Tag: অর্থনীতি

  • মোবাইল ফোনে বড় সুখবর, আমদানি শুল্ক ৬০% কমলো, বৈধ হচ্ছে বাজারের স্টক-লট

    মোবাইল ফোনে বড় সুখবর, আমদানি শুল্ক ৬০% কমলো, বৈধ হচ্ছে বাজারের স্টক-লট

    এবিএনএ: মোবাইল ফোন বাজারে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর কাস্টমস ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনগুলোকে অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই স্টক-লট হিসেবে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশীয় মোবাইল উৎপাদকদের জন্যও কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে দেশীয় উৎপাদন ও বৈধ আমদানি বাড়বে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় হবে।

    সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা এবং বর্তমানে বাজারে থাকা ফোনগুলো এনইআইআর সিস্টেমে স্টক-লট হিসেবে অনুমোদন পাবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান হ্যান্ডসেটগুলোকে বৈধ করার সুযোগ মিলবে।

    এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব কিছুটা কমতে পারে বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখা ও অবৈধ আমদানি কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরার পর তিন মাস পর্যন্ত তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে না। একইভাবে সাধারণ গ্রাহকদের ফোনও আগামী তিন মাস ব্লক করা হবে না। এই সময়ের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা স্টক-লট নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন।

    অবৈধ মোবাইল আমদানি ও বিক্রয় ঠেকাতে স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও কাস্টমস হাউজে কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হবে বলেও সতর্ক করেছে সরকার।

  • জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন

    জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দরের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন

    এবিএনএ, মোংলা : বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর তার ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) ১ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছে। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর চালনা পোর্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরটি ৭৫ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    রাত ১২টা ১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব জাহাজে এক মিনিট ধরে হুইসেল বাজিয়ে প্লাটিনাম জয়ন্তীর শুভ সূচনা করা হয়। পরে বন্দর সদর দপ্তর থেকে জেটির প্রধান ফটক পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমানসহ বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা।

    বন্দরের কৃতিত্বপূর্ণ কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বন্দর ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ জাহাজ কয়লা, সার, কন্টেইনার, গাড়ি এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনকারীরা।

    চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ মোংলা বন্দর।” তিনি জানান, বর্তমানে বন্দর থেকে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, মেশিনারিজ, কয়লা, তেল, এলপিজি গ্যাসসহ নানা পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হচ্ছে।

    এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় বন্দর এলাকায় Port Reception Facility (PRF) প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো তেলবাহী জাহাজ থেকে দুর্ঘটনাবশত পানিতে তেল নিঃসরণ হলে তা দ্রুত সংগ্রহ করে নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে।

    তিনি জানান, বন্দরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং নতুন কিছু প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বন্দর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আরও বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • ঢাকাবাসীর গড় আয় এখন ৬ লাখ টাকারও বেশি, দেশের জিডিপির বড় অংশ রাজধানী কেন্দ্রিক

    ঢাকাবাসীর গড় আয় এখন ৬ লাখ টাকারও বেশি, দেশের জিডিপির বড় অংশ রাজধানী কেন্দ্রিক

    এবিএনএ:  দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্রে রাজধানী ঢাকা এখন আরও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রকাশিত ‘ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্স (ইপিআই)’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—ঢাকাবাসীর গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬৩ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২.৫৩ টাকা হিসাবে)।

    অন্যদিকে, সারাদেশের গড় মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২০ ডলার। অর্থাৎ, রাজধানীর মানুষ দেশের গড় আয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আয় করছে।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) ডিসিসিআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সাধারণ সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারি জরিপের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

    ইপিআই প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের মোট জিডিপির ৪৬ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক, এবং রাজধানীতে কর্মসংস্থান রয়েছে মোট ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তির। রপ্তানির ক্ষেত্রেও ঢাকার অবদান উল্লেখযোগ্য—দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে রাজধানী অঞ্চল থেকে

    জরিপে আরও বলা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ঢাকায় বসবাস করেন, যা শহরের জনসংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জনসংখ্যা ঘনত্বের দিক থেকে ঢাকা এখন এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ শহর।

    ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ইপিআই জরিপে উৎপাদন, বাণিজ্য, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ খাতের সর্বশেষ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার এই প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য রাজধানীর বাইরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

  • কর রাজস্ব ঘাটতিতে আইএমএফের অব্যাহতি চাইবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

    কর রাজস্ব ঘাটতিতে আইএমএফের অব্যাহতি চাইবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আসন্ন পর্ষদ সভায় দেশটিকে অব্যাহতির আবেদন জানাতে হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে অন্যান্য সব শর্ত পূরণ হওয়ায় ঋণ কিস্তি অনুমোদনে বড় কোনো বাধা দেখা দেবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।

    আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সভায় বর্তমান ঋণ কর্মসূচি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

    আইএমএফের ডেভেলপমেন্ট মাইক্রো ইকোনমিক্স বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জির নেতৃত্বে একটি দল ২৯ অক্টোবর ঢাকা সফরে আসছে। তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ষষ্ঠ কিস্তির (প্রায় ৮০ কোটি ডলার) ছাড়ের শর্তগুলো পর্যালোচনা করবে।

    ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা—অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও অন্য পাঁচটি সূচক পূরণ হয়েছে, যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর আদায় ছাড়া আইএমএফের অন্য সব শর্ত প্রায় পূরণ হয়েছে—যেমন ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, আর্থিক খাত সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ। এ কারণে রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে ব্যাখ্যা করে অব্যাহতি চাওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। তাই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল হতে পারে। তবে বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ায় চাপ থাকবে।”

    এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এটি সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা আইএমএফকে আশ্বস্ত করবে। পূর্বে রিজার্ভ ঘাটতিতেও অব্যাহতি পাওয়া গিয়েছিল, ফলে এবারও ইতিবাচক ফল আসবে বলে প্রত্যাশা।

  • সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    এবিএনএ: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন আসছে। সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভা শেষে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান।

    সভায় গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জানানো হয়, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে পরিচালিত এই মার্জার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। খুব শিগগিরই একীভূতকরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

    এ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসক টিম নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জমা দেবে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক। সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’, যার জন্য আলাদা লাইসেন্স ইস্যু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের আহ্বান

    মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের আহ্বান

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রশাসনের চাপ ও অতিরিক্ত শুল্কের হুমকির মাঝেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে নতুন করে জোর দিচ্ছে ভারত। মস্কো সফরের প্রথম দিনেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

    রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মন্তুরেভের সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের বাজারে রাশিয়ার সংস্থাগুলোর জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আরও কাজে লাগানো উচিত। তিনি জানান, গত চার বছরে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে ১ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, “বিশ্ব রাজনীতির জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব অটুট রেখেছে এবং সেটি আরও প্রসারিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মন্তুরেভ জানান, গত পাঁচ বছরে দুই দেশের বাণিজ্য ৭০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং বর্তমানে ভারত রাশিয়ার শীর্ষ তিন বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে রয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও নগরায়ণ প্রক্রিয়া বিদেশি ব্যবসার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব উদ্যোগ রাশিয়ার কোম্পানির জন্য ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সরকার ও ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।”

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ২৭ আগস্ট থেকে আরও ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এতে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। এই প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করার বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত।

  • অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এবং অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)-এর ৩০তম বার্ষিক কাউন্সিলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

    আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মারাত্মক ধাক্কার মুখে দাঁড়িয়ে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। আইএমএফ ও এডিবির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৩.৮ ও ৩.৯ শতাংশ।”

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগ স্থবির, রাজনীতির অস্থিরতা ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৩.৪৫ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে।

    ব্যাংক খাতে সংকট ও সংস্কার উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯টি ব্যাংক জানায় তাদের মূলধন ঘাটতি ১.৭১ ট্রিলিয়ন টাকা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যাংক বোর্ড বাতিল, একীভূতকরণসহ নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

    এলডিসি থেকে উত্তরণ: শুল্ক ও রপ্তানি ঝুঁকি

    ২০২৬ সালে এলডিসি স্ট্যাটাস হারালে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে বাংলাদেশ। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে তখন ১১.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে, যা রপ্তানিতে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বৈশ্বিক অস্থিরতা ও কৌশলগত প্রস্তুতির আহ্বান

    কাউন্সিলে জানানো হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, রেড সি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনরাগমন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে। বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি এখন জরুরি।

    প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসমূহ:

    • জ্বালানি নিরাপত্তা: টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানিনির্ভরতার ফলে ব্যয় বেড়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং নিজস্ব উৎসে অনুসন্ধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • রাজস্ব ঘাটতি: জিডিপির তুলনায় কর আদায় এখনো ১০ শতাংশের নিচে। এনবিআর পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

    • জলবায়ু ও খাদ্য নিরাপত্তা: পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রবৃদ্ধি বছরে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

    • বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৈচিত্র্য: ২০২৩ সালে এফডিআই মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভিয়েতনামে তা ছিল ৩৯ বিলিয়ন। কৃষিপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি খাতে জোর দেওয়ার সুপারিশ এসেছে।

    • সাইবার নিরাপত্তা: ডিজিটাল সেবার প্রসারে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত জাতীয় সাইবার আইন ও কাঠামো প্রয়োজন।

    • যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% শুল্ক প্রস্তাব: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও কর্মসংস্থান বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    বিবিআইএন করিডরের সম্ভাবনা

    ভুটান-ভারত-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি ৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বাংলাদেশ কৌশলগত ট্রানজিট হাবে পরিণত হতে পারে।

  • “অবাস্তব বাজেট নিয়ে কঠোর সমালোচনা আমীর খসরুর: রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা”

    “অবাস্তব বাজেট নিয়ে কঠোর সমালোচনা আমীর খসরুর: রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা”

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটটি মূলত আগের সরকারের নীতিরই প্রতিফলন এবং এতে মৌলিক অর্থনৈতিক ভুল রয়েছে। তার মতে, রাজস্ব আয় ও বাজেটের আকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি, যা একটি বাজেট তৈরির সময় মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত ছিল।

    আজ সোমবার বাজেট ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এই বাজেট বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে না।

    সরকারের উচিত ছিল বাস্তবতার আলোকে আরও সংক্ষিপ্ত বাজেট উপস্থাপন করা। এ বাজেটে যে ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখানো হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন আমীর খসরু।

    এদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আসবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

  • মাত্র ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স! প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

    মাত্র ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স! প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

    এবিএনএ:  প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে বছর নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই দেশে এসেছে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা (ডলার প্রতি ১২২ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যার মূল্য ১১৫৫ কোটি টাকারও বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, মে মাসের এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে—৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি।

    এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মে মাসে রেমিট্যান্স অতিক্রম করতে পারে বিলিয়ন ডলার।

    চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি এবং এপ্রিল মাসে এসেছে ২৭৫ কোটি ডলার।

    এই প্রবণতা থেকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই গতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি আনবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রতি যে আগ্রহ বেড়েছে, তা অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্সে আরও বড় রেকর্ড গড়তে পারে বাংলাদেশ।