Tag: প্রধান বিচারপতি

  • রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বিচার বিভাগে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামীকাল রবিবার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

    আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে যাচ্ছেন। বয়সসীমা অনুযায়ী তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।

    এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে রবিবার বঙ্গভবনে নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

    দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার আলোকে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচার বিভাগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

  • সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    এবিএনএ:  সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দুই বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির মনোনয়নে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি স্বাক্ষর করেছেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহা. হাসানুজ্জামান।

    নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ৮, ৯, ১০, ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে আপিল বিভাগের ১নং চেম্বার কোর্টে জরুরি বিষয়াদি শুনানি করবেন। অপরদিকে, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ২১, ২৩, ২৫, ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর এবং ৫, ৭, ৯, ১২ ও ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপিল বিভাগের ২নং চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।

    অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগে এসব চেম্বার জজ মামলাসংক্রান্ত জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বুধবার আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী ২১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, আপিল বিভাগ কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং এমন একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা চান, যা দেশে গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকালীন সংকট এড়াতে সহায়তা করবে।

    তিনি প্রশ্ন রাখেন—“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে?” তবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, রায়ের পর এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হতে পারে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ন্যায়বিচার নষ্ট হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে সিস্টেম। সেই কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। জনগণের ইচ্ছাই নির্ধারণ করেছে কে প্রধান বিচারপতি ও কে সরকারপ্রধান হবেন। এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করলে বিপ্লবের জন্ম হয়। তিনি ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও আদালতে স্মরণ করিয়ে দেন।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া ও আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ:  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মানে কোনো একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত করা। এজন্য একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন অপরিহার্য, যা বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে তুলবে।

    তিনি জানান, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতার দাবি কখনোই একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম শর্ত। যাদের এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের ওপর একক কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেয়নি। বরং কিছু সময়ে দুর্বল বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সমঝোতায় গিয়েছিল, যা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের কারণ হয়েছিল।

    তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের স্বাধীনতা বিচার বিভাগের বহুদিনের দাবি। এই বিষয়টিকে ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোকে দেখা উচিত। গত ৫০ বছরে বিচার বিভাগ ক্ষমতা ও মর্যাদার দিক থেকে নির্বাহী ও আইন বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে থেকেছে। যদিও অনেক সময় বিচার বিভাগই ছিল কার্যকর রাষ্ট্রীয় অঙ্গ, তবুও তারা কখনো রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠেনি।

    অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এ জে মোহাম্মদ আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, যেখানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. শরীফ উদ্দিন চাকলাদার। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও অনেকে।

  • বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চাই: প্রধান বিচারপতির অঙ্গীকার

    বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চাই: প্রধান বিচারপতির অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শুধু রায় প্রদানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আইনের সঠিক প্রয়োগ মানবিকতা নিশ্চিত করবে—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে লিগ্যাল এইডের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা এমন এক দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে সবাই বলে—বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শুধু রায় দেয়নি, প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে।”

    জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি এই সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি কাজী জিনাত হক। আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব এম জামিউল হক ফয়সাল।

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা যে সংস্কারের পথে হাঁটছি, সেটি কঠিন এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও দেশজুড়ে বিচার বিভাগ এবং আইন পেশার সদস্যদের সাড়া দেখে আমি আশাবাদী। রাজধানীসহ সাতটি বিভাগে সফর করে আমি বিচার বিভাগের পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি।”

    তিনি আরও জানান, বিচার ব্যবস্থা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও সমর্থন রয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য সুইডেন এই উদ্যোগে কেবল প্রযুক্তিগত নয়, নৈতিক সহায়তাও দিচ্ছে। এতে করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

    আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, “যারা দূর-দূরান্ত থেকে ন্যায়বিচারের আশায় আসে, তাদের জন্য আমাদের কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত।”

    বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের মতো অধস্তন আদালতগুলোতেও হেল্পলাইন চালু করার ঘোষণা দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “৬৪ জেলা ৮টি মেট্রোপলিটন এলাকায় এই হেল্পলাইন চালু হবে, যাতে মানুষ সরাসরি দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারেন।”

    এই দিনটি উপলক্ষে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, বিচারক, গণমাধ্যম এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান—তারা যেন আরও মানবিক জনগণকেন্দ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্য নতুন করে প্রতিশ্রুতি নেন।