Tag: বিক্ষোভ

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলাব্যাপী হরতাল পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা সকাল থেকেই শহর ও গ্রামীণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। কিছু এলাকায় বেঞ্চ পেতে বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দূরপাল্লার সব বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

    জেলা সর্বদলীয় ঐক্য কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ১৩০টির বেশি স্থানে স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাগেরহাট কার্যত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এক প্রকার অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

    পণ্য পরিবহনেও ধস:
    বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, ধরাটা না সেতু, ফতেপুর বাজার ও সিএনবি মোড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। চালকরা রাস্তার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ বিলম্বে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    দোকানপাটও বন্ধ:
    হরতালের প্রতি সংহতি জানিয়ে অধিকাংশ দোকান মালিক তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। এতে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।

    রাতেও অবরোধ:
    বুধবার শুরু হওয়া হরতাল রাতেও অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা রাতেও বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ফলে রাতভর কোনো যানবাহন চলেনি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, রাতের সড়ক অবরোধ দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    আন্দোলনের পেছনের কারণ:
    ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ঘোষিত খসড়া অনুযায়ী, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার পরিকল্পনা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাগেরহাটবাসী তীব্র প্রতিবাদ জানায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় এবং তাতে তিনটি আসনই বহাল রাখা হয়।

    বর্তমান আসন বিন্যাস (২০২৫):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    পূর্ববর্তী বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    সর্বদলীয় কমিটির নেতারা বলছেন, এই আসন সংকোচনের সিদ্ধান্ত জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

  • ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ: ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় লাখো মানুষ

    ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ: ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় লাখো মানুষ

    এবিএনএ:  ইউরোপের দেশ ফ্রান্স আবারও বিক্ষোভে উত্তাল। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ এবং সরকারের বাজেট কর্তনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়।

    বুধবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্যারিসসহ একাধিক স্থানে আবর্জনার পাত্রে আগুন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে এবং প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

    এরই মধ্যে বিরোধীদলগুলো সংসদে একত্র হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ঘনিষ্ঠ মিত্র সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

    প্যারিসে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি তোলে। সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি ফ্রেড স্পষ্টভাবে বলেন, “সমস্যা মন্ত্রীদের নয়, সমস্যা ম্যাক্রোঁর— তাকে সরে দাঁড়াতে হবে।”

    বিক্ষোভে যুবকরাও সক্রিয় ছিল। একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করায় পুলিশ তাদের উপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। গ্যারে ডু নর্ড ট্রেন স্টেশনের কাছেও বিশাল ভিড়কে আটকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লিসা ভেনিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সংসদ ভাঙার অথবা বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী আসার আশা করেছিলাম, কিন্তু কিছুই হয়নি। এটি সত্যিই হতাশাজনক।”

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলউ জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রেনেসে বিক্ষোভকারীরা একটি বাসে আগুন দিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলনের কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। ‘ব্লক এভরিথিং’ নামের শিথিল সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনটি শুরু হয়, যা পরে বামপন্থী ও অতি-বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    ফ্রান্সজুড়ে এই অস্থিরতা এখন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

  • নেপালের তরুণদের অভিযোগ: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেড়ে নিল ‘সুযোগসন্ধানীরা’

    নেপালের তরুণদের অভিযোগ: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেড়ে নিল ‘সুযোগসন্ধানীরা’

    এবিএনএ:  নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। তবে শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়।

    নিজেদেরকে ‘জেন জি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া তরুণরা অভিযোগ তুলেছে— তাদের আন্দোলনকে কিছু ‘সুযোগসন্ধানী’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, কিন্তু সরকারি স্থাপনা, রাজনীতিবিদদের বাড়ি এমনকি সংসদ ভবনে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা তাদের উদ্দেশ্যের প্রতিফলন নয়।

    এদিকে সহিংসতা বেড়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। শূন্যতা তৈরি হওয়ায় সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসে। তারা এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজেন্দ্র বসনেট জানিয়েছেন, তারা সহিংসতার সুযোগ নেওয়া দুষ্কৃতীদের দমন করছে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।

    জেন-জি প্রজন্ম এখন নতুন দাবি-দাওয়ার তালিকা তৈরি করছে। তাদের অন্যতম দাবি, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়।

    কাঠমান্ডুর রাস্তায় কিছু তরুণকে আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতেও দেখা গেছে। ১৪ বছর বয়সী কাসান লামা বলেন, “দুর্নীতি অনেক দিন ধরেই চলছে, এখন সময় পরিবর্তনের।” আরেক তরুণ পরাশ প্রতাপ হামালের মতে, নেপালের এখন স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দরকার।

