুলোই আমাদের প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেছে আলহামদুলিল্লাহ। হক্বের পথে বাধা, বিপত্তি আসবেই। এটাই স্বাভাবিক। যে পথে কাঁটা নেই সেটা পথ নয়, সেটা কার্পেট। আর কার্পেটে হেটে মজলিশে পৌঁছানো যায়, মনজিলে নয়।’

    মন্তব্য কখনো গন্তব্য ঠেকাতে পারে না।
    তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহ…’