Tag: বিক্ষোভ

  • বিজেপি-বিরোধী বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

    বিজেপি-বিরোধী বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

    এবিএনএ:   ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা। তাদের সঙ্গে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতসহ ইন্ডিয়া জোটের আরও কয়েকজন সিনিয়র সংসদ সদস্যকেও আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানাতে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। তবে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয় এবং মিছিল থেকে আটক করে নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যায়।

    যুগ্ম পুলিশ কমিশনার দীপক পুরোহিত জানান, এই বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি ছিল না। নির্বাচন কমিশন কেবল ৩০ জন সংসদ সদস্যকে অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু মিছিলে ২০০ জনেরও বেশি অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ বাধা দেয় এবং কিছু নেতা ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।

    বিক্ষোভস্থলে দেখা গেছে, নেতারা ও কর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন এবং পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। এ সময় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে ব্যারিকেড টপকাতে দেখা যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিশৃঙ্খলার মধ্যে মহুয়া মৈত্রসহ দুই সাংসদ অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

    আটকের সময় রাহুল গান্ধী বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলতে পারি না—এটাই সত্য। এই লড়াই রাজনৈতিক নয়, এটি সংবিধান ও এক ব্যক্তি এক ভোটের অধিকারের জন্য।” প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “ওরা ভয়ে আছে, সরকার কাপুরুষ।”

    বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন রাহুল গান্ধী, আর পেছনে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি ঘটনাস্থলেই বসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

  • বাগেরহাটে সংসদীয় আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহাসড়কজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

    বাগেরহাটে সংসদীয় আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহাসড়কজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব ঘিরে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে শহরের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

    বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খেলাফত মজলিস, ইমাম সমিতি, যুব দল ও এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

    নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বিদ্যমান। হঠাৎ করেই কোনও পরামর্শ ছাড়াই একটি আসন বাতিলের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

    বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত যদি বাতিল না করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে বাগেরহাটকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দেবো।” তারা আরও জানান, আগামীকালও প্রতিবাদ চলবে এবং জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

  • সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    এবিএনএ:  ঢাকার সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

    ছাত্ররা পরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগ।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সাইন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ২০ মিনিট সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। এরপর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।

  • তালাবদ্ধ এনবিআর ভবন: ভেতরেও তালা, বাহিরেও তালা—অবরুদ্ধ পুরো প্রশাসন

    তালাবদ্ধ এনবিআর ভবন: ভেতরেও তালা, বাহিরেও তালা—অবরুদ্ধ পুরো প্রশাসন

    এবিএনএ:  ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনবিআর বিলুপ্তি প্রতিরোধ ও চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের প্রবেশ ঠেকাতে ভবনের তিনটি প্রধান গেটে ভেতর এবং বাহির উভয়দিক থেকেই তালা লাগানো হয়।

    ভবনের ভেতর-বাহিরে তালাবদ্ধ কর্মীরা

    সকাল ১১টার পর এনবিআর কর্তৃপক্ষ ভবনের ভেতর থেকে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। ফলে যারা এর আগেই ভবনে প্রবেশ করেছিলেন, তারা আর বাইরে বের হতে পারেননি। বিপরীত দিকে, যারা বাইরে অবস্থান করছিলেন, তারাও ক্ষিপ্ত হয়ে বাহির দিক থেকে গেট তালাবদ্ধ করে দেন। ফলে সৃষ্টি হয় চরম অবরুদ্ধ পরিস্থিতি। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে গেট খুলে দেওয়া হয়।

    প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: মোতায়েন পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি ও সেনাবাহিনী

    এনবিআর ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রশাসন প্রস্তুত ছিল পুরোপুরি।

    সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

    বিকেলে গেটের বাইরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ জানায়, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া আলোচনায় তাদের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাই সেই আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।

    তারা আরও বলেন, “যেভাবে তালা দিয়ে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে, তা এক ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় অতীতের জুলাই গণআন্দোলনের সময়কার নির্যাতনের ছবি।”

    আন্দোলন অব্যাহত: কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি

    এদিনও আন্দোলনরত কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। তারা ভবনের বাইরে অবস্থান নেন এবং কর্মস্থলে প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, “আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমরা বাইরে থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি।”

  • ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের কর্মচারীরা আন্দোলনে আরও সক্রিয় হয়েছেন। এই দাবিতে তারা ফের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ২২ জুন থেকে সারাদেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর প্রদক্ষিণ করে একদল আন্দোলনরত কর্মচারী মিছিল করেন। পরে ভবনের নিচে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, “যদি আজকের মধ্যেই আমাদের দাবি মেনে সংশোধিত অধ্যাদেশ বাতিল করা না হয়, তাহলে আগামী রবিবার (২২ জুন) থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হবে।” তারা আরও জানান, এই কর্মসূচিতে দেশের সব সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে একযোগে আন্দোলনে নামা হবে।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সমাবেশে আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনের সামনে পুনরায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    নুরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবি আজই মানতে হবে। অন্যথায় ২২ জুন থেকে আমরা এমন কর্মসূচি নেব, যা পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অচল করে দিতে পারে।”

    এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এ ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    এবিএনএ: সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বুধবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল বের হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সচিবালয়ের বাদামতলা এলাকায় জড়ো হন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী। সেখানে বাংলাদেশ সচিবালয় ঐক্য ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির, মো. নুরুল ইসলাম এবং কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

    নেতারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলোচনায় বলেছেন যে, কর্মচারীদের আন্দোলন নাকি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আসলে কি আন্দোলন কমে আসছে? বরং আজকের জমায়েত গতকালের চেয়েও দ্বিগুণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বুধবার প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা মিছিল আসবে সচিবালয়ের দিকে।”

    তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, এই দাবি আমাদের সবার এবং পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