    তবে অনেকেই সহিংসতায় বিস্মিত। ৩৬ বছরের রাকেশ নিরাউলা বলেন, “এভাবে হওয়া উচিত ছিল না।”

    সবকিছুর মাঝেই সাধারণ নেপালি নাগরিকরা বিশ্বাস করছেন, এই আন্দোলন ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিশা হয়ে উঠতে পারে, যা দেশকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবে।

  • ভাঙ্গায় মহাসড়ক অবরোধে থমকে দক্ষিণবঙ্গ, ঢাকার সঙ্গে ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ভাঙ্গায় মহাসড়ক অবরোধে থমকে দক্ষিণবঙ্গ, ঢাকার সঙ্গে ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    এবিএনএ:  ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল থেকে অবরোধের কারণে মহাসড়কে আটকে আছে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

    সকাল ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হলেও বেলা ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। সকাল সাড়ে ৯টার পর ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষুব্ধরা টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন এবং মিছিল বের করেন। এছাড়া ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও সুয়াদী পাম্প সংলগ্ন স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়।

    মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন ট্রাকচালক মালেক শেখ। তিনি জানান, পদ্মা সেতু পার হয়ে মুনসুরাবাদে পৌঁছাতেই অবরোধকারীরা তার ট্রাক আটকে দেয়। ফলে মালামাল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।

    অপরদিকে, বরিশাল থেকে ঢাকার পথে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা অবরোধের বিষয়ে জানতেন না। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাঁটা এবং ভ্যানে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবিকে তারা সমর্থন জানান।

    বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তারা গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের মহাসড়ক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। তাই অবরোধকারীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তারা সড়ক থেকে সরে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল জানান, হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের চারটি পয়েন্টে বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে কোনো প্রকার ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত শুক্রবারও একই দাবিতে নয় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন স্থানীয়রা। তার ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।

  • নেপালে সংসদ ভবনে আগুন: উত্তাল বিক্ষোভের মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়রের শান্ত থাকার আহ্বান

    নেপালে সংসদ ভবনে আগুন: উত্তাল বিক্ষোভের মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়রের শান্ত থাকার আহ্বান

    এবিএনএ:  দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেপাল। টানা বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে হামলা চালিয়ে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ করেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি জানান, শত শত বিক্ষোভকারী মূল চত্বরে প্রবেশ করে ভাঙচুরের পর আগুন লাগায়। এতে সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুধু সংসদ ভবনই নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘরও আক্রান্ত হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তরুণদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। তাই এখন আর প্রাণহানি বা সম্পদ ধ্বংস কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি-বেসরকারি সম্পদ আমাদের সবার যৌথ সম্পদ, এগুলো নষ্ট করলে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা নিজেরাই।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জাতীয় সম্পদ ধ্বংস মানে সবার ক্ষতি। দয়া করে শান্ত থাকুন এবং সংযম প্রদর্শন করুন। এখান থেকেই আপনাদের প্রজন্মকে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।”

    এর আগে সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত ও ৪০০ জনের বেশি আহত হন। এই সহিংসতা ও জনচাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরও তরুণদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, কাঠামোগত সংস্কার ও রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এ আন্দোলন এখন এক নতুন বাঁকে পৌঁছেছে। দ্রুত সমাধান না হলে নেপালের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

  • ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে টিএসসিতে উত্তেজনা

    ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে টিএসসিতে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদলসহ কয়েকজন প্রার্থী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামসহ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থীরা টিএসসিতে গিয়ে ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসন তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় প্রার্থীরা ভেতরে প্রবেশের দাবি জানিয়ে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন—“ভোট চোর ভোট চোর, শিবির ভোট চোর”, “প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না।”

    প্রার্থীদের অভিযোগ, টিএসসিতে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনে ব্যালট বাক্সের দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল না। তারা দাবি করেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট বাক্স লুকিয়ে কারচুপি করছে। স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী হাসিবুল অভিযোগ করেন, “শিবির প্রার্থীদের ভোট গণনার সময় ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।”

    অবস্থান কর্মসূচি আধাঘণ্টারও বেশি সময় চলার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রশাসন গেট খুলে দিলেও ছাত্রদল নেতারা ভেতরে প্রবেশ না করে টিএসসি ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

    টিএসসি থেকে বের হয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন কারচুপি লুকোতে চাইছে। তাই আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন মানি না।”

    এ ঘটনার পর টিএসসির এলইডি স্ক্রিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।

