Tag: বিএনপি

  • সরকারে বিদেশিদের দখল, জনআস্থাহীন শাসনব্যবস্থার অভিযোগ মির্জা আব্বাসের

    সরকারে বিদেশিদের দখল, জনআস্থাহীন শাসনব্যবস্থার অভিযোগ মির্জা আব্বাসের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এটি আস্থার সরকার নয়, বরং এমন একটি প্রশাসন যার মধ্যে অধিকাংশই এ দেশের নাগরিক নন।”

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা শীর্ষক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “সরকার বলেছে, তারা সংস্কার করবে এবং নির্বাচন দেবে, কিন্তু নয় মাসেও তারা কিছুই করতে পারেনি। আমার বিশ্বাস, নয় বছরেও পারবে না। তারা কী কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে, তাও নিজেরাই জানে না।”

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, “সেন্টমার্টিন, করিডর বা স্টারলিংক নিয়ে আপনারা কী করছেন, তা আমরা বুঝি। দেশের মানুষকে বোকা ভাবা একদম বন্ধ করুন। জনগণের ভেতরে ইতিমধ্যেই এক ধরনের ভয় তৈরি হয়েছে। সরকার যেভাবে আচরণ করছে, তাতে স্পষ্ট—তারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই সরকারের অবস্থা এমন যে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত পচন ধরেছে। পরিকল্পিতভাবে কিছু লোক চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে, আর সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই।”

    উক্ত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি যুবসমাজকে রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    সমাবেশটি আয়োজন করে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না।

    সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা বলেন, তরুণদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের এখনই সময়।

  • নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “আমরা কখনোই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু সরকার নাটক করে পদত্যাগ দেখিয়ে পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ সরকার, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এজন্য সবাইকে একসাথে হতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে এক নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ।”

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে “তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। কিন্তু সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিরোধী ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দুর্নীতি আমরা ভুলে যাচ্ছি। অথচ গণতন্ত্রের জন্য আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখনই সময় একজোট হওয়ার।”

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সালাহউদ্দিন বলেন, “ব্রিটিশ আমলে ২০০ বছরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যত সম্পদ লুট করেছে, আওয়ামী লীগ তার চেয়েও বেশি লুটপাট করেছে। তারা ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, ব্যাংক থেকে ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে, এবং বিদ্যুৎ ও ব্যাংক খাতেও ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে ৩৬টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে তারা নাকি বিদেশি এজেন্ট। আসলে এসব কথা বলছে তারাই, যারা গণতন্ত্র ও পরিবর্তনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    তারুণ্যের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
    বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

    এই সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে একটাই বার্তা—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

  • রোডম্যাপ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া কঠিন, সরকারকে বিএনপির স্পষ্ট বার্তা

    রোডম্যাপ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া কঠিন, সরকারকে বিএনপির স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ, ঢাকা:

    আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে সরকারের সঙ্গে বিএনপির সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

    মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

    “জুলাইয়ে ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা আজও জনগণের মাঝে জাগ্রত। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক রোডম্যাপই হওয়া উচিত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম এজেন্ডা।
    সেই রোডম্যাপ ঘোষণায় দেরি হলে সরকারকে আর সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ার করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

    সংক্ষিপ্ত দাবিসমূহ:

    • ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ গঠন

    • নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত

    • জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা

    • অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিক

    বিএনপি বারবার দাবি করে আসছে, জনগণের পূর্ণ আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই অবস্থান নির্বাচনপূর্ব আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন চায় বিএনপি

    ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন চায় বিএনপি

    এবিএনএ: 

    ডিসেম্বরে মধ্যে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য পরিষ্কার রোডম্যাপ চেয়ে এবং বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।

    বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। আলোচনার জন্য পূর্বে কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা জানানো হয়নি, তবে আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে একটি লিখিত প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছি।”

    তিনি আরও জানান, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রূপরেখা দাবি করে আসছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দেওয়া জরুরি।”

    বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীরা বহুমাত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড. মোশাররফ বলেন, “বিচারের প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে আগামীতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিচার করা হবে।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।

    স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি, এখন উনারা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে আশা করছি।”

    অন্যদিকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, “সব পক্ষ সংস্কার নিয়ে একমত হয়েছে, এটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।”

    ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন – এই তিনটি বিষয় আলাদা। একটির সঙ্গেও অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক নেই।”

    এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • ড. ইউনূস সরে দাঁড়ালে বিকল্প বেছে নেবে দেশ: হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    ড. ইউনূস সরে দাঁড়ালে বিকল্প বেছে নেবে দেশ: হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ:

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে চলমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি স্থায়ী না হয় বা তিনি দায়িত্ব পালন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন, তবে রাষ্ট্র ও জনগণ বিকল্প খুঁজে নেবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    শুক্রবার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন বলেন, “ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা কখনো তার পদত্যাগ দাবি করিনি। তবে যদি তিনি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা না করে দায়িত্ব ত্যাগ করেন, তা হলে রাষ্ট্র বসে থাকবে না। জনগণ নিজ উদ্যোগে বিকল্প পথ বেছে নেবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়। তবে আমরা আশা করি, ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে জাতির প্রত্যাশা বুঝবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবেন।”

    এ সময় তিনি সাম্প্রতিক সেনাপ্রধানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত বক্তব্যকেও স্বাগত জানান এবং বলেন, দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, “বিএনপি সম্প্রতি একাধিকবার ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও সময় পাননি। আমরা আর কিছুদিন অপেক্ষা করবো রোডম্যাপের জন্য। এরপর সিদ্ধান্ত নেব—সরকারকে সহযোগিতা করবো, না কি নতুন কৌশল গ্রহণ করবো।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক জটিলতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চাপ আরও বাড়াতে পারে।

  • রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় সরকার গঠনের তৎপরতা, ইউনূসকে ঘিরে চাপে অন্তর্বর্তী প্রশাসন

    রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় সরকার গঠনের তৎপরতা, ইউনূসকে ঘিরে চাপে অন্তর্বর্তী প্রশাসন

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী বিএনপি ও জামায়াত বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও, অন্যান্য দলের প্রতি তার অনীহা স্পষ্ট।

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই সঙ্কটের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গোপন ‘অশুভ চক্র’, যারা চায় না দেশ নির্বাচনমুখী হোক। তারা ইউনূসকে জনবিচ্ছিন্ন করে নিজেরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। এমনকি এই চক্র জরুরি অবস্থার গুজবও ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগছে। ইতোমধ্যে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচনের সম্ভাবনা।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আলী রীয়াজের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, সেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর বক্তব্য নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। একই দিনে উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ বৈঠকেও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়, যেখানে কিছু উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ড. ইউনূস।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূসের পদত্যাগই সংকটের সমাধান নয়। বরং সিদ্ধান্তহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনির্দিষ্টতা বেড়েই চলেছে, যার ফলে জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ গোপনে শুরু হয়েছে বলে কিছু সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    তবে প্রশাসনের একাধিক স্তরে এ নিয়ে মতভেদ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক দাবা খেলায় শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হয় এবং জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।

  • ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    এবিএনএ: 

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ ও শপথে বিরত রাখার আবেদন সংক্রান্ত রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    এ রায়ের ফলে, ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ছাত্র ও জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    পরে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২৭ মার্চের রায়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। আদালত ১০ দিনের মধ্যে এ গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেয়, যা ২৭ এপ্রিল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    তবে একইদিনেই গেজেট ও শপথ গ্রহণ বন্ধে দুটি আইনি নোটিশ দিয়ে আপিলের ঘোষণা দেন রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি। এরপর মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট করেন। এতে গেজেট ও রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শপথ বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

    আদালতে আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও কায়সার কামাল যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার কেবল মামলার বিবাদী পক্ষের, যেমন সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের। অন্য কেউ রিট দায়ের করতে পারেন না, তাই এই রিট আইনত অযোগ্য।

    দুই পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন নির্ধারণ করে আদালত এবং রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

    এর ফলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের আর কোনো আইনি বাধা রইল না। ইতোমধ্যে তার সমর্থকেরা মৎসভবন ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ‘রাজপথ ছাড়বো না’—ডিএসসিসি ইস্যুতে ইশরাকের আহ্বানে উত্তাল রাজধানী

    ‘রাজপথ ছাড়বো না’—ডিএসসিসি ইস্যুতে ইশরাকের আহ্বানে উত্তাল রাজধানী

    এবিএনএ: 

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে শপথ গ্রহণ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর রাজপথ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ডিএসসিসি মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন তার সমর্থকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন— “একটা কথাই বলবো, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছাড়বেন না।”

    বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই বার্তা দেন। তার এই আহ্বানের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

    🚧 বিক্ষোভে অচল রাজধানী:

    মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ এলাকা এবং যমুনা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন ইশরাকের অনুসারীরা। একইসঙ্গে ডিএসসিসি নগর ভবনের সামনেও আরেকটি বড় অংশ জড়ো হয়ে পড়েছে। এতে নগর ভবনের সামনের সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

    এর ফলে রাজধানীর ওইসব এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। ব্যস্ততম এই এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।

    🔥 রাজনৈতিক বার্তা পরিষ্কার:

    ইশরাক হোসেনের এই অবস্থান এবং আহ্বান বিএনপির আন্দোলন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি তার বার্তায় আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য যে মূল্য দিতে হয়, আমরা তা দিতেই রাজপথে এসেছি। এখান থেকে পিছু হটা চলবে না।”

    বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলীয় ফোরামে ইশরাককে নিয়ে শপথ ইস্যুতে সৃষ্ট জটিলতা আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিতে পারে।

    📌 সতর্ক প্রশাসন:

    অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও দেখা গেছে সতর্ক অবস্থানে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি বারবার জানিয়ে আসছে বিএনপি: ফখরুলের বিস্ফোরক বক্তব্য

    ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি বারবার জানিয়ে আসছে বিএনপি: ফখরুলের বিস্ফোরক বক্তব্য

    এবিএনএ:   আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী মানবতাবিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র দিয়েছে বিএনপি। আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে দেওয়া চিঠিতে তাদের পক্ষ থেকে এই দাবি স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ, গুম-খুন দমননীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। কারণে দলটিকে বিচারের আওতায় এনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।

    ১৬ এপ্রিল আবারও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে একই দাবি জানিয়ে চিঠি প্রদান করা হয় বলে জানান ফখরুল। সেই চিঠিতে উল্লেখ ছিল—দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করতে ফ্যাসিবাদী দল তাদের সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করা দরকার।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাই একমাত্র যৌক্তিক পদক্ষেপ। তিনি দাবি করেন, আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সরকারকে আজ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

    ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে এবং দেশের স্বার্থে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

  • চার মাস পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া, ফিরোজায় নেওয়া হবে সরাসরি

    চার মাস পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া, ফিরোজায় নেওয়া হবে সরাসরি

    এবিএনএ:  চার মাস চিকিৎসা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন বাংলাদেশের পথে। সোমবার লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো বিশেষ ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে’ তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সফরসঙ্গীরা, যাদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১০ মিনিট) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তাঁর উড়ানটি ছাড়ে।

    এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া কাতারে এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তাঁকে সরাসরি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত ৮ জানুয়ারি রাজকীয় ব্যবস্থাপনায় লন্ডনে গিয়েছিলেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। সে সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কাতারের আমির একটি রাজকীয় বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করেন। সেই একই বিমানেই তিনি আবার দেশে ফিরছেন।