Tag: বিএনপি

  • ‘মাহিনের ছবি এনসিপি নেতাদের সঙ্গে, বিএনপির নয়’—বিস্ফোরক দাবি মির্জা আব্বাসের

    ‘মাহিনের ছবি এনসিপি নেতাদের সঙ্গে, বিএনপির নয়’—বিস্ফোরক দাবি মির্জা আব্বাসের

    এবিএনএ: পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই—এমন দাবি তুলে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে অভিযুক্ত মাহিনের সম্পর্কের ছবি সামনে আনেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

    সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘যে মাহিনকে এই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের ছবি রয়েছে।’

    এই সমাবেশটি আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যার উদ্দেশ্য ছিল তারেক রহমানকে ঘিরে অপপ্রচারের প্রতিবাদ এবং মিটফোর্ড হত্যার বিচার দাবি। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব পর্যন্ত গিয়েছিল।

    মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডটি সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে এবং ভিডিও প্রকাশ করে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রে বিএনপিকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো এনসিপির নেতাদের সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে গেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি। যারা ভিডিও দেখেছেন, তারা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন কোন পক্ষ জড়িত।’

    চরমোনাই পীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ বলছে উনার কোনো ধর্মীয় জ্ঞান নেই। যদি সাহস থাকে, প্রমাণ দিন কোথা থেকে আপনি কোরআন-হাদিস শিখেছেন।’

    জামায়াত ইসলামীর দিকেও সমালোচনার তীর ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘তাদের কাজ শুধু হাদিয়া নেওয়া। বসুন্ধরা ও সিটি গ্রুপ থেকে টাকা নিয়েছেন। এর সবকিছুর হিসাব একদিন দিতে হবে।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র বিএনপিই দেশের প্রকৃত রক্ষাকবচ। শহীদ জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। তখন এসব দল কোথায় ছিল? এখন তারা বড় বড় কথা বলছে।’

  • দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এবিএনএ:  দলে একের পর এক অনিয়ম, সহিংসতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের কারণে চাপে পড়েছে বিএনপি। বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবার দলটি শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী এবং অপকর্মে যুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩ সালের পর থেকে যারা দলে এসেছেন এবং রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    সম্প্রতি পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে এক ভাঙারির ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলীয় ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় দায় চাপিয়ে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।

    ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    দলটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০০ জন বিএনপির, যাদের ৮০০ জন বহিষ্কৃত, ৭০০ জনকে নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের আরও প্রায় ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের প্রতি অভিযোগ

    বিএনপি অভিযোগ করেছে, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেমন, পাবনার সুজানগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বিএনপির নেতারা নিজ উদ্যোগে অভিযোগ করেন।

    নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    বহিষ্কার করেও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

    দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, অভিযোগ যাচাই ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ দ্রুতই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসছেন। খুলনায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন বহিষ্কৃত, তবুও সক্রিয় ছিলেন দলীয় কর্মসূচিতে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না।

  • সরকারই বলুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত迟 কেন: প্রশ্ন তারেক রহমানের

    সরকারই বলুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত迟 কেন: প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে।” শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জুলাই মাসে সংঘটিত অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এ সভায় তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা বারবার বলেছি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন হয়নি, সেটা সরকার ব্যাখ্যা করুক।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “যেসব ইস্যুর কোনো ভিত্তি নেই, সেগুলোকে ঘিরেই এখন অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভেতরেও আগের সরকারের দোসররা রয়ে গেছে, যারা এখনো নানা বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যারা ব্যাহত করতে চায়, তাদের একটি অদৃশ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে। কারা এই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে—আমরা জানি, জনগণও জানে।”

    তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে দায়িত্ব আপনাদের দেওয়া হয়েছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের বিচার—এগুলো কোনো দলের নয়, গোটা দেশের স্বার্থের প্রশ্ন।”

    সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নিহতদের স্বজন ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকলে দ্রুত বিচারের দাবি জানান এবং সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংবিধানে বিতর্ক: প্রস্তাবনা নয়, তপশিলে স্বীকৃতি চায় বিএনপি

    এবিএনএ: জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি। তবে তারা চায় না এই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। পরিবর্তে দলটি সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে “জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪” উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতিসহ একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১১তম দিনের সংলাপ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ হয় না। ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও মূল সংবিধানে ছিল না, বরং পরে তপশিলে যুক্ত হয়। একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানকেও চতুর্থ তপশিলে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।”

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ়ভাবে চাইছে—জুলাই ঘোষণা যেন সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় জায়গা পায়। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতিমালা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

    ঘোষণাপত্র ও সংবিধান বিতর্ক
    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, “সরকার এনসিপির ইচ্ছায় বিএনপির সঙ্গে ঘোষণাপত্র নিয়ে মধ্যস্থতা করছে। কিছুদিন আগে সরকারের এক উপদেষ্টা বিএনপিকে নতুন একটি খসড়া দিয়েছে, যাতে আগের মতামতের কিছু প্রতিফলন আছে।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি ও জুলাই অভ্যুত্থান একই তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

    এদিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “এই ঘোষণাকে তপশিলে রেখে গুরুত্ব খাটো করা চলবে না। এটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকতে হবে।”

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ভিন্ন মত
    সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন দুটি প্রস্তাব উঠে আসে। একটিতে সংসদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি—তিনটি দলই জানায়, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মত দেবে।

    বিএনপি চায়, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে একটি বিকল্প হিসেবে রাখার সুযোগ রাখা হোক। জামায়াত চায়, অতীতের মতোই সাবেক প্রধান বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের ধারা থাকুক। আর এনসিপি প্রস্তাব করেছে, সংসদের উচ্চকক্ষের ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হোক।

    প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ
    কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। জামায়াত, এনসিপি ও আরও কয়েকটি দল এই প্রস্তাবে একমত। তবে বিএনপি চায়—জ্যেষ্ঠ তিন বিচারপতির মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিন। পরবর্তীতে বিএনপি প্রস্তাব করে, জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্যে থেকেই নিয়োগ দেওয়া হোক।

    কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলবে। সালাহউদ্দিন জানান, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত নেই, তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন—এটাই বিএনপির আপডেট প্রস্তাব।

  • “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন সম্ভব এবং সেই নির্বাচিত সরকারই দেশের নেতৃত্ব দেবে।” তিনি বলেন, উদার গণতন্ত্রে আস্থাশীল বিএনপি সবসময় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ সাংবাদিক পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

    ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন কমিশনকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন—এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ভোটাধিকার রক্ষায় আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।”

    বিএনপির সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের জন্যই সৃষ্টি হয়েছি। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তি দিয়ে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী প্রমাণ করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি জানান, তিনদিন আগে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

    সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “পুশইন কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। ভারতের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধান দরকার।”

    পানি বণ্টনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এখন জাতীয় স্বার্থের বিষয়।” একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে “জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার” আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

  • নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের সঠিক ধারায় ফিরে আসা দরকার। বুধবার সকালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ-কে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে বিএনপি। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রে যাত্রার পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন সকল রাজনৈতিক দলকে মিলেই দেশের জন্য সঠিক পথ খুঁজে নিতে হবে। যত দ্রুত নির্বাচনমুখী ট্র্যাকে দেশ ফিরবে, ততই মঙ্গল।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা ভুল। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন না হলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে। আর সে কারণেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি। নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়, বরং দুটি একসাথে চলতে পারে।”

    এক প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ‘ফ্যাসিস্ট’ পন্থায় দেশ চালাচ্ছে এবং বিএনপি হচ্ছে সেই শাসনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম। তিনি বলেন, “আমার নামে রয়েছে ১১২টি মামলা, আমি ১৩ বার জেলে গিয়েছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

    শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে ফখরুল বলেন, “আমি মনে করি, শেখ হাসিনা হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে এবং যারা গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। প্রয়োজনে দলগতভাবে বিচার হওয়াও সময়ের দাবি।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়, শান্তি চায়, গণতন্ত্র চায়। এ জন্য একটি নির্বাচিত সরকার দরকার, যে সরকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, জবাবদিহিতার জায়গায় দাঁড়াবে।

  • রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    এবিএনএ: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। দলটি জানায়, বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ করেছে। তবে কিছু কিছু ইস্যুতে মতানৈক্য রয়ে গেছে, যা কমিশনের কার্যক্রমকে কিছুটা ধীর করেছে।

    রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৬টি সংস্কার কমিশনের আলোচনায় বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

    ফখরুল বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, র‍্যাব বিলুপ্তিসহ অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুদক কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে একমত হলেও একটিতে তারা আদালতের অনুমতির বিধান বহাল রাখতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন কমিশনের ২০৮ প্রস্তাবের মধ্যে ১৮৭টিতে তারা একমত, ১১টিতে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে।

    বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯ সুপারিশের মধ্যে ৬২টিতে একমত হয়ে ৯টিতে আংশিক মত দিয়েছে দলটি। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে ২৪৩ সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে একমত হয়েছে, কিন্তু ২৪টির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানিয়েছে।

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশিরভাগেই বিএনপি একমত হয়েছে। বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়ে ছাড় দিয়েছে দলটি। এমনকি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও সংসদে বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতির পদ দানের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও ঐকমত্য হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    বিএনপির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সংস্কারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, জাতীয় স্বার্থে যেসব বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়, তাতে দল আপসহীন। সেইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।

  • “যাদের ভোটে হার নিশ্চিত, তারাই আনুপাতিক নির্বাচনের বুলি কপচায়” — সালাহউদ্দিন আহমদ

    “যাদের ভোটে হার নিশ্চিত, তারাই আনুপাতিক নির্বাচনের বুলি কপচায়” — সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তারাই সংখ্যানুপাতিক বা পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন চায়— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার কৌশল হিসেবে পিআর নির্বাচনের দাবিকে আখ্যায়িত করেন।

