Category: খেলাধুলা

  • দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড অচেনা তরুণের

    দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড অচেনা তরুণের

    এ বি এন এ : কৈশোরের লালিত্য মুখ থেকে এখনো যায়নি। অ্যানিউরিন ডোনাল্ডের বয়স তো মাত্র ১৯। কিন্তু গ্ল্যামারগনের এই টিনএজারই কাল নির্দয়ভাবে বোলারদের শাসন করেছেন। সেটা করতে গিয়ে একটা রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটা যে এখন যৌথভাবে ডোনাল্ডের, কাল কাউন্টিতে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ২০০ ছুঁয়েছেন মাত্র ১২৩ বলে! ১৯৮৫ সালে ভারতের রবি শাস্ত্রীর গড়া রেকর্ডেও এবার ভাগ বসালেন ডোনাল্ড। শাস্ত্রীর সেই ইনিংসটা আরও বিশেষভাবে স্মরণীয় আছে এক ওভারে ছয় ছক্কার কারণে।
    কাল ডোনাল্ডও ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ছক্কাই মেরেছেন ১৫টি। ক্রিজে যখন নেমেছিলেন, গ্ল্যামারগন ৯৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে একটু কোণঠাসাই। সেখান থেকে ডোনাল্ড শুরু করলেন পাল্টা আক্রমণ। শুরুর দিকে একটু সময় নিয়েছিলেন, সেঞ্চুরি পূরণ করতে ৮০ বল খেলতে হয়েছিল। তোপটা শুরু করলেন তারপর, পরের ৪৩ বলে করলেন আরও ১০০ রান।
    মাইলফলকগুলোও ছুঁয়েছেন রাজসিক ঢঙে, ১০০, ১৫০, ২০০ পূর্ণ করেছেন ছয় মেরেই। শেষ পর্যন্ত ১৩৬ বলে ২৩৪ রান করেই আউট হয়েছেন। ডোনাল্ড অবশ্য ভাগ্যেরও ছোঁয়া পেয়েছেন, ইনিংসের শুরুতে তাঁর দুইটি ক্যাচ ধরতে পারেনি ডার্বিশায়ারের ফিল্ডাররা। ৯৬ ওভারে ৪৮১ রান নিয়েই কাল দিন শেষ করেছে গ্ল্যামারগন।
    ডোনাল্ডের ১৫ ছক্কার সর্বশেষটি গিয়ে পড়েছে মাঠের পাশ যাওয়া এক গাড়িতে। দ্রুততম সেঞ্চুরির ৩১ বছর পুরোনো রেকর্ডটা শেষ পর্যন্ত ভাঙা হয়নি, তবে গাড়ির কাচ ভেঙেছেন! শুধু দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান নন, গ্ল্যামারগনের ইতিহাসে এর চেয়ে কম বয়সে ২০০ রানও আর কেউ করতে পারেনি। আগের রেকর্ডটা ছিল জন হপকিন্সের, ডোনাল্ডের চেয়ে তখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর বেশি।

  • প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেড ছাড়া কোথাও খেলবেন না রুনি

    প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেড ছাড়া কোথাও খেলবেন না রুনি

    এ বি এন এ : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এক যুগ ধরে খেলছেন। আর প্রিমিয়ার লিগে অন্য ক্লাবের হয়ে খেলবেন না বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার অন্য কোনো ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়াবেন না।
    শৈশবের ক্লাব এভারটনে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন রুনি। ২০০৪ সালে এভারটন ছেড়ে ম্যানইউতে যোগ দেওয়ার পর বেশ কয়েকবারই ক্লাব ছাড়ার কাছাকাছি গিয়েছিলেন।
    তবে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ তারকার সঙ্গে নতুন চুক্তি করে রেড ডেভিলসরা। ২০১৩ সালে ব্লুজদের কোচ থাকাকালীন হোসে মরিনহোও রুনিকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ভাগিয়ে আনতে ব্যর্থ হন।
    ওয়েইন রুনি ফাউন্ডেশন উদ্বোধনকালে রুনি বলেন, ‘ম্যানইউতে আমি এখন বেশ সুখেই আছি। ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, আমি অন্য কোনো প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের হয়ে খেলবো না।’
    ম্যানইউর জার্সিতে ববি চার্লটনের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙতে আর মাত্র পাঁচ গোল দূরে রুনি (২৪৫)।
  • মুস্তাফিজের আশা ছাড়েনি সাসেক্স

    মুস্তাফিজের আশা ছাড়েনি সাসেক্স

    এ বি এন এ : ইংলিশ কাউন্টিতে ন্যাটওয়েস্ট টি ২০ ব্লাস্টের দল সাসেক্সে চলতি মৌসুমে মুস্তাফিজুর রহমান খেলবেন কিনা এ নিয়ে এখনও শংকায় রয়েছে দলটি।

    তবে এখনো আশা ছাড়েনি দলটি। বাংলাদেশী এ পেসারকে দলে পেতে অপেক্ষায় লুক রাইট। দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ডেভিড উইসির চুক্তির মেয়াদ শুধু ২টি ম্যাচের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

    মুস্তাফিজের ব্যাপারে শংকা থাকায় তার পরিবর্তে দলে উইসির চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে যাচ্ছে সাসেক্স। মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে সামারসেট ও সারের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলতে চুক্তিবদ্ধ হন উইসি।

    কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ আইপিএল খেলে দেশে ফিরেছেন। প্রায় দুই মাস সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলা ‘দ্য ফিজ’ বর্তমানে চোটে ভুগছেন। চিকিৎসা ও বিশ্রামের ওপর রয়েছেন তিনি।

    এছাড়া মুস্তাফিজকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    তবে বাংলাদেশ দলের কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে মুস্তাফিজকে সাসেক্সে খেলানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

    এদিকে প্রোটিয়া তারকা উইসি দলের হয়ে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলে দারুণ পারফর্ম করেছেন। সামারসেটের বিপক্ষে ৩৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন চার উইকেট। আর সারের বিপক্ষে ৮ বলে করেছেন ১৬ রান।

    মুস্তাফিজকে যতদিন পর্যন্ত না পাচ্ছে সাসেক্স, ততদিন উইসিকে দলে রাখার কথা জানিয়ে অধিনায়ক রাইট বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান। ডেভিড উইসি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা তাকে রেখে দিচ্ছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি না মুস্তাফিজুরের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কি অবস্থা। তবে আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছি।’

  • মারেকে হারিয়ে জোকোভিচের প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়

