Tag: ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    এবিএনএ: ইরানের বর্তমান ইসলামিক সরকার চরম চাপে রয়েছে এবং তাদের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে—এমনই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। এসব গোপন তথ্য সরাসরি জানানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতনের পর এই প্রথমবার ইরানের শাসনব্যবস্থা এতটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, জনসমর্থন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে এই তথ্য জানানো হয়, যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নতুন করে বিবেচনা করছেন। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। মাঝখানে কিছুটা নরম অবস্থান নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার আগ্রাসী কৌশলে ফিরেছেন ট্রাম্প।

    মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জনঅসন্তোষ বেড়েছে, যা সরকারকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যেগুলোতে টোমাহকসহ আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর প্রতিবাদের মাঝেই চমক! ইলহান ওমরের সম্পদ তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

    গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর প্রতিবাদের মাঝেই চমক! ইলহান ওমরের সম্পদ তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে এক বিক্ষোভকারীর গুলিতে মৃত্যুকে ঘিরে যখন ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময় এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ট্রাম্প জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যানকে তিনি মিনেসোটায় পাঠাচ্ছেন। সেখানে এক নার্সকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর থেকে রাজ্যজুড়ে টানা বিক্ষোভ চলছে। ওই ঘটনার জেরে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মিনেসোটায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কল্যাণ তহবিল জালিয়াতির অভিযোগে একটি বড় তদন্ত চলছে। তার দাবি, এই আর্থিক অনিয়মই সহিংস ও সংগঠিত বিক্ষোভের পেছনে আংশিকভাবে দায়ী।

    একই পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ এবং কংগ্রেস ইলহান ওমরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য হাতে আসা ইলহান ওমরের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ নাকি ৪৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি। সময়ই এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলহান ওমরের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যেখানে তার বর্তমান স্বামীর আর্থিক অবস্থার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইলহান ওমরের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। সোমালি বংশোদ্ভূত এই মুসলিম কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক। মিনিয়াপোলিস থেকে নির্বাচিত ইলহান ওমর অতীতে ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও সোমালি সম্প্রদায় নিয়ে তার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন।

    প্রসঙ্গত, গত মাসেও ট্রাম্প ইলহান ওমর ও সোমালি সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েন।

  • ইরান ইস্যুতে হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের: সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত কেন?

    ইরান ইস্যুতে হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের: সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত কেন?

    এবিএনএ:  ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিচার বিভাগ ৮৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ—এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশটির প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা মোতায়েন করে।

    বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থনের বার্তা দেন। গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় ৯০০ আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তিনি প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।

    পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার মুখে ইরান সরকার সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখে। তখন এই সিদ্ধান্তের জন্য ইরানকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।

  • অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তাল রাজপথ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তাল রাজপথ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অভিবাসনপন্থি সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে তার অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে এক মার্কিন নারীকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামানো এবং ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলের মতো ছোট শহরগুলোতেও শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘নো আইসিই, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের বিষয়ে তারা ভোটারদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট সমর্থন পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক।

    ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ‘নো হেইট, নো ফিয়ার, রিফিউজিস আর ওয়েলকাম হিয়ার’ স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে হাই স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘স্টপ আইসিই টেরর’ সমাবেশে অংশ নেন।

    ইন্ডিভিজিবল, ৫০৫০১সহ বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও তৃণমূল আন্দোলনকারীরা এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। টেক্সাসের এল পাসোর একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে ছয় সপ্তাহে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এই বিক্ষোভ এখন সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলের মতো পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

  • গাজা সংকট মেটাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ‘বোর্ড অব পিস’-এ পুতিনকে আমন্ত্রণ ঘিরে জল্পনা

    গাজা সংকট মেটাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ‘বোর্ড অব পিস’-এ পুতিনকে আমন্ত্রণ ঘিরে জল্পনা

    এবিএনএ: গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘বোর্ড অব পিস’-এ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই পুতিনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে পুতিনকে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    জানা গেছে, বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। এতে সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে এই বোর্ড গাজার চলমান সংকট সমাধানে কাজ করবে। পরবর্তী ধাপে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বোর্ড অব পিসে সদস্য দেশগুলোর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। তবে কোনো দেশ যদি এক বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়, তাহলে তারা স্থায়ী সদস্যপদ পাবে—এমন প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের প্রচলিত শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ, ফলে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

  • নোবেল না পেলে শুধু শান্তি নয়, জাতীয় স্বার্থও দেখব—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

