Category: ধর্ম

  • পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২১ নভেম্বর

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২১ নভেম্বর

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার ১৪৪০ হিজরি বর্ষের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এ জন্য ১০ নভেম্বর শনিবার থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ২১ নভেম্বর (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হবে। শুক্রবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় ১৪৪০ হিজরি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব খলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হামিদ জমাদ্দার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, ঢাকা জেলার এডিসি (সাধারণ) শহিদুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • বাগেরহাটে এশিয়ার বৃহত্তম দুর্গাপূজা

    বাগেরহাটে এশিয়ার বৃহত্তম দুর্গাপূজা

    এবিএনএ: বাগেরহাটের হাকিমপুরের শিকদার বাড়িতে ৭০১ প্রতিমা নিয়ে এশিয়ার বৃহত্তম দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর শিকদার বাড়িতে করা হয়েছে জমকালো আয়োজন। ব্যবস্থা করা হয়েছে আধুনিক লাইটিং ও সাউন্ড সিস্টেম। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পুকুরে স্থাপন করা হয়েছে ৪০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন লক্ষ্মী-নারায়ণ। গত ছয় মাস ধরে ১৫ জন প্রতিমা শিল্পী রাত-দিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন ৭০১টি প্রতিমা। মণ্ডপের দু’পাশে নানা পশরা সাজিয়ে বসেছেন শতাধিক দোকানি। বৃহত্তম এ পূজা মণ্ডপ দেখতে এরই মধ্যে ভিড় করছে ভক্ত ও দর্শণার্থীরা। ৪৮টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে মন্দির ও এর আশেপাশের এলাকা। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও রাখা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দর্শণার্থী প্রবীর মজুমদার বলেন, প্রতিবছর শিকদার বাড়িতে পূজা দেখতে আসি। কিন্তু প্রচুর ভিড় থাকায় ভালো করে দেখার সুযোগ হয়না। তাই এবার আগেই এসেছি।

    দেশের বৃহত্তম এ আয়োজনের প্রধান প্রতিমা শিল্পী (ভাস্কর) বিজয় কৃষ্ণ বাছাড় বলেন, গত ছয় মাস ধরে ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে রাত-দিন কাজ করে ৭০১ প্রতিমা তৈরি করেছি। আশা করছি গত বছরের থেকে এবছর দর্শণার্থীরা আরও বেশি আনন্দ পাবেন। আয়োজক লিটন শিকদার বলেন, আট বছর আগে বাবার ইচ্ছা পূরণে বাড়িতে দুর্গা পূজার আয়োজন করি। অষ্টম বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রতিমা নিয়ে আমাদের এ মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন। এ বছর ৭০১টি প্রতিমা নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। এসপি পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজাকে নিরুদ্রপ করতে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। বৃহত্তম এই মন্ডপের নিরাপত্তার জন্য দু’ধরনের মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। শতাধিক পুলিশ সদস্য ছাড়াও আনসার এবং স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবে। ফকিরহাট থানার ওসি বলেন, মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরা যাতে তাদের ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে সে ব্যাপারে সব ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা কাল থেকে শুরু

    বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা কাল থেকে শুরু

    এবিএনএ: আগামীকাল ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ১৯ অক্টোবর শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপি এ উৎসবের। এর আগে আজ সায়ংকালে দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যূহ বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয় দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রণা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামে অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাঁকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

    হিন্দু পূরাণ মতে দুর্গাপূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবিকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া স্বত্তেও শরত কালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায়। ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের মৃদুল মহারাজ বাসসকে বলেন, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘাটক (ঘোড়ায়) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) আসবেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ শোক হানাহানি মারামারি বাড়বে। অন্যদিকে কৈলাশে (স্বর্গে) বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। যার ফলে জগতে মড়ক ব্যাধি এবং প্রাণহানির মত ঘটনা বাড়বে। এদিকে পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাক -ঢোল কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মন্ডপ। রামকৃষ্ণ মিশনের নিঘন্টে বলা হয়েছে, আগামীকাল সোমবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কল্পারম্ভ এবং বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে উৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল থেকে চন্ডিপাঠে মুখরিত থাকবে সকল মন্ডপ এলাকা।

    উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৬টায়। বুধবার মহাঅষ্টমীর পূজা আনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায় এবং বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সন্ধিপূজা শুরু হবে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে। বৃহশপতিবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে নবমী পূজা। পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টায় পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন হবে সকাল ৮টায়। পরে প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনব্যাপি এ উৎসবের।

    বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটারর্জি সাংবাদিকদের বলেন, এবার সারা দেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর রাজধানী ঢাকাতে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হবে ২৩৪ টি মন্ডপে। গত বছর সারা দেশে ২৯ হাজার ৭৪ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং রাজধানী ঢাকায় মন্ডপের সংখ্যা ছিল ২২৫টি। তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ইতোমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে যাতে পূজা সম্পন্ন করা যায় সে বিষয়ে তারা পূর্ণ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মণ্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছা রক্তদান ও বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপ, গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ মণ্ডপ’ রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বাসাবো বালুর মাঠ, শাখারী বাজারের পানিটোলা মন্দিরসহ অন্যান্য মন্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্র্স্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

  • কোনও ধর্মই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না: রাষ্ট্রপতি

    কোনও ধর্মই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না: রাষ্ট্রপতি

    এবিএনএ: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ধর্মকে ব্যবহার করে কোনও ব্যক্তি বা গ্রুপ যাতে সামাজিক শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সে জন্য সকল ধর্মের লোকদের আরো সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখায়, জনকল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। কোনও ধর্মই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ অথবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’যদি কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের লোকরা অংশ নেয়ায় বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে সমাজে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব আরো জোরদারে সকল ধর্ম বিশ্বাসের লোকদের প্রতি আহবান জানান। বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী উদ্যাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল ধর্মীয় উৎসবই আনন্দ উল্লাসের, কিন্তু প্রতিটি উৎসবই সকলের অংশগ্রহণে সর্বজনীন হয়ে ওঠে। আবদুল হামিদ বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ঐক্য যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহানুভবতার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তিনি এসময় হিন্দু সম্পদায়ের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সমাজ থেকে সকল ধরনের অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও সংঘাত দূর করে জনগণের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করাই ছিল শ্রী কৃষ্ণের মূল মতাদর্শ। রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজে ধর্ম ও ভালো লোককে রক্ষায় সকল ধরনের অপশক্তি নির্মূলে সমাজে শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। এ সময় অভ্যর্থনায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু ধর্মীবলম্বীর ব্যক্তিবর্গ, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগণ।
    এ সময় তারা রাষ্ট্রপতিকে জন্মাষ্টমীর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার, হিন্দ্র ধর্মাবলম্বী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ বঙ্গভবনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় অতিথিবৃন্দকে বঙ্গভবনের দরবার হলে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতি অতিথিদের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

  • রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

    রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

    এবিএনএ: যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বুধবার সারাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ঈদের প্রথম জামাত হবে সকাল ৮টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহ্‌সানুল হক। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকার মিরপুরের জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়ার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্‌যামান। রাষ্ট্র্রপতি আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, মেয়র সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করবেন।

    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন- প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, তৃতীয় জামাতে মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মারুফ, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী।

    সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একমাত্র জামাতটি সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা এ জামাতে অংশ নেবেন। রাজধানীতে সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই জামে মসজিদে। এর আগে এখানে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামবাগ ঈদগাহ ময়দানে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্র্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতিব জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শাইখুল হাদিস মাওলানা হাফেজ মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ দ্বীনের আলো জামে মসজিদের খতিব ও জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি বশীরুল হাসান খাদেমানী এবং তৃতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেজ নোমান আহমদ। বৃষ্টিজনিত কারণে ঈদগাহ মাঠে যদি নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে ইসলামবাগ বড় মসজিদে উপরোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী পরপর তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনে মেয়র সাঈদ খোকন :ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন গতকাল জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করেন। এ সময় মেয়র বলেন, প্রধান জামাতের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো এবারই ডিএসসিসির সৌজন্যে রাস্তায় নামাজ আদায়কারীদের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য বোতলজাত পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    মেয়র আরও জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ঈদগাহ এলাকায় বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসানো হয়েছে। সেইসঙ্গে রাখা হচ্ছে জরুরি টেলিফোন বুথ এবং গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। ঈদের নামাজে এসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে জাতীয় ঈদগাহে।

    জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে পারবেন। প্রায় পাঁচ হাজার নারীর জন্যও নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। নামাজের আগে একসঙ্গে ১৫০ জন পুরুষ এবং ৫০ জন নারী ওজু করতে পারবেন।

    ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

    লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

    এবিএনএ: মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্মেলন পবিত্র হজের মূলপর্ব শুরু হয়েছে আজ সোমবার। মিনা প্রান্তর থেকে ২০ লক্ষাধিক হাজী আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। হাজীদের লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত প্রান্তর। সেলাইবিহীন শুভ্র কাপড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সারা বিশ্ব থেকে সমবেত মুসলমানরা আজ থাকবেন সেখানে। আজ ফজরের নামাজের পর থেকেই আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন হাজীরা। আগামীকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে মিনায় অবস্থান নেয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা। রোববার সারা দিন ও রাত তারা মিনায় কাটান ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মশগুল ছিলেন জিকির ও তালবিয়াতে। নামাজ আদায় করেন জামাতের সঙ্গে। আজ সকালে হাজীরা সমবেত হয়েছেন প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বিদায় হজের স্মৃতিজড়িত আরাফাতের ময়দানে। চার বর্গমাইল আয়তনের এ বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিংরোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও প্রায় পৌনে এক মাইল বিস্তৃত। পবিত্র এ ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন। সৌদি দৈনিক আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, বাদশাহ সালমান এবার হজের খুতবা পড়ার দায়িত্ব দিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম শেখ হুসেইন বিন আবদুল আজিজকে। এ খুতবা রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বিশ্বময়। এ আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজ পূর্ণ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হয় স্বল্প সময়ের জন্য। ইসলামি রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হল হজ। আরাফাত থেকে মিনায় ফেরার পথে আজ সন্ধ্যায় মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন সমবেত মুসলমানরা। মুজদালিফায় রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকবেন তারা। এ সময়েই তারা সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন, যা মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে মিনায় ফিরে সেই পাথর তারা প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে ছুড়বেন। এর পর কোরবানি দিয়ে ইহরাম ত্যাগ করবেন। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ১৬৪ দেশের ২০ লাখের বেশি মুসলমান এবার হজ করছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ।

  • ঈদুল আজহা ২২ আগস্ট

    ঈদুল আজহা ২২ আগস্ট

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে রোববার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ২২ আগস্ট (বুধবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগে ফোন করে ফাউ‌ন্ডেশ‌নের কর্মকর্তারা চাঁদ দেখার খবর জানিয়েছেন। কক্সবাজার থে‌কে চাঁদ দেখার সংবাদ জা‌নান ফাউ‌ন্ডেশনের উপ-প‌রিচালক।হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহা পালন করেন।বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে রোববার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। সভায় ধর্মমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রোববার বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৩৯ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। ২২ আগস্ট (১০ জিলকদ) বুধবার দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। এদিকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে মুসলমানরা তাদের প্রিয় বস্তু মহান আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। হাজিরা ঈদের দিন সকালে কোরবানি দেন। এবার ঈদে ২১, ২২ ও ২৩ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে। গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছাড়বেন অসংখ্য মানুষ। এতে ফাঁকা হয়ে পড়বে ঢাকা।

  • ঢাকা ছাড়লো প্রথম হজ ফ্লাইট

    ঢাকা ছাড়লো প্রথম হজ ফ্লাইট

    এবিএনএ : চলতি হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। শনিবার সকাল পৌনে আটটায় ফ্লাইট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ে। জেদ্দার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে হজযাত্রীদের বিদায় জানান। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইনামুল বারী, চেয়ারম্যান সিভিল এভিয়েশন এয়ার ভাইস এম নাঈম হাসান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম মোসাদ্দিক আহমেদ এবং মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে হজকে ধরা হয় চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থবানদের জন্য হজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ধর্মে। প্রতি বছরই বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রী পাঠানো হয়। এবারও বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজ পালন করতে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৬ হাজার ৭৯৮ জন আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ১ লাখ ২০ হাজার। এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২৮টি হজ এজেন্সি হজের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যাত্রীদের বহনের জন্য আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনস। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন এবং সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮৮টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ৮৩১ জন যাত্রী পরিবহন করবে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ফ্লাইট চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। আর হজ পালন শেষে ২৭ আগস্ট প্রথম ফিরতি ফ্লাইট জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে।

  • জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

    জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

    এবিএনএ : গম বা আটার বাজারমূল্য হিসাব করে রমজানে এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ হার নির্ধারণ করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সামর্থ্য অনুযায়ী গম বা আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির বা যবের যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে। তবে ফিতরা প্রদানকারী নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। উল্লিখিত দ্রব্যসমূহের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। এর আগে গত বছর ফিতরার হার সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা ও সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৮০ টাকা ছিল।

    ফিতরা দেয়ার সামর্থ্য রাখে এরকম প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের ও পরিবারের ঐ সমস্ত সদস্যদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ফরয যাদের লালন-পালনের দায়িত্ব শরীয়ত কর্তৃক তার উপরে অর্পিত হয়েছে। [আল মুগনী, ৪/৩০৭, বুখারী হাদীস নং ১৫০৩] অবশ্য সেই ব্যক্তি এই আদেশের বাইরে যার নিকট এক দুই বেলার খাবার ব্যতীত অন্য কিছু নেই। [সউদী ফাতাওয়া বোর্ড, ৯/৩৮৭] ইসলাম ধর্মে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। নাবালক ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে বাবাকে এই ফিতরা আদায় করতে হবে। আর তা দিতে হয় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই।

