জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় পরিকল্পনা: সংসদে অর্থমন্ত্রীর চমকপ্রদ ঘোষণা
বিকল্প জ্বালানি আমদানি, কৃষি বিমা চালু ও ৫০ লাখ পরিবারকে সরাসরি ভাতা—অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ


এবিএনএ: বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। জ্বালানি সংকট নিরসন থেকে শুরু করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ।
৫০ লাখ পরিবারকে সরাসরি সহায়তা
নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে সরাসরি ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে।
ব্যাংকিং খাতে কঠোর পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম দূর করতে ব্যাংক খাতে কঠোর সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। খেলাপি ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হবে কার্যকর ব্যবস্থা।
জ্বালানি ও কৃষি খাতে নতুন উদ্যোগ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে কৃষি বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি
কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি টেকসই, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।”
এছাড়া সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




