Tag: মাইলস্টোন স্কুল

  • মাইলস্টোনের তিন শিক্ষক মানবতার আলো ছড়ালেন, জাতির গর্ব হয়ে থাকবেন চিরকাল

    মাইলস্টোনের তিন শিক্ষক মানবতার আলো ছড়ালেন, জাতির গর্ব হয়ে থাকবেন চিরকাল

    এবিএনএ: মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তিন শিক্ষক—মাহেরীন চৌধুরী, মাসুকা বেগম ও মাহফুজা খাতুন—মানবতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এই শোক শুধু আপনাদের নয়, গোটা জাতির। তাঁরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলো দেখাবে।”

    এসময় নিহত শিক্ষকদের পরিবার তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন। মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, “নিজের দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও অন্য শিশুদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়েছেন মাহেরীন।”

    শিক্ষক মাহফুজা খাতুনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “মা অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম মা’কে নিয়ে বাড়ি ফিরব। কিন্তু তিনি চলে গেলেন, আমাকে একেবারে একা করে।”

    মাসুকা বেগমের পরিবার বলেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, ছিলেন সবার অভিভাবক। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনদের দেখাশোনায় তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ।

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “তিনজন শিক্ষক নিজেদের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন মানবতার মহিমা কত উচ্চে। তাঁরা শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা জাতির আদর্শ। তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখতে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।”

    এসময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

  • বার্ন ইনস্টিটিউটে সংকটাপন্ন ৫ দগ্ধ, চিকিৎসারত ৪০ জন

    বার্ন ইনস্টিটিউটে সংকটাপন্ন ৫ দগ্ধ, চিকিৎসারত ৪০ জন

    এবিএনএ: ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, “দুর্ঘটনায় আজ আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, “এই ৪০ জনের মধ্যে আরও ১০ জন রয়েছেন সিপিআর ক্যাটাগরিতে যাদের অবস্থাও গুরুতর। এছাড়া পোস্ট অপারেটিভ পর্যায়ে রয়েছেন ১০ জন এবং ১৫ জন রয়েছেন সাধারণ ক্যাবিনে।”

    সংকটাপন্নদের মধ্যে কয়েকজনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল, যাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি করেছে। তারা এখন নিজেরাই শ্বাস নিতে পারছেন।

    পরিচালক জানান, “রোগীদের সুস্থতার অগ্রগতি বিবেচনায় আগামীকাল শনিবার ৪ থেকে ৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।”

    এদিন রোগীদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের চিকিৎসকদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দল ইনস্টিটিউটে এসে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের সঙ্গে সভায় মিলিত হন।

    বার্ন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরামর্শে নেওয়া হচ্ছে যেন তাদের দ্রুত ও নিরাপদে সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও, অধিকাংশ হাসপাতাল জানিয়েছে—এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি।

    দুর্ঘটনার পর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে উত্তরা অঞ্চলের চারটি বেসরকারি হাসপাতালে ১৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ বলছেন—সরকারি নির্দেশনার আগে থেকেই তারা বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

    উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বজলুর রহমান আদিল বলেন, “বার্ন রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু—স্যালাইন, ড্রেসিং সেট, ক্রিম—আমরা বিনামূল্যে দিয়েছি। পরে সরকারের নির্দেশনা দেখেছি, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের উপস্থিতি থাকলে দুর্ঘটনার সময় আরও ভালো সমন্বয় হতো। যদিও অনেক বেসরকারি সংস্থা সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।”

    বুধবার সরেজমিনে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, লুবানা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট ও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়—বিমান দুর্ঘটনার রোগীদের বেশিরভাগই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

    হাসপাতালগুলোর চিত্র:

    • উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ:
      ১০০ জন চিকিৎসা নেন, গুরুতর আহত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, রাতেই অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    • লুবানা জেনারেল হাসপাতাল:
      ২৭ জন এসেছিলেন, ১৪ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, একজনের মৃত্যু হয়।

    • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল:
      দগ্ধ ১২ শিক্ষার্থী এসেছিল, ৫ জন পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ:
      ১৩ জন এসেছিলেন, ভর্তি ছিলেন ৫ জন। একজন বাসচালক আইসিইউতে ছিলেন, পরে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যে:
    মাইলস্টোন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমান জানান, “চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা লাগেনি, কিন্তু এখনো কেউ খোঁজ নেয়নি।”

    লুবানা হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা মিরাজুন নাবী বলেন, “তিন দিনেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কেউ যোগাযোগ করেনি।”

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান:
    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “দুর্ঘটনার দিনই সব হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ পাঠানো হয়।” তবে কেন পরে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • অবশেষে না ফেরার দেশে মাহিয়া তাসনিম, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৩

    অবশেষে না ফেরার দেশে মাহিয়া তাসনিম, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৩

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে দগ্ধ হওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া তাসনিম (১৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাহিয়ার শ্বাসনালিতে গুরুতর ক্ষত ছিল এবং শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বার্ন ইউনিটে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনে।

    এর আগে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে একই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১৫ বছর বয়সী মাহতাব রহমান, যার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মাত্র তিন ঘণ্টা ব্যবধানে দুজন কিশোর প্রাণ হারাল।

