Tag: অর্থনীতি

  • স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    এবিএনএ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এখন দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

    শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মহীন শ্রমিকরা আবার কাজের সুযোগ পান। এ বিষয়ে অগ্রগতি তদারকিতে নিয়মিত বৈঠকও চলছে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করলেই বেকার সমস্যার সমাধান হবে না। দেশে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক রয়েছে, যাদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারও সম্প্রসারণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, শিল্পায়ন বাড়লে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

    রাজধানীতে হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত হকার বসার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল, তাই তাদের সরানো হয়েছে। তবে তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, সব হকারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

  • ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।

    কংগ্রেসে কী জানানো হয়েছে?

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে খরচ হয়েছে।

    তবে এই ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির সংস্কার বা পুনর্গঠনের খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যয়ের খাত ও ক্ষয়ক্ষতি

    হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই সংঘাতে রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই তথ্য প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চাওয়া হচ্ছিল।

    আগের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য

    উল্লেখ্য, গত মাসে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। বর্তমান হিসাব সেই তুলনায় অনেক বেশি, যা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

    এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতি ও জনমত

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

    এদিকে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনগণের সমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন।

  • যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    এবিএনএ:  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সব স্তরে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়লেও সরকার জনগণের স্বার্থে দাম বাড়ায়নি; বরং প্রতিদিন বিপুল ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি। এতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক পর্যায়েও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি খাতে অপচয় কমাতে সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে।

    স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

    অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) সহ ১৫ জন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

    সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

    নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। দলীয় ইশতেহার ও ঘোষিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কয়েকজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

  • প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গতি, আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গতি, আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    এবিএনএ:  প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহে আবারও শক্তিশালী হয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার পর এপ্রিলেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। এর ফলেই মোট রিজার্ভ ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

    এর এক মাস আগে ১৬ মার্চ মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট রিজার্ভ থাকে, সেটিই প্রকৃত শক্তি নির্দেশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করে থাকে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। মাসে গড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।

    এক সময় রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ায় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং অর্থপাচার রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। এতে রিজার্ভ আরও উন্নত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ডলারের মূল্য অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তখন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও বৈদেশিক চাপের কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি ব্যয়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

    পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয় এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হয়। আমদানি বিধিনিষেধও পর্যায়ক্রমে শিথিল করা হয়। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধার সহজ হয়।

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    গত কয়েক মাস ধরেই প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এতে রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে ফিরে আসছে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি জাহাজ, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

    মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি জাহাজ, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ ধাপে ধাপে দেশে আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে গ্যাসবাহী আরেকটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। এতে দেশে তরল গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর পরদিন সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে আসার সূচি রয়েছে।

    এলপিজি বা লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ। এটি সিলিন্ডারে ভরে গৃহস্থালি রান্না, রেস্তোরাঁ এবং কিছু যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাইপলাইন সুবিধা নেই এমন এলাকায় এলপিজিই রান্না ও ক্ষুদ্র শিল্পের তাপ উৎপাদনের প্রধান উৎস।

    অন্যদিকে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষিত হয় এবং প্রধানত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় শিল্পকারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার, টেক্সটাইল, সিরামিকসহ ভারী শিল্পে প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সমুদ্রগামী জাহাজ ও দূরপাল্লার ভারী যানবাহনেও এলএনজির ব্যবহার বাড়ছে।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

    এবিএনএ: চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বৈদেশিক লেনদেন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যায়। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় মোট আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

    অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বাড়তেই থাকে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও গভীর হয়।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় আমদানি কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

    চলতি হিসাবের ভারসাম্য

    চলতি হিসাবের ভারসাম্যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে সূচকটি।

    সামগ্রিক লেনদেনে ইতিবাচক অবস্থান

    সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের চিত্র তুলনামূলক ভালো রয়েছে। আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলারে উদ্বৃত্ত। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলারে ছিল।

    রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি

    চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল এক হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ।

