Category: ধর্ম

  • ধর্মের মর্মবাণী বুকে ধারণ করলে পৃথিবীতে বিভেদ থাকতো না: তথ্যমন্ত্রী

    ধর্মের মর্মবাণী বুকে ধারণ করলে পৃথিবীতে বিভেদ থাকতো না: তথ্যমন্ত্রী

    এবিএনএ : অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনার জন্যই বাংলাদেশের অভ্যুদয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড: হাছান মাহমুদ।

    বুধবার ( ২৬ মে) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্রতম উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ যেনো দুর্বল হয়ে যায় এবং বিশ্ব যেনো অচিরেই করোনামুক্ত হয় সেজন্য সকলকে প্রার্থনার আহবান জানান তিনি।

    পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সকলের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সকল ধর্মের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। আর স্বাধীনতার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তেই পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি এবং সে কারণেই আমাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা বর্ণিত রয়েছে।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দল মনে করে, সবার আগে আমাদের পরিচয় আমরা বাঙালি, তারপর আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। কিন্তু বাংলাদেশে এমন একটি পক্ষ আছে যারা ধর্মের পরিচয়কেই আগে রাখে। আর তারপর তারা বাঙালি না বাংলাদেশি এ নিয়ে সার্বক্ষণিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। সেখানেই তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য।’

    মন্ত্রী এসময় বলেন, দেশের সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেমন যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন, একইসাথে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা ও সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর অপচেষ্টাও কঠোর হস্তে দমনে সরকার সবসময়ই বদ্ধপরিকর।

    ড. হাছান মনে করেন, মানুষের মাঝে শান্তি-সম্প্রীতি-সাম্য প্রতিষ্ঠাই সকল ধর্মের মূলমন্ত্র আর বৌদ্ধ ধর্ম আরো একধাপ এগিয়ে সকল জীবের কল্যাণে ব্রতী। আমরা যদি সবাই ধর্মের মর্মবাণী বুকে ধারণ করে অনুশীলন করি, তাহলে পৃথিবীতে এই হানাহানি-বিভেদ থাকতো না উল্লেখ করে বুদ্ধ পূর্ণিমার এইদিনে সকলকে নিজ নিজ ধর্মের মূলমর্ম বুকে ধারণ করে শান্তি-সম্প্রীতি-সাম্য প্রতিষ্ঠার ব্রত নেবার আহবান জানান হাছান মাহমুদ।

    সভাশেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ অতিথিদের নিয়ে পরিষদের পক্ষে সভায় আগতদের মাঝে উপহার সামগ্রী তুলে দেন ও বুদ্ধ পূর্ণিমা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

  • ঈদগাহে নয় মসজিদে ঈদ জামাত, করা যাবে না কোলাকুলি

    ঈদগাহে নয় মসজিদে ঈদ জামাত, করা যাবে না কোলাকুলি

    এবিএনএ : করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবারও ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করা যাবে না। মসজিদে পড়তে হবে ঈদের নামাজ। একইসঙ্গে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ এপ্রিল) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায় সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায়ে ১২টি শর্ত দেয়া হয়েছে।

    মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ে ১২টি শর্ত
    ১. ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারাবিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিজনিত কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত করা যাবে।

    ২. ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন।

  • ঈদগাহে নয়, এবারও ঈদের জামাত মসজিদে

    ঈদগাহে নয়, এবারও ঈদের জামাত মসজিদে

    এবিএনএ : করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবারও ঈদের জামাত উন্মুক্ত স্থান বা ঈদগাহে পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে সরকার। গত বছরের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল ফিতরের জামাত মসজিদে আদায়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ঈদ জামাতের বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৩ বা ১৪ মে দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঈদের দিন মুসলমানরা মসজিদ কিংবা ঈদগাহে ২ রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে থাকেন।

    ঈদ জামাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার দুপুরে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, ‘আমি মনে করি ঈদের জামাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গত বছরের মতোই থাকবে। আরও কঠিন হয়তো হবে না। আমরাও চাই গত বছরের সিদ্ধান্তটাই থাক। তবে সবকিছুই আলোচনা করে আমরা ফাইনাল করবো।’ তিনি বলেন, ‘আগামী পরশু দিন আমরা একটা সিদ্ধান্তে যাব। আমাদের একটি অফিসিয়াল মিটিং হবে, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর যে পরিস্থিতি ছিল, এবার এর চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমাদের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সবাইকে বলেছি বসে একটা সিদ্ধান্ত নিন। গত বছর যে সিদ্ধান্ত ছিল সেটা ঠিক রাখবেন নাকি, আরও কঠিন করবেন নাকি কিছুটা রিল্যাক্স করবেন, বসেই সেই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।’

  • খোশ আমদেদ মাহে রমজান, স্বাগত পহেলা বৈশাখ

    খোশ আমদেদ মাহে রমজান, স্বাগত পহেলা বৈশাখ

    এবিএনএ : এবার বাঙালির প্রাণের পহেলা বৈশাখ আর মুসলিমদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হয়েছে একই দিনে। আবার এমন এক দিনে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মাস শুরু হলো, যখন সারা বিশ্ব করোনাভাইরাস নামের এক মহামারিতে আক্রান্ত। এই মহামারি থেকে নিজেদের রক্ষায় দেশে চলছে লকডাউন। তাই ঘরবন্দি মানুষ যার যার জায়গা থেকে স্বাগত জানাচ্ছে পহেলা বৈশাখকে। খোশ আমদেদ জানাচ্ছে মাহে রমজানকে।

    আজ পহেলা বৈশাখে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বাংলা বর্ষ ১৪২৮। গতকাল বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্রসংক্রান্তি শেষে আজ নতুন র্সূয উদিত হলো নতুন বছরের পয়গাম নিয়ে। জানাচ্ছে নতুনের আবাহন।

    আমাদের সব সংকীর্ণতা, কূপমণ্ডূকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবনব্যবস্থা গড় তুলতে উদ্বুদ্ধ করে পয়লা বৈশাখ। আমাদের মনের সব ক্লেদ, কালিমা দূর করে নতুন উদ্যমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। পয়লা বৈশাখে বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়।

    বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব পহলো বৈশাখে আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক নববর্ষ অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আমাদের উদ্দীপ্ত করে।

    আমরা আশা করি আজকের নতুন ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। করোনাভাইরাসমুক্ত নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেবে সব বাঙালি।

    আজ একই সঙ্গে শুরু হলো ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস। গত রাত থেকেই শুরু হয় রোজার আনুষ্ঠানিকতা। এশার নামাজের পর তারাবি পড়েন রোজাদাররা। শেষ রাতে সেহেরি খেয়ে রোজা রেখেছেন তারা।

    করোনা মহামারির কারণে অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় এবার শুরু হলো রোজা। গতবারও এই করোনার হানার মধ্যে রোজার সিয়াম সাধনা করেছে মুসলিম জাতি। এবার আজ থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে। ফলে ওয়াক্তের নামাজসহ তারাবির জামাতে ২০ জনের বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। গতবারের মতোই সাধারণ মুসল্লিরা তারাবিতে অংশ নিতে পারছেন না। মহামারি ঠেকানোর এই যুদ্ধে আমাদের জিতবে হবে। আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ও শক্তি দিন।

    ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি রোজা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুমিনের ওপর রমজানের এক মাসের রোজা ফরজ। কোরআন-হাদিসে রোজার অনেক ফজিলতের কথা উল্লেখ আছে। ইফতার, তারাবি, সেহেরি, ইতেকাফ- রোজাসংশ্লিষ্ট এসব ইবাদতের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রত্যেকটি ইবাদতের বিশেষ ফজিলতের কথাও কোরআন-হাদিসে উল্লেখ আছে। আল্লাহ আমাদের এই সিয়াম সাধনা সফলভাবে পূরণ করার তৌফিক দান করুন।