  • রোজার জরুরি বিষয়

    রোজার জরুরি বিষয়

    এবিএনএ : রমজান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি বিশেষ উপহার। যেমনি ব্যবসায়ীদের বিশেষ সময়ে বিশেষ দ্রব্যের ব্যবসা লাভজনক হয়, তেমনি রমজানে ইবাদতে মুমিন বান্দার জন্য লাভজনক। মুসলমান প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর জন্য রোজা রাখা ফরজে আইন। প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজা মুমিনের জন্য ঢালস্বরূপ। (বুখারি : ১৯০৪)। ঢাল যেমন একজন যোদ্ধাকে তীর, গুলি বা যে কোনো রকম অস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজাও একজন মুমিন ব্যক্তিকে সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করে।

    রাব্বুল আলামিনের কাছে রোজাদারের মর্যাদা এত বেশি যে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন রোজাদারের জন্য রাইয়ান নামক দরজা থাকবে, যার ভেতর দিয়ে কেবল রোজাদাররা বেহেশতে প্রবেশ করবে। এ ছাড়া অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। (বুখারি : ৩৪০৪)। রমজান মাসে সারা দিন রোজা রেখে যখন বান্দা ইফতার সামনে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করে, সেই দৃশ্য দেখে আল্লাহ পরম আনন্দ লাভ করেন। আর ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন। সংযম এবং আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ হিসেবে রোজার গুরুত্ব অনেক। যাদের ওপর রোজা ফরজ : রোজাদারের মুসলমান হওয়া জরুরি। কোনো কাফেরের ওপর রোজা ফরজ নয়। বালেগ হওয়া। নাবালেগের ওপর রমজানের রোজা ফরজ নয়। তবে অভ্যস্ত করার জন্য তাদের উৎসাহিত করা উচিত। তারা নামাজ-রোজা পালন করলে তাদের মা-বাবা এর সওয়াব লাভ করবে। রমজানের রোজা প্রত্যেক বয়স্ক ও সক্ষম ব্যক্তির ওপর ফরজ হওয়ার কথা জ্ঞাত থাকা। রোজা রাখতে অক্ষম না হওয়া। সজ্ঞান হওয়া। পাগল বা উন্মাদের ওপর রোজা ফরজ নয়। যে কারণে রোজা ভঙ্গ হয় এবং তা কাজা করতে হয় : কানে অথবা নাকে তেল বা ওষুধ প্রয়োগ করলে। নস্যি গ্রহণ করলে। স্বেচ্ছায় মুখভরে বমি করলে। অনিচ্ছাকৃত বমি গিলে ফেললে। কুলি করার সময় বা অন্য কোনো কারণে পেটের মধ্যে পানি বা অন্যকিছু প্রবেশ করালে। ধূমপান করলে। লোবান, আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া স্বেচ্ছায় গ্রহণ করলে। পাথরের টুকরা, লোহা, তামা ইত্যাদি অখাদ্য বস্তু গিলে ফেললে।

    রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার বা যৌনাচার করলে। সূর্য অস্ত গিয়েছে মনে করে দিন থাকতেই ইফতার করলে। দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলার সমান বা ছোলার চেয়ে বড় কোনো খাদ্যকণা গিলে ফেললে। পান মুখে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে আর এ অবস্থায় ভোর হয়ে গেলে। অজু অথবা গোসলের সময় পানি গলার ভেতর চলে গেলে। মস্তিষ্ক বা পেটের জখমে ওষুধ পৌঁছালে। স্পর্শ বা চুম্বন ইত্যাদির কারণে বীর্যপাত ঘটলে। অজানা অবস্থায় ঘুমের ভেতর কিংবা সচেতন অবস্থায় কেউ জোরপূর্বক কোনোকিছু পানাহার করালে। ভুলে পানাহার করার পর রোজা ভঙ্গ হয়েছে মনে করে আবার পানাহার করলে। কোনো নফল রোজা স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেললে। দুপুরের পর রোজার নিয়ত করলে। দাঁত থেকে বের হওয়া রক্ত থুথুর চেয়ে বেশি হলে এবং তা কণ্ঠনালিতে চলে গেলে। কোনো স্ত্রীলোক রোজা অবস্থায় গুপ্তাঙ্গের ভেতরে কোনো প্রকার ওষুধ বা তেল প্রয়োগ করলে। সহবাস বা সঙ্গম ছাড়া কামচরিতার্থের জন্য বিকল্প পন্থা অবলম্বন করলে। যেমন : হস্তমৈথুন দ্বারা বীর্যপাত ঘটালে। রোজাদারের মুখে ঘাম বা চোখের পানি প্রবেশ করালে, আর তা যদি কণ্ঠনালি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বৃষ্টি বা বরফের পানি কণ্ঠনালিতে পৌঁছে গেলে।