    মারেকে হারিয়ে জোকোভিচের প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়

    এ বি এন এ : চতুর্থ সেটে শেষ পয়েন্টটি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেই মাটিতে শুয়ে পড়েন নোভাক জকোভিচ! না কোন ইনজুরি নয়, এটা অধর এক স্বপ্নকে ছুয়ে দেয়ার অভিব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত ১২তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হয়ে রইল তার প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়।
    এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছয়বার, উইম্বলডনে তিনবার ও ইউএস ওপেনে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলেও একমাত্র ফ্রান্সের এই গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা অধরা ছিল জোকোভিচের। রোঁলা গারোয় রবিবার ফাইনালের শুরুটাও ছিল এই সার্বিয়ানের বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষ ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারে প্রথম সেট অনায়াসে জয় করে নেন ৩-৬ ব্যবধানে। ফলে দীর্ঘদিনের ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের স্বপ্ন ম্লান হতে থাকে জোকোভিচের। কিন্তু দ্বিতীয় সেটেই ঘুড়ে দাড়ান টেনিসের শীর্ষে থাকা এই সিডার। পরের দুই সেটে মারেকে কোন সুযোগ না দিয়ে জিতে নেন ৬-১ ও ৬-২ গেমে। আর শেষ সেটে মারে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়লেও শেষ হাসি হাসেন জোকোভিচ। ফলে ৩-৬, ৬-১, ৬-২ ও ৬-৪ গেমে জয় নিয়ে প্রথমবারের মত ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপায় চুমুখান নোভাক জোকোভিচ।
    এর আগে ২০১২, ২০১৪, ২০১৫ আসরেও ফাইনালে উঠেছিলেন জোকোভিচ। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশেষে ২০১৬ সালে চতুর্থ প্রচেষ্টায় ক্লে কোর্টের এই টুর্নামেন্টে সাফল্য পেলেন তিনি। ম্যাচ শেষে আপ্লুত জোকোভিচ বলেন, ‘এটা আমার জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত, আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ঘটনা। …আজকের মতো আমি কখনও রোঁলা গারোতে অনুভব করিনি, আমি দর্শকদের ভালোবাসা অনুভব করেছি।’
    ছেলেদের টেনিসে অষ্টম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন জোকোভিচ। এর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন আন্ড্রে অ্যাগাসি, ডন বাজ, রয় এমারসন, রজার ফেদেরার, রড লেভার, রাফায়েল নাদাল ও ফ্রেড পেরি।
    এক বছরে না হলেও জোকোভিচ টানা চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন। ছেলেদের টেনিসে একই সঙ্গে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেরই চ্যাম্পিয়ন এর আগে কেবল হয়েছিলেন রড লেভার ও ডন বাজ।
  • কাউন্টিতে মুস্তাফিজের খেলার পক্ষে হাথুরুসিংহ

    কাউন্টিতে মুস্তাফিজের খেলার পক্ষে হাথুরুসিংহ

    এ বি এন এ : বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহ বলেছেন, মুস্তাফিজুর রহমান যদি ফিট থাকেন তবে ইংল্যান্ডের কাউন্টিতে অবশ্যই খেলতে যাওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তারা বাংলাদেশের চারজন পেসারকেও নিতে চায় তাহলে চারজনকেই পাঠিয়ে দেয়ার পক্ষে সায় দেবো। মুস্তাফিজুর রহমানকে যেহেতু কাউন্টির সাসেক্স দল নিয়েছে, আমি চাই সে সেখানে খেলুক।
    প্রায় দুইমাস ছুটি কাটানোর পর গত রাতে ঢাকায় ফেরেন হাথুরু। পরে আজ বৃহস্পতিবার দুুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, কাউন্টিতে খেলার কথা বলার কারণ সামেনে আমাদের চ্যাম্পিয়ান ট্রফি আছে। এর স্বাগতিক দল হচ্ছে ইংল্যান্ড। সেখানকার উইকেট হচ্ছে বাউঞ্চি উইকেট। চ্যাম্পিয়ানস ট্রফিতে ভালো করতে হলে পেস বোলারদের ওপর নির্ভর করতে হবে। মুস্তাফিজ যেহেতু কাউন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে আমি চাইবো সে সেখানে খেলুক।
    তিনি আরো বলেন, আমরা চ্যাম্পিয়ানস ট্রফিতে কঠিন গ্রুপে পড়েছি। সেখানে ভালো কারা খুব কঠিন। সেখানে বোলারদের অবশ্যই ভলো করতে হবে। পাশাপাশি সাকিব, তামিম, মুশফিকদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে।
  • ‘এটা তো কেবল শুরু’

    ‘এটা তো কেবল শুরু’

    এ বি এন এ : আসলেন, খেললেন, জিতালেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের প্রথম অভিষেকে টুনার্মেন্টে শিরোপা জয় করে ফিরলেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে শিরোপা জিতে প্রায় ৫৫ দিন পর গতকাল রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মুস্তাফিজকে অভ্যর্থনা জানা বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ আমাদের জাতীয় বীর।’ মুস্তাফিজকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী।

    বিমানবন্দরে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্তও আনুষ্ঠানিকতা সারছিলেন মুস্তাফিজ। বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেড়ে সাংবাদিকদের সামনে মুখোমুখি হন মুস্তাফিজ। এখন কেমন লাগছে? এমন প্রশ্নে শুরুতেই বললেন, ‘এখন কেবলই বাবা-মাকে মনে পড়ছে।’