  • অসুস্থদের রোজার প্রস্তুতি

    অসুস্থদের রোজার প্রস্তুতি

    এবিএনএ : রমজান মাস শুরু হতে বেশি সময় বাকি নেই। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের রোগীরা তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রোজা রাখতে পারেন। এতে সম্ভাব্য জটিলতাও এড়ানো সম্ভব।

    যদি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে রোজা রাখলে তেমন কোনো অসুবিধা হয় না। বিশেষ সতর্কতা আর নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চললে বেশিরভাগ ডায়াবেটিক রোগীই রোজা রাখতে পারেন। এ জন্য করণীয় হলো-

    * প্রথমেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন।

    * কেননা অন্য সময়ের তুলনায় সাধারণত এ সময় মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ কিছুটা কমিয়ে আনতে হয়। তিনবারের ওষুধ একবার বা দু’বারে এনে সমন্বয় করতে হবে। এ কাজ নিজে নিজে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    * এখন থেকেই সকাল বা দুপুরের ওষুধ রাতে এবং রাতের ওষুধ সেহরির সময় খাওয়ার অভ্যাস শুরু করতে পারেন। অর্থাৎ যারা মুখে খাওয়ার ওষুধ খান, তারা সকালের ডোজটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের ডোজটি অর্ধেক পরিমাণে সেহরির আধা ঘণ্টা আগে খাবেন।

    * যারা দিনে একবেলা ওষুধ খান, তারা ইফতারের আগে একটু কম করে খাবেন।

    * ইনসুলিনের ক্ষেত্রেও সকালের ডোজটি ইফতারের আগে, রাতের ডোজটি কিছুটা কমিয়ে সেহরির আধা ঘণ্টা আগে সমন্বয় করে নেবেন। কতটা কমাবেন, তা চিকিৎসক বলে দেবেন।

    * দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে এ রকম কিছু ইনসুলিন এখন পাওয়া যায়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব ইনসুলিন দিনে একবার নিতে পারেন। এসবে হঠাৎ সুগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

    গর্ভাবস্থা

    গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস রোজা না রাখাই শ্রেয়। কেননা ওই সময় মায়ের গর্ভে অনাগত শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয় বলে এ সময় মায়ের শরীরে সঠিক মাত্রায় ও নির্দিষ্ট পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও পানি ইত্যাদি সরবরাহ করা জরুরি।

    এ সময় শিশুর জন্য দরকারি কোনো কিছুর অভাব ঘটলে পরবর্তী জীবনে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ সময় অনেকের বমি বমি ভাব থাকে বা বমি হয়, মাথা ঘুরায়, অনেকে খেতে পারেন না, ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই এ তিন মাস রোজা না রাখাই উচিত।

    * গর্ভকালীন মধ্যবর্তী তিন মাসে গর্ভবতী মায়েরা একটু ভালো বোধ করেন এবং এ সময় গর্ভস্থ বাচ্চার শারীরিক গঠনও তৈরি হয়ে যায়। এ সময় গর্ভবতী মা ইচ্ছা করলে রোজা রাখতে পারেন, যদি অন্য কোনো সমস্যা না থাকে।

    * শেষের তিন মাস একজন গর্ভবতীকে বেশ সতর্ক হয়ে চলতে হয়। এ সময় বাচ্চা দ্রুত বাড়ে। তাই দু’জনের পুষ্টি নিশ্চিত করতে গর্ভবতীকে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে জোর দিতে হয়। তাই এ সময় রোজা না রাখাই শ্রেয়।

    * এ ছাড়া যারা হাইরিস্ক প্রেগন্যান্সি বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ করা অবস্থায় রয়েছেন, যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে, তারা রোজা না রাখলেই ভালো করবেন।

    হৃদরোগ

    জটিল বা ঝুঁকিপূর্ণ হৃদরোগী ছাড়া অন্য হৃদরোগীদের জন্য রোজা বেশ উপকারী। এ সময় নিয়ম মেনে চলা হয় বলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেই থাকে। হৃদরোগীদের জন্য পরামর্শ হলো-