    মাহিয়ার পরিবার রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক প্রজেক্টের ডি-ব্লকে বসবাস করে। পাঁচ বছর আগে তার বাবা মোহাম্মদ বিশ্বাস মারা যান। মা আফরোজা খাতুন এবং ফুফু মিলে তিন কন্যাকে বড় করে তুলছিলেন। মাহিয়ার মৃত্যুর খবর এখনো তার মা জানেন না; তিনি উত্তরার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে এ পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও শিক্ষার্থী।

    দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আরও ৫৭ জন বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউট, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

    ইতিপূর্বে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

    মানবিক বিপর্যয় আর অকাল মৃত্যুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা জাতি শোকাহত। মাহিয়া তাসনিমের চলে যাওয়া সেই বেদনার আরেক নতুন অধ্যায়।

  • মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা: ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন, একজনের নতুন ভর্তি

    মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা: ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন, একজনের নতুন ভর্তি

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ভয়াবহ ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি দগ্ধদের মধ্যে ১৩ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৫৭ জন এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছেন। এ ছাড়া বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।

    গত সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন, কেউ কেউ দগ্ধ অবস্থায় মারা যান।

    এই দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা এবং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিদিনই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

  • জেমসের কনসার্টে মানবিক বার্তা: বিমান দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নগরবাউল

    জেমসের কনসার্টে মানবিক বার্তা: বিমান দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নগরবাউল

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস তার সঙ্গীত দিয়ে যেমন হৃদয় জয় করেছেন, এবার মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে মুগ্ধ করছেন ভক্তদের। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা এই শিল্পী ২৫ জুলাই ফিলাডেলফিয়া শহরে অংশ নিচ্ছেন ‘নগরবাউল জেমস লাইভ ইন ফিলাডেলফিয়া’ শীর্ষক এক বিশেষ কনসার্টে।

    এই আয়োজনের পেছনে আছে একটি মহান উদ্দেশ্য। কনসার্টের আয়োজক রিভারাইন এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হবে সম্প্রতি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তায়।

    এক ফেসবুক পোস্টে আয়োজকরা লিখেছেন, “ঢাকায় ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃসময়ে আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকতে চাই। তাই কনসার্টের টিকিট বিক্রির একটি অংশ সরাসরি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রদান করা হবে।”

    এই দুর্ঘটনার ঘটনায় নগরবাউল জেমস ও তার টিমও প্রকাশ করেছে গভীর শোক। জেমসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক শোকবার্তায় তিনি জানান, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। যেসব কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে বা আহত হয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের অকুণ্ঠ সহানুভূতি ও ভালোবাসা। তাদের পরিবারের পাশে আমরা আছি।”

    জেমস আরও বলেন, “ঘটনাস্থলে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নিহতদের জন্য দোয়া করি, আর আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

    মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই জেমস প্রমাণ করলেন, একজন শিল্পী কেবল মঞ্চেই নয়, সমাজের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েও মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় জাতির শোক: মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় জাতির শোক: মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের স্মরণে আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

    সোমবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একইসঙ্গে বিদেশে অবস্থিত সকল বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনেও অর্ধনমিতভাবে পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শুধু পতাকা নয়, নিহত ও আহতদের স্মরণে দেশব্যাপী ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন, যাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

    দুর্ঘটনার পর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: পাশে থাকার অঙ্গীকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: পাশে থাকার অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় জানান, ঢাকায় যে বেদনাদায়ক বিমান দুর্ঘটনায় বহু তরুণ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ তিনি লিখেছেন, “এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশবাসীর প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভারত বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

    ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও একই বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করে একটি ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলা হয়, “মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা জাতীয়ভাবে এক গভীর শোকের মুহূর্ত। এতে বিমানসেনা ও শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অনেকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”

    প্রধান উপদেষ্টা আহতদের সুস্থতা কামনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেশের প্রতিটি স্তরকে নাড়া দিয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন মহল।

    এখন সকলের একটাই প্রত্যাশা—এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়।

  • উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত হানিফ সংকেত, রক্তদানের আহ্বান জানালেন

    উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত হানিফ সংকেত, রক্তদানের আহ্বান জানালেন

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গোটা দেশ শোকে স্তব্ধ। সোমবার রাত পর্যন্ত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু এবং ১৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে আইএসপিআর ও ফায়ার সার্ভিস।

    এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই দেশের বরেণ্য উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন শোক বার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন,

    “আমি বাকরুদ্ধ, ভীষণভাবে শোকাহত। এতগুলো শিশুর প্রাণহানি মেনে নেওয়া কষ্টকর। আল্লাহ যেন নিহতদের পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন।”

    তিনি আরও বলেন,

    “আহত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসুক, এই দোয়া করছি। সবাইকে অনুরোধ করছি—রক্তদানে এগিয়ে আসুন এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে অযথা ভিড় না করে সেবাদানে সহায়তা করুন।”

    এই দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন আরও অনেক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকা। ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেন শাকিব খান, ডিপজল, জয়া আহসান, অপু বিশ্বাস, মেহজাবীন, সিয়াম আহমেদ, ইমন, তাসনিয়া ফারিণ, আসিফ আকবর, ইমরান মাহমুদুল, কোনাল, কনা, পড়শীসহ অনেকেই।

    দেশজুড়ে চলমান শোকাবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকেও আহ্বান জানানো হচ্ছে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য, বিশেষ করে হাসপাতালে রক্তদানে ও সাহায্যে অংশ নিতে।