    প্রথম আইপিএলের গিয়েই শিরোপা জিতে কেমন লাগছে?এমন প্রশ্নে মুস্তাফিজ বলেন, ‘ভালো লাগছে বেশ। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো খেলতে পেরেছি- এতেই বেশ ভালো লাগছে।’

    তিনি আরও যোগ করলেন, ‘এটা তো কেবল শুরু। আমি এখনো শিখছি। ভবিষ্যতেও শিখব।’

    পায়ের চোটের অবস্থা নিয়ে মুস্তাফিজ জানালেন, ‌‘পায়ের চোটটা আছে। আগে বিসিবিতে যোগাযোগ করব। ওখানে চিকিৎসক কী বলে তা জানব। এর পরই পরিকল্পনা করব।’

    ইংরেজি ভাষা বলতে না পারায় ভারতে অনেক সমস্যার মুখে পরতে হয়েছে মুস্তাফিজকে। কিন্তু তাতে কি মুস্তাফিজ বোঝে কেবল ক্রিকেটের ভাষা। এই নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুব ভালো লেগেছে অনেকেই আমার কাছে এসেছেন বাংলা শেখার জন্য। আমি তো কেবল বাংলা আর ক্রিকেটের ভাষা বুঝি। আর অন্যরা আমার কাছে বাংলাও শিখতে চেয়েছে।’

  • মুস্তাফিজ বন্দনায় কিংবদন্তীরা

    মুস্তাফিজ বন্দনায় কিংবদন্তীরা

    এ বি এন এ : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পর মাতিয়েছেন আইপিএল।আইপিএল শেষে তাঁর হাতেই উঠেছে সেরা নতুন প্রতিভার পুরস্কার। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁকে নিয়ে শোনা গিয়েছে নানা মন্তব্য। বিশ্বক্রিকেট মহল ঘুরে ফিরে মন্তব্য করেছে মুস্তাফিজকে নিয়ে।
    জন্য খেলতে পারেননি প্লে অফের একটি ম্যাচ। কিন্তু ফাইনালে ফিরেছেন স্বমহিমায়। আইপিএল শেষে দেখে নেওয়া যাক তাঁকে নিয়ে কে কী বলেছেন,
    রমিজ রাজা: অ্যান্ডারসন, স্টেইনদের মতো প্লেয়াররা রয়েছেন। যাঁরা টেস্টে খুব ভাল। কিন্তু লিমিটেড ওভারের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানই।
    মনোজ প্রভাকর: এটা নিয়ে কোনও সংশয় নেই মুস্তাফিজুরই এই মুহূর্তের সেরা বোলার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ভাল ইয়র্কার করতে পারে। কিন্তু মুস্তাফিজুর এখন তাঁর সেরা ফর্মে রয়েছে। ও দারুণ দ্রুততার সঙ্গে কাটার করতে পারে। একই সঙ্গে বলে নানা রকম পরিবর্তন আনতে পারে।
    কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত: এই মুহূর্তে তাঁর থেকে ভাল বোলার খুব একটা নেই। কিন্তু ওকে এই খেলাটা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে হবে। তার পরই তাঁকে আমরা সেরার তকমা দিতে পারব।
    ডেল স্টেইন: ওয়াসিম আকরামের মধ্যে যে এক্স ফ্যাক্টর ছিল সেটা মুস্তাফিজুরের মধ্যেও আছে। ওর বোলিং দেখতে দারুণ লাগে। ও যেভাবে পেসের পরিবর্তন করে সেটা আগে দেখিনি। ও আরও উন্নতি করবে।
    রবি শাস্ত্রী: এ ছেলে বিস্ময় প্রতিভা। ভারতের বিরুদ্ধে একটা ওয়ান ডে সিরিজে দুটো পাঁচ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিল। এরকম প্রতিভাকে লালন করতে হবে।
    হাবিবুল বাশার: টি২০তে যেখানে বোলারদের উপর চড়াও হয় ব্যাটসম্যানরা সেখানে ও রানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখছে। ওকে মেরে খেলা বিপজ্জনক বলেই ব্যাটসম্যানরা মেরে খেলতে চায় না।
    মুরালিধরন: মুস্তাফিজুর শুধু বাংলাদেশ নয় এই আইপিএল-এ হায়দরাবাদেরও বড় সম্পদ হয়ে উঠে এসেছে। ওকে সঠিক পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তবেই ওর জন্য আগামীতে ও আরও বড় সাফল্য পাবে।
    ডার্ক ন্যানেস: এখনও পর্যন্ত মুস্তাফিজুরের বল কেউ পড়তে পারেনি। যে ভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে বলের গতি বদলে ফেলতে পারে সেটাই সবাইকে ধন্দে ফেলে দেয়।
  • সবচেয়ে আলোচিত মুস্তাফিজ