    * প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তিরা অনায়াসেই রোজা রাখতে পারেন, বয়োবৃদ্ধ হৃদরোগীদের রোজা না রাখাই উত্তম। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ্ব হার্টের রোগী, যারা বেশি দুর্বল, তারা দীর্ঘ সময় অনাহারে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন বলে তাদের রোজা রাখা অনুচিত। পাশাপাশি হার্ট ফেইলিওর রোগীদের রোজা রাখা উচিত নয়।

    * আনকন্ট্রোল্ড অ্যানজাইনা বা নিয়মিত বুকের ব্যথা থাকে যাদের, তাদের তিন বেলা ওষুধ খেতে হয় বলে রোজা না রাখাই উচিত।

    * হৃদরোগীদের রোজা রাখা অবস্থায় যদি খুব বেশি খারাপ অনুভব হয়, দ্রুত রোজা ভেঙে ওষুধ খাওয়া উচিত।

    কিডনি রোগ

    কিডনি রোগে আক্রান্তরা রোজা রাখতে পারবেন না- এমন কথা নেই। আকস্মিক কিডনি বিকল রোগে আক্রান্তরা এবং এন্ড স্টেজ রেনাল ফেইলিওর বা শেষ স্তরের কিডনি রোগীদের রোজা রাখা উচিত নয়। বরং রোগ নিরাময় হওয়ার পর রোজা রাখা যাবে।

    * রক্তের ক্রিয়েটিনিন ৩০ শতাংশ বেড়ে গেলে, পটাসিয়াম বেড়ে গেলে রোজা রাখা ঠিক হবে না।

    * যাদের কিডনি ফেইলিওরের মাত্রা শেষ পর্যায়ে, তাদের পক্ষে রোজা রাখা উচিত নয়।

    * কিডনির পাথরজনিত রোগে যারা ভুগছেন, তারা রোজা রাখার সময় পুরো রমজান মাসে অবশ্যই বেশি বেশি পানি পান করবেন।

    * ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগীদের রোজা রাখার প্রয়োজন নেই।

    অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট

    রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। তবে রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার নেওয়া যাবে কিনা, এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেননা ওষুধ সরাসরি রক্তে মিশে গেলে রোজা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সঠিক নিয়মে ইনহেলার নিলে রক্তে ওষুধ মিশতে পারে না বা নগণ্য পরিমাণ মিশতে পারে। এ জন্য সেহরি ও ইফতারের সময় ইনহেলার নিলে ভালো হয়। হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে চিকিৎসা দিতে হবে।

    কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্য

    রোজার সময় কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। এর কারণ- পানিশূন্যতা ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া। এ জন্য বেশি করে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে ইফতারের সময় বা পরবর্তী সময় ইসবগুলের ভুসি, লাল আটা ও ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতে পারলে ভালো উপকার মেলে। এর পরও সমস্যা থাকলে ল্যাক্সাটিভ ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

    লেখক: সাবেক ডিন (মেডিসিন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

    এবিএনএ : ১৪৪২ হিজরি সালের পবিত্র রমজান মাসের সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। এটি ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা অফিস থেকে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা আলাদা সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।রবিবার প্রকাশিত ওই সময়সূচি অনুযায়ী চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল বুধবার থেকে রমজান শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল সেহেরির শেষ সময় ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিট। আর ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিট। সে হিসেবে এবার রোজা পালন করতে হবে ১৪ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়। প্রকাশিত সময়সূচিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুহাদ্দিস ওয়ালিউর রহমান খান আজহারি, মুফাসসির ড. মাওলানা আবু সালেহ পাটওয়ারী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মো. আনিছুর রহমান সরকারের স্বাক্ষর রয়েছে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডারে সেহেরির শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে সুবহে সাদিকের তিন মিনিট পূর্বে ধরা হয়েছে। ফজরের ওয়াক্তের শুরু সুবহে সাদিকের তিন মিনিট পর রাখা হয়েছে। অতএব সেহেরির সতর্কতামূলক শেষ সময়ের ছয় মিনিট পর ফজরের আজান দিতে হবে। আর সূর্যাস্তের পর সতর্কতামূলকভাবে তিন মিনিট বাড়িয়ে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • চাঁদ দেখা যায়নি, শবেবরাত ২৯ মার্চ

