Category: ধর্ম

  • বাগেরহাটে সরস্বতী পূজাউপলক্ষে প্রতিমা বিক্রির হাট

    বাগেরহাটে সরস্বতী পূজাউপলক্ষে প্রতিমা বিক্রির হাট

    এবিএনএ : সরস্বতী পূজা উপলক্ষে বাগেরহাটে প্রতিমা বিক্রির হাট বসেছে। সেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে প্রতিমা বিক্রি। বাগেরহাট শহরের বণিক পট্টি এলাকায় শ্রী শ্রী রাধেশ্যাম মন্দির চত্বরের এই হাটে প্রতিমা কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আসছেন। শনিবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায় ছোট-বড় অসংখ্য প্রতিমা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আগামী সোমবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা পালিত হবে।
    হাটে কথা হয় ব্যবসায়ী পরিতোষ কুমার পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া এলাকা থেকে তৈরিকৃত প্রতিমা বাগেরহাটের বাজারে নিয়ে এসেছেন। ৩০০ প্রতিমার মধ্যে অর্ধেকের বেশি বিক্রি হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার ও সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী মুকুল কুমার পাল বলেন, পাঁচ শতাধিক প্রতিমা নিয়ে এসেছিলেন বাগেরহাটে। তার অধিকাংশ প্রতিমা বিক্রি হয়ে গেছে।
    বাগেরহাট সদর উপজেলার বাঘমারা গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন হাট থেকে প্রতিমা ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে পূজা অর্চনা করেন। তবে এবার বাগেরহাট শহরের বাজারে এসে দেখছেন- আকর্ষণীয় প্রতিমা তৈরি করেছেন কারিগররা। তিনি মুগ্ধ হয়েছেন এত সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর প্রতিমা দেখে। তিনি বাড়িতে পূজা করার জন্য একটি প্রতিমা ক্রয় করেছেন। দাসপাড়া এলাকার পপি চক্রবর্তী বলেন, হাটে এসে প্রতিমা দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি।
    হিন্দু ধর্ম মতে, বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতী। বিদ্যার্জন ও সঙ্গীতে পাণ্ডিত্য  অর্জনের জন্য শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা করা হয়। ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে এই দিন শিশুদের হাতেখড়ি, ব্রাক্ষ্মণভোজন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপে পূজা অর্চনা করা হয়।

  • দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত সকাল সাড়ে ১০টায়

    দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত সকাল সাড়ে ১০টায়

    এবিএনএ : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া ইজতেমায় দুদিন ধরে বয়ান চলছে। দ্বিতীয় পর্বে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম হলেও ইজতেমা মাঠের চারপাশে ধুলায় নাকাল মুসল্লিরা। তারপরও যে যার অবস্থানে থেকে আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করেছেন।

    আজ বাদ ফজরের বয়ান দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় দিন। বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে এ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। ইজতেমায় অংশ নেওয়া কয়েক লাখ মুসল্লি শামিয়ানার নিচে অবস্থান করে ইসলামের আমল, আকিদা ও করণীয় বিষয়ে বয়ান শুনছেন।

    ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা বলেন, আল্লাহ যেন আমাদের দেশকে, মুসলিম জাতিকে রহমত দান করেন। ঈমান আমল বোঝার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে। মুসল্লিদের অনেকেই আগামীতে চিল্লায় যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। এ ছাড়া ইজতেমার আয়োজন নিয়েও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সাত হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা আখেরি মোনাজাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকবে। রবিবার ভোর থেকে শুরু করে মোনাজাত শেষ হওয়া পর্যন্ত এয়ারপোর্ট থেকে জয়দবেপুর চৌরাস্তা এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাস পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

  • আমবয়ানে শুরু বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

    আমবয়ানে শুরু বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

    এবিএনএ : আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখর কহর দরিয়া খ্যাত টঙ্গীর তুরাগপাড়ের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। আজ বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে চলছে ইমান ও আখলাকের উপর বয়ান।

    বাদ ফজর বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক হোসেনের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুুষ্ঠানিকতা। এরপর বাদ জুমা বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের। ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আজ প্রথম দিন। লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে কাটাচ্ছেন। প্রথম পর্বের তুলনায় এ পর্বে শীতের প্রকোপ একটু কম থাকায় মুসল্লিদের ইজতেমা ময়দানে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। এ পর্বেও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    এছাড়া অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারি সকল দফতর সার্বক্ষণিক ভাবে মুসল্লিদের সেবা দানে ব্যস্ত সময় পার করছে।

  • ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না মাওলানা সাদ: ডিএমপি

    ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না মাওলানা সাদ: ডিএমপি

    এবিএনএ : ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়ার প্রতিবাদে বিমানবন্দরের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয়। তাবলিগ জামাতের একটি অংশ সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। এতে বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
    মাওলানা সাদ কান্ধলভির বাংলাদেশে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকাল থেকে বিমানবন্দর এলাকায় তাবলিগ জামাতের সদস্যরা জড়ো হতে থাকে।
    ভারতীয় উপমহাদেশে তাবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্রে বা মারকাজ দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় ওই পর্ষদকে বলা হয় নেজামউদ্দিন, যার ১৩ জন শুরা সদস্যের মাধ্যমেই উপমহাদেশে তাবলিগ জামাত পরিচালিত হয়। এই পর্ষদের সদস্য মাওলানা সাদ সম্প্রতি নিজেকে তাবলিগের আমির দাবি করে বসেন। ফলে তার বাংলাদেশে আসা নিয়ে দেশে তাবলিগের মূল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
  • মাওলানা সাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

    মাওলানা সাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

    এবিএনএ : ভারতের তাবলীগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের একাংশ ও আলেমরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সাদ বিরোধীদের সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।সমাবেশে কওমী আলেম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজসিলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘মাওলানা সাদকে ইজতেমায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে। ইজতেমা নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের নির্মূল করা হবে।

    তাবলিগের জিম্মাদার মাওলানা লোকমান বলেন, ‘মাওলানা সাদের উপস্থিতিতে কোনও ইজতেমা হবে না। পুলিশ যদি আমাদের বাধা দেয়, তাহলে ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে। যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তবে তার দায় সাদকে নিতে হবে’।এর আগে দুপুর ১২টা থেকে সাদ বিরোধীরা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জড়ো হতে শুরু করেন। সমাবেশে অংশ নেন কওমীপন্থী আলেম ও তাবলিগ জামাতের একাংশ।প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টায় মাওলানা সাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে আগে থেকেই তার বিপক্ষের মুসল্লিরা বিমানবন্দরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করায় তিনি বের হতে পারেননি। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তাকে কাকরাইল মসজিদে নেওয়া হয়। তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তায় এখন তিনি সেখানেই রয়েছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হবে মুসলমানরা

    যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হবে মুসলমানরা

    এবিএনএ : যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪০ সালের মধ্যে মুসলমানরা হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী। তবে তখনো খ্রিস্টানরা সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থান ধরে রাখবে। সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টার এক গবেষণায় এ ধরনের ফলাফল দেখিয়েছে।

    ২০১৭ সালের শেষের দিকের পরিসংখ্যান অনুসারে সেখানে বসবাস করেন তিন দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মুসলমান। যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার এক দশমিক এক শতাংশ। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, মুসলিম জনসংখ্যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে তুলনায় খ্রিস্টানদের জনসংখ্যা বাড়ছে না। ২০৪০ সাল নাগাদ মুসলিম জনসংখ্যা আট দশমিক এক মিলিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে তা মোট জনসংখ্যার দুই দশমিক এক শতাংশ হয়ে যাবে। পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, প্রতিবছর এক লাখ মুসলমানের সংখ্যা যোগ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

    ২০১০ সালে খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল যেখানে এক দশমিক আট, ২০১৫ সালে এসেও তা অপরিবর্তিত ছিল। তবে শূন্য দশমিক ছয় থেকে শূন্য দশমিক সাতে উঠে আসে হিন্দুর সংখ্যা। অন্যদিকে মুসলমানের সংখ্যা শূন্য দশমিক নয় শতাংশ থেকে এক দশমিক শূন্যে উঠে যায় ২০১৫ সালেই। বর্তমানে অারো বেড়েছে সেই সংখ্যা। এভাবে বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালে দুই দশমিক এক হয়ে যাবে হিসাবটা।

