Category: আইন ও আদালত

  • সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    এবিএনএ: অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে ধারা ছিল, সেটি পুনর্বহালেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী একটি রিট আবেদন করেন। এতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

    রিটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি’ কর্তৃক এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান যুক্ত হয়।

    আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে সেই বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়। সর্বশেষ হাইকোর্টের রায়ে এ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

  • সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    এবিএনএ:  রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক আসামিদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

    কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌসিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহাম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

    শুক্রবার সকালে তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন জানান। তবে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর হয়।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত “আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হন লতিফ সিদ্দিকী। ওই সভায় আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    বিকেলে শাহবাগ থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তরের পর রাতে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।

  • জামিন নিতে অস্বীকৃতি, আদালতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লতিফ সিদ্দিকী

    জামিন নিতে অস্বীকৃতি, আদালতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লতিফ সিদ্দিকী

    এবিএনএ:  রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিন নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি আইনজীবীর ওকালতনামায় স্বাক্ষর না করায় তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

    শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি আদালতে উপস্থিত হয়ে নিশ্চিত করেন তার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ। তিনি জানান, জামিন সংক্রান্ত ওকালতনামায় স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “যে আদালতের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নেই, সেখানে আমি কেন আবেদন করব? আমি স্বাক্ষর করব না, জামিনও চাইব না।”

    অন্যদিকে মামলার বাকি আসামিদের জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। তবে শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক সেসব আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    কারাগারে প্রেরিতদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌসিফুল বারী খানসহ আরও অনেকে।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আদালতে আসামিদের আটক রাখার আবেদন জানান। তবে আইনজীবীরা তাদের জামিনের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ‘মঞ্চ ৭১’-এর উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এটি আসলে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্ল্যাটফর্ম।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীও। তবে তাকে ঘিরে একদল আন্দোলনকারী আওয়ামী লীগের সহযোগী আখ্যা দিয়ে স্লোগান শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

  • রিমান্ডে সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ: আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি

    রিমান্ডে সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ: আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি

    এবিএনএ:  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে দুর্নীতির মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর পর তাঁকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    আদালত প্রাঙ্গণে দুপুরে হাজির হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে হেলমেট পরিয়ে আদালতের এজলাসে নেওয়া হলে প্রায় ৫০ মিনিট তিনি নীরবভাবে বসে থাকেন। বেলা ২টা ৫২ মিনিটে শুনানি শুরু হয়।

    দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম অভিযোগ করেন, সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট নির্মাণে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া ঠিকাদারকে আইনবহির্ভূতভাবে ঋণ দেওয়া এবং ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বসে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

    আদালতে নিজের বক্তব্যে কলিমুল্লাহ জানান, এসব অনিয়ম আগের উপাচার্যের আমল থেকে শুরু হয়, তিনি শুধু কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

    আদালত তাঁর বক্তব্য শোনার পর মন্তব্য করেন, দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। পরবর্তীতে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে দুদককে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

    প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে কলিমুল্লাহ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। দুদক যেন কার্যকরভাবে কাজ করে।” বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

    গত জুনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলাতেই তিনি এখন রিমান্ডে রয়েছেন।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বুধবার আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী ২১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, আপিল বিভাগ কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং এমন একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা চান, যা দেশে গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকালীন সংকট এড়াতে সহায়তা করবে।

    তিনি প্রশ্ন রাখেন—“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে?” তবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, রায়ের পর এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হতে পারে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ন্যায়বিচার নষ্ট হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে সিস্টেম। সেই কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। জনগণের ইচ্ছাই নির্ধারণ করেছে কে প্রধান বিচারপতি ও কে সরকারপ্রধান হবেন। এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করলে বিপ্লবের জন্ম হয়। তিনি ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও আদালতে স্মরণ করিয়ে দেন।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া ও আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

  • দেশজুড়ে বড় রদবদল: একযোগে বদলি হলেন ২৩০ বিচারক

    দেশজুড়ে বড় রদবদল: একযোগে বদলি হলেন ২৩০ বিচারক

    এবিএনএ:  দেশের বিচারবিভাগে একযোগে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, মোট ২৩০ জন বিচারককে একসঙ্গে বদলি করা হয়েছে।

    এর মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ৪১ জন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ৫৩ জন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের ৪০ জন এবং সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পর্যায়ের ৯৬ জন রয়েছেন।

    সোমবার চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী তিন দিনের মধ্যে নিজ নিজ বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

    এদিকে আইনের শৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় রাখতে এই বদলিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ২০১৮ সালের নির্বাচনের বদনাম ঘোচাতে চায় পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

    ২০১৮ সালের নির্বাচনের বদনাম ঘোচাতে চায় পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

    এবিএনএ:  ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ২০১৮ সালের কলঙ্কজনক নির্বাচনের পর পুলিশের যে বদনাম হয়েছিল, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই বদনাম ঘোচানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচন দেশে-বিদেশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমি মনে করি। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকভাবে কাজ করবে পুলিশ।

    শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ক্র্যাব নাইট’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ক্র্যাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি ও ২০২৪ সালের কমিটির নেতা এবং চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্র্যাব সদস্যদের সন্তানদের সম্মাননা দেওয়া হয়। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, জ্যোতি ও তরুণ মুন্সী।

    তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে পুলিশের অনেক সদস্য মারা গেছেন, পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনারও ক্ষতি হয়েছে। বড় ক্ষতি হয়েছে পুলিশের মনোবলের। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুলিশের মনোবল পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি।

    ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন অনুষ্ঠানে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

    অনুষ্ঠানে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ্সহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    এবিএনএ: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। অন্যদিকে আসামি পক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে মঙ্গলবারও একই বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে বিষয়টি আজকের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছিল।

    এ বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত তখন বলেন, মামলাটি আইনগতভাবে টেকসই ছিল না এবং অভিযোগপত্রটি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

    পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ১ জুন আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দেয়।

    উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

    ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে খালাস দেন।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চলছে, যা মামলার ভবিষ্যৎ বিচারিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ২০১৬ সালে গাজীপুরে ‘সাজানো জঙ্গি নাটক’ দেখিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

    সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

    তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট পুলিশের সহায়তায় একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে সাতজন যুবক নিহত হন।

    প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, নিহতদের কাউকে ওই ঘটনার আগে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে এনে বাড়িতে আটকে রেখে নাটক সাজানো হয় এবং পরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ঘটনাটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন।

    গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

    এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থকে ঘিরে সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ ১২৩ জনের অর্থ ও ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নজরদারি শুরু করেছে।

  • ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে আসা রিকশাচালক আজিজুর এখন কারাগারে

    ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে আসা রিকশাচালক আজিজুর এখন কারাগারে

    এবিএনএ:  রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা রিকশাচালক আজিজুর রহমান শেষ পর্যন্ত কারাগারে গিয়েছেন। গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের আদেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    শনিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত এই নির্দেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

    শুক্রবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাধারণ মানুষের হাতে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। আদালতে তার পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আটকের আগে আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কেবল বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি বলেই হালাল উপার্জনের টাকায় ফুল কিনে এখানে এসেছিলাম। আমার উদ্দেশ্য রাজনীতি নয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা।”

    মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী মো. আরিফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি, পেট্রোল বোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি দীর্ঘ দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এ বছরের ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

    তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুর রহমানকে ওই হত্যাচেষ্টা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।