Tag: জামায়াত

  • দিনাজপুরে ভোটকালীন নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের ২ কর্মী আটক

    দিনাজপুরে ভোটকালীন নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের ২ কর্মী আটক

    এবিএনএ, দিনাজপুর: দিনাজপুরের বিরামপুরে ভোটকালীন সময়ে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগে দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে বিরামপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের চকপাড়া কল‍্যাণপুর গ্রামে নগদ বিতরণের ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা ভোটার প্রতি ৫০ টাকা করে বিতরণ করছিলেন। স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করে প্রশাসনের নিকট খবর দেন।

    আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, ৩৫ বছরের নুরুল আমিন ইমন এবং ৩৪ বছরের সেতু মন্ডল। ঘটনা সংবাদ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. লিয়াকত আলী সেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে দুজনকে বিরামপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।

    বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভোটারদের মধ্যে নগদ বিতরণের সময় জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

    এই ঘটনায় প্রশাসন সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্বাচনের সময় ভোটারদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কার্যক্রম জোরদার করেছে।

  • মেহেরপুরের চার ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ ও হামলা, আহত ১৭, একজন আটক

    মেহেরপুরের চার ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ ও হামলা, আহত ১৭, একজন আটক

    এবিএনএ, মেহেরপুর : মেহেরপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দুইটি আসনের চারটি ভোটকেন্দ্রে পৃথক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের ১৬ জন ও বিএনপির ১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। একজনকে আটক করা হয়েছে।

    সূত্র জানিয়েছে, সকালে মেহেরপুর-২ আসনের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটারদের বাধাদানের কারণে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জামায়াতের ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    একই সময়ে গাংনী উপজেলার ছাতিয়ান কেন্দ্রে কেন্দ্রের বাইরে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে জামায়াতের আরও ৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার খাসমহল গ্রামে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির একজন কর্মী আহত হন।

    অন্যদিকে মেহেরপুর-১ আসনের চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াত সমর্থক ২ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় একজন বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

    মেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানিয়েছেন, “সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। হামলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

  • নৌকাবিহীন ব্যালটে আওয়ামী লীগের ‘কৌশলী ভোট’ হতে পারে নির্বাচন নির্ধারক

    নৌকাবিহীন ব্যালটে আওয়ামী লীগের ‘কৌশলী ভোট’ হতে পারে নির্বাচন নির্ধারক

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে বৃহস্পতিবার, যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনকাল শেষে আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও শীর্ষ নেতাদের বিদেশে অবস্থানের কারণে দলটি এই নির্বাচনে অনুপস্থিত। তবে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    দলের কর্মী ও সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে কৌশলী বা ট্যাকটিক্যাল ভোট দিতে পারেন। নৌকা প্রতীক না থাকায় তারা নিজেরা ভোট কাকে দেবেন তা নির্ধারণ করছেন স্থানীয় নিরাপত্তা, প্রতিহিংসার ভয় ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করার ভিত্তিতে। সামাজিক মাধ্যমে “No Boat, No Vote” প্রচারণা দেখা গেছে, তবে বাস্তবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলী ভোট বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে প্রথমবার ভোটদাতারা এবং বয়সে ৩৫–৪০-এর নিচের ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবেন। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যাতে আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্থা জাগানো যায়।

    রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রশাসনিকভাবে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হলেও পুরোপুরি দমন করা যায় না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে ভোট কেন্দ্রে অংশ নিতে পারেন। ফলস্বরূপ, বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো এই ‘অন্যায় ও অনাথ’ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে।

    খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুরের মতো traditionally আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা এবার পরিবর্তিত চিত্র呈 করছে। বিএনপি ও জামায়াতের পোস্টার দৃশ্যমান। হিন্দু ভোটারদের কিছু অংশ নিরাপত্তা আশ্বাসে বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। জামায়াতও কৌশলগতভাবে এই ভোটারদের মধ্যে সহমর্মিতার রাজনীতি ব্যবহার করছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা এবার আবেগ নয়, বরং ‘অস্তিত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা’ ভিত্তিক কৌশলী ভোট দেবেন। ভোটাররা নিশ্চিত থাকবেন যে জয়ী প্রার্থী তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাবে না। নৌকাবিহীন ব্যালটে এই ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, সেদিকেই নির্বাচনের পাল্লা ভারী হবে। তাই আগামী নির্বাচন শুধু জয়-পরাজয়ের নয়, বরং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেরও পরীক্ষা হবে।

