Author: ABNA

  • রাজধানীতে রাতভর অভিযান, ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জন

    রাজধানীতে রাতভর অভিযান, ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জন

    এবিএনএ:

    রাজধানীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা ঢাকায় ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–

    • হুমায়ুন কবীর সুজন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য

    • গোলাম রাব্বানী সরদার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি

    • মেহেদী হাসান, একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী

    ডিবি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টিকাটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবীর সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ভোর ৬টায় মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার হন মেহেদী হাসান।

    এছাড়া বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গোলাম রাব্বানী সরদারকে। তিনি মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ধানমন্ডি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক হিসেবেও পরিচিত।

    ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দলবদ্ধ হয়ে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে আকস্মিকভাবে জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

    ডিবি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তার শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা নস্যাৎ করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

  • ঈদে ছয় সিনেমার হাইভোল্টেজ যুদ্ধ, বড়পর্দায় চমক নিয়ে ফিরছেন তারকারা

    ঈদে ছয় সিনেমার হাইভোল্টেজ যুদ্ধ, বড়পর্দায় চমক নিয়ে ফিরছেন তারকারা

    এবিএনএ:

    বাংলা সিনেমার বেহাল অবস্থায়ও ঈদ মানেই যেন একটা প্রাণচাঞ্চল্যের উপলক্ষ। বছরের অন্য সময়গুলোয় দর্শকশূন্য থাকা প্রেক্ষাগৃহগুলো নতুন সিনেমার সুবাসে ঈদে হয়ে ওঠে জমজমাট।

    চলতি কোরবানির ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ছয়টি সিনেমা। ১২টি সিনেমার ঘোষণা এলেও বাস্তবতা, আর্থিক জটিলতা ও প্রেক্ষাগৃহ সংকটে ছেঁটে দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়ে। তালিকায় রয়েছে— ‘তাণ্ডব’, ‘টগর’, ‘নীলচক্র’, ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’, ‘ইনসাফ’ ও ‘উৎসব’।


    🔥 তাণ্ডব: শাকিব খানের নতুন রূপে চমক

    রায়হান রাফীর পরিচালনায় ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘তাণ্ডব’। সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে প্রথমবার বড়পর্দায় আসছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ সাবিলা নূর। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান

    টেলিভিশন স্টেশনে এক হামলার ঘটনার পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটি অ্যাকশন, থ্রিলার আর সাসপেন্সে পরিপূর্ণ। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘লিচুবাগানে’ গানে শাকিব-সাবিলা জুটির পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই ভাইরাল। পরিচালক বলছেন, “তাণ্ডবে দর্শক এমন কিছু দেখতে পাবেন, যা আগে কখনও দেখেননি।”


    ⚖️ ইনসাফ: বিচার ও ন্যায়ের লড়াই

    পরিচালক সঞ্জয় সমদ্দারের ‘ইনসাফ’ সিনেমায় থাকছেন মোশাররফ করিম, তাসনিয়া ফারিণ ও শরিফুল রাজ। এই সিনেমার মাধ্যমে ফারিণ প্রথমবার বাণিজ্যিক ছবিতে নায়িকা হিসেবে আসছেন।

    মোশাররফ করিমকে দেখা যাবে ভিন্ন এক নেতিবাচক চরিত্রে। নব্বইয়ের দশকের ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’ গানটি নতুন করে মিলা’র কণ্ঠে ব্যবহৃত হয়েছে। পরিচালক জানান, “ইনসাফ বাণিজ্যিক সিনেমার সব রসদে ভরপুর, দর্শকরা চমকে উঠবেন।”


    🔍 নীলচক্র: সাইবার অপরাধ নিয়ে থ্রিলার

    মিঠু খান পরিচালিত ‘নীলচক্র’ একটি সাসপেন্স থ্রিলার, যা সাইবার জগতে আটকে পড়া তরুণ প্রজন্মের গল্প তুলে ধরে।

    আরিফিন শুভ ছাড়াও রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, মন্দিরা চক্রবর্তী ও আরও অনেকে। সিনেমাটি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে। আমেরিকান ফিল্ম মার্কেটে সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়ে গেছে। নির্মাতা বলছেন, “অ্যাকশন নয়, কিন্তু গল্পে টান এমন যে দর্শক শেষ দৃশ্য পর্যন্ত আটকে থাকবেন।”


    🎯 টগর: অ্যাকশনে ফিরছেন আদর-ঊর্জা

    আলোক হাসানের পরিচালনায় ‘টগর’-এ পর্দায় ফিরছেন আদর আজাদ ও পূজা চেরীর জুটি। সিনেমাটি অ্যাকশন ও থ্রিলার ঘরানার।

