অর্থ বাণিজ্য

৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

রপ্তানি কমা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়ছে ঘাটতি; রেমিট্যান্স বাড়লেও সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা

এবিএনএ: চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বৈদেশিক লেনদেন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যায়। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় মোট আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বাড়তেই থাকে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও গভীর হয়।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় আমদানি কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য

চলতি হিসাবের ভারসাম্যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে সূচকটি।

সামগ্রিক লেনদেনে ইতিবাচক অবস্থান

সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের চিত্র তুলনামূলক ভালো রয়েছে। আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলারে উদ্বৃত্ত। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলারে ছিল।

রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল এক হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজার

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) কিছুটা কমতি দেখা গেছে। আলোচিত সময়ে দেশে এসেছে ৮৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ডলার।

অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নিট হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। আগের অর্থবছরেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button