Category: ধর্ম

  • আদালতে গড়াল ‘শবেবরাত কবে’ নিয়ে বিভ্রান্তি

    আদালতে গড়াল ‘শবেবরাত কবে’ নিয়ে বিভ্রান্তি

    এবিএনএ: শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে অর্থাৎ আগামী ২০ এপ্রিল নাকি ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত পালিত হবে সে বিষয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ৬ এপ্রিল শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে দাবি করে হাইকোর্টে রিট করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মজলিসু রুইয়াতুল হিলাল ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনের সভাপতি আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান। আদালত রিট আবেদন করার অনুমতি না দিয়ে তাকে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদরে বক্তব্য লিখিতভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    বিচারপতি এফআরএম নামজুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদন করার অনুমতি দেননি। আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম। আদালত বলেছেন, এটা ধর্মীয়ভাবে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। তাই এটাকে আদালতে টেনে না আনাই ভালো। আপনাদের (আবেদনকারী) বক্তব্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনে লিখিতভাবে জমা দিন। আগামী ১৭ এপ্রিল এবিষয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলে শুনেছি। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারা (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) যদি আপনাদের বক্তব্য বিবেচনায় না নেয়, তবে আমাদের কাছে আসবেন। তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গত ৬ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ওইদিন (৬ এপ্রিল) দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ৭ এপ্রিল দিনগত রাত থেকে অর্থাৎ ৮ এপ্রিল থেকে হিজরী ১৪৪০ সালের শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবেবরাত পালিত হবে। কিন্তু মজলিসু রুইয়াতুল হিলাল ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ৬ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদ দেখা গেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা আমলে নেয়নি। এই ঘোষণার পরই বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এ অবস্থায় বিভ্রান্তি দূর করতেই গত ১৩ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টায় জরুরি বৈঠকে বসে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এই বৈঠকে মজলিসু রুইয়াতুল হিলালের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাওলানা আবদুল মালেককে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বিভ্রান্তি নিরসন করতে বলা হয়েছে। এই কমিটির সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবেবরাত পালনের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এই উপকমিটি আগামী ১৭ এপ্রিল আবারো বৈঠকে বসবে। এই কমিটি সংশ্লিষ্টপক্ষের (৬ এপ্রিল চাঁদ দেখার দাবিকারী) বক্তব্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত জানাবে। এ অবস্থায় আজ ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে রিট আবেদন করার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়। অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান আবেদনটি উপস্থাপন করেন। তবে আদালত তাদের অনুমতি দেননি। আদালত আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে। এর আগ পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

  • শবে বরাত নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি, ১১ সদস্যের কমিটি

    শবে বরাত নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি, ১১ সদস্যের কমিটি

    এবিএনএ: পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি শনিবারের বৈঠকে দূর করা সম্ভব হয়নি। চাঁদ দেখা কমিটি আগামী ১৭ এপ্রিল আবারও বৈঠকে বসবে। আর এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে ১১ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আবদুল্লাহ। তবে তিন ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় আবারো বৈঠকের ঘোষণা দেয়া হয়।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র শবে বরাতের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে শনিবার ১১ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এর প্রধান মারকাযুদ্দাওয়ার মুফতি আব্দুল মালেক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম ও বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমীন, শায়খ যাকারিয়া (রহ.) ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম (মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্স) মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, তেজগাঁও মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আল আযহারী, লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি মো. ফয়জুল্লাহ, লালবাগ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি মাওলানা ইয়াহ্ইয়া, মোহাম্মদপুর জামেয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মুফতি মো. মাহ্ফুজুল হক ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

    সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র শবে বরাত কবে হবে এটা সরকারি সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় না। এটা চাপিয়ে দেয়ারও কোনো সিদ্ধান্ত না। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং পারদর্শী তাদের মতামতের ওপরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১০ সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে জানিয়ে দেবে কবে শবে বরাত পালিত হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। চাঁদ দেখার বিষয়টি একটি ধর্মীয় বিষয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আলেম সমাজ। প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় আগামী ২১ এপ্রিল রাতে শবে বরাত পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সারা দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি জানিয়ে সেদিন সভাশেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৪ শাবান রাত অর্থাৎ ২১ এপ্রিল রাতে শবে বরাত পালন করা হবে। তবে ‘মজলিসু রুইয়াতুল হিলাল’ নামের একটি সংগঠনের নেতারা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, গত ৬ এপ্রিল শাবানের চাঁদ দেখা গেছে এবং সে বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল চাঁদ দেখা গেছে প্রমাণিত হলে শবে বরাতের তারিখ একদিন এগিয়ে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০ এপ্রিল পালিত হতে পারে শবে বরাত।

  • সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করল ইসলামিক ফাউন্ডেশন

    সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করল ইসলামিক ফাউন্ডেশন

    এবিএনএ: সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজান মাস শুরু হবে ৭ বা ৮ মে। সে হিসাবে ৭ মে রমজান শুরুর সময় ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি তৈরি করেছে। সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ মে প্রথম রমজানে ঢাকায় সেহরির শেষ সময় ভোর রাত ৩টা ৫২ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৬টা ৩৪ মিনিট। তবে দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১১ মিনিট পর্যন্ত যোগ করে ও ১০ মিনিট পর্যন্ত বিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সেহরি ও ইফতার করবেন।

  • আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা

    আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা

    এবিএনএ: আত্মশুদ্ধি, নিজ নিজ গুনাহ মাফ, সকল বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত ও রহমত প্রার্থনা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখো মুসুল্লির আকুতিতে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সাদ অনুসারী বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা শামীম। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। চলে দীর্ঘ ২৫ মিনিট। আখেরি মোনাজাতে দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, আখেরাত ও দুনিয়ার শান্তি কামনা করা হয়। এ সময় দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ফরিয়াদ জানায় লাখ লাখ মুসল্লি। আল্লাহর দরবারে আকুতি-মিনতি করে চোঁখের পানিতে বুক ভাসান ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ‘আমিন’, ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে মধ্যাহ্নের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।

    ijtema

    শেষ দিনে বয়ানকারী

    মঙ্গলবার বাদ ফজর উর্দুতে বয়ান করেন দিল্লির হাফেজ ইকবাল নায়ার। পরে বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি ওসামা বিন ওয়াসিফ। সকাল ১০টার দিকে উর্দু ভাষায় হেদায়েতি বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা শামীম এবং বাংলায় তা তরজমা করেন মাওলানা আশরাফ আলী। পরে দিল্লির মাওলানা শামীম হেদায়েতির কিছু কথা বলে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন দেশ ছাড়াও ভারতের নিজামউদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বি তাবলিগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর পক্ষে নেতৃত্ব দিতে ৩২ সদস্যের একটি দল টঙ্গীর ইজতেমায় যোগ দেন। এতে জিম্মাদারের নেতৃত্বে দেন দিল্লির মাওলানা শামীম।

    আখেরি মোনাজাতে নারীদের অংশগ্রহণ

    তুরাগতীরে অনুষ্ঠিত ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে শতশত নারী মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতশত নারী মুসল্লি ইজতেমা ময়দানের আশপাশে, কল-কারখানা ও বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

    বিদেশি মেহমান

    সাদপন্থী মাওলানা মো. আশরাফ আলী জানান, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ প্রায় ৩৬টি ভিনদেশের তাবলিগ জামাতের সহস্রাধিক বিদেশি মেহমান এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন।

    Ijtema-2

    এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বাদ ফজর আমবয়ানে শুরু হয় একটানা পাঁচ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতসহ গত দুইদিন জোবায়ের অনুসারীরা বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনা করেন। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতসহ ইজতেমা পরিচালনা করেন সাদ অনুসারীরা।

