Tag: বিচার বিভাগ

  • দুদকে নতুন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসাইন

    দুদকে নতুন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসাইন

    এবিএনএ: বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দায়িত্ব পেলেন বিচার বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (Anti-Corruption Commission) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে Mohammad Ali Hossain-কে।

    সোমবার (৯ মার্চ) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে Ministry of Public Administration। সরকারি ওই আদেশে বলা হয়েছে, আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনকে দুদকের মহাপরিচালক (লিগ্যাল) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার চাকরি সাময়িকভাবে Cabinet Division-এ ন্যস্ত করা হয়েছে।

    দুদকের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা, মামলা সংক্রান্ত পরামর্শ ও দুর্নীতি বিরোধী তদন্তের আইনি দিক তদারকিতে মহাপরিচালক (লিগ্যাল) পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    প্রশাসন সূত্র বলছে, বিচার বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং আইন বিষয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর তিনি কমিশনের আইনি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বিচার বিভাগে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামীকাল রবিবার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

    আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে যাচ্ছেন। বয়সসীমা অনুযায়ী তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।

    এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে রবিবার বঙ্গভবনে নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

    দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার আলোকে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচার বিভাগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

  • আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস

    আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস

    এবিএনএ:  আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি উপলক্ষে নানা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    দিবসটি স্মরণে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন আপিল বিভাগের বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিচারাঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বরকে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কারণ হিসেবে জানানো হয়, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রথমবারের মতো উচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে প্রতিবছর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।

  • সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    এবিএনএ: অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে ধারা ছিল, সেটি পুনর্বহালেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী একটি রিট আবেদন করেন। এতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

    রিটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি’ কর্তৃক এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান যুক্ত হয়।

    আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে সেই বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়। সর্বশেষ হাইকোর্টের রায়ে এ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

  • একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    এবিএনএ: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। অন্যদিকে আসামি পক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে মঙ্গলবারও একই বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে বিষয়টি আজকের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছিল।

    এ বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত তখন বলেন, মামলাটি আইনগতভাবে টেকসই ছিল না এবং অভিযোগপত্রটি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

    পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ১ জুন আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দেয়।

    উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

    ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে খালাস দেন।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চলছে, যা মামলার ভবিষ্যৎ বিচারিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক, আধিপত্যের নয়: প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ:  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মানে কোনো একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত করা। এজন্য একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন অপরিহার্য, যা বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে তুলবে।

    তিনি জানান, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতার দাবি কখনোই একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম শর্ত। যাদের এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে বিচার বিভাগ কখনোই রাষ্ট্রের ওপর একক কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেয়নি। বরং কিছু সময়ে দুর্বল বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সমঝোতায় গিয়েছিল, যা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের কারণ হয়েছিল।

    তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের স্বাধীনতা বিচার বিভাগের বহুদিনের দাবি। এই বিষয়টিকে ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোকে দেখা উচিত। গত ৫০ বছরে বিচার বিভাগ ক্ষমতা ও মর্যাদার দিক থেকে নির্বাহী ও আইন বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে থেকেছে। যদিও অনেক সময় বিচার বিভাগই ছিল কার্যকর রাষ্ট্রীয় অঙ্গ, তবুও তারা কখনো রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠেনি।

    অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এ জে মোহাম্মদ আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, যেখানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. শরীফ উদ্দিন চাকলাদার। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও অনেকে।

  • রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    এবিএনএ: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। দলটি জানায়, বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ করেছে। তবে কিছু কিছু ইস্যুতে মতানৈক্য রয়ে গেছে, যা কমিশনের কার্যক্রমকে কিছুটা ধীর করেছে।

    রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৬টি সংস্কার কমিশনের আলোচনায় বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

    ফখরুল বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, র‍্যাব বিলুপ্তিসহ অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুদক কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে একমত হলেও একটিতে তারা আদালতের অনুমতির বিধান বহাল রাখতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন কমিশনের ২০৮ প্রস্তাবের মধ্যে ১৮৭টিতে তারা একমত, ১১টিতে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে।

    বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯ সুপারিশের মধ্যে ৬২টিতে একমত হয়ে ৯টিতে আংশিক মত দিয়েছে দলটি। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে ২৪৩ সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে একমত হয়েছে, কিন্তু ২৪টির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানিয়েছে।

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশিরভাগেই বিএনপি একমত হয়েছে। বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়ে ছাড় দিয়েছে দলটি। এমনকি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও সংসদে বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতির পদ দানের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও ঐকমত্য হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    বিএনপির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সংস্কারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, জাতীয় স্বার্থে যেসব বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়, তাতে দল আপসহীন। সেইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।