Tag: জামায়াত

  • শাহ আলী মাজারে হামলা: অজ্ঞাত ১৫০ জামায়াতকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    শাহ আলী মাজারে হামলা: অজ্ঞাত ১৫০ জামায়াতকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    এবিএনএ: রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত হজরত শাহ আলী (র.) মাজারে হামলা, ভাঙচুর এবং অর্থ লুটের অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় শাহ আলী থানায় মামলাটি করেন মাজারের এক নিয়মিত দর্শনার্থী রেসমি বেগম। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে মাজারের ভক্তদের আহত করা এবং মাজারের অর্থ লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

    ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— মো. আলী আকবর, মো. বাপ্পা, মো. বাবু, মো. কাউসার, আজম, শেখ মো. রাসেল, কাজী জহির, মো. মিজান ও কাজী পনির। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অধিকাংশই শাহ আলী থানা এলাকার বাসিন্দা।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শেখ মো. রাসেল ও আজম এজাহারে নাম থাকা আসামি। এছাড়া আরমান দেওয়ান নামে আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আটক করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় মাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ভক্তদের ওপর চড়াও হলে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইস্যুতে তুমুল ঝড়! এক বক্তব্যেই অচল অধিবেশন

    সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইস্যুতে তুমুল ঝড়! এক বক্তব্যেই অচল অধিবেশন

    এবিএনএ: মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হয় তীব্র উত্তেজনা। দিনের বড় অংশজুড়ে চলে হট্টগোল, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং তর্ক-বিতর্ক, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

    কীভাবে শুরু হলো বিতর্ক?

    মঙ্গলবার বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর নিয়মিত কার্যসূচি শেষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য আসতেই বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

    স্পিকারের হস্তক্ষেপেও থামেনি উত্তেজনা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার সদস্যদের সতর্ক করেন এবং সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান। তবে এরপরও সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থামেনি।

    বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাপ বাড়ে

    বক্তব্যে ফজলুর রহমান দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান এবং সংসদে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।

    এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলনার তুলনারও সমালোচনা করেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা বক্তব্য

    বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে এই মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।

    অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা অবস্থান নেন। বিভিন্ন দল ও জোটের সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্পিকারের কঠোর বার্তা

    ক্রমাগত বিশৃঙ্খলার মধ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জাতি সরাসরি অধিবেশন দেখছে—এ ধরনের আচরণ সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তিনি সংসদের কার্যপ্রণালি মেনে চলার ওপর জোর দেন এবং অসংসদীয় বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার কথাও জানান।

    অন্যান্য ইস্যুতেও উত্তেজনা

    একই দিনে সংসদে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ, গণভোটের বৈধতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের অধিকার, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং জাল নোট প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন।

    রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট

    দিনভর আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সমসাময়িক ইস্যুগুলোতে এই বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, একটি বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনা পুরো দিনের সংসদ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • ১৩৩ অধ্যাদেশে তুমুল মতভেদ! ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের কড়া আপত্তি

    ১৩৩ অধ্যাদেশে তুমুল মতভেদ! ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের কড়া আপত্তি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দিয়েছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং এর মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু প্রস্তাব জোর করে পাস করানোর চেষ্টা চলছে।

    বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দলটি। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এছাড়া বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি বাতিল করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা খর্বের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

    গণভোট ইস্যুতে দলটির অবস্থান আরও কঠোর। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট জাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি বাতিলের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোট অসাংবিধানিক হয়, তাহলে একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?

    তিনি আরও জানান, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তবে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু যেসব প্রস্তাব জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হচ্ছে, সেগুলোতে কোনো আপস করবে না জামায়াত।

    সব মিলিয়ে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ ঘিরে সংসদে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় জামায়াত কর্মীরা পিটুনিতে সাইথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নিহত হয়েছে। রবিবার (১লা মার্চ) রাত ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডের পর শরণখোলা উপজেলাজুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের মরদের ময়না তদন্ত সোমবার দুপুরে জেলা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

    নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার সাইথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে ও সাউথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রদল নেতা মাসুম মালয়েশিয়া চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

    এঘটনায় নিহত ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রবিবার দিবাগত রাতেই অভিযান চালিয়ে এঘটনায় ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামের এই তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।

    নিহত ছাত্রদল নেতার পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

    এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানান, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তরাই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাÐ ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকাÐে জড়িত জামায়াত ও শিবির কর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

    অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে জামায়াতের উপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।

    শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুমকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল নেতা মাসুম মোবাইল ফোনে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে জামায়াত কর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা মাসুম ও সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা ভর্তি করার পর মাসুম মারা যায়।

    পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের তিনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় এই তিনজন এজাহারনামীয় আসামী।

    সোমবার দুপুরে নিহতের ময়না তদন্ত বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

  • বাগেরহাটে যুবদল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    বাগেরহাটে যুবদল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় এবার জেলা সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে যুবদল নেতা আলিমুজ্জামান রানার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

    রবিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই যুবদল নেতার টিনশেড বাড়ীতে প্রতিপক্ষ দলের দুবৃর্ত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ফায়ার সাভির্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই অসবাবপত্র ও ১০ লখ টাকার মালামালসহ টিনসেড বাড়ীটি সম্পুর্ন পুড়ে শেষ হয়ে যায়। রাতেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এঘটনায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বাগেরহাট সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী আলিমুজ্জামান রানা তার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের জন্য প্রতিপক্ষ জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করে বলেন, এরআগে সংসদ নির্বাচনের পর দিন সকালে বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদের নেতাকর্মীরা আমার বাড়ীসহ মাদ্রা গ্রামে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিরাজসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের ১২টি বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। রবিবার দিবাগত রাতে আমার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাবার সময় জামায়াত নেতাকমীদের স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়েছে। আগুনে আমার বসত ঘরের অসবাবপত্র ও ১০ লখ টাকার মালামালসহ টিসেড বাড়ীটি সম্পুর্ন পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। যুবদল নেতার বাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার খবর যেয়ে সকালে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিএনপির প্রার্থী ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্দ জাকির হোসেনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ এঘটনায় জামায়াত নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।

    বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রায় যুবদল নেতা রানার বসত বাড়ীতে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। জড়িত দুবৃর্ত্তদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এরআগে এই এলাকায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘ; এই পথে মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতিই হবে বিরোধী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দলটি সামগ্রিক ফলাফল স্বীকার করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

    নির্বাচনী সময়ে মাঠে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নানা চাপ ও হয়রানির মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিয়েছে। ফলাফলে হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি; সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী ব্লক হিসেবে দলটির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    তিনি অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তাই বিরোধী দলে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রেখে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ অব্যাহত থাকবে। দলটি নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায়।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সদ্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জাতির জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বলেন তিনি। ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন।

    আসন্ন সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের বার্তা—জনগণের ম্যান্ডেট কোনো ছাড়পত্র নয়; এটি শর্তযুক্ত দায়িত্ব। সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা। শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অঙ্গীকারে দলটি অবিচল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ: ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।

    পাটওয়ারীর অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও কেন্দ্র এলাকায় বহিরাগতদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর পরিকল্পিতভাবে তাকে ঘিরে ধরে প্রতিপক্ষের একদল কর্মী উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং হামলার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত।

    তিনি বলেন, কেন্দ্র এলাকায় প্রবেশের পর তার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করা হয় এবং একটি পক্ষ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও জানান, দুটি ভোটকেন্দ্রকে তিনি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন। তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন।

    ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় না পেয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

  • বাগেরহাটে ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৯

    বাগেরহাটে ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৯

    এবিএনএ, বাগেরহাট :  বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর সাউথখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর সোনাতলা গ্রামে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে জামায়াতের সাব্বির, তরিকুল, সোবহান, নাজমা ও ফরিদাসহ ১৫ জন এবং বিএনপির রফিকুল ও ছিদ্দিকসহ ৪ জন রয়েছে। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    একই সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ নাহিদ নামে এক যুবককে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তার কাছ থেকে রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও হাড়িখালী কাঠের পোল এলাকার ফার্নিচারের দোকান থেকে ছয়টি হাসুয়া, তিনটি করাত, তিনটি চাকু, একটি বড় হাতুড়ি ও সাতটি লোহার হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

    লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রউফ বলেন, আসন্ন নির্বাচনের সময় নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

    পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী জানান, কেউ কোনো ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন বলেন, “শরণখোলায় ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে, তবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।”

  • যশোরে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, জামায়াত কর্মীসহ দুই জন আহত

    যশোরে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, জামায়াত কর্মীসহ দুই জন আহত

    এবিএনএ, যশোর: যশোরে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় জামায়াতের এক কর্মী ও এক ভোটার আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর-৩ আসনের তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে।

    আহতরা হলেন, সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী আবু হোসেন (২৫) এবং আব্দুল গণি (৫০)।

    আহত আবু হোসেন জানান, তিনি সকালেই ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। অপরদিকে, আব্দুল গণি ভোট দিতে বাড়ি থেকে বের হলে জামায়াত সমর্থকরা তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য করে।

    ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “তালবাড়িয়া স্কুলকেন্দ্রে কোনো গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।