    প্রকাশিত টিজার ও গান ইতোমধ্যে দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। নির্মাতা আশাবাদী, “টগর দর্শকের ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করবে।”


    🔎 এশা মার্ডার: কর্মফল — পুলিশ চরিত্রে বাঁধনের শক্ত উপস্থিতি

    আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ মূলত একটি ক্রাইম থ্রিলার। তিন নারীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আবর্তিত গল্পে দেখা যাবে বাঁধনকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে।

    সানী সানোয়ারের পরিচালনায় মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। মিশা সওদাগর, শতাব্দী ওয়াদুদ, সুষমা সরকারসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পী রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।


    🎉 উৎসব: ঈদের রঙে রঙিন গল্প

    উৎসব’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ‘ঈদের উৎসব, সিনেমার উৎসব’ স্লোগানে। পরিচালনায় তানিম নূর। দীর্ঘদিন পর বড়পর্দায় ফিরছেন জাহিদ হাসান।

    অপি করিম, সাদিয়া আয়মানসহ নাটকের পরিচিত মুখদের দেখা যাবে সিনেমাটিতে। নির্মাতা বলছেন, “ঈদের আনন্দ আর সিনেমার মেলবন্ধন ঘটাতে এই গল্প। এটি পারিবারিক দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।”


    শেষ কথা:
    একটু সচল হলে ঈদে বাংলা সিনেমার বাজার দেখায় আশার আলো। ছয়টি সিনেমার প্রতিযোগিতা শুধু তারকাদের নয়, গল্প, নির্মাণশৈলী আর গানেরও হবে। কে জয়ী হবে, তা বলবে ঈদের পর্দা!

  • ভিন্ন রূপে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, বদলে গেল মাঝমাঠের ছক

    ভিন্ন রূপে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, বদলে গেল মাঝমাঠের ছক

    এবিএনএ:

    ফিফা উইন্ডো শুরু হতেই জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশ্ব ফুটবলের তারকারা। সাত মাস মাঠের বাইরে থাকার পর ফের মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চিলির মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৭টায় সান্তিয়াগোয় মুখোমুখি হবে দুই দল।

    তবে ম্যাচটি ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে আর্জেন্টিনার নতুন ফরমেশন ও শুরুর একাদশ। কোচ লিওনেল স্কালোনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না মাঝমাঠে, যার কারণে এবার দেখা যেতে পারে এক ভিন্ন কৌশল।

    মাঝমাঠে চোট ও নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা

    রদ্রিগো ডি পল মাঝমাঠে ফিরলেও বড় ধাক্কা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজের অনুপস্থিতি। তারা দুজনই কার্ড সমস্যায় দল থেকে ছিটকে গেছেন। অন্যদিকে, পেশিতে চোট থাকায় আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকেও স্কোয়াডে রাখেননি স্কালোনি। ফলে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ৪-৩-৩ ছক থেকে সরে গিয়ে এবার সম্ভাব্যভাবে দেখা যেতে পারে ৪-৪-২ ফরমেশন।

    নতুন ছকে নতুন চমক

    টি ওয়াইসি স্পোর্টসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিলির বিপক্ষে স্কালোনির একাদশে মেসির সঙ্গে আক্রমণে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। রোটেশনে নামতে পারেন লাওতারো মার্টিনেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেস। মাঝমাঠে ডি পল-এর সঙ্গে দেখা যেতে পারে জিওভানি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল প্যালাসিওস এবং জিওভানি সিমিওনেকে।

    রক্ষণভাগে থাকছেন ট্যাগলেফিগো, বালের্দি, রোমেরো ও নাহুয়েল মোলিনা। গোলবারে নির্ভরযোগ্য গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

    চিলির বিপক্ষে পরিসংখ্যান বলছে আর্জেন্টিনার পক্ষে

    সাম্প্রতিক সময়ে চিলি আর্জেন্টিনার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি। সর্বশেষ আট ম্যাচে চিলিকে হারাতে না পারলেও আর্জেন্টিনা হারেওনি। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৪ ম্যাচে মাত্র দুটি জয়ে থাকা চিলি তালিকার একেবারে নিচে। অন্যদিকে ১০ জয় নিয়ে আগেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

    সম্ভাব্য শুরুর একাদশ:
    গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ
    রক্ষণভাগ: মোলিনা, রোমেরো, বালের্দি, ট্যাগলেফিগো
    মাঝমাঠ: সিমিওনে, ডি পল, পালাসিওস, আলমাডা
    আক্রমণভাগ: মেসি, আলভারেজ

    বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচে মেসি খেলবেন কি না, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে স্কালোনির নতুন ছকে যে চমক থাকছে, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।

  • জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    এবিএনএ:

    এক সময়ের অগ্নিগর্ভ আন্দোলন “জুলাই বিপ্লব” আজ যেন সীমিত হয়ে এসেছে গুটি কয়েক মুখের কৃতিত্বে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের মাধ্যমে, তা দ্রুত রূপ নেয় এক সর্বাত্মক স্বৈরাচারবিরোধী জনজাগরণে। এই আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক, নারী, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সুশীল সমাজ—সকল স্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

    তবে আজ, ১০ মাস পর দেখা যাচ্ছে, সেই বিপ্লবের সকল অংশীদার ক্রমেই উপেক্ষিত হয়ে পড়ছেন। আন্দোলনের মুখ্য কৃতিত্ব কিছু ছাত্রনেতা ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলনে আঘাতপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আজ মূল্যহীন।

    বঞ্চনার চোরাবালিতে বিপ্লবের নায়করা

    সরকারের ছায়ায় গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিজেকে পুরো বিপ্লবের স্থপতি হিসেবে তুলে ধরছে। অথচ সত্য হলো—মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে ক্ষমতা বদল হয়নি; বরং তা এসেছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলস্বরূপ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রমাণ করছে—এটি সর্বজনীন নয়, বরং কেবল ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, “ছাত্ররাই আমার নিয়োগকর্তা”—সরকারের কাজেও তার প্রতিফলন ঘটছে। এতে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিপ্লব আজ নিজের লক্ষ্যচ্যুত।

    নারী, সংস্কৃতি কর্মী ও আইনজীবীদের হতাশা

    এই বিপ্লবের এক বড় চালিকাশক্তি ছিলেন নারীসমাজ। ঘরোয়া নারীরা পর্যন্ত রাজপথে এসে প্রতিবাদে অংশ নেন। কিন্তু এখন তারাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার। নারী নির্যাতন, হয়রানি, ধর্ষণ—সবই বেড়েছে।

    সংস্কৃতি কর্মীরাও হতাশ। আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, আজাদ আবুল কালাম, ইরেশ যাকেরসহ অনেকেই জুলাই আন্দোলনের সময় সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু এখন তাঁদের অনেকেই হয় মিথ্যা মামলার শিকার, নয়তো অপমানের মুখোমুখি। অনুষ্ঠান বাতিল, সামাজিক হামলা, এমনকি গ্রেপ্তারও ঘটেছে। তাঁদের কণ্ঠ যেন রুদ্ধ।

    আইনজীবীরাও বঞ্চিত। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জেড আই খান পান্নার মতো মানুষেরা মুখ খুলেছেন, যাঁরা কখনও আদালতের মাধ্যমে ছাত্রদের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। তাঁদের কারো কারো বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে!

    শিক্ষক ও সুশীল সমাজও উপেক্ষিত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তা ভুলে যাওয়া হয়েছে। ড. আনু মুহাম্মদ থেকে শুরু করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক এখন খোলাখুলি বলছেন—বাংলাদেশ আবারও এক নতুন স্বৈরতন্ত্রের দিকে হাঁটছে।

    একজন শিক্ষককে উপাচার্য বানানো হলেও পরে তাঁকে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে, এক বৃদ্ধা শিক্ষিকাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    সুশীল সমাজের মানুষ, যেমন ড. শাহদীন মালিক, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, নূরুল কবীর সবাই স্পষ্টত হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলছেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠীই এখন বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধাভোগী।

    জুলাই বিপ্লব আজ কার কাছে বন্দি?

    যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন—তাঁরা আজ নির্বাক। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সমাজজুড়ে চলছে আতঙ্ক ও হতাশা। আন্দোলনে যাঁরা মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, তাঁরা এখন বলছেন, “জুলাই বিপ্লব এখন মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে বন্দি।”

    যেখানে স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার, সেখানেই আজ দুর্বল গণতন্ত্র, বিভাজন ও স্বৈরতন্ত্রের ছায়া। জুলাই বিপ্লব কি সত্যিই সফল? নাকি, এটি একটি ব্যবহৃত ও বিস্মৃত অধ্যায় মাত্র?