    সবচেয়ে আলোচিত মুস্তাফিজ

    এ বি এন এ : এক ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে রাখেনি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে। এতেই বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমীরা যেন ধুয়ে দিচ্ছিলেন ওয়ার্নার এবং তার দলকে।

     

    সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার মুস্তাফিজ নেমেছিলেন ফাইনাল খেলতে এবং শেষ বেলাতেও বাজিমাত করলেন তিনি।

     

    পেলেন আইপিএলের সেরা নবাগত খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এ নিয়ে কোনো সংশয় থাকার কথাও ছিল না। এ বারের আইপিএলে যদি সব থেকে বেশি কাউকে নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে তো সেটা তিনিই, মুস্তাফিজ।

     

    ব্যাট হাতে তাকে নামতে হয়নি। কিন্তু বল হাতে দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বড় ভূমিকা রেখে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের জন্য প্লে অফের ম্যাচে খেলতে পারেননি এই বিস্ময় বোলার।

     

    আসলে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি হায়দরাবাদ টিম ম্যানেজমেন্টও। তুলে রেখেছিল ফাইনালের জন্যই। ফাইনালে মোক্ষম সময়ে নামিয়ে প্রতিপক্ষের রানকে নিয়ন্ত্রণ করল হায়দরাবাদ।

     

    যখন স্রান, এনরিকসরা ভূরি ভূরি রান তুলে দিচ্ছিলেন ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানদের, তখনই মুস্তাফিজুরকে এনে বাজিমাত সানরাইজার্সের। ৪ ওভার বল করে নিলেন ১টি উইকেট। দিলেন ৩৭ রান।

     

    আইপিএলের শুরু থেকেই সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্লে অফের আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট দলের কপালে সাময়িক ভাঁজ ফেললেও ফাইনালে নেমেছিলেন স্বমহিমায়। নেমেই প্যাভেলিয়নে পাঠালেন ওয়াটসনকে। তার বলেই রান আউট হন স্টুয়ার্ট বিনি। আবির্ভাবেই বাজিমাত বাংলাদেশী এই পেসারের। ১৭ ম্যাচে ৪৫৮ রান দিয়ে ১৮ উইকেট লিখে নিয়েছেন নিজের নামের পাশে। সেরা বোলিং ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট। গড় ২৪.৭৬। স্ট্রাইক রেট ২১.৫৩।

  • আইপিএলের ‘সেরা উদীয়মান’ মুস্তাফিজ

    আইপিএলের ‘সেরা উদীয়মান’ মুস্তাফিজ

    এ বি এন এ : সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রতিটি ম্যাচেই আলাদাভাবে উচ্চারিত হয়েছে তাঁর নাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ে হায়দরাবাদের সাফল্যে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আইপিএলে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার প্রতিদান মুস্তাফিজুর রহমান পেলেন হাতে হাতেই। প্রথম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে পেয়েছেন এবারের আইপিএলের ‘সেরা উদীয়মান’ ক্রিকেটারের পুরস্কার।
    আইপিএলের বিভিন্ন আসরে আলাদা নামে পরিচিত এই পুরস্কার এত দিন পেয়ে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররাই। এবারই প্রথম কোনো বিদেশি ক্রিকেটারের হাতে তুলে দেওয়া হলো পুরস্কারটি।

