Category: আইন ও আদালত

  • হাইকোর্টে খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মুলতবি

    হাইকোর্টে খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মুলতবি

    এবিএনএ:  যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যামামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিলের আবেদনের শুনানি গতকাল হাইকোর্টে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও খায়রুল হকের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত আদালত শুনানি স্থগিত করে আগামী ১৭ আগস্ট সকাল ১১টায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

    ঘটনাটি ঘটে বিচারপতি জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। খায়রুল হকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এম কে রহমান, কামরুল হক সিদ্দিকী, জেড আই খান পান্না, মোহসীন রশিদসহ আওয়ামীপন্থি বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

    শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি শুনানির জন্য এক সপ্তাহ সময় নিতে বলেছেন। এতে খায়রুল হকের আইনজীবীরা আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    এ সময় খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে এবং তারা বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় আদালতে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ক্ষেত্রে তারা কোথায় ছিলেন।

    খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা হয়। পরবর্তীতে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    জুলাই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। গত ২৪ জুলাই ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে যাত্রাবাড়ী ও ফতুল্লার দুটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

  • হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পেলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার

    হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পেলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার

    এবিএনএ: উত্তরার হত্যাচেষ্টা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী শমী কায়সার। সোমবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    রোববার (১০ আগস্ট) বিচারপতি এএসএম আবদুল মবিন ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তার আবেদনের শুনানি হয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উত্তরা আজমপুর এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্র জুবায়ের হাসান ইউসুফসহ আরও অনেকে।

    পরবর্তীতে ২২ আগস্ট জুবায়ের থানায় মামলা করেন। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলার আসামিদের তালিকায় ছিলেন শমী কায়সারও।

    গত বছরের ৫ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উত্তরার সেক্টর-৪ এর বাসা থেকে আটক করে। পরদিন তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ নয় মাসের আইনি প্রক্রিয়ার পর এবার হাইকোর্টের আদেশে মুক্তির স্বস্তি পেলেন তিনি।

  • “দীপু মনির অনৈতিক আবদার না মানায় আমি অপবাদের শিকার: আদালতে কলিমউল্লাহর বিস্ফোরক বক্তব্য”

    “দীপু মনির অনৈতিক আবদার না মানায় আমি অপবাদের শিকার: আদালতে কলিমউল্লাহর বিস্ফোরক বক্তব্য”

    এবিএনএ:  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ আদালতে অভিযোগ করেছেন, “দীপু মনি তার অনৈতিক আবদার পূরণ না করায় আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো হয়েছে।”

    বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে জামিন শুনানির সময় তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে, জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শাহনাজ আক্তার। তবে দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি জামিনের বিরোধিতা করেন।

    শুনানিতে কলিমউল্লাহ বলেন, “আমি প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেছি। ঢাকায় বসে অফিস করলেও সব দায়িত্ব পালন করেছি। আমি দীপু মনির অন্যায় আবদারে সাড়া দিইনি, তাই তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব অপবাদ ছড়িয়েছেন।”

    বিচারক তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কয় সালে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন?” উত্তরে কলিমউল্লাহ জানান, “২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার আমাকে নিয়োগ দেয়।”

    বিচারক তখন বলেন, “১৩৫২ দিনের মধ্যে আপনি ১১১৫ দিন ঢাকায় ছিলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?” জবাবে তিনি বলেন, “রাতের বেলা টকশো করতাম, দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতাম।”

    এ সময় আদালত জানতে চান, “উন্নয়ন খাতে কোনো টাকা পেয়েছেন কি?” উত্তরে তিনি বলেন, “আমার আগের উপাচার্যের সময় ৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প চলছিল, আমি দায়িত্ব নিয়ে তা চালিয়ে গেছি।”

    আদালতে কলিমউল্লাহ আরও জানান, “আমাকে কোনো চিঠি বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। সকালবেলা পুলিশ বাসা থেকে ধরে এনেছে। আমি নিজেই এক পোশাকে আদালতে এসেছি।”

    বিচারক মন্তব্য করেন, “দুনিয়া থেকে বিদায়ের সময় বা জেলে যাওয়ার সময় কেউ সঙ্গে যায় না। দুর্নীতিবাজরা কবরেও একা, জেলেও একা। আপনি কী করেছেন, তা আপনি এবং আল্লাহ জানেন। তদন্ত হলে সব পরিষ্কার হবে।”

    শুনানি শেষে আদালত কলিমউল্লাহকে হাজতখানায় পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত ১৮ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

  • গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা’ রিয়াদসহ ৪ জন ৭ দিনের রিমান্ডে

    গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা’ রিয়াদসহ ৪ জন ৭ দিনের রিমান্ডে

    এবিএনএ:  গুলশানের একটি বাসায় সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    রবিবার (২৭ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান এই আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন—সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব এবং মো. ইব্রাহিম হোসেন।

    এর আগে, গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান রিয়াদসহ চারজনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। একই সঙ্গে ‘আইনের সংঘাতে জড়িত’ এক কিশোর আমিনুল ইসলামকে হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন, এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফরের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকালে আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে অবস্থিত শাম্মী আহমেদের বাসায় যান এবং ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, দাবিকৃত অর্থ না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে অপবাদ দেবেন।

    চাপে পড়ে বাদী সিদ্দিক তার নিজের ও ভাইয়ের কাছ থেকে মোট ১০ লাখ টাকা দেন। এরপর ১৯ জুলাই রাত ১০টার দিকে আসামিরা বাদীর বাসায় ফের অনুপ্রবেশ করেন এবং দরজায় ধাক্কা দেন। ২৬ জুলাই বিকেলেও রিয়াদের নেতৃত্বে আসামিরা ফের এসে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেন।

    গুলশান থানায় অবহিত করার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে এজাহারভুক্ত আসামি কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তদন্ত চলছে।

  • অবৈধ সম্পদের অভিযোগে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা!

