বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

এবিএনএ:  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মানে কোনো একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত করা। এজন্য একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন অপরিহার্য, যা বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে তুলবে।

তিনি জানান, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতার দাবি কখনোই একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম শর্ত। যাদের এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের ওপর একক কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেয়নি। বরং কিছু সময়ে দুর্বল বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সমঝোতায় গিয়েছিল, যা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের কারণ হয়েছিল।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের স্বাধীনতা বিচার বিভাগের বহুদিনের দাবি। এই বিষয়টিকে ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোকে দেখা উচিত। গত ৫০ বছরে বিচার বিভাগ ক্ষমতা ও মর্যাদার দিক থেকে নির্বাহী ও আইন বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে থেকেছে। যদিও অনেক সময় বিচার বিভাগই ছিল কার্যকর রাষ্ট্রীয় অঙ্গ, তবুও তারা কখনো রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠেনি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এ জে মোহাম্মদ আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, যেখানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. শরীফ উদ্দিন চাকলাদার। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও অনেকে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *