Tag: প্যারিস

  • ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ: ইতিহাস গড়লেন খন্দকার এম তালহা

    ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ: ইতিহাস গড়লেন খন্দকার এম তালহা

    এবিএনএ: জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো)-এর ৪৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্যারিসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা বিপুল ব্যবধানে জাপানের প্রার্থীকে পরাজিত করে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।

    বাংলাদেশের ইউনেস্কো সদস্যপদ অর্জনের পর দীর্ঘ ৫৩ বছরে এই প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন। এই অর্জন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এই ঐতিহাসিক বিজয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার গভীর আনন্দ প্রকাশ করে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ড. আবরার বলেন, “ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ সাফল্য। এটি শুধু বাংলাদেশের কূটনৈতিক অর্জন নয়, বরং দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। এই সাফল্য বাংলাদেশের সফট পাওয়ারকে আরও জোরদার করবে।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “১৯৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা, সংহতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বিজয় বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ তৈরি করবে।”

    এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এক নতুন যুগের সূচনা করল।

  • ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ: ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় লাখো মানুষ

    ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ: ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় লাখো মানুষ

    এবিএনএ:  ইউরোপের দেশ ফ্রান্স আবারও বিক্ষোভে উত্তাল। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ এবং সরকারের বাজেট কর্তনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়।

    বুধবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্যারিসসহ একাধিক স্থানে আবর্জনার পাত্রে আগুন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে এবং প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

    এরই মধ্যে বিরোধীদলগুলো সংসদে একত্র হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ঘনিষ্ঠ মিত্র সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

    প্যারিসে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি তোলে। সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি ফ্রেড স্পষ্টভাবে বলেন, “সমস্যা মন্ত্রীদের নয়, সমস্যা ম্যাক্রোঁর— তাকে সরে দাঁড়াতে হবে।”

    বিক্ষোভে যুবকরাও সক্রিয় ছিল। একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করায় পুলিশ তাদের উপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। গ্যারে ডু নর্ড ট্রেন স্টেশনের কাছেও বিশাল ভিড়কে আটকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লিসা ভেনিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সংসদ ভাঙার অথবা বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী আসার আশা করেছিলাম, কিন্তু কিছুই হয়নি। এটি সত্যিই হতাশাজনক।”

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলউ জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রেনেসে বিক্ষোভকারীরা একটি বাসে আগুন দিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলনের কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। ‘ব্লক এভরিথিং’ নামের শিথিল সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনটি শুরু হয়, যা পরে বামপন্থী ও অতি-বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    ফ্রান্সজুড়ে এই অস্থিরতা এখন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

  • পিএসজির ঐতিহাসিক জয়ের উৎসবে সহিংসতা, প্রাণ গেল ২ জনের, গ্রেপ্তার ৫০০

    পিএসজির ঐতিহাসিক জয়ের উৎসবে সহিংসতা, প্রাণ গেল ২ জনের, গ্রেপ্তার ৫০০

    প্যারিস সাঁ জারমাঁ (পিএসজি)-এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের আনন্দ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সহিংসতায়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ আশপাশের এলাকায় উদযাপনের নামে ঘটে গেছে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ এবং প্রাণহানি। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৯২ জন। এ ঘটনায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে পিএসজি যখন ইতালির ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয়, তখন প্যারিসের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার উল্লসিত সমর্থক। কিন্তু সেই উৎসব কিছুক্ষণের মধ্যেই দাঙ্গায় রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়ি, দোকানপাট ও বাসস্টপ।

    এবিএনএ:

    চ্যাম্পস এলিসেস সড়কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও পুলিশি বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা পুলিশের ওপর বোতল, লাঠি ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯১ জন, যাদের মধ্যে ৩২০ জন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। শহরজুড়ে অগ্নিসংযোগ, গাড়ি পোড়ানো ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে শতাধিক। অন্তত ২২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ৭ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন এ ঘটনায়।

    এমন এক ঐতিহাসিক রাত, যা হওয়া উচিত ছিল আনন্দ ও গৌরবের, সেটিই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সহিংসতার ভয়াবহ দৃষ্টান্তে। ফ্রান্স সরকার ও পুলিশ বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।