  • গোয়ালন্দে তাণ্ডব: দরবারে হামলার পর কবর থেকে তুলে পোড়ানো হলো ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ

    গোয়ালন্দে তাণ্ডব: দরবারে হামলার পর কবর থেকে তুলে পোড়ানো হলো ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ

    এবিএনএ: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সহিংসতায় উত্তাল হয়ে ওঠে জুরান মোল্লাপাড়া এলাকা। নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করা নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর থেকে মরদেহ তুলে তা আগুনে পোড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

    শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পরপরই শতাধিক মানুষ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওই দরবার শরীফে হামলা চালায়। প্রথমে দরবার ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর মরদেহ কবর থেকে তুলে মাটিতে ফেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই হামলায় দরবার শরীফের অনুসারী ও ভক্তসহ অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বহুদিন ধরে নুরাল পাগলার দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল, যা শুক্রবার বড় সহিংসতায় রূপ নেয়।

    গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।

  • ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মার্কিন শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও। শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৯০০-এরও বেশি স্থানে

    শিকাগো টিচার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন পোটার জানান, এই কর্মসূচি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে এবং অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। আমরা এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারি না।”

    ‘ওয়ার্কার্স অভার বিলিয়নেয়ার’ ব্যানারে আয়োজিত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ১৪ জুন ‘নো কিংস’ শীর্ষক এবং ২ আগস্ট আরও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি সারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়েছিল। তবে এবারের শ্রমিক দিবসের বিক্ষোভের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের কৌশল, যার লক্ষ্য রিপাবলিকান প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার।

    নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, মায়ামি, আটলান্টা, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেট্রয়েট, ডেনভারসহ প্রায় সব বড় শহরেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আলাস্কা, আলাবামা, নেব্রাস্কা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওকলাহোমা, লাসভেগাস, হাওয়াই, মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ছোট-বড় শহরেও একযোগে বিক্ষোভ চলবে।

    শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, এ কর্মসূচি শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

  • তিন দফা দাবিতে মৎস্য ভবনের সামনে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের অবরোধে স্থবির রাজধানী

    তিন দফা দাবিতে মৎস্য ভবনের সামনে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের অবরোধে স্থবির রাজধানী

    এবিএনএ:  রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক মৎস্য ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় জটলার সৃষ্টি করেন বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তিন দফা দাবিতে তারা হঠাৎ সড়ক অবরোধ করে বসেন, ফলে পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

    শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদোন্নতি ও ‘প্রকৌশলী’ উপাধি ব্যবহার নিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত করা যাবে না এবং সরকারি চাকরিতে দশম গ্রেডে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেবল স্নাতক প্রকৌশলীদের যোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে।

    বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচির আগে বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন হয়ে প্রেসক্লাব ও হাইকোর্টের সামনে দিয়ে এগিয়ে যান। পরে তারা মৎস্য ভবন এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন।

    এর আগেও শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেন। আর বুধবার (২৭ আগস্ট) পূর্বঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেন তারা, যার ফলে ওই এলাকা এবং আশপাশের সড়ক কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

    আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও কঠোর আকার ধারণ করবে।

  • ঢাবিতে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির পরও বহাল ছাত্রদল কমিটি, জানালেন রাকিব

    ঢাবিতে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির পরও বহাল ছাত্রদল কমিটি, জানালেন রাকিব

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও ছাত্রদল ঘোষিত হল কমিটিগুলো বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    রাকিব জানান, বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস ও ডাকসুকে ঘিরে ছাত্র রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে গুপ্ত ছাত্র রাজনীতি ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করবে এবং হল কমিটিগুলো বিদ্যমান থাকবে।

    এর আগে ৯ আগস্ট ছাত্রদল ঢাবির ১৮টি হলের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। একই রাতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

    বিক্ষোভের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা বহাল থাকবে। প্রতিটি হল প্রশাসন নীতিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    রাকিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুপ্ত ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আমরা সচেতন ছাত্র সংগঠন হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে আছি।” ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যেভাবে ছাত্রলীগ হলে দখলদারি করেছে, শিবিরও গুপ্ত রাজনীতি করে একই কাজ করছে।”

    তিনি আরও জানান, শনিবারের মধ্যে প্রশাসন ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ, হলে ছাত্র রাজনীতির ধরন ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে আপডেট দেবে বলে আশা করছেন। তার অভিযোগ, “আমরা মিডিয়া ট্রায়াল ও মিথ্যা প্রচারণার শিকার হচ্ছি।”

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির রূপরেখা তৈরিতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দেবে।