Tag: বাংলাদেশ ক্রিকেট

  • বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জায়গা পেল স্কটল্যান্ড

    বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জায়গা পেল স্কটল্যান্ড

    এবিএনএ: ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ায় তাদের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে খেলবে স্কটল্যান্ড।

    শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০ দলের এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের জায়গায় সুযোগ পাচ্ছে স্কটিশরা।

    আইসিসি জানায়, ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। সে কারণেই বিসিবির ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিসিবির উদ্বেগ নিরসনে আইসিসি তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একাধিক বৈঠক ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা চালায়।

    এই আলোচনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞদের স্বাধীন মূল্যায়ন এবং উন্নত নিরাপত্তা প্রোটোকলসহ বিস্তারিত অপারেশনাল পরিকল্পনা বিসিবির সঙ্গে ভাগ করা হয়। আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন (আইবিসি) বোর্ডের বৈঠকেও এসব নিশ্চয়তা বারবার তুলে ধরা হয়।

    সব দিক বিবেচনায় আইসিসির মূল্যায়নে উঠে আসে, ভারতে বাংলাদেশ দল, কর্মকর্তা কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো বাস্তব নিরাপত্তা হুমকি নেই। তাই টুর্নামেন্ট সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখেনি সংস্থাটি। একই সঙ্গে আইসিসি জানিয়েছে, সূচির স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    বুধবারের আইবিসি বোর্ড বৈঠকের পর বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছিল অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়ায় আইসিসি তাদের গভর্ন্যান্স ও কোয়ালিফিকেশন নীতিমালা অনুযায়ী বিকল্প দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে।

    এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ দলগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা স্কটল্যান্ডকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৪তম স্থানে থাকা স্কটল্যান্ড নামিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ওমান ও ইতালির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

  • আইসিসিতে ধাক্কা বাংলাদেশের! বিসিবির আপিল বাতিল, কঠোর সিদ্ধান্তের পথে জয় শাহ

    আইসিসিতে ধাক্কা বাংলাদেশের! বিসিবির আপিল বাতিল, কঠোর সিদ্ধান্তের পথে জয় শাহ

    এবিএনএ: ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনে গত বুধবার আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হলেও ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব ১৪–২ ব্যবধানে নাকচ হয়ে যায়।

    আইসিসির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ভারতে খেলতে না পারলে তারা বিশ্বকাপ বর্জনের পথেই থাকবে।

    গভর্নিং বোর্ডের সিদ্ধান্ত বদলানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে বিসিবি আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে আপিল করে। কিন্তু ডিআরসির টার্ম অব রেফারেন্সের ১.৩ ধারা অনুযায়ী বোর্ড পরিচালকদের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার নেই এই কমিটির। ফলে বিসিবির আপিল গ্রহণই করা হয়নি।

    বিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সব পথ খোলা রাখতে চেয়েই ডিআরসিতে আপিল করা হয়েছিল। যদি সেখানে কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে শেষ ভরসা হিসেবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার কথা ভাবছে বিসিবি।

    এদিকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ইতোমধ্যে দুবাইয়ে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিসিবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

    পিটিআইকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, বিসিবির প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকা নিয়ে আইসিসি বোর্ড সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

  • শেষ বলেই ইতিহাস! শান্তকে ফিরিয়ে বিপিএলে নতুন রেকর্ড গড়লেন শরিফুল

    শেষ বলেই ইতিহাস! শান্তকে ফিরিয়ে বিপিএলে নতুন রেকর্ড গড়লেন শরিফুল

    এবিএনএ: একটি উইকেটই ছিল কাঙ্ক্ষিত, আর সেটি এলো ইনিংসের একেবারে শেষ বলে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরতি ক্যাচে আউট করে বিপিএলের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখালেন শরিফুল ইসলাম।

    চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পেসার বিপিএলের চলতি আসরে শিকার করলেন ২৬টি উইকেট, যা এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড। ১২ ম্যাচে এই কীর্তি গড়ে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন গত মৌসুমে তাসকিন আহমেদের করা ২৫ উইকেটের রেকর্ড।

    শুক্রবারের ফাইনালের আগে তাসকিনের রেকর্ড ছুঁতে শরিফুলের প্রয়োজন ছিল মাত্র এক উইকেট। শেষ ম্যাচে দুটি উইকেট নিয়ে তিনি কেবল রেকর্ড স্পর্শই করেননি, বরং জাতীয় দলের সতীর্থকে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে উঠে যান।

    এই আসরে শরিফুল মোট ২৬৯ বল করে দিয়েছেন ২৬২ রান। তার সেরা বোলিং ফিগার ছিল ৯ রানে ৫ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টে ১০.০৭ গড়ে ও ৫.৮৪ ইকোনমি রেটে বোলিং করে নজর কাড়েন এই বাঁহাতি পেসার।

    নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচেই তার ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স দেখা যায়। একই দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পান দুটি উইকেট। পুরো আসরে কেবল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে একটি ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। তিন উইকেট নিয়েছেন তিনবার এবং দুই উইকেট নিয়েছেন চার ম্যাচে।