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    এবিএনএ:

    ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেই আলোচনায় পুতিন জানান, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেন যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার জবাব রাশিয়াকে দিতেই হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মস্কো আগে থেকেই বলেছিল—যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো শান্তি আসছে না, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।”

    এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।

  • দেশে ফের করোনা আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩

    দেশে ফের করোনা আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের এক বেসরকারি হাসপাতালে ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

    এদিকে, গত এক দিনে মোট ২১টি নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে ৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ জনে।

    একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থতার সংখ্যা ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৬০ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ রোগে সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫০০ জন এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ২২৪টি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতু শনাক্তের হার আবারও বাড়তে শুরু করেছে, তাই জনসাধারণকে সতর্কতা অবলম্বন করে চলাফেরা করা উচিত। এছাড়া বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বাড়তি সচেতনতা জরুরি বলেও জানিয়েছেন তারা।

  • নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই রাজনীতির অন্তরাল থেকে ভেসে আসছে এক নতুন পরিকল্পনার গুঞ্জন—একটি জাতীয় সরকার গঠনের নীলনকশা। নির্বাচন নয়, বরং একটি অন্তর্র্বর্তী সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় রেখে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।

    জাতীয় ঐকমত্য গঠনের নামে একের পর এক বৈঠক হলেও স্পষ্ট কোনো নির্বাচনী সময়সূচি এখনো সামনে আসেনি। বরং সংস্কার, বিচার ও সংলাপ—এই শব্দগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক পরিসরে। এতে করে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সে নিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্দেহ।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বিএনপি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে না বলেই তারা মনে করে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে রাষ্ট্রীয় সংকট হিসেবেই দেখছেন।

    তবে সরকারের দিক থেকে এখনো তেমন কোনো কার্যকর প্রস্তুতি বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত। এই সুযোগেই পর্দার আড়ালে চলছে জাতীয় সরকার গঠনের নানা তৎপরতা। বিভিন্ন মহল, এমনকি কিছু বিদেশি দূতাবাসও এ প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব সামনে এসেছে, যেখানে জাতীয় সরকার গঠন করে তিন বছর পরে নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। তারা বলছে, আগে সংস্কার চূড়ান্ত করতে হবে, তারপর গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তবেই নির্বাচন হবে।

    জাতীয় সরকারের মূল প্রস্তাবনায় রয়েছে—ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হবেন এবং বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন পক্ষকে অংশীদার করে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে। বিএনপি অবশ্য এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা মনে করে, এটি অন্তর্র্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল।

    বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ মাসের অন্তর্র্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকারে অংশ নেবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অবিলম্বে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টি বরাবরই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায়, অন্তত তিন বছর পর নির্বাচন হোক। ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কও এখনো শীতল। বঙ্গভবনের শিষ্টাচারিক রীতিনীতি তিনি উপেক্ষা করেছেন বারবার। এমনকি ঈদেও রাষ্ট্রপতির পাশে নামাজ পড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত পর্দার আড়ালে। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত। বিএনপি যদি শক্তিশালী জনমত গঠন করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে না নামতে পারে, তাহলে হয়তো জাতীয় সরকারের বিকল্প বাস্তবতা সামনে চলে আসবে।

    এখন মূল প্রশ্ন—নির্বাচন হবে, না কি গঠিত হবে একটি আপাত রাজনৈতিক ঐকমত্যভিত্তিক জাতীয় সরকার? এ উত্তর মিলছে না রাজপথে, বরং খোঁজ চলছে কূটনৈতিক মহল ও ড্রইং রুমে।

  • ইউনূস-তারেক বৈঠক কি হতে যাচ্ছে লন্ডনে? রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে নতুন জল্পনায়

    ইউনূস-তারেক বৈঠক কি হতে যাচ্ছে লন্ডনে? রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে নতুন জল্পনায়

    এবিএনএ :

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন যুক্তরাজ্য সফর ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক। ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে চরম কৌতূহল ও হিসাব-নিকাশ চলছে।

    বিশেষ করে তারেক রহমানের ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন’-এর জোরালো দাবি এবং টোকিওতে ইউনূসের ‘একটিমাত্র দল নির্বাচন চায়’ মন্তব্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে দুই নেতার বৈঠক হলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় মোড় এনে দিতে পারে।

    ঢাকা ও লন্ডনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বিএনপি চাইছে, বৈঠকের আগে নির্দিষ্ট এজেন্ডা এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে নীতিগত সম্মতি।

    তবে বিএনপি একাধিক শর্তে অনড়। তারা চায় আগে নির্বাচনকালীন সরকার, ভোটের সময়সূচি ও রোডম্যাপ নিয়ে ঐকমত্য। অন্যদিকে সরকার মনে করছে, ইউনূস-তারেক সাক্ষাৎ হলে আলোচনার একটি পথ খুলে যেতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে সফরে ব্যস্ত ড. ইউনূস ৯ জুন লন্ডনে যাবেন। সেখানে তিনি রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং ১২ জুন ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন। সফরকালে ইউনূস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, কমনওয়েলথ ও আইএমও মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    তার সফরসঙ্গী থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, দুদক চেয়ারম্যান ড. এম এ মোমেনসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়াও তিনি চ্যাথাম হাউসে বক্তব্য দেবেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, এবং বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেবেন।

