Tag: বিএনপি

  • রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:

    ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেক নেতা।

    মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, এপ্রিল মাসকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সঠিক সময় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, “এ সময় প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি এবং রোজার সময়কাল একত্রে হওয়ায় নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল থাকবে না। তাছাড়া ওই সময় পাবলিক পরীক্ষাও চলবে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারণা ও অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া উচিত। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, জনগণেরও প্রত্যাশা ছিল। ডিসেম্বরের আবহাওয়া, সময়সূচি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।”

    মির্জা ফখরুল মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার আলোকে হওয়া উচিত, আর সেটিই জাতীয় স্বার্থে গ্রহণযোগ্য হবে।

  • নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই রাজনীতির অন্তরাল থেকে ভেসে আসছে এক নতুন পরিকল্পনার গুঞ্জন—একটি জাতীয় সরকার গঠনের নীলনকশা। নির্বাচন নয়, বরং একটি অন্তর্র্বর্তী সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় রেখে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।

    জাতীয় ঐকমত্য গঠনের নামে একের পর এক বৈঠক হলেও স্পষ্ট কোনো নির্বাচনী সময়সূচি এখনো সামনে আসেনি। বরং সংস্কার, বিচার ও সংলাপ—এই শব্দগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক পরিসরে। এতে করে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সে নিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্দেহ।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বিএনপি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে না বলেই তারা মনে করে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে রাষ্ট্রীয় সংকট হিসেবেই দেখছেন।

    তবে সরকারের দিক থেকে এখনো তেমন কোনো কার্যকর প্রস্তুতি বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত। এই সুযোগেই পর্দার আড়ালে চলছে জাতীয় সরকার গঠনের নানা তৎপরতা। বিভিন্ন মহল, এমনকি কিছু বিদেশি দূতাবাসও এ প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব সামনে এসেছে, যেখানে জাতীয় সরকার গঠন করে তিন বছর পরে নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। তারা বলছে, আগে সংস্কার চূড়ান্ত করতে হবে, তারপর গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তবেই নির্বাচন হবে।

    জাতীয় সরকারের মূল প্রস্তাবনায় রয়েছে—ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হবেন এবং বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন পক্ষকে অংশীদার করে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে। বিএনপি অবশ্য এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা মনে করে, এটি অন্তর্র্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল।

    বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ মাসের অন্তর্র্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকারে অংশ নেবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অবিলম্বে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টি বরাবরই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায়, অন্তত তিন বছর পর নির্বাচন হোক। ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কও এখনো শীতল। বঙ্গভবনের শিষ্টাচারিক রীতিনীতি তিনি উপেক্ষা করেছেন বারবার। এমনকি ঈদেও রাষ্ট্রপতির পাশে নামাজ পড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত পর্দার আড়ালে। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত। বিএনপি যদি শক্তিশালী জনমত গঠন করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে না নামতে পারে, তাহলে হয়তো জাতীয় সরকারের বিকল্প বাস্তবতা সামনে চলে আসবে।

    এখন মূল প্রশ্ন—নির্বাচন হবে, না কি গঠিত হবে একটি আপাত রাজনৈতিক ঐকমত্যভিত্তিক জাতীয় সরকার? এ উত্তর মিলছে না রাজপথে, বরং খোঁজ চলছে কূটনৈতিক মহল ও ড্রইং রুমে।

  • ইউনূস-তারেক বৈঠক কি হতে যাচ্ছে লন্ডনে? রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে নতুন জল্পনায়

    ইউনূস-তারেক বৈঠক কি হতে যাচ্ছে লন্ডনে? রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে নতুন জল্পনায়

    এবিএনএ :

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন যুক্তরাজ্য সফর ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক। ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে চরম কৌতূহল ও হিসাব-নিকাশ চলছে।

    বিশেষ করে তারেক রহমানের ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন’-এর জোরালো দাবি এবং টোকিওতে ইউনূসের ‘একটিমাত্র দল নির্বাচন চায়’ মন্তব্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে দুই নেতার বৈঠক হলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় মোড় এনে দিতে পারে।