  • পোশাক পরিধানে প্রিয় নবীর নির্দেশনা

    পোশাক পরিধানে প্রিয় নবীর নির্দেশনা

    এবিএনএ : মানুষ ছাড়া যত সৃষ্টি আছে, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য পোশাকের একটি কুদরতি ব্যবস্থা রেখেছেন। উদ্ভিদের জন্য ছাল-বাকল তার পোশাক। প্রাণীদের জন্য চামড়া ও চামড়ার ওপরের পশম তাদের পোশাক। যেসব প্রাণী ঠাণ্ডায় বাস করে, তাদের চামড়া এ পরিমাণ মোটা ও পশমবিশিষ্ট হয় যে তাদের দেহের হেফাজত হয়ে যায়। আর যেসব প্রাণী উষ্ণ এলাকায় বাস করে, তাদের পশম কম হয়ে থাকে। কুদরতিভাবে তাদের মধ্যে গরম সহ্য করা এবং উষ্ণ ভূমিতে বিচরণ করার যোগ্যতা বেশি থাকে।

    মহান আল্লাহ মানুষের দেহে যে চামড়া দিয়েছেন, তা নরম হলেও বহিরাগত অনেক প্রভাব গ্রহণ করতে সক্ষম। তারা সাধারণত ঘন পশমমুক্ত। তাই পোশাকের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী।

    পোশাক পাঁচ ধরনের

    (১) ফরজ পোশাক : এমন পোশাক, যা দ্বারা সতর ঢেকে যায়।

    (২) মুস্তাহাব পোশাক : এমন পোশাক, যা রাসুল (সা.)-এর পোশাকের মতো বা তাঁর পোশাকের খুব কাছাকাছি অথবা সমকালীন নেককার লোকদের পোশাকের মতো হয়।

    (৩) মুবাহ ও জায়েজ পোশাক : এমন পোশাক, যার মধ্যে শরিয়তের সীমানার ভেতর থেকে সৌন্দর্যের প্রতি খেয়াল রাখা হয়।

    (৪) মাকরুহ পোশাক : এমন পোশাক, যা পরিধান করার দ্বারা পরিধানকারীর অহংকার, প্রসিদ্ধি বা অন্যকে ছোট করা উদ্দেশ্য হয়।

    (৫) হারাম পোশাক : পুরুষ মহিলার মতো এবং মহিলা পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করা হারাম পোশাকের অন্তর্ভুক্ত। নাবালেগ ছেলে-মেয়ের বেলায়ও এ মাসআলা প্রযোজ্য। তবে যে এলাকায় নারী ও পুরুষের পোশাকের খুব বেশি পার্থক্য থাকে না, সেখানে পোশাক এক হওয়া হারামের মধ্যে গণ্য হবে না। তাদের পোশাকের মধ্যে পার্থক্য হবে হিজাব বা টুপি ইত্যাদি দ্বারা। (ফাতাওয়া শামি : ৫/২২৩, ফাতহুল বারি : ১০/৩৪৫, বুখারি : ২/৮৭৪, ইবনে মাজাহ : ১/৩৪৮, ২/২৯৯, নাইলুল আউতার : ৬/১২৬)

    পুরুষ ও নারীর কাপড় পরিধানের উদ্দেশ্য সতর ঢাকা। যে কাপড় দ্বারা এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না, তা পরাও জায়েজ নয়। এমনিভাবে মুসলমানের জন্য অমুসলমানের ধর্মীয় পোশাক পরিধান করা নাজায়েজ। যেমন—হিন্দুদের মতো ধুতি ও গলায় পৈতা পরা, কপালে সিঁদুর বা চন্দন লাগানো, বৌদ্ধদের মতো গেরুয়া পোশাক পরিধান করা, খ্রিস্টানদের মতো ক্রুশ বা ক্রুশের বিকল্প কিছু পরিধান করা ইত্যাদি। প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় পরিধান করা নিষিদ্ধ। পুরুষের জন্য অহংকারবশত টাখনুর নিচে জামা-পায়জামা পরিধান করা মাকরুহে তাহরিমি। অহংকারের নিয়ত না থাকলে মাকরুহে তানজিহি। জখম ইত্যাদি ওজরের কারণে টাখনুর নিচে কাপড় পরা জায়েজ। মহিলাদের জন্য পূর্ণ পা ঢেকে মাটি পর্যন্ত কাপড় ঝুলিয়ে পরা উত্তম। টুপি পরিধান করা সুন্নত। রাসুল (সা.) সাদা টুপি বেশি পরিধান করতেন। টুপি গোল, লম্বা বা পাঁচকল্লি—যেকোনোটাই হতে পারে। নামাজ বা নামাজের বাইরে পাগড়ি পরিধান করা সুন্নত। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ৫/৩৩৩, আবু দাউদ : ২/২০৩, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৫/১২১)

