জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষানীতি নিয়ে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, প্যারিসে সংঘর্ষ-আটক শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাল্টা জবাবে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন।
বিক্ষোভকারীরা প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অনেককে মুখে মাস্ক ও মাথায় হুডি পরা অবস্থায় দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির লিঁও শহরের একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরেই ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন নতুন করে সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে ফ্রান্সে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। সে সময় সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল।
এবারের আন্দোলনের আরেকটি সূত্রপাত ঘটে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। তখন শিক্ষার্থীরা শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনার বিরোধিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শনিবারের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্সের অন্যতম বড় শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি। সংগঠনটি সাধারণ মানুষের বেতন ও পেনশন বাড়ানো, মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম কমানো এবং সরকারি সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, প্যারিসে বিক্ষোভের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া আন্দোলনের সময় প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল।
জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ—সব মিলিয়ে ফ্রান্সে নতুন করে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।
সূত্র: এপি




