Tag: জামায়াত

  • কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    এবিএনএ ,বাগেরহাট: ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাগেরহাট-৩ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাসমান ভোটারদের ভূমিকা এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠায় হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    মোংলা ও রামপাল উপজেলা এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মূল লড়াইটি গড়ে উঠতে পারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে।

    ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একইভাবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

    তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে তিনি ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভাসমান হওয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানকে সাক্ষাত করেন।

    সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে থাকবে।”

    তিনি আরও জাতিসংঘ, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি ফিলিস্তিন পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দোয়া, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    উত্তরে রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বাংলাদেশের আন্তরিক সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

    শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

    এবিএনএ: শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে, যেখানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রাত পৌনে ১০টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

    শেরপুর-৩ আসনের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে আমাদের নেতা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত টানাপোড়েনপূর্ণ।”

    স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মাঠে উপস্থিত রয়েছেন।

  • বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা আজ বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করছে, তাদেরই দুই নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি তখন এতটাই খারাপ হতো, তবে তারা কেন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসকের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিষয়ে ছিলেন আপসহীন। তিনি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল, আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যারা আজ বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে তাদের মন্ত্রিত্ব বহাল থাকাই প্রমাণ করে তারা এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মিথ্যাচার করছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলে একসঙ্গে কেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রেখে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তারা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশ প্রাঙ্গণ।

  • সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বন্যা: ৫১ দলে ২,৫৬৯ জন, কে কত আসনে লড়ছে?

    সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বন্যা: ৫১ দলে ২,৫৬৯ জন, কে কত আসনে লড়ছে?

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে নেমেছেন।

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, দলীয় প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ৯০ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৮৭ জন। এ ছাড়া একজন প্রার্থী রয়েছেন অনিবন্ধিত দলের পক্ষ থেকে।

    দলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৩৩১ জন, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টি ২২৪ জন, গণঅধিকার পরিষদ ১০৪ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৪৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের ৬৮ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন, এবি পার্টি ৫৩ জন এবং জনতার দল থেকে ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।

    গতকাল নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এসব তথ্য জানান। তবে মনোনয়ন জমার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোন দল থেকে ঠিক কতজন দলীয় ও কতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন—তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তখনও প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

    বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

    নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

    ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনি প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

    এদিকে, পোস্টাল ভোটের জন্য ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৫২ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

    প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • বাগেরহাট ৪ আসনে জামায়াত বিএনপিসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

    বাগেরহাট ৪ আসনে জামায়াত বিএনপিসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

    এবিএনএ,শরণখোলা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪, (৯৮ সংসদীয় আসন মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়ে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট ৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ দে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক জেলা রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসারের কার্যালয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

    জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল (জেএসডি) এর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বাগেরহাট জেলা উপদেষ্টা মোঃ ওমর ফারুক নূরী ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাজন কুমার মিস্ত্রী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

    এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ দের সাথে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ, জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ জববার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল, সহ-সভাপতি এফ এম শামীম আহসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মেহেদী হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি শিকদার ফরিদুল ইসমলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  • ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে দেশে সহিংসতা, বিভাজন ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে দলটি জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে জামায়াতের ভূমিকা উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

    বিবৃতিটি পাঠান এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। এতে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার যে প্রমাণ-ভিত্তিক বক্তব্য দেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত।

    এনসিপি দাবি করে, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৭ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষের সময় গুলি চালানো তুষার মণ্ডলের পরিচয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে—তিনি জামায়াতের কর্মী। তাকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করে এনসিপি।

    দলটি আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও জামায়াত সেই পথ অনুসরণ না করে পুরোনো সহিংসতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাইছে। নতুন রূপে ‘সহিংস খেলায়’ অংশ নিতে চাইছে—যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অশুভ সংকেত।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মের অপব্যবহার, অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি ও সংঘাত সৃষ্টি—এসবই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করে এনসিপি। পাশাপাশি তারা জামায়াতকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

    এর আগে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন—নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো কিছু দল অস্ত্রের মহড়ায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রোববার এক প্রতিক্রিয়া বিবৃতিতে জামায়াত এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া, অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করে এবং আখতার হোসেনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

  • ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জনসম্পৃক্ত না হয়েও ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে—আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ।” তবে তিনি দাবি করেন, ইসলামি দলগুলোর বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেনি।

