Tag: বাংলাদেশ বিচার ব্যবস্থা

  • সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    এবিএনএ:  সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দুই বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির মনোনয়নে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি স্বাক্ষর করেছেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহা. হাসানুজ্জামান।

    নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ৮, ৯, ১০, ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে আপিল বিভাগের ১নং চেম্বার কোর্টে জরুরি বিষয়াদি শুনানি করবেন। অপরদিকে, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ২১, ২৩, ২৫, ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর এবং ৫, ৭, ৯, ১২ ও ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপিল বিভাগের ২নং চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।

    অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগে এসব চেম্বার জজ মামলাসংক্রান্ত জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • হাইকোর্টে খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মুলতবি

    হাইকোর্টে খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও মুলতবি

    এবিএনএ:  যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যামামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিলের আবেদনের শুনানি গতকাল হাইকোর্টে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও খায়রুল হকের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত আদালত শুনানি স্থগিত করে আগামী ১৭ আগস্ট সকাল ১১টায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

    ঘটনাটি ঘটে বিচারপতি জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। খায়রুল হকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এম কে রহমান, কামরুল হক সিদ্দিকী, জেড আই খান পান্না, মোহসীন রশিদসহ আওয়ামীপন্থি বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

    শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি শুনানির জন্য এক সপ্তাহ সময় নিতে বলেছেন। এতে খায়রুল হকের আইনজীবীরা আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    এ সময় খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে এবং তারা বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় আদালতে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ক্ষেত্রে তারা কোথায় ছিলেন।

    খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা হয়। পরবর্তীতে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    জুলাই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। গত ২৪ জুলাই ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে যাত্রাবাড়ী ও ফতুল্লার দুটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ:  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মানে কোনো একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত করা। এজন্য একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন অপরিহার্য, যা বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে তুলবে।

    তিনি জানান, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতার দাবি কখনোই একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম শর্ত। যাদের এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের ওপর একক কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেয়নি। বরং কিছু সময়ে দুর্বল বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সমঝোতায় গিয়েছিল, যা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের কারণ হয়েছিল।

    তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের স্বাধীনতা বিচার বিভাগের বহুদিনের দাবি। এই বিষয়টিকে ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোকে দেখা উচিত। গত ৫০ বছরে বিচার বিভাগ ক্ষমতা ও মর্যাদার দিক থেকে নির্বাহী ও আইন বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে থেকেছে। যদিও অনেক সময় বিচার বিভাগই ছিল কার্যকর রাষ্ট্রীয় অঙ্গ, তবুও তারা কখনো রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠেনি।

    অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এ জে মোহাম্মদ আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, যেখানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. শরীফ উদ্দিন চাকলাদার। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও অনেকে।