Tag: জামায়াত

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচনের বিরুদ্ধে উত্তাল জনতা, মহাসড়ক অবরোধে অচল খুলনা-বরিশাল সড়ক

    বাগেরহাটে আসন সংকোচনের বিরুদ্ধে উত্তাল জনতা, মহাসড়ক অবরোধে অচল খুলনা-বরিশাল সড়ক

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে একটি সংসদীয় আসন কমিয়ে সংখ্যা তিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজপথে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন টানা চারদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে সাধারণ মানুষও।

    রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে জেলার দশানী মোড়, ডিসি অফিস এলাকা, রামপালের ফয়লা এবং মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন মহাসড়কে ব্যস্ত সড়কগুলো অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারীরা। এতে খুলনা-বরিশাল এবং মোংলা-খুলনা মহাসড়কে দুই ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।

    আসন পুনর্বহালের দাবিতে জেলা বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে ডিসি অফিসের সামনেই এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সিনিয়র সচিব ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমসহ আরও অনেকে।

    বক্তারা বলেন, বাগেরহাটের মতো ঐতিহাসিক ও জনবহুল জেলায় আসন কমানোর সিদ্ধান্ত জনবিরোধী। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে, নইলে আগামী ৫ আগস্ট থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

  • বাগেরহাটে সংসদীয় আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহাসড়কজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

    বাগেরহাটে সংসদীয় আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহাসড়কজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব ঘিরে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে শহরের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

    বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খেলাফত মজলিস, ইমাম সমিতি, যুব দল ও এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

    নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বিদ্যমান। হঠাৎ করেই কোনও পরামর্শ ছাড়াই একটি আসন বাতিলের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

    বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত যদি বাতিল না করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে বাগেরহাটকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দেবো।” তারা আরও জানান, আগামীকালও প্রতিবাদ চলবে এবং জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

  • পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    এবিএনএ, লালমনিরহাট
    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় সংঘটিত এক ভয়াবহ হামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলায় থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

    সূত্র জানায়, পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছিল দুই আসামি—বেলাল হোসেন ও সোহেল রানা চপলকে। তবে রাতেই ২০০-২৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল থানা চত্বরে ঢুকে হামলা চালায় এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। তারা থানার আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভাঙচুর করে এবং নথিপত্র তছনছ করে।

    রাজনৈতিক দোষারোপ ও বিভাজন

    এই ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তার দাবি, ইউএনওর নির্দেশে সাজা পাওয়া আসামিদের ছিনিয়ে নিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায়।

    তবে পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “বিএনপি বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। জামায়াত বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

    ঘুষের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

    পাথর মহালের ইজারাদার মাহমুদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইউএনও ও ওসি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানায় গিয়ে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।

    ইউএনও উত্তম কুমার দাস বলেন, “পাথর কোয়ারির শর্ত ভঙ্গ করে মহাসড়কে চাঁদা তোলা হচ্ছিল। এজন্যই দুই ব্যক্তিকে আটক করে সাজা দেওয়া হয়।”

    তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদার

    রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, থানায় হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক জানান, পাথর উত্তোলনে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পরিস্থিতির মূল্যায়ন

    পাটগ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সংশ্লিষ্ট মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ঘুষ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দলগুলোর অপব্যবহারে সাধারণ মানুষ আর কত ভুগবে? এখন অপেক্ষা বিচার এবং সত্য উদঘাটনের।

  • রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় সরকার গঠনের তৎপরতা, ইউনূসকে ঘিরে চাপে অন্তর্বর্তী প্রশাসন

    রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় সরকার গঠনের তৎপরতা, ইউনূসকে ঘিরে চাপে অন্তর্বর্তী প্রশাসন

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী বিএনপি ও জামায়াত বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও, অন্যান্য দলের প্রতি তার অনীহা স্পষ্ট।

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই সঙ্কটের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গোপন ‘অশুভ চক্র’, যারা চায় না দেশ নির্বাচনমুখী হোক। তারা ইউনূসকে জনবিচ্ছিন্ন করে নিজেরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। এমনকি এই চক্র জরুরি অবস্থার গুজবও ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগছে। ইতোমধ্যে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচনের সম্ভাবনা।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আলী রীয়াজের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, সেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর বক্তব্য নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। একই দিনে উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ বৈঠকেও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়, যেখানে কিছু উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ড. ইউনূস।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূসের পদত্যাগই সংকটের সমাধান নয়। বরং সিদ্ধান্তহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনির্দিষ্টতা বেড়েই চলেছে, যার ফলে জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ গোপনে শুরু হয়েছে বলে কিছু সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    তবে প্রশাসনের একাধিক স্তরে এ নিয়ে মতভেদ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক দাবা খেলায় শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হয় এবং জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।