Category: ধর্ম

  • যেসব কাজে রোজায় কাজা ও কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব

    যেসব কাজে রোজায় কাজা ও কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব

    এবিএনএ : মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা রমজান মাস পাবে তারা যেন রোজা রাখে।’ এ রোজা শুধু মুসলমানদের ওপর নয় পূর্ববর্তী নবি-রাসুলদের ওপরও ফরজ ছিল। কুরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর; যেন তোমরা তাকওয়া বা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩) রোজা রাখতে অপারগ ব্যক্তির জন্য শর্ত সাপেক্ষে অব্যহতির সুযোগ রয়েছে। তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলবে বা নষ্ট করবে; তাদের জন্য রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে।

    >> দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস

    রোজা রেখে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করলে; চাই তাতে বীর্যপাত হোক আর না হোক। সে ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর কাযা ও কাফফারা আবশ্যক হবে। হাদিসে এসেছে-

    – ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি রোজা রেখে স্ত্রী সহবাস করেছি। বিশ্বনবি তার উপর কাফফারা আবশ্যক করেছিলেন। (বুখারি, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

    – মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘বিশ্বনবি ঐ ব্যক্তিকে (যে স্ত্রী-সহবাসে লিপ্ত হয়েছিল) কাফফারা আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে কাযা আদায়েরও আদেশ করেছিলেন।’ (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক) তবে রোজার মাসে রাতের বেলায় স্ত্রী সহবাসে কোনো বাঁধা নেই। আর তাতে রোজার কোনো ক্ষতিও হবে না।

    ইসলামি শরিয়তের ওজর ব্যতিত দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু পানাহার করলে ওই ব্যক্তির ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করা আবশ্যক।

    – এক ব্যক্তি রমজানে রোজা রেখে (ইচ্ছাকৃতভাবে) পানাহার করলো। বিশ্বনবি তাকে আদেশ করলেন, ‘সে যেন একজন দাস আযাদ করে দেয় অথবা দুই মাস (একাধারে) রোজা রাখে কিংবা ৬০জন মিসকিনকে (এক বেলা) খাবার খাওয়ায়।’ (দারাকুতনি)

    – ইমাম জুহরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘রমজানে রোজা রেখে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করবে; তার হুকুম ইচ্ছাকৃতভাবে দিনে সহবাসকারীর অনুরূপ।’ অর্থাৎ তাকে কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে।

    >> ধূমপান

    বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং এ কাজে কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে।

    >> সাহরির শেষ সময় জেনেও যারা পানাহার করে

    সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও আজান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে খাওয়া দাওয়া করে অথবা স্ত্রী সহবাসে মিলিত হয়। এতে ওই ব্যক্তির রোজা বিশুদ্ধ হবে না। আর যদি কেউ রোজার নিয়ত করার পর এমনটি করে থাকে তবে তাদের জন্য কাযা-কাফফারা দুটোই জরুরি হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘রোজার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোষক এবং তোমরা তাদের পোষাক। আল্লাহ জানতেন, তোমরা আত্ম প্রতারণা করছ। তাই তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। অতএব তোমরা তোমাদের পত্নীদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা (সন্তান) লিখে রেখেছেন, তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর; যতক্ষণ সকালের কালো রেখা থেকে সাদা রেখা প্রকাশ হয়, তৎপর রোজাকে রাত পর্যন্ত পূর্ণ কর এবং তোমরা মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায়ও স্ত্রী সহবাস করো না। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং এ সবের ধারে কাছেও যেও না। এভাবে আল্লাহ মানব জাতির জন্য নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করে থাকেন; হয়তো তরা পরহেজগারী অবলম্বন করবে। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭) আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়গুলো জেনে রোজার হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। কোনো কারণে রোজা ভেঙে গেলে তা কাজা ও কাফফার আদায় করার তাওফিক দান করুন। কুরআনের বিধান যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেভাবে কাটাবেন রমজান

    যেভাবে কাটাবেন রমজান

    মুমিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমার মহান বারতা নিয়ে সমহিমায় হাজির হয়েছে পবিত্র রমজান। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের প্রতিদান যেমন বহুগুণে বেড়ে যায় তেমনি সব পাপ ছেড়ে দিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজাবার সুযোগও এনে দেয় রমজান। কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলোকে ‘না’ বলে সেগুলো ত্যাগ করা এবং নির্দেশিত বিষয়গুলোর চর্চার প্রশিক্ষণরও এক মহাসুযোগ রমজান। এ রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমা ও সৌভাগ্য অর্জনে নিম্নের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে :

    হক আদায় করে রোজা রাখা : রমজানের মূল ফরজই হলো রোজা। মহান আল্লাহ বলেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সুরা বাকারা : আয়াত : ১৮৫)। রোজা শুধু পানাহার এবং স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাই নয় বরং সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ এবং সব ধরণের গুনাহ থেকে বিরত থাকা। হাদেসেও এমনটিই এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করতে না পারবে তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লহ তায়ালার কোনো প্রয়োজন নেই। (বোখারি: ৫/২২৫১)।  পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করে এভাবে রোজা রাখলেই তা হবে হক আদায় করে রোজা রাখা। রোজার মাধ্যমে ক্ষমা পেতে হলে সে রোজা হতে হবে পাপমুক্ত। শুধু পানাহার ত্যগ করে গুনাহের কাজ না ছাড়লে তা কিছুতেই রোজা হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পানাহার বর্জনের নাম সিয়াম নয়; সিয়াম হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা এবং কাজ বর্জন করা। (বায়হাকি: ৪/২৭০)। অর্থাৎ রোজার মাধ্যমে পবিত্র কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলো ছেড়ে দেয়ার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। নিজেকে বিরত রাখতে হবে সব ধরণের মিথ্যা ও পাপাচার থেকে। অনেক সময় রোজা রেখেও আড্ডায় বসে আমরা অন্যের গিবত করি। এটিও পরিহার করতে হবে। রমজানে দিনের বেলায় খাবারকে যেমন ‘না’ বলা হয় তেমনি গিবত, পরনিন্দা, সুদ, ঘুষ, সন্ত্রাসসহ সব গুনাহের কাজকেও ‘না’ বলে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ হিসেবে রোজাকে গ্রহণ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। রমজানের প্রথম দিনে আজই আমরা শপথ করি যে গুনাহ করব না।

    তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল্লাইলের ব্যাপারে নবীজি নির্দেশ দিয়েছেন। ‘কিয়ামুল লাইল’ অর্থ রাতের নামাজ। তারাবিহও কিয়ামুল্লাইলেরই অন্তর্ভূক্ত। তবে কিয়ামুল্লাইলের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো তাহাজ্জুদ। রমজানে আমাদেরকে সাহরি খাওয়ার জন্য শেষ রাতে জাগতে হয়। সাহরির সময় সামান্য সময় আগে উঠে সহজেই চাইলে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদের অভ্যাস করে নিতে পারি।

    কোরআন খতম ও তিলাওয়াত : পবিত্র রমজানে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই কোরআন নাজিলের মাস রমজানে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। কারণ রোজা ও কোরআন বান্দাদের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে সুপারিশ করবে। মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে…।’ (আহমাদ : হাদিস ৬৬২৬)। অফিসের  যেতে অনেক সময় জ্যামে পড়ে আমাদের সময় কেটে যায়। এ সময়টুকুও কাজে লাগাতে পারি। এ সময়টুকুও ইবাদতে ব্যবহার করতে মোবাইলে কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন ইসলামিক এ্যাপস চালু করে তা কাজে লাগাতে পারি। রমজানে অফিসের কাজের ফাকে গল্প করে সময় না কাটিয়ে তিলাওয়াত, জিকির, দরূদ শরিফ পড়াসহ বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে সে সময়টাও কাজে লাগানো যেতে পারে। অনেকে রমজান মাসে খতম উঠানোর জন্য খুব তাড়াহুড়ো করে তিলাওয়াত করে। ফলে তিলাওয়াতটা বিশুদ্ধ হয় না। ‘যেভাবেই হোক এক খতম দিতে হবে’ এই ধরণের মানসিকতা পরিহার করে ধীরেসুস্থে তারতীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। আস্তেধীরে পড়ে খতম করার চেষ্টা করতে হবে। নয়তো যতোটুক হয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। পরিমাণের চেয়ে তিলাওয়াতের গুণগতমান বেশি গরুত্বপূর্ণ।