    বিদেশি বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজার

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) কিছুটা কমতি দেখা গেছে। আলোচিত সময়ে দেশে এসেছে ৮৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নিট হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। আগের অর্থবছরেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় পরিকল্পনা: সংসদে অর্থমন্ত্রীর চমকপ্রদ ঘোষণা

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় পরিকল্পনা: সংসদে অর্থমন্ত্রীর চমকপ্রদ ঘোষণা

    এবিএনএ: বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। জ্বালানি সংকট নিরসন থেকে শুরু করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ।

    ৫০ লাখ পরিবারকে সরাসরি সহায়তা

    নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে সরাসরি ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে।

    ব্যাংকিং খাতে কঠোর পদক্ষেপ

    দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম দূর করতে ব্যাংক খাতে কঠোর সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। খেলাপি ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

    জ্বালানি ও কৃষি খাতে নতুন উদ্যোগ

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে কৃষি বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি

    কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি টেকসই, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।”

    এছাড়া সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • পুঁজিবাজারে বড় ধস: একদিনেই ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট পতন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

    পুঁজিবাজারে বড় ধস: একদিনেই ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট পতন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

    এবিএনএ: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) লেনদেন শেষে দেখা গেছে, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক লাফে ১০৭ পয়েন্ট কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমেছে ১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক হ্রাস পেয়েছে ৩৫ পয়েন্ট।

    লেনদেনের দিক থেকেও ঢাকার বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫১২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৬২৫ কোটির বেশি।

    বাজারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর নিম্নমুখী ছিল। মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৫টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৪টির দাম কমেছে এবং অল্প কিছু অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেশ কয়েকটি পরিচিত কোম্পানি, যার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, বীমা, স্টিল ও খাদ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকও নিম্নমুখী ছিল। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের পরিমাণ সেখানে বেড়েছে, যা বাজারে কিছুটা ভিন্ন প্রবণতা নির্দেশ করছে।

    সিএসইতে এদিন ৪৩ কোটির বেশি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে এখানেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে আস্থার ঘাটতি, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই এই পতন দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতেই এমন বড় পতন পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • ব্যাংক খাতে ধাক্কা: ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে অর্ধেক!

    ব্যাংক খাতে ধাক্কা: ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে অর্ধেক!

    এবিএনএ: দেশের ব্যাংকিং খাত ২০২৪ সালে এক কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় আর্থিক চাপের কারণে ১৭টি ব্যাংক লাভ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব ব্যাংক কিছুটা মুনাফা করেছে, তাদের আয়ের পরিমাণও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের ওপর।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করেছে ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গত এক দশকের হিসাব বলছে, এটি সিএসআর ব্যয়ের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২০১৫ সালে এ খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় হয়েছিল ৫২৭ কোটি টাকার কিছু বেশি। সেই তুলনায় বর্তমান ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা খাতটির নিম্নমুখী প্রবণতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

    পূর্ববর্তী বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি টাকার বেশি এবং ২০২২ সালে তা ছাড়িয়েছিল ১ হাজার কোটি টাকা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় কমেছে অর্ধ ট্রিলিয়নেরও বেশি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের আর্থিক দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসায় প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চিত্র পরিষ্কার হতে শুরু করে।

    বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের প্রভাব এসব ব্যাংকের স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগও নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। ফলে এখন ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ব্যয় করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই তহবিল প্রকৃত সামাজিক উন্নয়নের পরিবর্তে অন্য খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।

    নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে এ নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে, যেখানে বরাদ্দ গেছে ৩৬ শতাংশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় তুলনামূলক কম এবং পরিবেশ খাতে ব্যয় সবচেয়ে কম।

    প্রতিবেদন আরও জানায়, ১১টি ব্যাংক গত বছরে সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। অন্যদিকে, কিছু ব্যাংক লোকসানে থেকেও সীমিত পরিসরে সিএসআর কার্যক্রম চালিয়ে গেছে, যা খাতটির বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরে।

    সব মিলিয়ে, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।