    সোমবার বিকেলে খুলনা নগরের ঐতিহাসিক শিববাড়ী মোড়ে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আটটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশেষ করে ৩৫ বছরের নিচের তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে যারা ভোট দিতে পারেননি, তারা এবার নিজের অধিকার নিয়ে আপস করবেন না। তিনি বলেন, “তোমাদের ভোট নিয়ে কেউ ছিনিমিনি করলে আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজনে ভোটের অধিকার রক্ষায় রাজপথে লড়াই করব।”

    তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলো যেন তোমরা শুধু চাকরি না করে, চাকরি দেওয়ার মানুষ হও।”

    দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে দুটি ধারায় শিক্ষা চলছে—মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা। তার মতে, মাদ্রাসায় জ্ঞানচর্চা হয়, সহিংসতা হয় না। পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পরিবেশ অনেক সময় অস্থির হয়ে উঠে, যা সভ্য সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের দলীয় পোস্টার-পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হলেও জনগণ এখন আর পোস্টার দেখে ভোট দেয় না। তারা হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি ঘোষণা দেন, আট দলের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য জাতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণজাগরণ ঘটানোর হুঁশিয়ারিও দেন।

  • “জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহই পাবেন” বক্তব্যে তোলপাড় কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা

    “জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহই পাবেন” বক্তব্যে তোলপাড় কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা

    এবিএনএ: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেন, “যদি জামায়াতকে ভোট দেন, তাহলে আমার মৃতদেহই পাবেন।” তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

    সভায় তিনি নিজের ‘ফজা পাগলা’ উপাধি প্রসঙ্গে বলেন, “যারা আমাকে এই নাম দিয়েছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী। তারা যদি ভোটে জিতে যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ বিপন্ন হবে। তাই তাদেরকে ভোট দেওয়া মানে সত্যের পাশে না দাঁড়িয়ে ইতিহাস বিকৃতিকে মেনে নেওয়া।”

    তিনি আরও জানান, “আমি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলে আমাকে নানা অপমানের শিকার হতে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা হলেও আমি সত্যের পথে অটল। কারণ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি অসম্মান দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা আমার দায়িত্ব।”

    ফজলুর রহমান দাবি করেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের সন্তান, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য যারা যুদ্ধ করেছেন আমি তাদের একজন বন্ধু ও সহযোগী। তাই সত্যের পথে থাকতেই আমি আপসহীন।”

    এদিনের কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস. এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ঠাকুরসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    সভা শেষে এলাকাজুড়ে তার বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা ও জোর আলোচনা চলতে থাকে।

  • ‘ভুল পথে চালানো হচ্ছে সরকার’— তিন উপদেষ্টার অপসারণ দাবি আট দলের

    ‘ভুল পথে চালানো হচ্ছে সরকার’— তিন উপদেষ্টার অপসারণ দাবি আট দলের

    এবিএনএ:  জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করেছে, সরকারের তিনজন উপদেষ্টা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। তাদের দাবি, এ উপদেষ্টারা বিএনপির পক্ষে ঝুঁকে কাজ করছেন এবং সরকারের অবস্থান ‘মিসগাইড’ করছেন।

    শুক্রবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘‘সরকারকে বিভ্রান্ত করছে এমন কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টা আছেন। আমরা তাদের অপসারণ চাই। প্রধান উপদেষ্টাকে নামগুলো জানাবো। এরপরও ব্যবস্থা না নিলে নাম প্রকাশ্যে আনা হবে বিবেচনা করছি।’’

    আগের দিন জারি হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে দলগুলোর অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় আট দল তিনটি দাবি তোলে—
    ১) নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন,
    ২) প্রশাসনে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ,
    ৩) সরকারকে বিভ্রান্তকারী তিন উপদেষ্টার অপসারণ।

    ডা. তাহের অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু বিএনপি হঠাৎ করে সংস্কারের বিষয়ে মতবিরোধ দেখিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তার মতে, সরকার বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছে, যা জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ দলের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

    তিনি বলেন, আদেশে সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানালেও পুরো সনদ একইভাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। গণভোটে মাত্র চারটি বিষয় রাখা নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।

    ডা. তাহের দাবি করেন, বিএনপির আপত্তিকে প্রশ্রয় দিতেই সনদকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোট না চাওয়ার কারণ হলো— তার ফল বিএনপির বিরুদ্ধে যেতে পারে। আট দলের ভাষ্য, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে; অথচ সংস্কারবিরোধী একটি দলের কারণে গণভোটকে দুর্বল করা হচ্ছে।

    তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘রোজার আগে নির্বাচনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। কিন্তু সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচনের মাঠ সমতল রাখা হবে না। কিছু উপদেষ্টা প্রশাসনকে দলীয়ীকরণের চেষ্টা করছেন। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং দেশীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যেতে পারে।’’

    সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বিডিপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।