  • ঢাকা-১৫: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১৩টি নির্বাচনী বুথে ভাঙচুর, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    ঢাকা-১৫: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১৩টি নির্বাচনী বুথে ভাঙচুর, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: ঢাকা-১৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী বুথে ১৩টি স্থানে ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘটনার কথা জানিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি লিখেছেন, “আজ আমার নির্বাচনী আসনের ১৩টি বুথে ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামাতে চাচ্ছে, তারা ভুলে যাচ্ছে—এই জাতি বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে এসেছে।”

    জামায়াত আমির আরও বলেছেন, “পেশীশক্তির রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না। যারা দেশের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ব্যর্থ, তারা এখন সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।”

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ভয়-ভীতির রাজনীতি আর চলবে না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনপ্রিয়তা জনগণের মধ্যে এতোটাই দৃঢ় যে তার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনের ভোটে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

  • কুমিল্লায় জামায়াত নেতার মৎস্য খামার থেকে বিপুল দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

    কুমিল্লায় জামায়াত নেতার মৎস্য খামার থেকে বিপুল দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

    এবিএনএ: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় জামায়াত নেতার মৎস্য খামার থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মাগুয়া গ্রামে অবস্থিত ‘আল-বাশারাত’ মৎস্য খামারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নাঙ্গলকোট সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সার্জেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়ার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

    মৎস্য খামারের মালিক জামায়াতের যুব বিভাগের পেরিয়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল ইসলাম মামুন। অভিযানকালে খামার এলাকা থেকে ৫৯টি এসএস পাইপ, ৪৬টি জর্দার খালি কৌটা, ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম, ১০০ গ্রাম গন্ধক, ১২টি কস্টেপ এবং একটি ফুয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, এসব উপকরণ ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

    বাহিনী অনুমান করছে, আসন্ন নির্বাচনের সময় নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছিল। অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সরঞ্জামগুলো ককটেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার পর বলা যাবে। এ ঘটনায় কোনো কাউকে আটক করা হয়নি।

  • রাজধানীতে ভোট কেনার সময় জামায়াত নেতা আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই দিনের কারাদণ্ড

    রাজধানীতে ভোট কেনার সময় জামায়াত নেতা আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই দিনের কারাদণ্ড

    এবিএনএ: রাজধানীর সূত্রাপুরে ভোটারদের টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগে স্থানীয় জনতার হাতে জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিবকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    ঘটনা বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৬ আসনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন একটি চালের দোকানে ঘটে। স্থানীয়রা দেখেন, ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন মো. হাবিব। তারা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটক করেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেন।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রমাণ যাচাই করার পর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিকভাবে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

    রাজধানীর এই ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক দল ও প্রতীকের উপস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্যমতে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫০টি নিবন্ধিত দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২০২৮ জন প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

    ভোটাররা এবার ব্যালটে দেখতে পাবেন ১১৯টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ পরিচিত প্রতীকের পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে—যা নির্বাচনী ইতিহাসে আরেকটি ব্যতিক্রমী সংযোজন।

    নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বর্জনের চিত্র
    বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি ভোটে নেই। নিবন্ধিত আরও আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ইসির তালিকা অনুযায়ী সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী নেই।

    ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেখানে ২৮টি দল ও ৬৯টি প্রতীক ছিল, সেখানে এবারের অংশগ্রহণ ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ—যা ভোটের মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

    প্রার্থী বিন্যাস ও দলীয় শক্তিমত্তা
    ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লায় ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙলে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
    এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের ট্রাকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তেতে ৬৫ জন, বাসদের মইয়ে ৩৯ জন, খেলাফত মজলিসের রিকশায় ৩৪ জন, এনসিপির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির ঈগলে ৩০ জনসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

    ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের কথা বললেও চূড়ান্ত তালিকায় জাসদের ছয়জন প্রার্থীর নাম দেখা যাচ্ছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

    সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে ফিরে দেখা
    স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বারবার বদলেছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নানা সময় বর্জন, বিতর্ক ও অংশগ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।

    সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক দল, প্রতীক ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

  • ভোটের আগমুহূর্তে ঢাকা-১৫ আসনে উত্তাপ: দাঁড়িপাল্লার ১৩ নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    ভোটের আগমুহূর্তে ঢাকা-১৫ আসনে উত্তাপ: দাঁড়িপাল্লার ১৩ নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র ১৩টি নির্বাচনী বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ভাঙচুর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকায় দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের প্রচারণা বুথগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো দল বা প্রার্থীকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, যারা নীতিনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা করতে ব্যর্থ, তারাই সহিংসতার পথে হাঁটছে। তবে সাধারণ মানুষের সমর্থনই তাদের শক্তি এবং ভয়ভীতির রাজনীতি দিয়ে জনতার কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব নয়।

    ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, সাধারণ মানুষের মনে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। ভোটের দিন সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

  • ভোটের আগমুহূর্তে অনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতার ছায়া: জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিএনপির

    ভোটের আগমুহূর্তে অনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতার ছায়া: জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিএনপির

    এবিএনএ: নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থসহ জামায়াত নেতার আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অর্থ বহন ও বিতরণের চেষ্টা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি ভোট কেনার ইঙ্গিত দেয়।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে যারা মাঠে নেমেছে, তাদের পক্ষ থেকে অর্থের প্রলোভন দেখানো চরম ভণ্ডামির উদাহরণ।

    ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের দাবি
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সম্ভাব্য জাল ভোটের আশঙ্কা তুলে ধরে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। মাহদী আমিন বলেন, কিছু এলাকায় ধর্মীয় পোশাক ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের মর্যাদা ও পর্দার প্রতি সম্মান রেখেই সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি বা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মিল রেখে মুখমণ্ডলের প্রয়োজনীয় অংশ যাচাই করা উচিত। এ কাজ নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা নারী এজেন্টের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    সৈয়দপুর বিমানবন্দর প্রসঙ্গ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ
    তিনি বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির থাকার পরও বিপুল অঙ্কের অর্থ বহনের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু সৈয়দপুর নয়, ঢাকা-১৫, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আর্থিক লেনদেনের খবর বিএনপি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    এছাড়া অভিযোগ করা হয়, কিছু এলাকায় ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ও ভোটার আইডির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিএনপির দাবি, ধর্মীয় আবেগ বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়েও ভোটারদের বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়নি।

    সহিংসতা ও জাল সিলের অভিযোগ
    বিএনপির নেতারা আরও বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে দেশীয় অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী জড়ো করা হচ্ছে। বগুড়ার নন্দীগ্রামে সংঘর্ষে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার আহত হওয়ার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানান তারা। লক্ষ্মীপুরে জাল সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির জবানবন্দি উল্লেখ করে দলটি দাবি করে, পরিকল্পিতভাবে ভুয়া সিল তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল।

    ভোটার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান
    আগামীকালের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটারদের সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায় বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে দলটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

  • ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে বাগেরহাট-৪ আসন

    ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে বাগেরহাট-৪ আসন

    এবিএনএ, বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা এবং মোরেলগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনটি এবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অবকাঠামো, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে এ এলাকার ভোটাররা বরাবরই সক্রিয়। অতীতে এই আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

    আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে। অন্যদিকে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    শিপন জানান, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার মতে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী একজন ফ্যাসিস্ট ঘরানার হওয়ায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি। জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতে জোট ও একক নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের ভালো ফল রয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বল প্রার্থীর কারণে এবার দাড়িপাল্লার জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

    তবে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে এসব দাবি নাকচ করে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বেশি। ইনশাআল্লাহ, জয় আমাদেরই হবে।”

    এছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মো. আ. লতিফ খান এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে সাজন কুমার মিস্ত্রি নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারাও ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।