Tag: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • “দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে”—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    “দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে”—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    প্রতিবেদক: দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এ জন্য তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের নানা উদ্যোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অনেক পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখতে চায়। তবে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। অস্থিরতা থাকলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, শুধু রাজপথের আন্দোলন বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দিয়ে দেশ গঠন সম্ভব নয়। সংসদীয় রাজনীতি, আলোচনা ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

    ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত আরও একটি বিদেশি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এতে আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে বাংলাদেশি তরুণদের সুযোগ আরও বাড়বে।

    সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া কোনো জাতির পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। সরকার শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগলেও আগামী এক দশকে এর ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মতবিনিময় সভায় একপর্যায়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য।

    এসময় তিনি অতীত সরকারের সময়ে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সামনে আলোচনা করেন।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    এবিএনএ: রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে কথিত গুপ্ত রাজনীতি এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

    একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এ সময় থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও অবস্থান করছিলেন।

    ঘটনার পর থানার বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা: কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি

    ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা: কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনটিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

    ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠনের প্রত্যাশা এখন সংগঠনের ভেতরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রদল

    ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ছাত্র রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

    বিশেষ করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা কমে গেলেও সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আবারও সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    নতুন কমিটি নিয়ে জোর গুঞ্জন

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একটি বৈঠকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরপর থেকেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অনেক পদপ্রত্যাশী নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোডাউন, ইফতার মাহফিল এবং সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

    উপরে বাঁ থেকে মমিনুল ইসলাম জিসান, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মনজরুল রিয়াদ, মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। নিচে বাঁ থেকে আমানউল্লাহ আমান, খোরসেদ আলম সোহেল, শরিফ প্রধান শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল।

    কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে

    ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এবার ‘সিলেকশন’ পদ্ধতির পরিবর্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের উদাহরণ তৈরি হয়েছে।

    ২০২৫ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এতে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

    নেতাকর্মীদের অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরাও উৎসাহিত হবেন।

    নেতৃত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতৃত্বের

    ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানিয়েছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    দলীয় সূত্র বলছে, সংগঠনের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    উপরে বাঁ থেকে বিএম কাউসার, সাইফ খান, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, আবিদুল ইসলাম খান। নিচে বাঁ থেকে আল আমিন, মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, ইমাম আল নাসের মিশুক।

    নেতৃত্বের দৌড়ে যেসব নাম আলোচনায়

    আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৮ থেকে ২০১২ সেশনের নেতাদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন মমিনুল ইসলাম জিসান, খোরসেদ আলম সোহেল, মনজরুল রিয়াদ, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আমানউল্লাহ আমান এবং শরিফ প্রধান শুভসহ আরও কয়েকজন নেতা।

    এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সেশনের একাধিক নেতা সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    নতুন নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা

    ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের এবার নেতৃত্বে মূল্যায়ন করা উচিত।

    তারা মনে করেন, যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সাংগঠনিক দক্ষ নেতাদের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হলে ছাত্রদল আবারও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবে।

  • ভাষা শহীদদের স্মরণে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ভাষা শহীদদের স্মরণে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    এবিএনএ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাত ১২টা ৭ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এর বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশিত হয় একুশের চেতনায় অনুপ্রাণিত কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

    এদিন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধিরা, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনগুলোও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

    একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। শহীদ বেদি ও সংলগ্ন পথে আলপনায় ফুটে ওঠে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি; দেয়ালে স্থান পায় কবি-লেখকদের অনুপ্রেরণামূলক উক্তি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয় এবং সন্ধ্যা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্ধারিত রুটম্যাপ কার্যকর থাকে।

    ভাষার অধিকার রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এই শ্রদ্ধা নিবেদন নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে উত্তেজনা: ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকে পরে ছেড়ে দিল পুলিশ

    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে উত্তেজনা: ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকে পরে ছেড়ে দিল পুলিশ

    এবিএনএ: রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ফুল দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষকসহ মোট পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত কিছু লোকজন ওই পাঁচজনকে ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুলিশ দ্রুত তাদের সরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

    রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে থানায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কিছুক্ষণ পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সতর্ক রয়েছে।

  • বিদ্রোহী কবির চিরনিদ্রার পাশে বিপ্লবীর শেষ ঠিকানা: নজরুলের সমাধিতে শায়িত শহীদ হাদি

    বিদ্রোহী কবির চিরনিদ্রার পাশে বিপ্লবীর শেষ ঠিকানা: নজরুলের সমাধিতে শায়িত শহীদ হাদি

    এবিএনএ: লাখো মানুষের ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত বিদায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি। শনিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নজরুল সমাধি প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।

    দাফন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    শহীদ হাদির দাফনকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম সমাধি কমপ্লেক্স ও আশপাশের পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়। টিএসসি, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও সমাধির প্রধান ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় মসজিদের একাধিক ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এবং সর্বস্তরের জনগণ।

    জানাজার আগে বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তার ভাই আবু বকর সিদ্দিকও আবেগঘন কণ্ঠে হাদির সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

    জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনেক মানুষ ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নিয়েই জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

    এর আগে সকালে ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হাদির মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে শেষ গোসল সম্পন্ন করে সংসদ ভবনে জানাজার জন্য পাঠানো হয়।

    শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। তিনি আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

    গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

  • ঢাবির বিজয় একাত্তর হলে অগ্নিকাণ্ড: ক্যান্টিনে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিটের অভিযান

    ঢাবির বিজয় একাত্তর হলে অগ্নিকাণ্ড: ক্যান্টিনে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিটের অভিযান

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের এক্সটেনশন ভবনের ক্যান্টিনে সোমবার সন্ধ্যায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। তবে শুরুতে আগুন লাগার সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

    কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুতই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। আগুন যাতে আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সতর্কতার সাথে কাজ চলছে।

    এবিএনএ:  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ক্যান্টিনের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর ক্যান্টিন এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেকে দ্রুত হলের বাইরে চলে যান। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

  • ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপার প্রমাণ, সংখ্যায় বড় অমিল

    ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপার প্রমাণ, সংখ্যায় বড় অমিল

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার কোথায় এবং কতগুলো ছাপানো হয়েছিল— তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বহুল আলোচিত এ ব্যালট নীলক্ষেতের একটি প্রেসেই ছাপানো হয়েছে এবং সংখ্যাতেও বড় গরমিল রয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, ব্যালট সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় উন্নতমানের ছাপাখানায় প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য আর নথিপত্র বলছে, নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের জালাল প্রেসেই ছাপা হয়েছিল এগুলো। প্রেস মালিক মো. জালালও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মো. ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ পান এবং তিন দিনেই প্রায় ৯৬ হাজার ব্যালট ছেপে দেন।

    এদিকে কাটিংয়ের কাজ হয় মক্কা পেপার কাটিং হাউসে। দোকানের কর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ২২ রিম কাগজ কাটা হয়, যাতে প্রায় ৮৮ হাজার ব্যালট তৈরি হয়। এ হিসাবের সঙ্গে জালাল প্রেসের তথ্যের মধ্যে দেখা দিয়েছে ৮ হাজার ব্যালটের গরমিল।

    অন্যদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট ছাপানো ও ওএমআর মেশিনে গণনার টেন্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠান আঞ্জা করপোরেশনের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন দাবি করেছেন, তাদের কেরানীগঞ্জের প্রেসেই ১ লাখ ৫৩ হাজার ব্যালট ছাপা হয়েছে। তবে তথ্যপ্রমাণ দেখানো হলে তিনি দায় চাপান কর্মচারীদের ওপর।

    অন্য হিসাব অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। একজন ভোটারকে ছয়টি ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ব্যালট পেপার। অথচ জালাল প্রেস, মক্কা কাটিং এবং আঞ্জা করপোরেশনের দেওয়া তথ্যের মধ্যে বিশাল অমিল পাওয়া গেছে।

    বিষয়টি নিয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “এটি হাইলি স্পেশালাইজড প্রসেস, যেটির জন্য বিশেষ মেশিন লাগে। একমাত্র একটি ব্র্যান্ডই আবেদন করেছিল।” নীলক্ষেতে ছাপানোর প্রমাণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

  • ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ: ভিপি প্রার্থীদের স্বচ্ছতার দাবি

    ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ: ভিপি প্রার্থীদের স্বচ্ছতার দাবি

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নানা ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন তিন ভিপি প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ— প্রশাসন বিষয়গুলো জানার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

    মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর গাউসুল আজম মার্কেটের একটি ছাপাখানায় ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশাসন এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

    তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ঘোষিত ভোট টার্নআউট বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। এ কারণে ভোটারদের স্বাক্ষর তালিকা প্রকাশ করার জোর দাবি জানান প্রার্থীরা। উমামা ফাতেমা বলেন, “আগেও ভোটারের তালিকা প্রকাশ হয়েছে যেখানে শুধু স্বাক্ষর থাকে, ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হয় না। তাহলে এবার কেন তালিকা গোপন রাখা হচ্ছে?”

    বিশেষ করে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ঘোষিত টার্নআউট বাস্তবে ভিন্ন ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    আব্দুল কাদের বলেন, “ব্যালট পেপার অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পরও প্রশাসনের নীরবতা সন্দেহজনক। ভোট কাস্টিং তালিকাও প্রকাশ করছে না তারা।”

    অন্যদিকে আবিদুল ইসলাম খান জানান, “নির্বাচনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি। কিন্তু প্রশাসনের নির্লিপ্ততা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিম, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী এবং এজিএস প্রার্থী শেখ তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্যরা।

    তবে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদও সাংবাদিকদের কাছে নীরব থাকেন।

  • ডাকসু-জাকসু নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, রিজভীর বিস্ফোরক মন্তব্য

    ডাকসু-জাকসু নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, রিজভীর বিস্ফোরক মন্তব্য

    এবিএনএ:  ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিত কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে জয়ী করেছে।

    রিজভী অভিযোগ করেন, সরকারের প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সচেতনভাবে একচেটিয়া ফল নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, জাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার কেন একটি রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানে ছাপানো হলো।

    রবিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ডিইবি’র অভিষেক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এখন জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমন করতে সরকারের গভীর নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    রিজভী সতর্ক করেন, দেশের যে নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে, তা গণতন্ত্র ও ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একটি অংশ সরাসরি জামায়াতকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।