    বেশি বেশি ইসতিগফার করা : ইসতিগফার হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা ক্ষমার দরজা খুলে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরকে সে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। ইফতারির আগ মুহর্তে দুআ কবুল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ইফতারির ব্যবস্থাপনাগত কাজকর্ম আগেভাগে শেষ করে ইফতার সামনে নিয়েই দুআ করতে পারি।

    বেশি বেশি দান করা : রমজানে নবীজি (সা.), সাহাবায়ে কেরাম এবং পূর্ববর্তী বুজুর্গরা বেশি বেশি দান করতেন। প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)  বলেন : ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’ (মুসলিম : হাদিস ৩২০৮)। দান সদকা ক্ষমারও বড় কারণ। দান সদকা করলে আল্লাহ তায়ালার দরবার থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়। আমরা সামান্য কিছু টাকা জমা করে হলেও আমাদের অভাবী প্রতিবেশীর ঘরে সামান্য ইফতার সামগ্রী দিয়ে আসতে পারি। একজন অভাবী মানুষ সারাদিন রোজা রেখে যখন আমাদের দেয়া ইফতার দিয়ে ইফতার করে আনন্দিত হবে তখন সে আনন্দটা শুধু তার ঘইে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সে আনন্দ আল্লাহ তায়ালার আরশে পৌঁছে যাবে। আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে ইফতারদাতাকে সে রোজাদারের রোজার সওয়াবের সমান সওয়াব দান করে ধন্য করবেন।

    জিকির আজকার করা : ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’ এ দুয়াসহমূহ পড়া যেতে পারে। এগুরো ছাড়াও হাদিসে বর্ণিত দুয়া, তাসবিহ ও দরুদ পড়ে সময় কাটানো উচিত।

    ইতিকাফের প্রস্তুতি নেয়া : ইবাদতের বসন্তকাল রমজানের বড় একটি প্রাপ্তি হলো লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর পাওয়ার বড় একটি মাধ্যম হলো ইতিকাফ করা। নবীজি (সা.) ইতিকাফ করতেন। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম : হাদিস ১১৭১)। আল্লহর সান্নিধ্য লাভে লাইলাতুল কদর পেতে রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফের প্রস্তুতি এখন থেকেই নেয়া উচিত।

    ওমরাহ আদায় : সম্পদশীল হলে রমজানে উমরা করা উচিত। রমজানে একটি ওমরা আদায় করলে অন্য মাসে ৭০টি ওমরাহ করার সওয়াব হয়। রমজানের উমরায় হজের সমান সওয়াব। এ প্রসঙ্গে এক বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ আদায় আমার সঙ্গে হজ আদায়ের সমতুল্য।’ (মাজমাউল কাবির : হাদিস ৭২২, জামেউল আহাদিস : হাদিস ১৪৩৭৯)। ওমরাহর নিয়ত করলে রমজানের আগেই কিংবা রমজানের শুরু থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।

    লেখক : কলামিস্ট, গবেষক ও মুফাসসিরে কোরআন

  • চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে রোজা বৃহস্পতিবার

    চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে রোজা বৃহস্পতিবার

    এবিএনএ : সৌদি আরবের আকাশে গতকাল মঙ্গলবার পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজা শুরু হবে। মঙ্গলবার রাতে সৌদি বাদশার উপদেষ্টা তুর্কি আল শেইখ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পরই বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়। ফলে রোজা ও ঈদ পালন হয় একদিন ব্যবধান রেখে।

    আল আরাবিয়া টিভি জানিয়েছে, সৌদি আরবের কোনো স্থানে চাঁদ দেখা যায়নি। এ জন্য বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি সরকার। এদিন সৌদি আরবের আকাশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলো। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাসের তারিখ গণনা শুরু হবে।গালফ টাইমস ও খালিজ টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাতার, আমিরাত, লেবানন, বাহরাইন, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, জর্ডান, দ.কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ বৃহস্পতিবার রমজান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। রমজানে এক মাস সংযমের পর মুসলমানরা শাওয়ালের চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন।

  • আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল রোজা

    আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল রোজা

    এবিএনএ : আজ বুধবার বাদ মাগরিব পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল থেকে শুরু হবে রোজা। এ লক্ষ্যে আজ বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে রমজানের চাঁদ দেখা এবং তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা ডেকেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে আজ চাঁদ না দেখা গেলে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হবে রোজা।গতকাল এক বিবৃতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

    বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোনে জানাতে বলা হয়েছে। টেলিফোন নম্বরগুলো হলোÑ ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ফ্যাক্সেও জানানো যাবে। ফ্যাক্স নম্বরগুলো হলোÑ ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

     

  • মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত

    মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত

    এবিএনএ : সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবেবরাত আগামীকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উদযাপিত হবে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানগণ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন।

    পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ রজনীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানগণ কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা নফল রোজাও পালন করবেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত চলবে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী ও মোনাজাত। রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগী, জিকির ছাড়াও এই পবিত্র রাতে মুসলমানগণ মৃত পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতেও মুসল্লীদের উপচেপড়া ভীড় হয়।

    এদিন সবার ঘরে ভালো-ভালো খাবার-দাবার রান্না করা হয়, এসবের মধ্যে রয়েছে রুটি, বিভিন্ন রুচির হালুয়া ও মিষ্টান্ন। বিকেলে প্রতিবেশিদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ ও পরিবেশন করা হয়। এতে সামাজিক হৃদ্যতা ও সৌহাদ্যের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে স্থানীয় মুসলিমগণ বিশ্বাস করে থাকেন। গরীব-দুঃখিদের মধ্যেও খাবার বিতরণ ও অর্থ দান করা হয়। মহিমান্বিত এ রজনী ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মঙ্গল বার দিবাগত রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, না’ত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় এবং আখেরী মোনাজাত।

    পবিত্র এ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদ সারা রাত খোলা থাকবে। এ রাতের বিশেষ অনুষঙ্গ কবর জিয়ারতের পাশাপাশি মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মসজিদে মসজিদে এশার নামাজের পর থেকেই দফায় দফায় ওয়াজ মাহফিল, জিকির ও মিলাদের পর বাদ ফজর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর রহমত কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র লাইলাতুল বরাতের সমাপ্তি হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে। পবিত্র শবে বরাত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ঢাকা নগরীতে আতশবাজি, পটকা ফাটানো এবং যে কোন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মোট্রাপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

  • পবিত্র শবে মেরাজ শনিবার

    পবিত্র শবে মেরাজ শনিবার

    এবিএনএ : শনিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে মেরাজ। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে শনিবারের রাত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তারা বিশ্বাস করেন, এ রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) উর্দ্ধাকাশে গমন করেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজের বিধান হয় শবে মেরাজের রাতে।
    ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, ১৪০০ বছর আগে ২৬ রজব দিবাগত রাতে আরশে আজীমে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসেন মহানবী (সা.)। এ ঘটনা নবী করিম (সা.) এর মোজেজা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল। জিকির-আসকার, নফল নামাজ, দোয়ার মধ্য দিয়ে শবে মেরাজের রাত অতিবাহিত করেন মুসলমানরা।
    হাদীস ও সাহাবীদের বর্ণনানুযায়ী, মেরাজের রাতে ফেরশতা জিব্রাইল (আঃ) রাসূল (সা.) নিয়ে কাবা শরীফের হাতিমে যান। জমজমের পানিতে অজুর পর বোরাক নামক বাহনে জেরুজালেমের বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়ে নামাজ আদায় করেন।
    নামায শেষে নবীজী জিব্রাঈল (আঃ) এর সঙ্গে প্রথম আকাশে পৌঁছান। সেখানে হযরত আদম (আঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত ও কুশল বিনিময় করেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এভাবে সাত আকাশ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাক্ষাত করেন হযরত ঈসা (আঃ), হযরত ইয়াহইয়া (আঃ), হযরত ইদ্রিস (আ.), হযরত হারুন (আ. ), হযরত মুসা (আ.) এবং হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর সঙ্গে।
    সপ্তম আকাশ থেকে সিদরাতুল মুনতাহায় গমন করেন মহানবী (সা.)। সেখান থেকে রফরফ নামক যানে চড়ে আরশে আজিম যান। সেখানে এক ধনূক দূরত্ব থেকে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয় মহানবী (সা.) এর উম্মতদের জন্য। মেরাজ শেষে রাসূল (সা.) পুরো ঘটনা হযরত আবু বকর (রা.) এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি নিঃসংশয়ে তা বিশ্বাস করেন। রাসূল (সা.) তাকে সিদ্দিকী বা বিশ্বাসী খেতাব দেন। মক্কার কাফেররা রাসূলের মেরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করে। শবে মেরাজ উপলক্ষে শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও দোয়ার আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দেশের প্রতিটি মসজিদে বাদ মাগরিব দোয়া ও বিশেষ বয়ান করা করা হবে।