    ফোরামের আরেক কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবির বলেন, “এই আন্দোলন এখন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশে আমাদের সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছেন। আমরা অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

    বুধবার সকাল ১১টায় আবারও সবাইকে সচিবালয়ের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা আবারও বাদামতলায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • লস অ্যাঞ্জেলেসকে ‘মুক্ত করার’ ঘোষণা ট্রাম্পের, কারফিউ-সহ উত্তাল শহরজুড়ে সংঘর্ষ

    লস অ্যাঞ্জেলেসকে ‘মুক্ত করার’ ঘোষণা ট্রাম্পের, কারফিউ-সহ উত্তাল শহরজুড়ে সংঘর্ষ

    এবিএনএ:

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরজুড়ে আবারও উত্তাল পরিস্থিতি। অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে গণবিক্ষোভ, গণগ্রেফতার ও কারফিউ জারি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ময়কর মন্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি ‘লস অ্যাঞ্জেলেসকে স্বাধীন’ করবেন।

    বিক্ষোভের পঞ্চম দিনেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। শহরের মেয়র কারেন বাস ডাউনটাউনের একটি অংশে রাতভর কারফিউ ঘোষণা করেছেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”

    এদিকে, ন্যাশনাল গার্ড এবং মেরিন সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ফেডারেল বাহিনী এখন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সহায়তায় কাজ করছে। সীমান্ত নিরাপত্তায় মোতায়েন এসব সেনাদের হাতে গ্রেফতারের ক্ষমতা না থাকলেও, তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র ফেডারেল স্থাপনা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “ট্রাম্প আবারও উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছেন, যা রাজ্যগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।”

    মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে কারফিউ কার্যকর হতেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এরপরও বহু বিক্ষোভকারী ডাউনটাউনে অবস্থান করে।

    ট্রাম্পের ভাষায়, “লস অ্যাঞ্জেলেস যেন বিদেশি শত্রুদের কবলে চলে গেছে। আমি এ শহরকে উদ্ধার করব।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তেজনা ছড়ানোর কৌশল।

  • মঙ্গলবার বন্ধ থাকছে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ, আন্দোলনের ঘোষণা উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    মঙ্গলবার বন্ধ থাকছে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ, আন্দোলনের ঘোষণা উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    এবিএনএ,ঢাকা:


    অনিবার্য কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

    রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রেরিত এই চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার সারাদিন দর্শনার্থীরা সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

    এদিকে, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের ভেতরে সরকারি কর্মচারীদের লাগাতার বিক্ষোভ সোমবার তৃতীয় দিনে গড়ায়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা সচিবালয়ের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান।

    বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী ‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় এলাকার বাদামতলায় সমবেত হবেন তারা।

    ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বলেন, “আমাদের দাবি একটাই—এই কালো অধ্যাদেশ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে। যতদিন না তা হয়, ততদিন আন্দোলন চলবে।”

    একই সঙ্গে ফোরাম দেশের অন্যান্য সরকারি অফিসেও কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের সব প্রান্ত থেকে এই দাবি জোরালো হয়।

  • ইশরাককে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব না দিলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে: নগর ভবন ঘেরাওয়ে হুঁশিয়ারি

    ইশরাককে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব না দিলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে: নগর ভবন ঘেরাওয়ে হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগর ভবনের সামনের এলাকা। সোমবার বিকেলে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে নগর ভবনের সামনেই পালন করা হবে একটানা অবস্থান কর্মসূচি।

    আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র সাবেক সচিব মশিউর রহমান এদিন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, “এই যৌক্তিক দাবি বারবার জানানো সত্ত্বেও সরকার রহস্যজনকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এমন হঠকারী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আগামীকাল পর্যন্ত এই দাবি না মানা হয়, তাহলে এর দায় সরকারের ঘাড়েই যাবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”

    এর আগেই সোমবার সকাল ১১টা থেকে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে নগর ভবনের সামনে এবং আশপাশে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। বঙ্গমার্কেট গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন সড়কও অবরোধ করে দেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকাতেই সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা।

    এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আগের দিনগুলোতেও আন্দোলনকারীরা সচিবালয় অভিমুখে বিশাল মিছিল বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার রবিবারের কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের একটিই দাবি—ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে দ্রুত মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে।

    মশিউর রহমান আরও বলেন, “এই আন্দোলন কেবল ইশরাককে নিয়ে নয়, এটি ঢাকাবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই। আমরা পিছু হটছি না, এই লড়াই চলবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত।”

  • ইশরাক সমর্থকদের অবরোধে অচল নগর ভবন, সোমবার ঘোষিত হলো ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি

    ইশরাক সমর্থকদের অবরোধে অচল নগর ভবন, সোমবার ঘোষিত হলো ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি

    এবিএনএ: ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত সমর্থকরা আগামীকাল সোমবার নগর ভবনে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

    তাদের দাবি, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবনের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগর ভবনের সামনে তারা অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    রবিবার এক প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকাবাসীর পক্ষে আন্দোলনের ঘোষণা দেন মশিউর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা দাবি করছি, নগর ভবনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হোক। আমাদের আন্দোলন চলবে যতক্ষণ না ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।”

    আন্দোলন চলাকালে সমর্থকদের মুখে শোনা গেছে—“দফা এক দাবি এক, আসিফের পদত্যাগ”—এই স্লোগান।

    নগর ভবনের সামনে টানা চার দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    সকাল থেকে বিভিন্ন সেবা নিতে নগর ভবনে আসা অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও সেবা পাচ্ছেন না।

    নগর ভবনের অভ্যন্তরে কর্মীদের প্রবেশ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় নাগরিক সেবায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

    আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। আগামীকাল ঘোষিত ‘ব্লকেড’ সফল করতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে।

    সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি কোনো সমঝোতা বা আলোচনা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।