     
    গত বছর এপ্রিলে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকেই মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। ২ টেস্ট, ৯ ওয়ানডে আর ১৩ টি-টোয়েন্টিতে দেশের হয়ে খেলতে নেমে তুলে নিয়েছেন ৫২ উইকেট (টেস্টে ৪টি, ওয়ানডেতে ২৬টি, টি-টোয়েন্টিতে ২২টি)। ক্রিকেট–দুনিয়াকে মুগ্ধ করেছেন তাঁর দুর্দান্ত কাটার আর স্লোয়ারে। আইপিএলে হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে গিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সাফল্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। ১৬ ম্যাচে ২৪.৭৬ গড়ে তুলে নিয়েছেন ১৭ উইকেট, ইকোনমি রেট ৬.৯০। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বোলারদের জন্য কঠিন হলেও মুস্তাফিজের বল খেলাই ছিল আইপিএলে ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় পরীক্ষা।

     
    রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে গত রাতের ফাইনালেও খুব খারাপ করেননি। রান-উৎসবের মাঝে ৪ ওভার বল করে ৩৭ রান দিয়েছেন। ক্রিস গেইল আর বিরাট কোহলির ঝড়ের মধ্যে বল হাতে সমীহ জাগিয়েছেন বারবারই। শেন ওয়াটসনের উইকেটটি পেয়েছেন, কিন্তু সতীর্থ ফিল্ডার ক্যাচ মিস না করলে পেয়ে যেতে পারতেন আরও একটি উইকেট।

  • চ্যাম্পিয়ন মুস্তাফিজের হায়দরাবাদ

    চ্যাম্পিয়ন মুস্তাফিজের হায়দরাবাদ

    এ বি এন এ : এলেন, খেললেন, জিতলেন! মাঠে নামা নিয়েই সংশয় ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের। ম্যাচ শুরুর আগেই অবশ্য ফেসবুকে মুস্তাফিজ জানালেন, খেলছেন তিনি। খেললেন, জিতল তাঁর দলও। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতে নিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

     
    ফাইনালটি অবশ্য হয়েছে ঠিক ফাইনালের মতোই। শেষ ওভার পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ ৫ ওভারে বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ৫১ রান, হাতে ৭ উইকেট। এ অবস্থায় হায়দরাবাদের পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিল না খুব বেশি। তবে ম্যাচসেরা বেন কাটিংয়ের করা ১৫তম ওভারে ঘুরে গেল ম্যাচের ভাগ্য, ৪ রানে নিলেন ১ উইকেট। পরের ওভারে কাঁটা হয়ে থাকা ওয়াটসনকেও ফেরালেন মুস্তাফিজ। শেষ চার ওভারে মুস্তাফিজ ও ভুবনেশ্বর কুমার দিলেন মাত্র ৩৮ রান। এই দুজনের বোলিংই নিশ্চিত করে দিল আবারও নিশ্বাস ফেলা দূরত্ব থেকে খালি হাতে ফিরতে হবে বেঙ্গালুরুকে।

     
    অথচ ২০৯ তাড়া করতে নেমে ১০.২ ওভারে বিনা উইকেটেই ১১৪ রান করে ফেলেছিল বেঙ্গালুরু। ৩৮ বলে ৭৬ রান করে গেইল ফেরার পরই মড়ক লাগে বেঙ্গালুরু ইনিংসে। একটু পরে ফেরেন বিরাট কোহলি (৫৪) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫)।
    এর আগে ৩৮ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৯ রান করে বড় স্কোরের ভিত্তি এনে দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। সেই ভিত্তি কাজে লাগিয়েছেন কাটিং, ১৫ বলে ৩৯ রানের ঝড় তুলে তিনিই দলকে নিয়েছেন ২০৮ রানের নিরাপদ দূরত্বে।