Tag: সুপ্রিম কোর্ট

  • হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার পর বিচারপতিদের স্বাক্ষরযুক্ত আদেশ পরিবর্তন করে নতুনভাবে জাল নথি তৈরি করা হয়। সেই ভুয়া আদেশ কারাগারে দাখিল করে আসামি সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান।

    এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতে আরেক আসামির জামিন শুনানির সময় সামনে আসে। বিষয়টি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নজরে আনেন। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

    বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি রয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

    প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এত বড় ধরনের জালিয়াতি অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনার গভীরে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    মামলার পটভূমি

    ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় অবস্থিত রিংভো অ্যাপারেলস কারখানার গুদাম থেকে প্রায় ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ ছিল, এসব পোশাক পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫), অর্ডারদাতা গোলাম আজম (৪১) এবং নিয়াজ হায়দার (৩৯)।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদন ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামানকে জব্দ অভিযানের সাক্ষী করা হয়।

    সংগঠনটির প্রেক্ষাপট

    পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে সশস্ত্র সংগঠনটির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের দিকে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত।

  • ট্রাম্প আবারো শুল্ক বাড়ালেন: বিশ্বের দেশগুলোর আমদানি পণ্যে এবার ১৫% কর কার্যক্রম শুরু

    ট্রাম্প আবারো শুল্ক বাড়ালেন: বিশ্বের দেশগুলোর আমদানি পণ্যে এবার ১৫% কর কার্যক্রম শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বজনীন আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের সকল দেশের পণ্য আমদানি করার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বেড়ে গিয়েছে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১০% পারস্পরিক শুল্কটি বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প আবার নতুন করে ১০% শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দেন। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ঘোষণা করেন, এই শুল্ক আরও বাড়িয়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে লেখেন, “আজ থেকে বিশ্বের সব দেশের ওপর আমদানি শুল্ক ১০% থেকে ১৫% করা হলো। বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যিকভাবে অসম মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ দিয়ে এসেছে এবং এর বিচার হয়নি। এখন থেকে কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী এই শুল্ক কার্যকর হবে।”

    যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন এটি স্থায়ীকরণ এবং যথাযথ আইনগত বৈধতা দিতে কাজ করবে।

    গত বছর ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইনের (IEEPA) আওতায় বিশ্বের সব দেশের পণ্য আমদানি করার ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সেই সময় ওই সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে।

    মুলত সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের আগে ট্রাম্পের উচিত ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া—এটিও রায় দিতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করে। এই রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যাপক ব্যবহারকে সীমিত করা হয় এবং এখন নতুনভাবে ১৫% শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

  • ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কারাবন্দি ইমরান খান

    ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কারাবন্দি ইমরান খান

    এবিএনএ: পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া মেডিকেল টিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত, অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।

    চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে সম্প্রতি আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন ইমরান খান। আবেদন আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত আদিয়ালা কারাগারে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সালমান সাফদারকেও ওই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন ইমরান খান। এই সমস্যার চিকিৎসা শুরুর পর থেকেই তার চোখের সমস্যা বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমে গিয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মেডিকেল প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক সাধারণত শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে খুব একটা অভিযোগ করতেন না। তবে চোখে সমস্যা শুরু হওয়ার পর তিনি একাধিকবার বিষয়টি জানান। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরের পর থেকেই ইমরান খানের চোখে জটিলতা দেখা দেয়। আইনজীবী সালমান সাফদার জানান, সাক্ষাতের সময় ইমরান খানের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছিল এবং বারবার টিস্যু দিয়ে মুছতে হচ্ছিল।

    আইনজীবীর অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ইমরান খান।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। পরবর্তীতে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে রাজনৈতিক সংকটে পড়েন তিনি। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

  • রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বিচার বিভাগে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামীকাল রবিবার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

    আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে যাচ্ছেন। বয়সসীমা অনুযায়ী তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।

    এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে রবিবার বঙ্গভবনে নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

    দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার আলোকে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচার বিভাগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

  • আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস

    আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস

    এবিএনএ:  আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি উপলক্ষে নানা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    দিবসটি স্মরণে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন আপিল বিভাগের বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিচারাঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বরকে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কারণ হিসেবে জানানো হয়, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রথমবারের মতো উচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে প্রতিবছর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।

  • ঐতিহাসিক রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: ভোটের অধিকার নিশ্চিতের আশাবাদ

    ঐতিহাসিক রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: ভোটের অধিকার নিশ্চিতের আশাবাদ

