Category: ধর্ম

  • এ বছর জনপ্রতি ফিতরা সর্বোচ্চ ২৩১০, সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা

    এ বছর জনপ্রতি ফিতরা সর্বোচ্চ ২৩১০, সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা

    এবিএনএ: রমজানে এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর সর্বনিম্ন ছিল ৭৫ টাকা। তবে সর্বোচ্চ ছিল ২ হাজার ৩১০ টাকা। আজ শনিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জানান, ইসলামি শরিয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।

    আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে তিন কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।

    কমিটির সভাপতি জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ৭৫ টাকা। যবের ক্ষেত্রে তিন কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা’) বা এর বাজার মূল্য ৩০০ টাকা ফিতরা দিতে হবে। এছাড়া তিন কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৪২০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে তিন কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৬৫০ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে তিন কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ৩১০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে। ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।

    তিনি আরও বলেন, নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রূপার সমপরিমাণ) সম্পদের মালিক হলে মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।

    সভায় মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. আনিছুর রহমান সরকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ূর রহমান খান ও মুফাসসির মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ পাটোয়ারীসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম ওলামারা উপস্থিত ছিলেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ মে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

  • রমজানে ক্ষুধা ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণের ৭ উপায়

    রমজানে ক্ষুধা ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণের ৭ উপায়

    এবিএনএ: রমজানে আমরা সাধারণত দুটি কারণে শারীরিকভাবে কষ্ট পেয়ে থাকি। প্রথমটি হচ্ছে ক্ষুধা, আর দ্বিতীয়টি অবসাদ। তবে এই দুটি যেন আমাদের রমজানের বরকত হাসিল করা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমাদের দায়িত্বসমূহ পালন করা থেকে বাধা না দেয়- সত্যিকারের মুসলমান হিসেবে আমাদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

    বুখারির বর্ণনায় এসেছে, সাহাবি জাবির (রা.) বলেন, ‘খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননকালে একটি বড় ও শক্ত পাথর সামনে পড়ে। যা ভাঙ্গা অসম্ভব হয়। রাসুলকে (সা.) বিষয়টি জানানো হলে তিনি এসে তাতে কোদাল দিয়ে আঘাত করলেন, যাতে তা ভেঙে চূর্ণ হয়ে বালুর স্তূপের ন্যায় হয়ে গেল, যা হাতে ধরা যায় না। অথচ ওই সময় ক্ষুধার্ত রাসুল (সা.)-এর পেটে পাথর বাঁধা ছিল। আমরাও তিনদিন যাবৎ অভুক্ত ছিলাম।’  আরেক বর্ণনায় এসেছে, সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মুহাম্মাদ (সা.) ও তার পরিবার তার ইনতিকাল পর্যন্ত একনাগাড়ে তিনদিন পরিতৃপ্তির সঙ্গে আহার করতে পারেননি।

    উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগলেও নবীজি (সা.) তার নিজ দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি; বরং ধৈর্যসহকারে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করে নিজের দায়বদ্ধতা পূরণ করেছেন। তাই আমাদেরও রমজানে দিনেরবেলা সাময়িক ক্ষুধার যন্ত্রণা বরণ করে নিতে হবে এবং বেশি বেশি সৎ কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে এ মাসের বরকত হাসিল করার চেষ্টা করতে হবে। তবে রমজানে ক্ষুধা ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু ব্যবহারিক নিয়ম রয়েছে। এখানে এরকম সাতটি নিয়ম উল্লেখ করা হলো –

    ১. পর্যাপ্ত ঘুম

    খুব বেশি ঘুম এবং খুব কম ঘুম দুটোই শরীরে অবসাদ আনয়ন করে। রমজানকে কেন্দ্র করে কার্যকরী ঘুমের রুটিন তৈরি করে নিতে হবে। গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষ কত সময় ঘুমায়- এর চেয়ে কত ভালোভাবে ঘুমায়, তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারাবি নামাজের পর অযথা সময় নষ্ট না করে খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে হবে; যাতে করে সেহরির সময় সতেজভাবে জাগ্রত হওয়া যায়। জোহরের পর সামান্য সময় ঘুমিয়ে নেয়াও এক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয়।