  • হজের নিবন্ধন শুরু, প্রথম ফ্লাইট ১৪ জুলাই

    হজের নিবন্ধন শুরু, প্রথম ফ্লাইট ১৪ জুলাই

    এবিএনএ : চলতি বছর হজে যেতে প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধন শুরু হয়েছে আজ ( ১ মার্চ, বৃহস্পতিবার)। এ নিবন্ধন চলবে আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত। এছাড়া চলতি বছর হজে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই।বৃহস্পতিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক শাহ জাওয়াহের জাহান কবীরের হাতে নিবন্ধন ভাউচার তুলে দিয়ে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।চলতি বছরও দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনের বিধান রেখে ‘হজ প্যাকেজ, ১৪৩৯ হিজরি/২০১৮ সাল’ গত সোমবার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে সংশোধিত ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি ১৪৩৯ (২০১৮)’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবার হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ এবং প্যাকেজ-২ এ ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা খরচ করতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২১ আগস্ট (৯ জিলহ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে ১৬ হাজার ৭৩ ক্রমিক পর্যন্ত নির্বাচিত প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ (প্রাক-নিবন্ধনের সময় দেয়া ২৮ হাজার টাকা ছাড়া) সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

    প্রাক-নিবন্ধনের সময়ে দেয়া ২৮ হাজার টাকা সমম্বয় করে ২০১৮ সালের হজ প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীদের অবশিষ্ট ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯২৯ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীদের ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৫৯ টাকা সোনালী ব্যাংকের মতিঝিলে স্থানীয় কার্যালয় শাখার ০০০২৩৩০০৯০৮ (Sale proceeds of Hajj Deposit) অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে হজচুক্তি অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও অবশিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের সুযোগ পাবেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে হজযাত্রীদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন হজ নীতিতে এটা বিলুপ্ত করা হয়েছে। নিবন্ধনের পরে কোনো হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করা যাবে না। তবে মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থতার কারণে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে।’

    এছাড়া এবার ট্রলিব্যাগ হজযাত্রীদের নিজেদের সংগ্রহ এবং হজে যেতে ০৯৬০২৬৬৬৭০৭ নম্বরে ফোন করে নিজের তথ্য জানার অনুরোধ করেছেন মন্ত্রী। মধ্যস্বত্ত্বভোগী তথাকথিত গ্রুপ লিডার/কাফেলা/দালাল/প্রতিনিধির সঙ্গে হজ সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘এদের সঙ্গে লেনদেন করে প্রতারিত হলে হজযাত্রীকেই এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।’ হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনো বিপর্যয় এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছি, বিমানের সঙ্গে কথা হয়েছে কোনো অবস্থায় যাতে এ ধরনের বিপর্যয় না ঘটে। ইনশাআল্লাহ হবে না।’ ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘হজ নীতিমালা অনুযায়ী ১১ মার্চ পর্যন্ত হজযাত্রী নিবন্ধন চলবে। তবে প্রয়োজনে আমরা সময় বাড়াতে পারি। চলতি বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৭৭৪টি হজ এজেন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘থার্ড ক্যারিয়ার রাখার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও এবার সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে সেখানে দুই এয়ারলাইন্সের কথা বলা আছে। তাই এই মুহূর্তে থার্ড ক্যারিয়ারের বিষয়ে চিন্তা নেই।’ধর্ম সচিব আরও বলেন, ‘এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের যতটা সম্ভব বেশি ঢাকা থেকে সরাসরি মদিনায় হজ ফ্লাইট নেওয়া যায়। সৌদি আরবও আমাদের এ বিষয়ে কথা দিয়েছে।’

  • পবিত্র ওমরাহ্ পালনে যাচ্ছেন সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন খান

    পবিত্র ওমরাহ্ পালনে যাচ্ছেন সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন খান

    এবিএনএ : সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, দৈনিক আজকের সংবাদ পত্রিকার সিলেট ব্যুরো প্রধান ও সার্ক কালচারাল সোসাইটির সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি তরুণ ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন খান পবিত্র ওমরাহ্ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিআরব যাচ্ছেন। তিনি ২৬ ফেব্র“য়ারি সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদিআরবের উদ্দেশ্যে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করবেন। মঞ্জুর হোসেন খান বাংলাদেশ ত্যাগকালে সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত ও যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সময় স্বল্পতার কারণে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও শুভাকাংখীদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং জানানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি আত্মরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আগামী ১৩ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ওমরাহ্ পালন শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর একটি ফ্লাইটে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন। তিনি সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।

  • কোরআনের আয়াত মুখস্থের সাজা দিলেন বিচারক!