    সব মিলিয়ে, এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির স্বীকৃতি পাচ্ছেন শরিফুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিলেট টাইটান্সের নাসুম আহমেদ, যার উইকেট সংখ্যা ১৮।

  • ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ চায় বাংলাদেশ: আইসিসির সিদ্ধান্তে অনড় সরকার ও বিসিবি

    ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ চায় বাংলাদেশ: আইসিসির সিদ্ধান্তে অনড় সরকার ও বিসিবি

    এবিএনএ: ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডভুক্ত ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি জানান, সরকারের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—বাংলাদেশ দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না। তার ভাষায়, আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।

    আসিফ নজরুল বলেন, ক্রিকেটারদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি—যা বর্তমান উদ্বেগকে আরও বাস্তব করেছে। তার মতে, সেখানে খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

    অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের মতো প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশের দাবি উপেক্ষা করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার ভূমিকা নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি জানান, এখনও আলোচনার পথ খোলা আছে এবং আইসিসির সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করা হবে।

    বুলবুল স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা ভারতে খেলতে আগ্রহী নই। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে প্রস্তুত।”

    বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগারদের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে আইসিসির বোর্ড সভা শেষে জানানো হয়, ভারত ছাড়া অন্য কোথাও খেলার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ যদি ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

  • বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে—সভা শেষে বাংলাদেশের বিষয়ে কঠোর বার্তা আইসিসির

    বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে—সভা শেষে বাংলাদেশের বিষয়ে কঠোর বার্তা আইসিসির

    এবিএনএ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর সময় ঘনিয়ে আসলেও বাংলাদেশ দলকে ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনড় থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে—বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আইসিসির ভিডিও কনফারেন্স বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠক শেষে আইসিসি বাংলাদেশকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

    আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ অংশগ্রহণে সম্মতি না দিলে তাদের জায়গায় বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    বৈঠক পরবর্তী এক বিবৃতিতে আইসিসির মুখপাত্র বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনা চালানো হয়েছে। স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক দেশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার ভিত্তিতে আইসিসি নিশ্চিত হয়েছে যে, ভারতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিসিবি একটি বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেছে, যা টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা অংশগ্রহণের শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

    আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, বস্তুগত নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ ছাড়া ভেন্যু বা সূচি পরিবর্তন সম্ভব নয়। এতে অন্য দল ও দর্শকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হবে এবং আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় আইসিসি তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।

  • বিশ্বসেরা বোলিং গড়ের পুরস্কার! উইজডেনের বর্ষসেরা একাদশে বাংলাদেশের মোস্তাফিজ

    বিশ্বসেরা বোলিং গড়ের পুরস্কার! উইজডেনের বর্ষসেরা একাদশে বাংলাদেশের মোস্তাফিজ

    এবিএনএ: ২০২৫ সালজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ক্রিকেটের বিশ্বস্ত মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত উইজডেন প্রকাশ করেছে বছরের সেরা পুরুষ টি-টোয়েন্টি একাদশ, যেখানে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

    শুধু একাদশে অন্তর্ভুক্তিই নয়, পরিসংখ্যানের বিচারে ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ বোলারদেরও ছাড়িয়ে গেছেন মোস্তাফিজ। উইজডেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তত ১৫০ ওভার বোলিং করা ক্রিকেটারদের মধ্যে তার বোলিং গড় ছিল সবার চেয়ে কম—মাত্র ১৮.০৩। পুরো বছরে তিনি শিকার করেছেন ৫৯টি উইকেট, যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিল ৬.৭৮, যা পেসারদের মধ্যে সর্বনিম্নের অন্যতম।

    বিশেষ করে রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে মোস্তাফিজ ছিলেন অনন্য। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দিয়েছেন তিনি। উইকেট শিকারের তালিকায় জেসন হোল্ডারের পর পেসারদের মধ্যে মোস্তাফিজের অবস্থান ছিল শীর্ষ সারিতে।

    ২০২৫ সালটি ছিল মোস্তাফিজের জন্য ব্যস্ততায় ভরা। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি খেলেছেন বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্সের হয়ে। এছাড়া আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস এবং আইএলটি-২০ আসরে দুবাই ক্যাপিটালসের জার্সিতেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপহার দেন এই বাঁহাতি তারকা।

    উইজডেন ঘোষিত বর্ষসেরা একাদশে ওপেনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ভারতের অভিষেক শর্মা ও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। মিডল অর্ডারে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ডোনোভান ফেরেরা। অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্যাম কারান, জেসন হোল্ডার ও সুনীল নারিন।

    এছাড়া এই দলে আরও আছেন অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড, নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফি এবং ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী।

  • বয়কট ভাঙার ইঙ্গিত: শর্ত মানা হলে শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা

    বয়কট ভাঙার ইঙ্গিত: শর্ত মানা হলে শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা

    এবিএনএ: সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব অবশেষে অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে আগামীকাল শুক্রবার থেকেই খেলায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

    আজ থেকেই বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, কোয়াবের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির কারণে দিনের দুটি ম্যাচ স্থগিত হয়ে যায়। তবে দিনভর আলোচনার পর সন্ধ্যায় ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর ক্রিকেট স্বার্থ বিবেচনায় তারা আবার মাঠে নামতে চান।

    কোয়াব জানিয়েছে, সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর ওপর বয়কটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন উপলব্ধি থেকেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপিএলের ধারাবাহিকতাও দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটি বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কোয়াবের মতে, যেহেতু তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিসিবি এ বিষয়ে সময় চেয়েছে, সে প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে চায় ক্রিকেটাররা।

    তবে কোয়াব স্পষ্ট করে জানায়, ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য এম নাজমুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। বিসিবির পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে এবং পরিচালকের পদ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলে শুক্রবার থেকেই খেলায় ফিরতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা।

  • ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি

    ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের ভেন্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ভারতের মাটিতে খেলা সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    সম্প্রতি ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির কাছ থেকে পাওয়া কয়েকটি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই বিভ্রান্তি দূর করতে একটি ব্যাখ্যামূলক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিবি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানায়, আলোচিত যোগাযোগটি ছিল বিসিবি ও আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইল বিনিময়। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করা। এটি ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে বিসিবির আনুষ্ঠানিক আবেদনের কোনো চূড়ান্ত জবাব নয়।

    বিসিবি আরও জানায়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে তাদের উদ্বেগ আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হলে ভারতের বাইরে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

    বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, বিষয়টি নিয়ে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

  • তামিম ইস্যুতে সরব মিরাজ: নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্রিকেট

    তামিম ইস্যুতে সরব মিরাজ: নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্রিকেট

    এবিএনএ: বাংলাদেশ ক্রিকেটে চলমান বিতর্কের মধ্যে এবার সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডার জানান, তামিমকে নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেশের ক্রিকেটের জন্য মোটেও সহায়ক নয়।

    মিরাজের মতে, এ ধরনের মন্তব্য কেবল একজন ক্রিকেটারকে আঘাত করে না, বরং দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের মতো সংবেদনশীল একটি জায়গায় দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সুস্থ ও সম্মানজনক পরিবেশ নষ্ট করে দেয়।

    ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মিরাজ লেখেন, দেশের ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সবাইকে আরও সংযত ও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    তার ভাষায়, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নেতিবাচক মন্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থের সঙ্গে যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্রিকেটের বৃহত্তর কল্যাণে ভবিষ্যতে সবাই আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল অবস্থান নেবে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক পরিচালকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয় এই আলোচনা। ওই ঘটনার পর জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক একাধিক ক্রিকেটার প্রকাশ্যে ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। মিরাজের মন্তব্য সেই প্রতিবাদের ধারাকেই আরও জোরালো করেছে।

  • আজকের ভুল সিদ্ধান্তে এক দশক পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট—বিসিবিকে কড়া বার্তা তামিম ইকবালের

    আজকের ভুল সিদ্ধান্তে এক দশক পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট—বিসিবিকে কড়া বার্তা তামিম ইকবালের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান সময়কে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তাঁর মতে, এই সময়ে নেওয়া যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী ১০ বছর পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটে ভোগাতে পারে। তাই আবেগের বশে নয়, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা মাথায় রেখেই বিসিবিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তামিম বলেন, হঠাৎ মন্তব্য বা তড়িঘড়ি পদক্ষেপ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বরং পারস্পরিক আলোচনা ও কার্যকর সংলাপের মাধ্যমেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক সময়ে সঠিক ডায়ালগ বড় বড় সমস্যারও পথ খুলে দেয়।

    বিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যৎ ভাবনার ওপর জোর দিয়ে তামিম বলেন, আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার প্রভাব শুধু বর্তমান নয়, পরবর্তী এক দশকের ক্রিকেট কাঠামোতেও পড়বে। তাই স্বল্পমেয়াদি চাপে না পড়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

    তিনি আরও মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হবে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জরুরি হলেও, বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা দরকার। দেশের ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে প্রয়োজনীয় হলে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াও বোর্ডের দায়িত্ব।

    জনমতের বিষয়টি তুলে ধরে তামিম বলেন, দর্শকদের আবেগ মাঠের খেলায় স্বাভাবিকভাবেই প্রতিফলিত হয়। তবে সেই আবেগের ভিত্তিতে কোনো বড় ক্রীড়া সংস্থার নীতি নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। জনমত সময়ের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু পরিকল্পনা হওয়া উচিত স্থির ও লক্ষ্যভিত্তিক।

    নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তামিম জানান, বর্তমানে তিনি বোর্ডের কোনো দায়িত্বে নেই। তাই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তবে বোর্ডের অংশ হলে তিনি সর্বাগ্রে দেশের ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিতেন—এমনটাই জানান এই অভিজ্ঞ ওপেনার।