    ২. শরীরচর্চা

    ক্ষুধার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরে সতেজভাব নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরচর্চার মাধ্যমে আমরা ঘনঘন গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করি। ফলে শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ এনার্জি উৎপন্ন হয়। অনেকে মনে করেন, কষ্টসাধ্য ব্যায়ামকেই কেবল শরীরচর্চা বলা হয়। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সামান্য হাঁটাহাঁটি করাও শরীরচর্চার অন্তর্ভুক্ত। সেহরি শেষ করার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে দিনের বাকিটা সময় শরীরে সক্রিয়তা ও বল পাওয়া যায়।

    ৩. ক্ষুধা ও অবসাদগ্রস্ততা থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখা

    মানুষের মন একটি বিস্ময়কর যন্ত্র। এটি চাইলে সবকিছু উপেক্ষা করে মানুষকে সারাদিন একটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রাখতে পারে। একই পরিবেশে কেউ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে, আবার কেউ কোলাহল ও আওয়াজের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। এ সবই মনের কারসাজি। ক্ষুধা ও অবসাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। চাইলেই আমরা ক্ষুধা ও অবসাদগ্রস্ততা থেকে মনোযোগ সরিয়ে রেখে এ দুটির অনুভূতি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি।

    ৪. রমজানের সময়সূচি অনুযায়ী দৈনন্দিন কার্যক্রমের রুটিন সাজিয়ে নেয়া এবং ব্যস্ত থাকা 

    রমজানে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের আলোকে নিজের সারাদিনের কর্মসূচি সাজিয়ে নিতে হবে। অলস সময় পার না করে অর্থবহ কোনো কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায়। ইবাদত করা ও পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর মাধ্যমে ক্ষুধা ও অবসাদের অনুভূতি থেকে নিজের মানসিকতা সরিয়ে রাখা যায়। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঘরের কাজকর্মে অংশগ্রহণ করা। এতে করে একদিকে যেমন ব্যস্ত থাকা যাবে, অন্যদিকে বিপুল সওয়াবের অধিকারী হওয়া যাবে।

    ৫. অধিক পরিমাণে পানি পান করা 

    ইফতারের পর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। চা কিংবা কফির জায়গায় পানিকে নিয়ে আসতে হবে। কারণ পানির মাধ্যমে শরীরের শিরা-উপশিরা সিক্ত হয় এবং মন সতেজ থাকে।

    ৬. সচেতনভাবে পানাহার করা

    যে কোনো খাবার গ্রহণের পূর্বে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে, এই খাবার শরীরের জন্য কতখানি উপকারী। সাহরি ও ইফতারে এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে, যা শরীরের এনার্জি লেভেল ধরে রাখতে সাহায্য করে। খাবারের প্রতিটি কণা চিবিয়ে খেতে হবে। ঘুমের ঠিক আগমুহূর্তে খাওয়া যাবে না। খাদ্যের মধ্যে চিনি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

    ৭. কখনোই সেহরি মিস না করা

    সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়। সেহরি না খেয়ে রোজা রাখলে রোজাদার ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে নবিজি (সা.) বলেন, তোমরা সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনে রোজা রাখার শক্তি অর্জন করো আর দিনে হালকা ঘুমের মাধ্যমে রাত জেগে ইবাদত করার শক্তি অর্জন করো।

  • চাঁদ দেখা গেছে, রবিবার থেকে রোজা শুরু

    চাঁদ দেখা গেছে, রবিবার থেকে রোজা শুরু

    এবিএনএ: দেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রবিবার (৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। এদিন থেকে মুসল্লিরা সিয়াম পালন করবেন। সে হিসেবে আগামী ২৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিনগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালন করবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

    শনিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক বসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরস্বতী পূজা উদযাপন