    অবৈধ সম্পদের অভিযোগে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা!

    এবিএনএ:  অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রবিবার এই মামলাগুলো দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

    দুদকের দায়ের করা প্রথম মামলায় অভিযোগ রয়েছে, শেখ আব্দুল হান্নান নিজের বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনও পাওয়া গেছে, যা মানি লন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে।

    এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি অজানা উৎস থেকে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য দুদক পেয়েছে।

    এই মামলায় তাহমিদাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে অবৈধ সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়তা করার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

    এ ব্যাপারে দুদক জানিয়েছে, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ বিবরণীতে গরমিলের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

  • ‘তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায় দেশের ক্ষতি করেছে’—বিচার চাইলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও আইনজীবী খোকন

    ‘তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায় দেশের ক্ষতি করেছে’—বিচার চাইলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও আইনজীবী খোকন

    খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল, এবিএনএ: সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনি বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলএলএম ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুলা) সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আলী আহমেদ খোকন। তিনি এক সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামীপন্থী আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত।

    বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে খোকন লেখেন, “অবশেষে একটি সুসংবাদ এলো—দেশ ও আওয়ামী লীগ ধ্বংসকারী বিচারপতি খায়রুল হকের গ্রেপ্তার। আমি চাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।”

    এবিএনএ কে  অ্যাডভোকেট খোকন বলেন, “খায়রুল হকের কারণেই আজ আওয়ামী লীগ দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। তিনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন।”

    ডিবি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

    তার বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বিচারপতি থাকাকালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন, যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে দেয়।

    ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর খায়রুল হক দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    প্রসঙ্গত, খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রয়োদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এছাড়া ইসলামিক ফতোয়ার বৈধতা নিয়েও রায় দেন, যা নিয়েও বহু বিতর্ক রয়েছে।

    অ্যাডভোকেট খোকন তার বক্তব্যে বলেন, “এমন একটি রায় দিয়ে তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং গোটা জাতির গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আঘাত করেছিলেন। এই অপরাধের জন্য তার বিচার হওয়া উচিত।”

  • দুর্নীতির তদন্তে সাবেক মন্ত্রী গাজীর কোটি টাকার সম্পদ ও শেয়ার অবরুদ্ধ

    দুর্নীতির তদন্তে সাবেক মন্ত্রী গাজীর কোটি টাকার সম্পদ ও শেয়ার অবরুদ্ধ

    এবিএনএ:  সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিপুল সম্পদ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ প্রদান করেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ১২টি কোম্পানির শেয়ার, নয়টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি অবরুদ্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে।

    দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকার আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ লুকানোর কিংবা অন্যের নামে হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। তদন্ত চলমান অবস্থায় এসব সম্পদ স্থানান্তর বন্ধ করতে অবরুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

    আদালত মোট ২৪ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশ দেন। একইসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশে যাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যাতে তিনি তদন্ত চলাকালে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলমান তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে এবং প্রয়োজনে সম্পদের পরিমাণ ও অবরুদ্ধের পরিধি বাড়ানো হতে পারে।

    এ ঘটনায় রাজনীতিসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার তদন্ত ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

  • স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক

    স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এনআইডি ব্লক

    এবিএনএ, ঢাকা:

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দপ্তরের দুই সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সাময়িকভাবে স্থগিত (ব্লক) করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

    দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

    আবেদনে আরও বলা হয়, তারা অর্জিত সম্পদ হস্তান্তর করে বিদেশে পলায়নের পরিকল্পনা করছেন বলে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এতে দুর্নীতির অনুসন্ধান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    আদালত তাদের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেন:

    • দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সাময়িকভাবে ব্লক করা

    দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে গেলে এসব সম্পদের ট্রেসিং ও বাজেয়াপ্ত করার কাজ ব্যাহত হতে পারে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন এই আদেশ। এই ধরণের আইনি পদক্ষেপ জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • গণভবনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের অনুরোধ, পা ধরে কেঁদে ফেলেন শেখ রেহানা!

    গণভবনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের অনুরোধ, পা ধরে কেঁদে ফেলেন শেখ রেহানা!

    এবিএনএ, 

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পা ধরে তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করেছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

    রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে বিচারকদের সামনে লিখিতভাবে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর আদালতে জুলাই-আগস্ট মাসের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে বলেন, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ মুহূর্তেও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং রক্তপাতের পথ বেছে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট শেখ রেহানা গণভবনে শেখ হাসিনার পা ধরে পদত্যাগ করার অনুরোধ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধের পর তিনি পদত্যাগ করতে রাজি হন।

    আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব যে শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের বিচার এবং অপরাধ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে রয়েছে।

    এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

  • হাইকোর্ট নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, সারজিস আলমকে আইনি নোটিশ জারি

    হাইকোর্ট নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, সারজিস আলমকে আইনি নোটিশ জারি

    এবিএনএ: 

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমকে হাইকোর্টের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন এই নোটিশটি প্রেরণ করেন।

    সম্প্রতি বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর জন্য করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের যৌথ বেঞ্চ। রিট খারিজ হওয়ার পরপরই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেন।

    ওই পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাইকোর্টের দরকার কি?” — যা আদালতের মর্যাদার পরিপন্থী এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

    আইনি নোটিশে সারজিস আলমকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত দুই ঘণ্টার মধ্যে এই পদক্ষেপ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে অনেকেই মত দিয়েছেন যে, এ ধরনের মন্তব্য একজন সংগঠকের কাছ থেকে অনভিপ্রেত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। আদালতের প্রতি সম্মান রক্ষা করা সকল নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

    সারজিস আলমের প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি, তবে তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আদালতের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে।