Tag: গণতন্ত্র

  • “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ যেন কোনোদিন চরমপন্থা বা মৌলবাদের আশ্রয়স্থল না হয়— এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ যেই স্বৈরাচারকে অল্প কিছুদিন আগে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তার পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্রে উত্তরণে কবি সাহিত্যিকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি মিডিয়া সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় কবিতা পরিষদের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করলেই দেশের মালিকানার প্রকৃত দাবিদার হিসেবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার এখনই সময়।

    কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লেখার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সমালোচনার সুযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা অপরিহার্য। এ ছাড়া দেশে জবাবদিহিমূলক অবস্থা তৈরি করাও এখন সময়ের দাবি।

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে সবার অবস্থান এক হওয়া উচিত। যে স্বৈরাচারকে জনগণ বিদায় দিয়েছে, তার পুনর্জাগরণ রোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    সভায় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সভাপতিত্ব করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ রাজনৈতিক ও সাহিত্য অঙ্গনের অনেকে বক্তব্য দেন।

  • সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “আগে শেখ হাসিনা বারোটা বাজিয়েছে, আর এই সরকার চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে।”

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ অনুষ্ঠানটি গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশে কত দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে, কারা লুটপাট করেছে, কীভাবে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে—সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে এই অবস্থান থেকে এখনই তা প্রকাশ করতে চাই না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপিকে নানা ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। “যেখানেই খুন, লুটপাট, চাঁদাবাজি—সেখানেই বিএনপির নাম বলে একদল মানুষ। এভাবে জনগণের চোখে বিএনপিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

    নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আপনাদের যেমন ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে, আমাদেরও তেমন আছে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার একটাই উপায়—জনগণের ভোট। ভোট পেলে ক্ষমতায় যাব, না পেলে মেনে নেব।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের কথা মুখে বললেও মনে মনে চায় না নির্বাচন হোক, কারণ তারা মনে করে বিএনপি জিতবে। “বিএনপি দেশ শাসন করে না, দেশ পরিচালনার চেষ্টা করে,” বলেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আজিজ। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম, জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীন, গণঅভ্যুত্থানে নিহত মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়াসহ অনেকে। আলোচনা শেষে জাসাস শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

  • গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    এবিএনএ:   বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতেই নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় যুবদলের ৭৮ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্র রুদ্ধ করতে

    মির্জা ফখরুল বলেন,
    “আমরা গত ১৭ বছর ধরে এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। এখন যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

    তিনি বলেন,
    “চেষ্টা চলছে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে গণতন্ত্রের উত্তরণ ব্যাহত করতে। হাসিনা সরকারের নির্যাতন অতিক্রম করে আমরা এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ এসেছি। এখন আমাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ—ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি এবং রাজনীতি পুনর্গঠন।”

    বিএনপিই আগেও দেশ পুনর্গঠন করেছে

    বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, অতীতেও যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখন বিএনপিই দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এখন আবার সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত দলটি।

    রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

    সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন,
    “আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে এগিয়ে যাই। এটাই সময় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার। একযোগে কাজ করলেই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”

  • জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    এবিএনএ:  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত এক স্মরণ সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণই বিএনপির, তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।”

    রোববার রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

    ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে যদি তোমরা সাহস ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাও, তাহলে গণতন্ত্রকামী জনতা সবসময় তোমাদের পাশে থাকবে—ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    তারেক রহমান বলেন, “তোমরাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। লাখো সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর মুখ আজ আমার সামনে—এই শক্তির মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।”

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত দেড় দশকে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামলা, হামলা, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই আন্দোলনের সময়েই গ্রেফতার হন দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মী এবং শহীদ হন চট্টগ্রামের নেতা ওয়াসিমসহ অনেকেই।

    তারেক রহমান দাবি করেন, “স্বৈরাচারী শাসন বারবার দমন-পীড়ন চালালেও ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি। আজকের এই বিশাল জনসমাবেশ সেই সাহসিকতার প্রমাণ।”