    ঢাকা ও লন্ডনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বিএনপি চাইছে, বৈঠকের আগে নির্দিষ্ট এজেন্ডা এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে নীতিগত সম্মতি।

    তবে বিএনপি একাধিক শর্তে অনড়। তারা চায় আগে নির্বাচনকালীন সরকার, ভোটের সময়সূচি ও রোডম্যাপ নিয়ে ঐকমত্য। অন্যদিকে সরকার মনে করছে, ইউনূস-তারেক সাক্ষাৎ হলে আলোচনার একটি পথ খুলে যেতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে সফরে ব্যস্ত ড. ইউনূস ৯ জুন লন্ডনে যাবেন। সেখানে তিনি রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং ১২ জুন ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন। সফরকালে ইউনূস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, কমনওয়েলথ ও আইএমও মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    তার সফরসঙ্গী থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, দুদক চেয়ারম্যান ড. এম এ মোমেনসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়াও তিনি চ্যাথাম হাউসে বক্তব্য দেবেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, এবং বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেবেন।

    তবে সফর ঘিরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ পরিকল্পনার কারণে নিরাপত্তা ও সময়সূচি নিয়ে রয়েছে গোপনীয়তা।

    প্রসঙ্গত, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরের প্রেক্ষাপটে বিএনপির মধ্যে এখনও আস্থা ফিরে আসেনি। তবুও, সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ঈদের পর লন্ডনে এই আলোচিত বৈঠকটি হলে দেশের রাজনীতিতে তা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

  • ভোটারদের নিয়ে নিজেই শপথ নেব: মেয়র পদে হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

    ভোটারদের নিয়ে নিজেই শপথ নেব: মেয়র পদে হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রপদে শপথ গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে। বিএনপি নেতা ও ডিএসসিসির নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষিত ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, সরকার যদি দ্রুত শপথ গ্রহণের সুযোগ না করে, তবে তিনি নিজেই ঢাকার ভোটারদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করে চেয়ারে বসবেন এবং শপথ নেবেন।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন ইশরাক।

    তিনি বলেন, “নগর ভবন কিভাবে চলবে সেটা ঠিক করবে ঢাকাবাসী, কোনো অনির্বাচিত উপদেষ্টা বা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবেই আমি দায়িত্ব পালন করবো।”

    ইশরাক আরও অভিযোগ করেন, “মেয়র পদে শপথে বিলম্ব করে সরকার জনগণের রায় অস্বীকার করছে। এটা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।”

    এ নিয়ে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা। ফলে ডিএসসিসির হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলে বিএনপি। ইশরাক হোসেন সে সময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

    তবে ওই গেজেট ও রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়, যা আদালত খারিজ করে দেয় ২২ মে। পরে ‘লিভ টু আপিল’ দাখিল করা হলে ২৯ মে আদালত তা নিষ্পত্তি করে বলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে স্বাধীন।

    এই অবস্থায় বিএনপি ও ইশরাক হোসেনের দাবি—গেজেট প্রকাশের পর আর বিলম্বের সুযোগ নেই, অবিলম্বে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং এর পরে সময়ক্ষেপণের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধন ছাড়া যেসব নির্বাচন-সম্পর্কিত সংস্কার দরকার, তা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়নযোগ্য। তাই জাতীয় নির্বাচন পেছানোর মতো কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো সংস্কার দেখছি না যা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে না। বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই ডিসেম্বরের মধ্যেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আমাদের প্রস্তাবও সেটাই।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, “আজকের আলোচনায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়। প্রধান উপদেষ্টা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশাবাদী।”

    জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব দলে সব বিষয়ে একমত হওয়া নাও হতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং ধীরে ধীরে একটি ব্যাপক ভিত্তির ঐক্য তৈরি করা সম্ভব হবে।”

    বিএনপি প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আজাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।


