Tag: সংসদ অধিবেশন

  • ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখালে চলবে না এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

    শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর বিরোধী দলের আপত্তি ও সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই স্পিকার মন্তব্য করেন, “দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে শুনতে হবে।”

    স্পিকার আরও বলেন, সংসদে মৌখিক বক্তব্যের সুযোগ সীমিত। সদস্যদের নোটিশের মাধ্যমে প্রস্তাব দিতে হবে এবং সেসব নোটিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং চাইলে সদস্যরা সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারেন।

    বর্তমান সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশ রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা সংসদীয় ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

    হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ তুলে ধরা উচিত। পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনী বিল আনার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারপক্ষ তা বিবেচনা করতে পারে।

    স্পিকার আরও জানান, গণতন্ত্রে মতভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একদিনেই ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার অধিবেশনের ১২তম দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন খাতের সংশোধনী আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অবিকল রেখে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংশোধন, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী, শ্রম আইন, ইউনিয়ন পরিষদ, আইনগত সহায়তা প্রদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংশোধনী বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ, বাংলাদেশ গ্যাস, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণসহ একাধিক নতুন আইনও পাস হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর—পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ সম্পর্কিত সংশোধনী বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    এছাড়া ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন সংশোধন বিলও পাস হয়েছে।

    অন্যদিকে কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করেছে সংসদ। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশও রহিত করা হয়েছে।

    এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে কমিশনের কার্যক্রম পূর্বের আইনি কাঠামোতে পরিচালিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত, ৩ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত

    অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত, ৩ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। একইসঙ্গে আপত্তি ওঠায় আরও তিনটি বিল তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব বিল উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে একে একে সাতটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সংসদে এদিন মোট ১০টি বিল উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি বিল পাস হলেও তিনটি বিল নিয়ে সদস্যদের আপত্তি থাকায় সেগুলো আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

    যেসব সাতটি বিল পাস হয়েছে সেগুলো হলো— ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সম্পর্কিত অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (সংশোধন) আইন-২০২৬।

    এদিকে আলোচনার জন্য রাখা তিনটি বিল হলো— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণ আইন-২০২৬। এসব বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পুনরায় সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।

    জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইন হিসেবে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে ১০টি বিল সংসদে তোলা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো পর্যায়ক্রমে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় পরিকল্পনা: সংসদে অর্থমন্ত্রীর চমকপ্রদ ঘোষণা

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় পরিকল্পনা: সংসদে অর্থমন্ত্রীর চমকপ্রদ ঘোষণা

    এবিএনএ: বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। জ্বালানি সংকট নিরসন থেকে শুরু করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ।

    ৫০ লাখ পরিবারকে সরাসরি সহায়তা

    নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে সরাসরি ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে।

    ব্যাংকিং খাতে কঠোর পদক্ষেপ

    দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম দূর করতে ব্যাংক খাতে কঠোর সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। খেলাপি ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

    জ্বালানি ও কৃষি খাতে নতুন উদ্যোগ

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে কৃষি বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি

    কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি টেকসই, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।”

    এছাড়া সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • সংসদের আগে বিএনপি এমপিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু

    সংসদের আগে বিএনপি এমপিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দলের সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন।

    সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি

    রুদ্ধদ্বার এই কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    এছাড়া কর্মশালায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কী শেখানো হবে কর্মশালায়

    দলীয় সূত্র জানায়, এই কর্মশালায় নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের সামনে সংসদের বিভিন্ন কার্যপ্রণালী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • সংসদের আচরণবিধি

    • বিল প্রণয়ন ও তা পর্যালোচনার পদ্ধতি

    • বাজেট সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ

    • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম

    • অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপন ও আলোচনা পদ্ধতি

    অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাও নতুনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন।

    অধিবেশন আহ্বান

    আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন।

    নতুন এমপিদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব

    এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। ফলে সংসদীয় নিয়ম-কানুন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম।

    দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, কর্মশালায় এমপিদের শেখানো হবে—
    কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়, কীভাবে বিল নিয়ে আলোচনা করতে হয়, নিজের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা সংসদে উপস্থাপন করার কৌশল এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়ার পদ্ধতি।

    দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

    দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রথম দিনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা সেশন রাখা হয়েছে।

    পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এমপিরা অংশ নেবেন। বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন সংসদ সদস্যরা সংসদের কার্যক্রমে আরও দক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।