    কোরআনের আয়াত মুখস্থের সাজা দিলেন বিচারক!

    এবিএনএ : সাজা হিসেবে কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার রায় দিয়েছেন লেবাননের এক বিচারক। খ্রিস্টান ধর্মকে অবমাননা করায় তিন মুসলিম যুবককে বিচারক এই সাজা দেন। ধর্ম অবমাননার দায়ে ওই তিন যুবককে কারাদণ্ড দেয়ার পরিবর্তে এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন বিচারক। গত সপ্তাহে লেবাননের উত্তরে ত্রিপোলির আদালতে এ ঘটনা ঘটে। ওই বিচারকের নাম জোসেলিন মাত্তা। জোসেলিন তিন মুসলিম যুবককে মরিয়ম (আ.) ও ঈসা (আ.)-কে প্রশংসা করে সুরা আল-ইমরানের যে আয়াতগুলো রয়েছে সেগুলো মুখস্থ করার আদেশ দেন বলে জানা গেছে।
    রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মাত্তা বলেন, ইসলামে সহনশীলতা ও মরিয়ম (আ.) এর প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আইন শুধু কারাগারই নয়, এটি একটি শিক্ষাকেন্দ্রও বটে।’ এদিকে, বিচারকের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি।

  • বিদ্যার দেবীর আরাধনায় সরস্বতী পূজা উদযাপন

    বিদ্যার দেবীর আরাধনায় সরস্বতী পূজা উদযাপন

    এবিএনএ : বিদ্যার দেবীর আরাধনায় সোমবার উৎসবমুখর পরিবেশে দেশে উদযাপিত হচ্ছে সরস্বতী পূজা। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় এ উৎসবে অগণিত ভক্ত বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করছেন। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর পাদপদ্মে প্রণতি জানাচ্ছেন তারা।

    সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সোমবার সারাদেশের মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভক্তরা বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠার্থী দেবী সরস্বতীর পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করছেন। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যারতি, আলোকসজ্জা ও মেলা বসেছে।

    প্রতিটি পূজামণ্ডপের বাণী অর্চণায় সমবেত হচ্ছে নানা সাজে সজ্জিত নারী, পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। আবহমান বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষও উৎসবে যোগ দিচ্ছেন।

    সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সোমবার দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। এছাড়া এদিন সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরস্বতী পূজা উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পৃথক বিবৃতিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীরউত্তম, ঊষাতন তালুকদার ও হিউবার্ট গোমেজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডিএন চ্যাটার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায়, ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার বাপ্পী, অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ বড়ূয়া ও সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আজ বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে থাকছে- পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছে। এখানে সকাল ৬টায় প্রতিমা স্থাপন, ৯টায় পূজা, ১০টায় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, দুপুর ১২টায় প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যা ৭টায় সন্ধ্যা আরতি এবং রাতে আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপেও একই রকম অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, বেগম রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, কুয়েত মৈত্রী হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলসহ বিভিন্ন হলে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে সাড়ম্বরে। জগন্নাথ হলে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ ছাড়াও এবার ৬২টি বিভাগ মিলিয়ে ৭০টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে হল কর্মচারীদেরও ছয়টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। বরাবরের মতো এবারও জগন্নাথ হলের পুকুরে চারুকলা বিভাগের মনোজ্ঞ পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক ২৯টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে।

    জাতীয় সংসদের উদ্যোগে সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউর রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে সকালে পূজা ছাড়াও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসকন মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা), ব্যাংকার্স পূজা পরিষদ, রামসীতা মন্দির, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হচ্ছে। এসব মণ্ডপে সকাল ৬টা থেকে ১১টার মধ্যে পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ, আপ্যায়ন, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।