    চাঁদ দেখা যায়নি, শবেবরাত ২৯ মার্চ

    এবিএনএ : রোববার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য সোমবার (১৫ মার্চ) রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৯ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। রোববার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম।

    শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবেবরাত পালিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৯ মার্চ (সোমবার) দিবাগত রাতই শবেবরাতের রাত। শবে বরাতের পরদিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। এবার এ ছুটি পড়েছে ৩০ মার্চ (মঙ্গলবার)।

    শাবান মাস শেষেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আনন্দ বারতা নিয়ে শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজান। ‘ভাগ্য রজনী’ হিসেবে পরিচিত লাইলাতুল বরাতের পুণ্যময় রাতটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন।

  • পবিত্র শবে মেরাজ ১১ মার্চ

    পবিত্র শবে মেরাজ ১১ মার্চ

    এবিএনএ : বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার কোথাও ১৪৪২ হিজরি সালের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল শনিবার পবিত্র জমাদিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা করা হবে। এর প্রেক্ষিতে আগামী ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজান-উল-আলম, ওয়াকফ প্রশাসক আবদুল্লাহ সাজ্জাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ (অতিরিক্ত দায়িত্ব), মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুব আলম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও আবু মোহাম্মদ, মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচ জামাত

    বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচ জামাত

    এবিএনএ : করোনা ভাইরাসের কারণে এবার জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত হচ্ছে না। তবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

    সকাল ৮টায় হবে দ্বিতীয় জামাত। এ জামাতের ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী।

    তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। এরপর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ জামাত। এ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম।

    পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে এবার কিছু শর্ত সাপেক্ষে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

    মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানো, জায়নামাজ বাসা থেকে নিয়ে আসা, নামাজ শেষে কোলাকুলি ও হাত না মেলাতে বলা হয়েছে।

  • লাইলাতুল ক্বদর-এ করণীয়

    লাইলাতুল ক্বদর-এ করণীয়

    লাইলাতুল ক্বদর অর্থ ভাগ্য রজনী। লাইল শব্দের অর্থ রাত বা রজনী। ক্বদর শব্দের অর্থ ভাগ্য। আমাদের দেশে এটি শব-ই-ক্বদর হিসেবে পরিচিত। এটি ফারসী এবং আরবী শব্দ। শব ফারসী শব্দ এবং ক্বদর আরবী শব্দ। সুতরাং এদিক থেকে ও শব-ই-ক্বদর অর্থ ভাগ্য রজনী। পবিত্র কুরআনে ক্বদর বিষয়ে অনেক উদ্বৃতি আছে। আল্লাহ তা’আলা ক্বদর নামে একটি সুরা নাযিল করেছেন। সেখানে তিনি প্রথমে ক্বদরের রাতে কুরআন নাযিলের কথা ঘোষনা করেছেন। এরপর তিনি ক্বদরের রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম ঘোষনা করেছেন। এবং সে রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্ত এবং শাস্তি ও কল্যাণসহ জিবরাইল (আঃ) ও ফেরেশতা প্রেরনের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে তিনি ক্বদরের রাতের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
    আরবী, বাংলা, ইংরেজী অভিধানে ভাগ্যের নানারকম অর্থ ও সংজ্ঞা দেয়া আছে। যেমন অদৃষ্ট নসিব কপাল নিয়তি পরিণতি দৈব ইত্যাদি।

    ক্বদরের অর্থ ভাগ্য উন্নয়ন। এই অর্থে লাইলাতুল ক্বদর অর্থ ভাগ্যোন্নয়নের রাত। এ ভাগ্যোন্নয়নের অর্থ এ নয় যে এ রাত্রে যত বেশী নফল ইবাদত করা যাবে ততোই আল্লাহ এক বছরের জন্যে তারভাগ্যে এমন অনেক কিছু লিখে দিবেন যার দ্বারা তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং সে ধনী মালদার এমন একটা কিছু হয়ে যাবে এবং এক বছরের মধ্যে তার কোন রোগ ব্যাধি হবে না। এইরূপ চিন্তা করা ইসলামী আক্বীদার খেলাপ। মুলকথা হচ্ছে এই যে কারো ব্যক্তি বিশেষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বা ব্যক্তিগত জীবনের ভাগ্যের উন্নতি হবে; এটা নয়, ভাগ্যের উন্নতি হবে গোটা মানব জাতির। অর্থাৎ যে রাত্রে কুরআন নাযিল হয় ঐ রাতটা হচ্ছে কুরআন নাযিল পরবর্তী দুনিয়াবাসীদের জন্যে এক ভাগ্য উন্নয়নের রাত। এর মূল অর্থ হলো ভাগ্য উন্নয়নের জন্যে জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যার এবং চিকিৎসাও কারিগরী বিদ্যার যে প্রভৃত উন্নতি সাধন দরকার তার সবকিছুর উৎস রয়েছে যে কুরআনে সেই কুরআন নাযিল হওয়ার রাতটাই হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। অর্থাৎ ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে যা যা দরকার তার সবকিছুই অর্থাৎ তার জ্ঞানের সবকিছুর উৎসই নাযিল হলো এ রাত্রে। ঐ প্রসঙ্গে এ সুরার ঐ কথাটিার দিকে লক্ষ্য করে চিন্তা করতে পারি যে আল্লাহ কেন বললেন-

    (ওমা- আদ্রকা মা-লাইলাতুল ক্বর্দ)
    অর্থাৎ-”তুমি কি জান লাইলাতুল ক্বদর কী ?
    কারণ এখনই তা জানবার কথা নয়, এ রাত্রে যে কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হলো বা লওহে মাহ্ফুজ থেকে আল কুরআনকে পৃথিবীতে নাযিল করার স্থানান্তর করা হলো, তা পুরোপুরি নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তোমাদের তা জানবার কথা নয়। যখন সম্পূর্ন কুরআন নাযিল হয়ে যাবে এবং আল কুরআন থেকে বিজ্ঞানের এক একটা উৎস বের করে নতুন নতুন এমন জিনিস আবিষ্কার হবে যাতে পৃৃথিবীর ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, তখন বুঝবে ক্বদরের আসল-ব্যাখ্যা।

    সুরা ক্বদরে বলা হয়েছে-
    (লাইলাতুল ক্বদরী খয়রুম মীন আলফি শাহ্র)
    অর্থাৎ হাজার রাতের চাইতে উত্তম এ ক্বদরের রাত।

    এর অর্থ এই নয় যে এই রাতে ইবাদত করলে ১ হাজার মাসের রাত অর্থাৎ ১০০০ ী ৩০ = ৩০০০০ দিন। কাজেই এক রাতের সওয়াব হবে ৩০ হাজার রাতের ইবাদতের সমান। এর মূল অর্থ হলো এ রাতে তোমাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে আল কুরআনের মাধ্যমে তোমাদেরকে আল্লাহ যা দান করেছেন তা বিগত যুগের হাজার হাজার রাতেও মানব জাতিকে দেয়া হয় নি, অর্থাৎ কুরআন নাযিল হওয়ার রাতে তোমরা যা পেলে বিগত দিনের মধ্যে কত হাজার মাস গুজরে গেছে, যে মাসের মধ্যে এরূপ একটা রাত কখনো আসেনি যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল।এইটাই মূল ভাবার্থ। এরপর এ মূল ভাবার্থ এ রাত্রে যেমন কাজের হুকুম পেলে তা একবার মেনে দেখ তাহলে দেখতে পাবে আল-কুরআনের প্রত্যেকটি নির্দেশ মানার মধ্যেই রয়েছে শান্তি আর শান্তি। আর কুরআনী নির্দেশ থেকে তোমরা যতই সরে পড়বে ততই দেখবে অশান্তি আর অশান্তি। শান্তির লেশ মাত্রও পাবে না। কথাগুলো কাঁটায় কাঁটায় সত্য। এটা কি মানব জাতির ভাগ্যোন্নয়নের ব্যাপার নয় ?
    রমযান মাসে ক্বদরের রাত্রির উপস্থিতি মানবজাতিকে ভাগ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে। তার ভবিষ্যত তার চুড়ান্ত পরিণতি সম্বন্ধে আগ্রহী করে তোলে। সব হতাশার দোলাচল অতিক্রম করে সৌভাগ্যবানদের কাতারে সামিল হওয়ার স্বপ্ন দেখায়।

    * ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।
    * ক্বদরের রাত অত্যন্ত মুবারক ও বরকতময়।
    * ক্বদরের রাতই ভাগ্য রজনী।
    * ক্বদরের রাতে ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়।
    * ক্বদরের রাত সালাম ও শান্তির রাত।
    * ক্বদরের রাত নামায আদায় ও গুনাহ মাফের রাত।

    বিশেষ কোন মাস বা রাতকে ভাগ্য পরিবর্তনের উৎস মনে করা উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। কুরআন গ্রহণ ও ত্যাগের সঙ্গে ভাগ্যের সম্পর্ক। শক্তভাবে কুরআন ধরার মাধ্যমে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া সম্ভব। কুরআন বাদ দিয়ে অন্য কোন উপায়ে কেউ কখনও ভাগ্যবানদের দলভূক্ত হতে পারে না।

    লাইলাতুল ক্বদরে করণীয় ঃ

    • ভাগ্য সম্পর্কে বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনাকে সঠিক স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ করুন।
    • ভাগ্যের উপরে অন্ধভাবে নির্ভর করে কর্মহীনতার ধারণাকে প্রশ্রয় দিবেন না।
    • সৌভাগ্যবানদের উদাহরণ অনুসরণ করুন।
    • দুর্ভাগাদের পথ মতকে অগ্রাহ্য করুন।
    • ভাগ্য গণনার নানাবিধ প্রচলিত পন্থাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করুন।
    • গোটা রমযানকে ভাগ্যোন্নয়নের উৎস বানিয়ে ফেলুন। কোনক্রমেই শুধু ২৭ রমযানকে ভাগ্যরজনী হিসেবে সীমাবদ্ধ করবেন না।
    • অন্তত ঃ রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে ক্বদর অনুসন্ধানের চেষ্টা করুন।
    • কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই ভাগ্য জানা ও নিয়ন্ত্রনের মালিক মনে করুন। আর অন্য কাউকে এ অধিকার দিবেন না।
    • অন্যায় ও অবৈধভাবে সম্পদ সুনাম ও ক্ষমতা লাভকারীদেরকে কখনও ভাগ্যবান মনে করবেন না।
    • সৎ ও ন্যায়পরায়ণদের বাহ্যিকভাবে দুর্বল দরিদ্র ও অক্ষম দেখে হতভাগা মনে করবেন না।
    • আল কুরআন পরিপূর্ণ অনুসরনে সৌভাগ্য জড়িত এই ধারণা শাণিত করুন।

    লাইলাতুল ক্বদরে নিন্মোক্ত দু’আটি করা সুন্নাত

    ”আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী”
    হে আল্লাহ ! আপনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু, ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন; অতএব, আমার গুনাহ সমূহ মাফ করে দিন।(আহমদ, তিরমিযি, ইবন মাজাহ)

    হে আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর রাতের মহত্ত্ব বুঝার তৌফিক দান করুন । আমিন

    লেখক- তারেক বিন হাম্জা