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরস্বতী পূজা উদযাপন

    এবিএনএ : করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা উদযাপিত হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি মতে, এ দিনটিতে দেবী সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দিনটিকে বলা হয় ‘বসন্ত পঞ্চমী’। সরস্বতী জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী। তাঁর জন্য ভক্ত, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে সরস্বতী পূজার আয়োজন করে থাকে।

    প্রতিবছরের ন্যায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পূজার আয়োজন থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসাহ-উদ্দীপনার ঘাটতি ছিল। তবে মন্দিরগুলোতে আজ শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরাধনা চলেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পূজা শুরু হয়। সন্ধ্যায় হয় আরতি অনুষ্ঠান। পূজা ছাড়াও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি ও আলোকসজ্জার আয়োজন ছিল। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে পূজা দেখেছে। তারা অঞ্জলি দিয়েছে ও প্রসাদ গ্রহণ করেছে।

    করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকায় এবার আয়োজনও ছিলো কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মাঠে পূজা উপলক্ষে বিশাল উৎসবের আয়োজন হয়নি। অনেক ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে এসেছে। সেখানে সীমিত আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। এবার শুধু উপাসনালয়ে বিদ্যার দেবীর আরাধানার ব্যবস্থা করা হয়।
    মানিক মিয়া এভিনিউস্থ রাজধানী স্কুল মাঠে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন করা হয়।

    সকালে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। দুপুরে সেখানে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে সন্ধ্যায় পূজার অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় সনাতন সম্প্রদায়ের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে স্পিকার বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে পূজা উৎসবে সকলের অংশগ্রহণ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও ঐতিহ্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঐতিহ্য আরো সুদৃঢ় করতে হবে।

    এদিকে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রথমবারের মতো পূজার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সনাতন ধর্মাবলম্বী সদস্যদের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বনানী, রমনা কালীমন্দিরসহ মণ্ডপে মণ্ডপে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন ছিল। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

  • শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

    শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

    আজ ষষ্ঠী। দেবী দুর্গাকে বোধনের দিন আজ। সায়ংকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে অধিষ্ঠিত হবেন তিনি। আর এর সঙ্গেই শুরু হবে বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। বোধন শব্দটির অর্থ জাগ্রত করা। মর্ত্যে দুর্গার আবাহনের জন্য বোধনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। এ দিন কল্পারম্ভ দিয়ে শুরু হয় দুর্গার বোধন। ষষ্ঠীর সকালেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তারপর দশভূজার সামনে প্রার্থনা করা হয় যে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত গোটা পূজা পর্বে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এরপর ঘট ও জলে পূর্ণ একটি তামার পাত্র মণ্ডপের কোণে স্থাপন করা হয়। এই স্থানেই দুর্গা ও চণ্ডীর পুজো করা হয়। এর পর হয়, দুর্গার বোধন। তার পর অধিবাস, আমন্ত্রণের পর্ব। বোধনের পর বিল্ব শাখার দেবীকে আহ্বান জানানো হয়।

    স্বর্গ থেকে মর্ত‍্যে পদার্পণ করেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে থাকেন চার সন্তান লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী। এদিন দুর্গার মুখের আবরণ উন্মোচিত হয়। মনে করা হয়, বোধনের পর প্রতিমার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বোধন আবার অকাল বোধন হিসেবে খ্যাত। হিন্দু শাস্ত্র মতে, সূর্যের উত্তরায়ন দেবতাদের সকাল। উত্তরায়নের ছয় মাসকে দেবতাদের একদিন হিসেবে গণ্য করা হয়। সকালে সমস্ত দেব-দেবীর পূজা করা হয়। আবার দক্ষিণায়ন শুরু হলে ছয় মাসের জন্য নিদ্রা যান সমস্ত দেব-দেবী। এই দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত। রাতে দেব-দেবীর পূজা করা হয় না। কিন্তু দক্ষিণায়নের ছয় মাসের মধ্যেই দুর্গাপূজা হয় বলে বোধনের মাধ্যমে আগে দেবী দুর্গাকে ঘুম থেকে তোলা হয়। পুরাণে এর সঙ্গে একটি কাহিনিও জড়িত। রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে দুর্গার বোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। এর পর দুর্গার আরাধনা করে শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রার্থনা করেন তিনি। অকালে দুর্গাকে জাগিয়ে তোলা হয়েছিল বলেই একে অকাল বোধন বলা হয়ে থাকে।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মতো এবারও সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোয় দুর্গোৎসব আয়োজনে মানতে হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি।পূজার আয়োজনকে ঘিরে নানা বিধিনিষেধের কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। গত বছরের মতো এবারও উৎসব-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে এ পূজাকে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

    বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা যেমন থাকবে না, তেমনি বিসর্জনের শোভাযাত্রাও এবার হবে না। এর আগে গত ৬ অক্টোবর দেবীদুর্গার আবাহন বা মহালয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। সাধারণত দেবীপক্ষ শুরুর সাত দিন পর পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে থাকে। তবে এবার পঞ্চমীর বোধন ও ষষ্ঠী তিথি একই দিনে পড়ায় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর দিনক্ষণও এক দিন এগিয়ে এসেছে।

    সোমবার সন্ধ্যায় বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হবে। এর আগে ষষ্ঠী তিথিতে সকাল ৭টা ৩১ মিনিটের মধ্যে দেবীদুর্গার ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা হয়েছে। পরে সন্ধ্যায় বোধন শেষে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। মঙ্গলবার মহাসপ্তমী, বুধবার মহাষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী এবং শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন হবে। করোনার কারণে জনসমাগম এড়াতে এবার মহাষ্টমীতে ঢাকায় কুমারী পূজার আয়োজন থাকছে না। তবে দেশের কয়েকটি জায়গায় কুমারী পূজা হবে।

    সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবীদুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন (আগমন)। যার ফল হচ্ছে ফসল ও শস্যহানি। দেবী স্বর্গালোকে বিদায় (গমন) নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে। যার ফল হচ্ছে মড়ক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, করোনার প্রকোপ কমে আসায় গত বছরের তুলনায় এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা যেমন বেড়েছে, তেমনি ঢাকাসহ সারাদেশে মন্দির-মণ্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ১১২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩০ হাজার ২০৭টি মণ্ডপে। অর্থাৎ করোনার সংক্রমণ কমায় এবার এক হাজার ৯০৫টি পূজা বেড়েছে। সরকারি হিসাবে অবশ্য এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ৭১৭টি মণ্ডপে পূজা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৩৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৩২টি। অর্থাৎ ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫টি।

    দুর্গোৎসব চলাকালে পূজার প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগআরতির আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজনও থাকবে।দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিডিআর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ এবং র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পূজামণ্ডপে আজ পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা ঘটবে। পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে অনুরূপ কর্মসূচি রয়েছে।

    রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটির পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত, কবিগান, নৃত্যনাট্য ও নাটক পরিবেশিত হবে। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বনানী পূজামণ্ডপে পূজার পাঁচদিনই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পূজামণ্ডপে অনুরূপ আয়োজন থাকছে। জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দিরে আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

    এছাড়া রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, পুরান ঢাকার অভয়নগর দাস লেনের ভোলানন্দগিরি আশ্রম, রাধিকা বসাক লেন, নবেন্দ্র বসাক লেন, ঢাকেশ্বরীবাড়ী, শাঁখারীবাজারের পান্নিটোলা, টিকাটুলীর প্রণব মঠ, ঠাঁটারীবাজার পঞ্চানন শিব মন্দির, সূত্রাপুরের ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বনগ্রাম তরুণ সংসদ, ওয়ারী সার্বজনীন পূজা কমিটির মণ্ডপ, উত্তর মৈশুন্ডি, ফরাশগঞ্জ জমিদারবাড়ী, বিহারীলাল জিও মন্দির ও মতিঝিলের অরুণিমা সংসদ পূজা কমিটির মণ্ডপসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • আজ পবিত্র আশুরা

    আজ পবিত্র আশুরা

    এবিএনএ : আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এই দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

    হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

    শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

    এবার পবিত্র মহররম উপলক্ষে সব ধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল বন্ধ থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছর সরকারি ছুটি থাকে। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় দুটি ছুটিই এক দিনে পড়ে গেছে। মহররম উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো আজ বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে।

  • কোরআনের বর্ণনায় মৃত্যুযন্ত্রণা

    কোরআনের বর্ণনায় মৃত্যুযন্ত্রণা

    এবিএনএ : পার্থিব জীবনের সমাপ্তি টেনে সবাইকে পরকালীন জীবনের পথে পা বাড়াতে হবে। পার্থিব ও পরকালীন জীবনের মেলবিন্দুর নাম মৃত্যু। মৃত্যু যেমন অনিবার্য, মৃত্যুর যন্ত্রণাও অবধারিত। যদিও বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীর মৃত্যু যন্ত্রণা সমান হবে না। অবধারিত মৃত্যুযন্ত্রণার প্রতি ইঙ্গিত করে ইরশাদ হয়েছে, ‘জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। নিশ্চয়ই মৃত্যুর যন্ত্রণা অনেক কঠিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫১০)

    কোরআনের বর্ণনায় মৃত্যুযন্ত্রণা

    পবিত্র কোরআনের চারটি আয়াতে স্পষ্টভাবে মৃত্যুযন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে। তা হলো—

    ১. মৃত্যুযন্ত্রণা অনিবার্য : আল্লাহ বলেন, ‘মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যই আসবে। এটা হতে তোমরা অব্যাহতি চেয়ে এসেছ।’ (সুরা কাফ, আয়াত : ১৯) কোরআনের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, উল্লিখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় মৃত্যু ও মৃত্যুযন্ত্রণা অনিবার্য। মুমিন ব্যক্তি মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করে হয়তো তার গুনাহ মাফের জন্য অথবা মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। আর অবিশ্বাসীদের মৃত্যুযন্ত্রণা হয় পরবর্তী জীবনের শাস্তির সূচনা হিসেবে।

    ২. অবিশ্বাসীদের জন্য ভয়ংকর মৃত্যুযন্ত্রণা : আল্লাহ বলেন, ‘যদি তুমি দেখতে পেতে যখন অবিচারকারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকবে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করো। তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অন্যায় বলতে ও তাঁর নিদর্শন সম্পর্কে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে। সে জন্য আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৯৩) উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ অবিশ্বাসী, অস্বীকারকারী ও পাপিষ্ঠদের মৃত্যুযন্ত্রণার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। আলেমরা বলেন, মৃত্যুযন্ত্রণা অবিশ্বাসীদের সেভাবে নাড়িয়ে দেয় যেমন সমুদ্রের ঢেউ ফেনাকে নাড়িয়ে দেয়।

    ৩. মৃত্যুযন্ত্রণার কাছে মানুষ অসহায় : ইরশাদ হয়েছে, ‘উপরন্তু কেন নয়—প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয় এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাকো।’ (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ৮৩-৮৪) উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ মৃত্যুযন্ত্রণার একটি সাধারণ চিত্র অঙ্কন করেছেন। যেখানে মানুষের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। যেন বলা হয়েছে, হে মানুষ, তোমরা নিজেদের অবস্থা লক্ষ করো। যখন জীবন তোমাদের কণ্ঠনালিতে চলে আসে এবং তোমরা কঠিন অবস্থায় পতিত হও, তখন তোমাদের আপনজনরা পাশে থেকেও কোনো উপকার করতে পারে না।

    ৪. মৃত্যুযন্ত্রণা মৃত্যুর বার্তাবাহক : আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে এবং বলা হবে, কে তাকে রক্ষা করবে? তখন তার প্রত্যয় হবে যে এটা বিদায়ক্ষণ এবং পায়ের সঙ্গে পা জড়িয়ে যাবে। সেদিন তোমার প্রভুর কাছে সব কিছু প্রত্যানীত হবে।’ (সুরা কিয়ামা, আয়াত : ২৬-৩০) এ আয়াতের ভাষ্য দ্বারা বোঝা যায়, মানুষ মৃত্যুযন্ত্রণা প্রকাশের মাধ্যমেই বুঝতে পারবে মৃত্যু সমাগত, বুঝতে পারবে তার পরবর্তী জীবনের পরিণাম কী হবে।

    মুমিন ও পাপী উভয়ের জন্যই মৃত্যুযন্ত্রণা

    পবিত্র কোরআনের বর্ণনা থেকে বোঝা যায় মুমিন ও পাপী সবাই মৃত্যুযন্ত্রণার শিকার হবে। পাপীদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি যদি দেখতে পেতে ফেরেশতারা অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল ও পিঠে আঘাত করে তাদের প্রাণহরণ করছে এবং বলছে, তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ কোরো।’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৫০) অন্যদিকে কোরআনে একজন মুমিনের মৃত্যুর দৃশ্য এভাবে তুলে ধরা হয়—‘তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলে উঠল, হায় আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত—কিভাবে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত ২৬-২৭)

    সবচেয়ে কম মৃত্যুযন্ত্রণা হবে শহীদের

    অবিশ্বাসী ও পাপীদের তুলনায় মুমিনের মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই হালকা হবে। আর সবচেয়ে কম মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করবে আল্লাহর রাস্তার শহীদরা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কাউকে পিঁপড়া কামড়ালে যতটুকু কষ্ট অনুভব করো, শহীদের নিহত হওয়ার কষ্ট তার চেয়ে বেশি হবে না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩১৬১)

    মুমিনের মৃত্যুকষ্ট কেন হয়?

    একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত মৃত্যুর সময় মহানবী (সা.)-এর শারীরিক কষ্ট হয়েছিল। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখেছি একটি পানিভর্তি বাটি তার সামনে রাখা ছিল। তিনি সেই বাটিতে তার হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং পানি দিয়ে তার মুখমণ্ডল মলছিলেন। আর বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ, মৃত্যুকষ্ট ও মৃত্যুযন্ত্রণা হ্রাসে আমায় সহায়তা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৯৭৮)

    কিন্তু মুমিনের কেন মৃত্যুর সময় কষ্ট হয়। এ বিষয়ে এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন তাঁর এক নিকটতম প্রতিবেশী মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল। নবী (সা.) তাকে চিন্তিত দেখে বলেন, ‘তোমার প্রতিবেশীর কারণে তুমি চিন্তিত হয়ো না। কেননা এটা সৎকর্মগুলোর অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৫১)

    এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, মুমিনের মৃত্যুযন্ত্রণা তার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ যখন কোনো মুমিনের জন্য কোনো মর্যাদার স্তর নির্ধারণ করেন এবং নিজ আমল দ্বারা যদি তা অর্জন করতে না পারে, তখন আল্লাহ তাঁর শরীর বা তাঁর সম্পদ অথবা তাঁর সন্তানদের বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর মুমিন ধৈর্যধারণ করার ফলে সে পূর্বনির্ধারিত মর্যাদার স্তরে পৌঁছে যায়।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩০৯০)

    যে দোয়ায় মৃত্যুযন্ত্রণা হালকা হয়

    মৃত্যুশয্যায় মহানবী (সা.) মৃত্যুযন্ত্রণা হালকা হওয়ার জন্য দুটি দোয়া করেন। তা হলো—ক. ‘হে আল্লাহ, মৃত্যুকষ্ট ও মৃত্যুযন্ত্রণা হ্রাসে আমায় সহায়তা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৯৭৮) খ. ‘হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আর আমাকে মহান বন্ধুর সঙ্গে মিলিত করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৪) আল্লাহ সবাইকে মৃত্যুযন্ত্রণা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

    লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

  • বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার ৫ জামাত

    বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার ৫ জামাত

    এবিএনএ : জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবার ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (১৮ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই (বুধবার) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবারও হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত হবে না। বুধবার সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ জিলহজ মোতাবেক ২১ জুলাই সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথম জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মুকাররমের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান।

    দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকারমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।

    চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দীন কাসেম, মোকাব্বির হবেন মুয়াজ্জিন ক্বারী মো. ইসহাক। এই জামাতটি সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    পঞ্চম ও শেষ জামাত হবে সকাল সাড়ে ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের প্রধান খাদেম মো. শহীদুল্লাহ।

    এই ৫টি জামাতে কোনো ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুফতী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বতর্মান করোনা পরিস্থিতিতে বিবেচনায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ১২ জুলাই জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের খতিব-ইমাম, ধর্মপ্রাণ মুসল্লী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

  • চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২১ জুলাই

    চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২১ জুলাই

    এবিএনএ : দেশের আকাশে ১৪৪২ হিজরির পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এ হিসেবে আগামী ২১ জুলাই বুধবার দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর ১০ জিলহজ ঈদুল আজহা পালিত হয়। এটি কোরবানির ঈদ হিসেবেও পরিচিত। এদিন আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় মুসলমানেরা পশু কোরবানি করেন।

    জিলহজ মাসের ৯ তারিখ পালিত হয় পবিত্র হজ। তবে গতবারের মতো এবারও করোনা মহামারির কারণে সৌদি আরবের বাইরের কেউ হজে অংশ নিতে পারছেন না। এজন্য হজের কোনো আমেজ নেই। এবারও মহামারি করোনার কারণে ভিন্ন এক চেহারায় আসছে ঈদুল আজহা। মাঠের পরিবর্তে মসজিদে আদায় হবে ঈদের জামাত। ঢাকাসহ সারাদেশে কমানো হয়েছে পশুর হাট। কোরবানির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর রয়েছে কড়াকড়ি।

    দেশে করোনার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করায় চলছে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। আগামী বুধবার এই বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে করোনার প্রকোপ না কমায় বিধিনিষেধ একদম উঠবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। যে যেখানে আছে সেখানেই ঈদ পালনের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

  • এ বছরও বাংলাদেশিদের হজ পালন অনিশ্চিত

    এ বছরও বাংলাদেশিদের হজ পালন অনিশ্চিত

    এবিএনএ : করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এ বছরও হজ পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। হজের মাত্র আর কয়েকমাস বাকি। এখনও সৌদি আরব মুসলিম উম্মাহর সর্ব পবিত্র এ আয়োজন নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। গত বছর স্বল্প পরিসরে নিজ দেশের হজ কঙ্ক্ষিতদের নিয়ে হজ পালন করে সৌদি সরকার। পরবর্তীতে ওমরাহর জন্য অনুমতি দিলেও বেধে দেওয়া হয় শর্ত। এবার হজ পালন করা হবে ধরে নিলেও বিদেশিদের নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি হজ কর্তৃপক্ষ।

    অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য হজ প্রত্যাশীরা সৌদি গমন করেন। এবার বাংলাদেশিদের নিয়ে এবার কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলেও সৌদি সরকারের নির্দেশনা না পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে হজে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ৬০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে হজ আয়োজনের জন্য দেশটির হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে। এতে বলা হয়, ৬০ হাজারের মধ্যে ১৫ হাজার সৌদি নাগরিক ও বিভিন্ন দেশে থেকে ৪৫ হাজার বিদেশি হজ প্রত্যাশী অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই করোনার টিকার দুই ডোজ নেওয়া থাকতে হবে। টিকার প্রথম ডোজ ঈদুল ফিতরের আগে যারা নিয়েছেন তারা সুযোগ পাবেন। হজযাত্রীদের বয়স ১৮-৬০ বছরে মধ্যে হতে হবে।

    এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা পালনের সুপারিশ করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে সৌদি সরকারের ঘোষণা না থাকলেও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের নিবন্ধিত হজযাত্রীদের করোনার ভ্যাকসিন দিতে বলা হয়েছে মার্চ মাসেই। ফলে, সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠিন শর্ত আরোপ না করে অনুমতি দিলে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা চলতি বছর হজ করার সুযোগ পেতে পারেন।