    আখেরি মোনাজাতের পর মাইকে জোবায়ের অনুসারীরা ২০২০ সালের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী তাদের আগামী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফা ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হবে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি। তবে সা’দ অনুসারীরা তাদের আগামী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেননি। কেন্দ্রীয় সূরা সদস্যদের সঙ্গে মায়োয়ারা করে মাওলানা সা’দ ওই তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে এ পক্ষের মুরুব্বি মো. আশরাফ আলী জানান।

  • ইজতেমার প্রথম পর্বে লাখো মুসল্লির আখেরি মোনাজাত

    ইজতেমার প্রথম পর্বে লাখো মুসল্লির আখেরি মোনাজাত

    এবিএনএ: টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই মোনাজাত চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। মোনাজাত পরিচালনা করেছেন মাওলানা মো. জুবায়ের। এতে অংশ নিয়েছেন দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি। মুরব্বীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুবায়েরপন্থীরা আজ আখেরি মোনাজাত শেষে মাঠ ছাড়বেন। আর সা’দপন্থীরা আগামীকাল ফজরের নামাজের পর মাঠে প্রবেশ করে দুদিন ইজতেমা পালন করবেন। গতকাল শুক্রবার মাওলানা জোবায়েরপন্থীদের ব্যবস্থাপনায় প্রথম পর্বের ইজতেমা শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকেই মূলত ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে অংশ নেন দেশ-বিদেশের উলামায়ে কেরামারা।

    বিশ্ব ইজতেমার প্রধান কর্মসূচি আমবয়ানে শুক্রবার অংশ নেন, বাদ ফজর : মাওলানা জিয়াউল হক (পাকিস্তান), বাদ জুমা : মাওলানা শেখ মোহাম্মদ গাস্সান (সৌদি আরব), বাদ আসর : মাওলানা জোহায়েরুল হাসান (ভারত), বাদ মাগরিব : মাওলানা ইব্রাহিম দেওয়ালা (ভারত)।

    ইজতেমা উপলক্ষে ‘কহর দরিয়া’ পারের বিশাল চটের শামিয়ানার তল পূর্ণ হয়ে যায় বৃহস্পতিবার রাতেই। পরে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নেয় অনেকে। এ অবস্থায় জুমার জামাতে শামিল হতে আসা মুসল্লিরা যে যেখানে জায়গা পেয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে আদায় করেছে জুমার নামাজ। এদিকে গত দুই দিনে বিশ্ব ইজতেমা ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইজতেমা ময়দানের প্রতিটি খেত্তায় রয়েছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা তৎপরতা। দু-চার গজ পরপরই রয়েছে পুলিশের অবস্থান। ইজতেমার চারপাশে উঁচু ওয়াচ টাওয়ারে র্যাবের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে। রয়েছে কিছুক্ষণ পর পর আকাশে হেলিকপ্টারে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল। আন্তর্জাতিক নিবাসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ইজতেমাস্থলে প্রবেশের প্রতিটি পথে রয়েছে র্যাব-পুলিশ ও ইজতেমা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা নজরদারি।

  • তুরাগ তীরে জুমার নামাজে লাখো মুসল্লি

    তুরাগ তীরে জুমার নামাজে লাখো মুসল্লি

    এবিএনএ: টঙ্গীতে চার দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন জুমা বার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণকালের বৃহত্তম জুমার জামাত। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জুমার জামাত শুরু হয়। ওই নামাজের ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটে আসেন জুমার নামাজ আদায় করার জন্য। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হয়েছেন।

    southeast

    এদিকে রাস্তায় নামাজ আদায়ের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ থকে। কাপাসিয়া থেকে আসা মুসল্লি আলিমুদ্দিন জানান, বড় জামাতে নামাজ আদায় করার অনেক ফজিলত। তাই জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ভোরেই বাড়ি থেকে বের হয়েছি। রাস্তায় তেমন যানজটে পড়তে হয়নি। জুমার নামাজে শরিক হন ধর্মমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াইএম বেলালুর রহমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজম উল্লাহ খানসহ প্রমূখ।

    southeast

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, জুমার নামাজ আদায় করতে আশপাশের জেলার অনেক মুসল্লিরা এখানে এসেছেন। জুমার নামাজ উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যানজটমুক্তভাবে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীকাল শনিবার মোনাজাত হবে। ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লি ছাড়াও অসংখ্য মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে এখানে আসবেন। সেটির জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    southeast

    তিনি আরও জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টঙ্গী ব্রিজ, কামারপাড়া ব্রিজ, ভোগড়া বাইপাস, মীরেরবাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ইজতেমা সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। ইজতেমা শেষে যাওয়ার সময় একই ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে। আমরা নাগরিকদের কাছে আশা করব তারা যেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখেন। রাস্তায় যে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে তাদের সহযোগিতা করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ।

  • হজ নিবন্ধন শুরু আজ

    হজ নিবন্ধন শুরু আজ

    এবিএনএ: চলতি বছরে (২০১৯ সাল) হজ গমনেচ্ছুদের জন্য সরকারি নিবন্ধন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হবে। চলবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের জন্য সর্বশেষ প্রাক নিবন্ধনের ক্রমিক নম্বর ২২ হাজার ৭৬৪ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বশেষ ক্রমিক নম্বর চার লাখ ৭৯ হাজার ৮১৫।

    বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালে হজে গমনের জন্য প্রাক নিবন্ধনকারী ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, হজ নিবন্ধনের জন্য নিম্নবর্ণিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ণিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ক্রমিকের মধ্যে উল্লেখিত প্রাক নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি নিবন্ধন সম্পূর্ণ না করলে তার পরিবর্তে জাতীয় হজ ও ওমরার নীতি সংশোধিত ১৪৪০ হিজরি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ এর ৩.১.৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ক্রমিকের প্রাক নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানানো হবে।

  • জানুয়ারিতে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা

    জানুয়ারিতে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা

    এবিএনএ: তাবলীগের দুই পক্ষের বিপরীতমুখী দৃঢ় অবস্থান ও উত্তেজনার কারণে জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে ফেব্রুয়ারিতে সুবিধাজনক সময়ে তা অনুষ্ঠিত হবে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাবলিগ সূত্র জানায়, ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলীগের দুইপক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের লক্ষ্যে তাবলীগের মুরব্বীদের বৈঠকে ঢাকা হলেও একসঙ্গে উভয়পক্ষকে বসানো সম্ভব হয়নি। হেফাজতপন্থী মাওলানা জুবায়ের ও তার সমর্থকরা মাওলানা সা’দের অনুসারীদের সঙ্গে বসতে আপত্তি জানান। তাই আলাদাভাবেই বৈঠক করতে হয়।

    তাবলিগ জামাত সূত্র জানায়, মাওলানা সা’দ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের মতামত জানতে আগামী ১৫ জানুয়ারি উভয়পক্ষের মুরব্বী ও আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল ভারত যাবে। দেওবন্দ থেকে ওই প্রতিনিধি দল আসার পর ফেব্রুয়ারির সুবিধামতো সময়ে ইজতেমার তারিখ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে না। তবে বিশ্ব ইজতেমা এ বছর হবেই।

    বৈঠকে চারটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়,

    ১। জানুয়ারিতে কোনো পক্ষের কোন ইজতেমা হবে না।

    ২। ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল দেওবন্দ গিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আসার পর ইজতেমার তারিখ নির্ধারিত হবে।

    ৩। কোনো মসজিদে তাবলীগের কাজে কোন বাধা কেউ দিতে পারবে না।

    ৪। নতুন ইজতেমার তারিখ পর্যন্ত উভয় পক্ষ কোন জোড়, ইজতেমা, সমাবেশ, পরামর্শ সভা, অথবা ওয়াজাহাতি জোড় করতে পারবে না।

    ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার পর তাবলিগ জামাতের দুইপক্ষ আলাদাভাবে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করে। নিজামুদ্দীন মার্কাজপন্থী মাওলানা সাদের অনূসারীরা ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। এর বিরোধিতা করে জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করে হেফাজতপন্থী মাওলানা জুবায়ের অনূসারীরা। এ নিয়ে সারা বছরই উত্তেজনা থাকে। গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়। সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। তাবলিগের নিজামুদ্দীনপন্থী শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের পর ইজতেমার মত বড় আয়োজন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিমশিম খেয়ে যাবে, তাই সরকারের পক্ষ থেকে ইজতেমা পেছানোর অনুরোধ করা হয়েছে। দেওবন্দ থেকে প্রতিনিধি দল আসার পর ফেব্রুয়ারিতে সুবিধামত সময়ে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

    ইজতেমা কি একসঙ্গে হবে না আলাদা এ প্রসঙ্গে সা’দপন্থী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি সম্ভব হয় তাহলে একসঙ্গেই করার চেষ্টা করছে সরকার, না হলে তো আলাদাই করতে হবে। কিন্তু তারা তো আমাদের সঙ্গে বসতেই আগ্রহী নয়।’

    প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামায়াতের বিশ্ব আমির দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও নিজামুদ্দীন মারকাজের বিরোধিতা করছেন পাকিস্তানের তাবলিগি নেতারা। তাই তাবলিগের মূল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিজামুদ্দীন মারকাজের সমান ক্ষমতা দাবি করে আলমি শুরা গঠন করে রাইভেন্ড মার্কাজ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশদারিত্বের বিবাদে দিল্লি-লাহোর জড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়েই এর প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের প্রধানকেন্দ্র কাকরাইল মসজিদেও ছড়িয়ে পড়ে এ বিভক্তি। ১১ জন শুরা সদস্যের মাঝে ছয়জন নিজামুদ্দীনের পক্ষে থাকলেও বাকি পাঁচজন আলমি শুরার পক্ষে অবস্থান নেন। এ অংশের বিরোধিতায় বিগত বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ ও নিজামুদ্দীনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ এসেও ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি।

    তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপে আবারও উত্তেজনা

    রাজধানীতে আবারও তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার মোহাম্মদপুর থানার সাত মসজিদ এলাকায় এ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রুপ। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার এসআই নয়ন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে তাবলিগের নিজামুদ্দীন অনূসারী মিজানুর রহমান জামিয়া রাহমানীয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সাত মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে তার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে মাদ্রাসা ছাত্ররা। পরে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন সা’দপন্থী মিজানুর রহমান। তিনি সাত মসজিদের নিজামুদ্দীনের জিম্মাদার (নেতা)। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তাবলিগি সাথীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।

  • তাবলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১

    তাবলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১

    এবিএনএ: গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও এর আশপাশ এলাকায় তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে শনিবার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক মুসল্লি নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। গুরুত্বর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।নিহতের নাম ইসমাইল হোসেন মণ্ডল (৭০)। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরের নিকলিয়াপাড়া এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে। তিনি তাবলীগ জামাতের মাওলানা সা’দপন্থী গ্রুপের বলে জানা গেছে।

    ভারতের দিল্লীর মাওলানা সা’দপন্থী তাবলীগ মুরুব্বীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে কওমি মাদ্রাসা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র এসে অবস্থান নেন ইজতেমা ময়দানে। তারা সা’দ পন্থীদের মাঠ থেকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে ইজতেমা মাঠে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

    এদিকে দুপুরে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের হামলার ঘটনার পর বিকাল ৩টার দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে তাবলীগ জামাতের উভয় গ্রুপের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইজতেমা ময়দানে এক জরুরী বৈঠক করে। বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে ইজতেমা ময়দান থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়। পরে উভয় পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিকালের মধ্যেই ইজতেমা ময়দান থেকে তাদের অনুসারীদের সরিয়ে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন ইজতেমা ময়দান ঘিরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    তাবলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১

    গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, ইজতেমা ময়দানের বিবদমান দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে প্রথমে ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন মিল গেইট মসজিদে পরে ইজতেমা মাঠে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে মাওলানা সা’দ পন্থীদের পক্ষ থেকে মাওলানা আশরাফ হোসেন এবং মাওলানা হাফেজ জুবায়ের পন্থীদের পক্ষ থেকে মাওলানা নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    ইজতেমার মুরব্বি ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরের মত এবারও তারা বিশ্ব ইজতেমা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে টঙ্গীতে জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ৩০ নভেম্বর জোড় ইজতেমায় যোগ দিতে আসা কয়েক হাজার মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে ঢুকতে গেলে মাওলানা হাফেজ জোবায়ের অনুসারী বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের বাধা দেয়। কয়েকদিন আগে থেকেই লাঠি-সোটা নিয়ে কয়েক হাজার ছাত্র ময়দানে ঢুকার ফটকগুলো বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। ফটক দিয়ে কোন ব্যক্তিকেই তারা ঢুকতে দেননি। জোড় ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসল্লিরা গত শুক্রবার ময়দানে ঢুকতে না পেরে আশপাশের মসজিদে অবস্থান নেন।

    তাবলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১

    শনিবার ভোরে আবারো তারা ময়দানে ঢুকতে গেলে জোবায়ের পন্থীদের বাধার মুখে পড়েন সা’দ পন্থীরা। এ নিয়ে ওই এলাকায় মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অপরদিকে প্রতিপক্ষের সা’দ পন্থী মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানের প্রবেশ করতে চাইলে তাদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। এ সময়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দূর পাল্লার যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

    বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সা’দ পন্থী মুসল্লিরা জোরপূর্বক ইজতেমা ময়দানের প্রবেশ করতে চাইলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মুসল্লি আহত হন। আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী বেসরকারি হাসপাতাল ও উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবার অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।

    তাবলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১
  • ইজতেমা নিয়ে তাবলিগের দুই পক্ষ মুখোমুখি, তীব্র যানজট

    ইজতেমা নিয়ে তাবলিগের দুই পক্ষ মুখোমুখি, তীব্র যানজট

    এবিএনএ: বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। মাওলানা জুবায়ের ও দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারী দুই পক্ষের হাজার হাজার মুসল্লি পৃথকভাবে টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দান ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার দিকে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এতে আজ শনিবার টঙ্গী ও রাজধানীর বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই পক্ষের বিরোধিতার কারণে আসছে বছরের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত ঘোষণা করেছে সরকার। গত ১৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের আইজি, ধর্মসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা হওয়ার কথা ছিল।

    প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের ওই ঘোষণার পর থেকে সময়ে সময়ে দুই পক্ষ জায়গায় জায়গায় অবস্থান নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সবশেষ আজ ভোর থেকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান, ইজতেমার ময়দানের ভেতর ও প্রধান প্রবেশপথগুলো মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা দখল করে আছেন। অন্যদিকে, মাওলানা সাদের অনুসারীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার দিকে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। কয়েক হাজার মুসল্লি সড়কে অবস্থান নেওয়ায় রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। একে সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, মুসল্লিরা এমনিতে যান চলাচলে কোনো বাধা দিচ্ছেন না এবং কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইজতেমার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

    ঘটনার জের ধরে রাজধানীতে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর চত্বরে ফুটওভার ব্রিজের কাছে এখনো একটি পক্ষ অবস্থান করছে। জানা গেছে, তাঁরা মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী। ঢাকা থেকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা যেন টঙ্গীতে গিয়ে তাঁদের পক্ষের মুসল্লিদের সঙ্গে যোগ দিতে না পারেন, সে কারণে তাঁরা প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে দেখছেন। যাত্রীদের মধ্যে মুসল্লি কেউ থাকলে তাঁকে নামিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সেখান থেকে টঙ্গীগামী যানবাহন একটি একটি করে চলছে। বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া মুসল্লিদের অনেকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন। অন্যদিকে, টঙ্গী থেকে ঢাকাগামী যানবাহনও আসতে পারছে না। উত্তরা জোনের ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার জুলফিকার জুয়েল বলেন, ফজরের নামাজের পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।