    নোবেল না পেলে শুধু শান্তি নয়, জাতীয় স্বার্থও দেখব—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর শুধু শান্তির বিষয়েই ভাবতে বাধ্য নন—এমন মন্তব্য করে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে এই অবস্থান জানানোর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনরায় তুলে ধরেছেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ওই চিঠির একটি কপি সংস্থাটির হাতে এসেছে এবং তা একাধিক মিত্র দেশেও শেয়ার করা হয়েছে।

    চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, নরওয়ে আটটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার পরও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে তিনি আর কেবল শান্তির প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। যদিও শান্তি তাঁর অগ্রাধিকারেই থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কী করা প্রয়োজন, সেটিও এখন গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কমানো এবং ফোনালাপের মাধ্যমে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই বার্তার জবাব হিসেবেই ট্রাম্প দ্রুত এই চিঠি পাঠান।

    গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প চিঠিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির হাত থেকে গ্রিনল্যান্ড রক্ষার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। ফলে ওই ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

    চিঠির শেষাংশে ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জোটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছে। এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    তবে বাস্তবতা হলো, ১৮১৪ সালের একটি চুক্তিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক আইনি নথির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত। যুক্তরাষ্ট্রও অতীতে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান তাঁকে এই পুরস্কারের যোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও সর্বশেষ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

    নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নোবেল পুরস্কার প্রদান করে একটি স্বাধীন কমিটি—নরওয়ের সরকার নয়। এ বিষয়ে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও সোমবার পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার পথে ইউরোপ?

    গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার পথে ইউরোপ?

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ)। এ পরিস্থিতিতে ইইউর বিশেষ ব্যবস্থা ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন জোটটির একাধিক শীর্ষ নেতা। ইউরোপে এর আগে কখনও এই ব্যবস্থার ব্যবহার হয়নি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সম্মতি না পেলে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এসব দেশ বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্কের আওতায় রয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সামরিক মহড়ায় সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার এই শুল্কহুমকির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই ইইউর সভাপতি দেশ সাইপ্রাস রোববার ব্রাসেলসে রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি সমন্বিত ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছেন এবং এসিআই কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি টেন্ডারে প্রবেশ সীমিত করা বা সেবা খাতে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    জার্মানির সংসদের বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বের্ন্ড লাঙ্গে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রি-নিউ ইউরোপ গোষ্ঠীর প্রধান ভ্যালেরি হায়ারও প্রকাশ্যে একই দাবি তুলেছেন। জার্মান প্রকৌশল শিল্প সংগঠনও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

    তবে কয়েকজন ইইউ কূটনীতিক মনে করছেন, এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের শুল্কহুমকিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, ইতালি এখন পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে কোনো সেনা পাঠায়নি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। তার ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ব্রিটেনের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা এড়ানোই সবার লক্ষ্য।

    এই শুল্কহুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েকটি সীমিত বাণিজ্য চুক্তিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    এরই মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভিন্ন বার্তা দিতে দক্ষিণ আমেরিকার মেরকোসুর জোটের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপ শুল্ক নয়, ন্যায্য বাণিজ্য এবং বিচ্ছিন্নতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে।

  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, ‘বিশ্বশান্তি এখন চরম ঝুঁকিতে’ বলে সতর্কবার্তা

    গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, ‘বিশ্বশান্তি এখন চরম ঝুঁকিতে’ বলে সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে কড়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের সম্মুখীন হতে পারে। যদি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সম্পূর্ণ বিক্রির বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা সম্মতি না দেয়, তাহলে আগামী জুন মাস থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    এই হুমকির ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেন, চীন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তার দাবি, কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ কার্যকর রাখতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক ট্রাম্পের এই অবস্থানকে নজিরবিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ ধরনের হুমকি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একান্তভাবেই গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণের।

    গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানী নুকে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’—এমন স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। রোববার এই বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ড সফর করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।

    ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।

    গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সামরিক ‘রেকি মিশন’ শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে ও বিপক্ষে আলাদা বিল উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না—কারণ তিনি যা বলেন, সেটাকেই বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় লেসকুরে স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসী বা দখলমূলক উদ্যোগ নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

    লেসকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

    বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের কিছু বেশি। জনসংখ্যার সিংহভাগই ইনুইট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং এর বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।

    ভৌগোলিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দ্বীপটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে—যা ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

    এই বক্তব্যের পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।