  • “অবাস্তব বাজেট নিয়ে কঠোর সমালোচনা আমীর খসরুর: রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা”

    “অবাস্তব বাজেট নিয়ে কঠোর সমালোচনা আমীর খসরুর: রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা”

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটটি মূলত আগের সরকারের নীতিরই প্রতিফলন এবং এতে মৌলিক অর্থনৈতিক ভুল রয়েছে। তার মতে, রাজস্ব আয় ও বাজেটের আকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি, যা একটি বাজেট তৈরির সময় মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত ছিল।

    আজ সোমবার বাজেট ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এই বাজেট বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে না।

    সরকারের উচিত ছিল বাস্তবতার আলোকে আরও সংক্ষিপ্ত বাজেট উপস্থাপন করা। এ বাজেটে যে ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখানো হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন আমীর খসরু।

    এদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আসবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

  • প্রধান উপদেষ্টা আবারও বিএনপিকে ডেকেছেন: আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও ‘কাজের খবর নেই’—সালাহউদ্দিন আহমদ

    প্রধান উপদেষ্টা আবারও বিএনপিকে ডেকেছেন: আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও ‘কাজের খবর নেই’—সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আবারও প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণ পেয়েছে ২ জুনের আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আলোচনার কোনো অভাব নেই, কিন্তু কাজের কোনো খবর নেই।”

    শনিবার, রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “২ জুন দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার শুভ উদ্বোধন হবে, কিন্তু কেন বারবার উদ্বোধন করতে হবে? এটি আমাদের সংস্কারের কলা দেখানোর মতো।”

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন দিতে হবে, কারণ এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি। একটিও কারণ নেই ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন যাওয়ার।”

    বিএনপির এই নেতা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “সংস্কার হবে, তবে তার থেকে বেশি জরুরি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিচার। যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে কাঠগড়ায় নিয়ে আসা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বললে ইসলামবিরোধী অপপ্রচারের ট্যাগ লাগিয়ে তাদের দমন করা হচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যে ব্যক্তি ইতিহাসের বিবেচনায় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, তাকে নির্দোষ ঘোষণার মাধ্যমে ইতিহাসকেই বিকৃত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৭১–এর শহীদ, নির্যাতিত নারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বর্তমান তরুণ কর্মীদের অনেকেই ৭১ সালে জন্মায়নি। তারা যুদ্ধাপরাধ করেনি ঠিকই, কিন্তু তারা যদি সেই রাজনীতি ধারণ করে, তবে সেই অপরাধের দায় থেকেও তারা মুক্ত থাকতে পারে না।”

    বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধাপরাধী আজহারের খালাসের প্রতিবাদে মশাল মিছিলে ছাত্র শিবির দুই দফা হামলা চালায়। ১৯৯৩ সালে শহীদ রিমুর হত্যার মতোই আজ আবার শিবির সন্ত্রাস শুরু করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ছাত্ররাজনীতিকে দখলের হাতিয়ার বানিয়ে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ছড়াচ্ছে, তাদের প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে।”

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মানজুর আল মতিনসহ অন্যান্যরা।

    এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় দলটির নেতারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান চায় না, বরং সময়ক্ষেপণ করছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান না করে, তাহলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে।

    এদিকে, বিএনপি আগামী ২ জুনের আলোচনায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে তারা সরকারের প্রতি তাদের দাবি-দাওয়া স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে বলে জানিয়েছে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই আলোচনার ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা করছেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই জনগণের স্বার্থে সমঝোতায় আসবে।

    এমন পরিস্থিতিতে, দেশের জনগণ অপেক্ষা করছে সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ দেখতে, যাতে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান না করে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে।

  • গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একমাত্র পথ সুষ্ঠু নির্বাচন: খন্দকার মোশাররফ

    গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একমাত্র পথ সুষ্ঠু নির্বাচন: খন্দকার মোশাররফ

    এবিএনএ, ঢাকা :

    দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, “এই সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে নির্ধারিত সময়ে জনগণের সরকার গঠনে নির্বাচন দিতে হবে।”

    শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়। তাই শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে আমাদের শপথ নিতে হবে—এ দেশে একটি জনগণের সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে।”

    জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “শহীদ জিয়া দেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা করেছিলেন এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। বিএনপি তারই গঠিত আদর্শিক দল।”

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে গুম-খুন, নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েও সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার বারবার কোণঠাসা হয়েছে। অথচ খালেদা জিয়া আজো দেশের মাটিতে আছেন এবং তিনি এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যায় না। জনগণের কণ্ঠরোধ করা যায় না। তাই এখনই সময় সঠিক পথে ফিরে আসার—নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার।”

    এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বিএনপি আগামী দিনের রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে চায়।

  • শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে: শহীদ জিয়ার আদর্শেই অটল খালেদা জিয়া

    শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে: শহীদ জিয়ার আদর্শেই অটল খালেদা জিয়া

    এবিএনএ, ঢাকা :

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আশা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের জনগণ শিগগিরই একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, শহীদ জিয়া শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, বরং স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতীক। তার রেখে যাওয়া রাজনীতির দর্শন ও আত্মত্যাগ আজও আমাদের প্রেরণা হয়ে আছে।

    খালেদা জিয়ার ভাষায়, “প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে আসে। তবে এটি কেবল আমাদের পরিবারের নয়, পুরো জাতির শোকের দিন।”

    তিনি আরও বলেন, “যে আদর্শে শহীদ জিয়া নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই গণতন্ত্র আজও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে শিগগিরই বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রে ফিরবে।”

    বিএনপি চেয়ারপারসন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ জিয়ার চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে হবে। “গণতন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়ন এবং জনগণের ক্ষমতায়নই আমাদের লক্ষ্য,” বলেন তিনি।

    আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা, কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

  • ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাই: জাতির কাছে তারেক রহমানের সময়সীমা নির্ধারণ

    ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাই: জাতির কাছে তারেক রহমানের সময়সীমা নির্ধারণ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “বিলম্ব নয়, এখনই সময় গণতন্ত্র ফেরানোর।”

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই দাবি জানান।

    তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হলে দরকার একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা—ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “যেখানে আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে, সেখানে আজ ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে শুধু সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। সংস্কার নিয়ে যতই অজুহাত দেওয়া হোক, জনগণ এখন বুঝে গেছে—ভেতরে ভেতরে রয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্য।”

    তারেক রহমান বলেন, “গত ১৫ বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই তরুণ প্রজন্ম এখনও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা।”

    তিনি আরও বলেন, “জনগণ বিএনপির ক্ষমতার মূল উৎস। আমরা সব সময় জনগণের উন্নয়নের কথা চিন্তা করি। ক্ষমতায় না থেকেও আমরা দেশ ও মানুষের পক্ষে কাজ করে গেছি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়নে জনগণকে নিয়েই কাজ করবে।”

    আদালত অবমাননার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “পলাতক স্বৈরাচারের আমলে যেমনভাবে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে, এখনো তা চলছেই। ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে দায়িত্ব নিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা এরই প্রতিফলন। প্রশ্ন হচ্ছে—আইনের প্রতি যারা শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের কাছ থেকে কি আমরা সত্যিকারের সংস্কার আশা করতে পারি?”

    তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তার বার্তা, “এখন আর কথার রাজনীতি নয়—এখন সময় দৃষ্টান্ত স্থাপনের। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে যদি জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তাহলে বাংলাদেশকে আর কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না।”

    তিনি সকলকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারাই ঠিক করবেন, কে দেশ চালাবে। এখন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আপনার ভোটই আপনাকে অধিকার ফিরিয়ে দেবে।”

    তার এই বক্তব্যে উপস্থিত তরুণদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়, এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দেন।

    এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
    বক্তব্য দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

    সবাই একযোগে বললেন—নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব।