জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে টেলিগ্রাম ও বোটিম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা
আওয়ামী লীগ নেতাদের অনলাইন যোগাযোগে টেলিগ্রাম-বোটিম ব্যবহারের অভিযোগে রাতে গতি সীমিত করা হতে পারে, নির্বাচনের পর পুরোপুরি বন্ধের চিন্তা।


এবিএনএ: সরকার জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টেলিগ্রাম ও বোটিম অ্যাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত অনেক নেতা-কর্মী টেলিগ্রাম ও বোটিম ব্যবহার করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং অনলাইন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
জানা গেছে, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে রাতে এই দুটি অ্যাপের গতি সীমিত করা হতে পারে। তবে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর বাংলাদেশে অ্যাপ দুটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে একজনের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধন করা সম্ভব হলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা অর্ধেক করা হচ্ছে।
এছাড়া, আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, জেলা পর্যায়ের আইনজীবী সমিতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জামিন প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামিন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মাসে এ ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে প্রায় ৩২ হাজারেরও বেশি আসামি জামিন পেয়েছেন।
এ বৈঠকে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ও আরসা নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগও আলোচনা হয়। দুই পক্ষই একে অপরকে বাংলাদেশের সহায়তা করার অভিযোগ তুলেছে। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশকে দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, না হলে এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়া পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী, র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার পর সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, জাতীয় নির্বাচন, দুর্গাপূজা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়েই মূলত আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।