    তিনি বলেন, “যারা বলছে নির্বাচন করবো না, কমিশন ঠিক না, পরিস্থিতি ঠিক না—তারা আসলে নির্বাচন নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ জামানত নিয়ে চিন্তিত। আমরা যখন বলি বিচার চাই, সংস্কার চাই—তারা তখন বলে, বিচার বিলম্বিত করছো। অথচ তারাই নির্বাচনে এলে জামানত রাখার অবস্থায় নেই।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ এনসিপি নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, “এই পিআর নির্বাচনের ধুয়ো যারা তুলে, তারা কি আদৌ জানেন সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন কীভাবে কাজ করে? শুধু বলছেন জনগণ নাকি তা চায়—আসলে নিজেরাই জানেন না এর প্রকৃতি।”

    তিনি আরও বলেন, “চেতনার কথা এখন আর বিক্রি করে লাভ নেই। চেতনা শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাষ্য ছিল। এখন সময় গণতন্ত্রের। জুলাইয়ে স্বাধীনতার জন্য শুধু আপনারা নন, বিএনপির নেতাকর্মীরাও জীবন দিয়েছে।”

    আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত অনেকেই এখন সংস্কারের নাম করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়—এমন মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, “দিনশেষে খেয়ে-দেয়ে সন্ধ্যায় বিদায় নেয়, আর আমাদের ওপর খোঁটা দেয়। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে বিনা ভোটে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যাবে না।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যতই দেরি হোক, গণতন্ত্রের পথে ফিরতেই হবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলন হবে, দাবি একটাই—সংস্কার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করুন।”

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি স্পষ্ট করে দিল যে, আনুপাতিক নয়—তারা জনগণের ভোটে নির্ভর করে প্রকৃত নির্বাচন চায়, যেখানে প্রতিযোগিতা হবে স্বচ্ছ, আর ফলাফল নিরপেক্ষ।

  • বিএনপির নামে সন্ত্রাস করলে কেউ রেহাই পাবে না: রিজভীর কঠোর হুঁশিয়ারি

    বিএনপির নামে সন্ত্রাস করলে কেউ রেহাই পাবে না: রিজভীর কঠোর হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: বিএনপির নামে কেউ সন্ত্রাস বা সহিংসতায় জড়ালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বার্তা দেন।

    রিজভী বলেন, “দলের নামে অনৈতিক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে ভিডিও-অডিওসহ প্রমাণ যাচাই করা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”

    তিনি জানান, “দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন আচরণে জড়ালে কেউ রেহাই পাবে না। আমরা প্রতিদিনই তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ যেন আর সাহস না পায়, সে কারণেই এই বার্তা দেওয়া জরুরি।”

    সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হোসেন পাখি ও সদস্য আবদুল মতির শিরিনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, কুমিল্লার দক্ষিণ জেলার পাচঁথুবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দলীয় নাম ব্যবহার করে অস্ত্র প্রদর্শন ও সন্ত্রাসে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ভোলার তজুমদ্দিনে মহিলা দলের এক নেত্রীকে মারধর করায় ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাটগ্রামে থানায় হামলা ও কর্মী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগেও তদন্ত চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রিজভী।

    রাজধানীর বনানীতে যুবদলের আহ্বায়ক মুনির হোসেন নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় তাকেও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ামাত্র জাতীয়তাবাদী যুবদল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি এবার দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহিংসতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে বার্তা দিয়েছেন রিজভী আহমেদ। দলীয় ভেতরে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

  • পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    এবিএনএ, লালমনিরহাট
    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় সংঘটিত এক ভয়াবহ হামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলায় থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

    সূত্র জানায়, পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছিল দুই আসামি—বেলাল হোসেন ও সোহেল রানা চপলকে। তবে রাতেই ২০০-২৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল থানা চত্বরে ঢুকে হামলা চালায় এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। তারা থানার আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভাঙচুর করে এবং নথিপত্র তছনছ করে।

    রাজনৈতিক দোষারোপ ও বিভাজন

    এই ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তার দাবি, ইউএনওর নির্দেশে সাজা পাওয়া আসামিদের ছিনিয়ে নিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায়।

    তবে পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “বিএনপি বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। জামায়াত বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

    ঘুষের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

    পাথর মহালের ইজারাদার মাহমুদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইউএনও ও ওসি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানায় গিয়ে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।

    ইউএনও উত্তম কুমার দাস বলেন, “পাথর কোয়ারির শর্ত ভঙ্গ করে মহাসড়কে চাঁদা তোলা হচ্ছিল। এজন্যই দুই ব্যক্তিকে আটক করে সাজা দেওয়া হয়।”

    তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদার

    রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, থানায় হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক জানান, পাথর উত্তোলনে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পরিস্থিতির মূল্যায়ন

    পাটগ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সংশ্লিষ্ট মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ঘুষ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দলগুলোর অপব্যবহারে সাধারণ মানুষ আর কত ভুগবে? এখন অপেক্ষা বিচার এবং সত্য উদঘাটনের।