    এবিএনএ: সংবিধান থেকে বাতিল হওয়া বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ পূর্বের বাতিল রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ বলে রায় দেন, ফলে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

    আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন বহু আইনজীবী, সাংবাদিক ও আগ্রহী নাগরিক। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

    তবে আদালত জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। পরবর্তী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এর ফলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

    গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ শুনানি।

    ২০১১ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পৃথক আবেদন করেছিলেন। চারটি আবেদনের যৌথ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এই যুগান্তকারী রায় দেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

  • দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পদোন্নতি পাচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি বিচারক

    দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পদোন্নতি পাচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি বিচারক

    এবিএনএ: দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় রদবদল আসছে। অধস্তন আদালতের এক হাজারেরও বেশি বিচারককে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা। একই সঙ্গে, সাবেক বিচারক বেগম মোছাম্মৎ কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। বৈঠকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে জেলা ও দায়রা জজ পদে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজদের অতিরিক্ত জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী বিচারকদের যুগ্ম জেলা জজ এবং সহকারী বিচারকদের সিনিয়র সহকারী বিচারক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

    তবে একই বৈঠকে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফুলকোর্ট। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি এক ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় আসামিকে জামিন দেওয়ায় তাঁর বিচারিক ক্ষমতা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর ফৌজদারি বিচারিক দায়িত্ব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

    সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় তাঁর বিচারিক ক্ষমতা ফেরানোর প্রস্তাব পাঠালেও, বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় ফুলকোর্ট সেটি নাকচ করেছে।

    এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডারও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে, কারণ সরকারের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার এখনো প্রকাশিত হয়নি।

    বিচারকদের এই ব্যাপক পদোন্নতি দেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন গতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা বিষয়ক বিশেষ সেমিনার আয়োজন করল ডুলা

    সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা বিষয়ক বিশেষ সেমিনার আয়োজন করল ডুলা

    এবিএনএ:  সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে জনস্বার্থ মামলা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণমূলক সেমিনার। আয়োজন করে Dhaka University LLM Lawyers’ Association (ডুলা), যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সেশনের মূল বক্তা ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম। তিনি জনস্বার্থ মামলার গুরুত্ব, প্রক্রিয়া ও প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং তরুণ আইনজীবীদের উৎসাহিত করেন।

    আয়োজকরা জানান, আইন পেশায় ক্রমাগত শেখা ও জানার বিকল্প নেই। এমন প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের মাধ্যমে আইনজীবীরা তাদের পেশাগত দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।

    ডুলার সভাপতি এডভোকেট শেখ আলী আহমেদ খোকন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কাজী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনসহ সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ এ আয়োজনকে সফল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের সেমিনার নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন। নচেৎ আইন পেশা ধীরে ধীরে মেধার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই তারা ডুলাকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

  • সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে বড় আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো তাকে একের পর এক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

    গত সপ্তাহে ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফেডারেল রিজার্ভের একজন গভর্নরকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। লিসা কুক নামে ওই গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আগে বন্ধক-সংক্রান্ত কাগজে ভুয়া তথ্য জমা দিয়েছিলেন। তবে কুক অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হলেও এখনও রায় ঘোষণা হয়নি।

    অর্থনীতিতে ট্রাম্পের আরেকটি বড় পদক্ষেপ হলো নতুন শুল্ক আরোপ। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর বসানোর পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, ভারত ও চীনের পণ্যের ওপরও বিশেষ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। কিন্তু ফেডারেল আপিল আদালত এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে কর আরোপ করতে পারেন না।

    রবিবার ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি এই রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন। আদালতের রায়কে তিনি ‘র‍্যাডিকাল লেফটের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, “শুল্ক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র টিকতে পারবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    এদিকে বিদেশি সহায়তা আটকে রাখার বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন জটিলতার মুখে পড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার প্রকৃত সীমা কোথায় নির্ধারণ হবে তা স্থির করা।

  • সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    এবিএনএ:  সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দুই বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির মনোনয়নে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি স্বাক্ষর করেছেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহা. হাসানুজ্জামান।

    নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ৮, ৯, ১০, ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে আপিল বিভাগের ১নং চেম্বার কোর্টে জরুরি বিষয়াদি শুনানি করবেন। অপরদিকে, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ২১, ২৩, ২৫, ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর এবং ৫, ৭, ৯, ১২ ও ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপিল বিভাগের ২নং চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।

    অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগে এসব চেম্বার জজ মামলাসংক্রান্ত জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।