    বর্তমানে কোট, প্যান্ট, শার্ট মুসলমান-অমুসলমান-নির্বিশেষে সর্বস্তরের কর্মজীবী মানুষের পোশাকে পরিণত হয়েছে। এগুলো এখন বিশেষ কোনো ধর্মের পোশাক নয়। তাই এগুলো পরিধান করা নাজায়েজ হবে না। তবে এগুলো নেককার লোকদের পোশাক নয় বিধায় অনুত্তম নিঃসন্দেহে। পুরুষের জন্য সোনার আংটি বা চেইন পরিধান করা হারাম। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৬০, ফিকহে হানাফি কে উসুল ওয়া জাওয়াবেত)

    কাপড় পরিধানের কয়েকটি সুন্নত

    (১) জামা-পায়জামা, কামিজসহ সব ধরনের পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো।

    (২) পুরুষের জন্য পায়জামা, লুঙ্গি ও জামা, জুব্বা ও আবা-কাবা টাখনুর ওপরে রাখা।

    (৩) সাধারণ কাপড় পরিধানের সময় এই দোয়া পড়া : ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি হাজা, ওয়া রাজাকানিহি মিন গাইরি হাউলিম মিন্নি ওয়া লা কুওয়াহ্।’ আর নতুন কাপড় পরিধানের সময় এই দোয়া পড়া : ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উওয়ারি বিহি আউরাতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি।’

    (৪) বিসমিল্লাহ বলে কাপড় খোলা শুরু করা এবং খোলার সময় বাঁ হাত ও বাঁ পা আগে বের করা।

    (৫) জুতা প্রথমে ডান পায়ে, তারপর বাঁ পায়ে পরা এবং খোলার সময় প্রথমে বাঁ পা, তারপর ডান পা থেকে খোলা।

    (৬) নতুন কাপড় ক্রয় করলে পুরনো কাপড় গরিবদের দিয়ে দেওয়া উত্তম। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৮৪, ৫৮৫৫, তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৬০, আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৪১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস : ২৪৯১০, মুসতাদরাক, হাদিস : ৭৪০৯)

    লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

  • পুলিশের বাধায় হেফাজতের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড

    পুলিশের বাধায় হেফাজতের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড

    এবিএনএ : পুলিশের বাধায় মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে হেফাজত ইসলামের। আজ বুধবার হেফাজতের মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।এ সময় হেফাজত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে রওয়ানা দেন।

    অন্য সদস্যরা হলেন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মাওলানা মাহাফুজুল হক, মাওলানা মুজিবুল রহমান হামিদী, ড. আহমেদ আব্দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম কাশেমী।এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলমানদের পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে হেফাজতের সমাবেশ শুরু হয়।মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের মুসলমানরা রাজপথে থাকবে।তারা বলেন, এই ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প গোটা পৃথিবীতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমরা বিশ্ব মুসলিম নেতাদের হুমুকের অপেক্ষায় আছি। আমরা কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।সমাবেশ শেষে দুপুর ১২ টায় মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও উপলক্ষে মিছিল নিয়ে বের হয় হেফাজত। মিছিলটি দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে শান্তিনগর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশি বাধা পণ্ড হয় তাদের ঘেরাও কর্মসূচি।

  • বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি

    বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি

    এবিএনএ : টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১২ জানুয়ারি শুরু হবে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা।
    সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ইজতেমা-২০১৮ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে। আগামী ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি হবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা।
    তিনি বলেন, ইজতেমার সময় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশিদের জন্য আর্চওয়েসহ বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।
    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব  ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর উৎসব

    মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর উৎসব

    এবিএনএ : শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিনে মন্দিরে মন্দিরে চলছে সিঁদুর উৎসব। বিদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর দশমীতে এই উৎসব আয়োজন করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের আগে লগ্ন অনুযায়ী এই উৎসব পালন করা হয়।

    রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুপুর থেকে শুরু এই উৎসব। ছোট থেকে বড় সবাই সিঁদুর উৎসব উদযাপন করে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত। সিঁদুর উৎসবকে কেন্দ্র করব ঢাকেশ্বরীতে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    সন্তানকে নিয়ে সিঁদুর দিতে এসেছেন শাঁখারিবাজার থেকে সপ্না অধিকারী। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মঙ্গলের পূজারি হল সিঁদুর। এটা সবার মধ্যে মঙ্গল বয়ে আনে।’ এদিকে আজ বেলা ৩টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিসর্জনের জনন্য দুর্গাদেবীকে বুরিগঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হবে।