    তবে সফর ঘিরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ পরিকল্পনার কারণে নিরাপত্তা ও সময়সূচি নিয়ে রয়েছে গোপনীয়তা।

    প্রসঙ্গত, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরের প্রেক্ষাপটে বিএনপির মধ্যে এখনও আস্থা ফিরে আসেনি। তবুও, সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ঈদের পর লন্ডনে এই আলোচিত বৈঠকটি হলে দেশের রাজনীতিতে তা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

  • হামজার জাদু, সোহেলের বিস্ফোরণ—ভুটানকে হারিয়ে বিজয়ের উল্লাসে বাংলাদেশ

    হামজার জাদু, সোহেলের বিস্ফোরণ—ভুটানকে হারিয়ে বিজয়ের উল্লাসে বাংলাদেশ

    এবিএনএ :

    জাতীয় দলে অভিষেকেই বাজিমাত করলেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দেশের হয়ে প্রথমবার মাঠে নেমে দর্শকদের মাতিয়ে দেন এক দুর্দান্ত গোল করে। তার সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে সোহেল রানার দুর্দান্ত শটে ভুটানকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলায় ভুটানকে চাপে রাখে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন দল। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই কর্নার থেকে ভেসে আসা বলটি হেড করে জালে পাঠান অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা হামজা। হাজারো দর্শকের করতালিতে স্টেডিয়ামে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ।

    হামজার গোলটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম গোল, তবে বাংলাদেশের মাটিতে এটি তার অভিষেক। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন “বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!” স্লোগানে মুখরিত।

    বাংলাদেশ প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক জিয়েলশেন জাংপোর দারুণ সেভে রক্ষা পায় ভুটান। ফাহমিদুল, জামাল ও মোরসালিনের নেওয়া শটগুলো কখনো পোস্ট মিস করেছে, আবার কখনো আটকেছেন জাংপো।

    দ্বিতীয়ার্ধে আবারও রূপ নেয় লাল-সবুজের আগ্রাসন। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে দূর থেকে নেওয়া সোহেল রানার বাঁ পায়ের শট ছুটে গিয়ে ভুটানের জালে জড়ায়। এই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

    ভুটান পরবর্তী সময়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। শেষ সময়ে জিগমে নামগিয়ালের একক প্রচেষ্টাও আটকে দেন মিতুল।

    ৯০ মিনিট শেষে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। নতুন প্রাণ, নতুন আশা—হামজার আগমনে আবারও চাঙ্গা দেশের ফুটবল।

  • ঈদের আনন্দে বাড়িমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তির যাত্রায় মুখর মহাসড়ক ও স্টেশন

    ঈদের আনন্দে বাড়িমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তির যাত্রায় মুখর মহাসড়ক ও স্টেশন

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঈদের ছুটি শুরু হতেই ঢাকায় নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত পরিবহনে চেপে মানুষ ছুটছে নিজ গ্রামের পথে।

    গতকাল ছিল সরকারি-বেসরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। সেইসঙ্গে শুরু হয় ঈদযাত্রার ব্যস্ততা। রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ছাড়াও মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যানে করে। এবারের ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ভোগের খবর না থাকলেও সড়কে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

    ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গতকাল থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ যান চলাচল দেখা গেছে। গাজীপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে কর্মজীবীরা পরিবারের টানে রওনা হয়েছেন।

    যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, যানবাহনের চাপ বাড়লেও মহাসড়কে যানজট হয়নি। সুষ্ঠু যাত্রা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সেনাবাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল অংশে মহাসড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।

    কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। স্টেশনের ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যাত্রীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের ভিড় সামলাতে ঢাকাগামী ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। এতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়েছে।

    গাবতলী ও মাজার রোড এলাকায় যাত্রীদের ব্যস্ততা ছিল লক্ষণীয়। সৈয়দপুরগামী যাত্রী জামান আখতার বলেন, “অগ্রিম টিকিট থাকায় ঠিক সময়ে বাস পেয়েছি। কোনো দুর্ভোগ হয়নি।”

    চট্টগ্রাম থেকেও এসেছে স্বস্তির খবর। বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপ থাকলেও যাত্রা স্বাভাবিক।

    ঢাকা ছাড়ার এই মহাযাত্রা আজও অব্যাহত থাকবে। সড়ক, রেল ও নদীপথে লাখো মানুষ ছুটবে প্রিয়জনের কাছে ঈদ উদযাপন করতে।