    তিনি আবারও আহ্বান জানান, “সত্য ও সাহসকে ধারণ করো। কারণ গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।

  • “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ ও গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদ। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান সংসদের বাইরে থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বর্তমানে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি কোনো দল সংবিধান সংশোধন করতে চায়, তবে সেটি হতে হবে সংসদের ভেতরে, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা চলবে না।”

    গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “যারা নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে চায় বা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে, তারা আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সকল পরিবর্তন হতে হবে স্বচ্ছ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়।”

    রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐক্য প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলাই, তাহলে কোনো সংস্কারই বাস্তবায়িত হবে না। অন্যের মতকে সম্মান জানানো, সহনশীলতা এবং উদারতা ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না।”

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর অনেকেই মনে করছেন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ভেঙে গেছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, “প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব নীতি ও মতামত থাকবেই। কিন্তু ঐক্য মানে সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। যেখানে মতৈক্য হবে, সেখানে একসঙ্গে কাজ করবো। আর যে বিষয়গুলোতে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”

    আমীর খসরু বলেন, জনগণই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। সেই সিদ্ধান্তই সংসদে প্রতিফলিত হবে। কারণ, গণতন্ত্র মানেই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “সন্ত্রাসের বিষয়ে আমাদের নীতি স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেশের মাটিতে স্থান দেওয়া হবে না।”

    সোমবার বিকেলে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

    প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে চলমান শুল্ক আলোচনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সন্ত্রাসবাদ নির্মূল। রাষ্ট্রের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা এদের মুছে ফেলবো।”

    ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই রূপান্তর একটি স্থায়ী রূপ পাবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে যে কমিশন কাজ করছে, তা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার নিয়ে কার্যকর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, “অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। আমি মনে করি, তারা ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছেন এবং আমরা সামনে একটা ইতিবাচক ফল দেখতে পাব।”

    এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার সংগঠিত হচ্ছে এবং ক্ষমতা ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার আহ্বান—আর বিলম্ব নয়, দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের যে রূপ আমরা অতীতে দেখেছি, সেটি আবার ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের রুখে দিতে হলে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।”

    মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়। তারা ক্ষমতার লোভে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভয়ংকর আকার নিচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা সংস্কারের কথা বলেছি, প্রস্তাবও দিয়েছি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। আর এই দায়িত্ব এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।”

    ফখরুল বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। যদি হাতছাড়া হয়, তবে দেশ আবার অনেক পিছিয়ে যাবে। প্রতিবার আন্দোলনে তরুণদের প্রাণ যাবে, সেটি হতে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন ও আত্মত্যাগে প্রস্তুত।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে যারা আছেন, তারা যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন ব্যবস্থার রূপরেখা দেন। সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে, যেন কোনোভাবেই আর ফ্যাসিবাদের কাছে দেশকে ছেড়ে না দিতে হয়।”

  • কারাদণ্ড পেলেন এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইমামোলু, উত্তাল তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ

    কারাদণ্ড পেলেন এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইমামোলু, উত্তাল তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  তুরস্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় তৈরি করেছেন ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোলু। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতা এক সরকারি কর্মকর্তাকে অপমান ও হুমকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত তাকে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেন।

    এই রায় ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো মানুষ। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা এবং এর মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ইমামোলু কারাগারে আছেন। কিন্তু মামলার সূত্রপাত আরও আগে—২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আকিন গুরলেকের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি গুরলেককে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেন।

    এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মামলা, তারপর গ্রেপ্তার এবং অবশেষে আদালতের রায়। যদিও ইমামোলুর আইনজীবীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    ইস্তাম্বুলের রাস্তায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ দেখা গেছে এই রায়ের পর। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ইমামোলুর স্ত্রী দিলেক কায়া ইমামোলুও। বিক্ষোভে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এরদোয়ানের সময় শেষ। এই অন্যায়ের জবাব দেশের জনগণ দেবে।”

    ইমামোলু বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-এর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালে হওয়ার কথা, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এর আগেও নির্বাচন এগিয়ে আনা হতে পারে।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইমামোলু ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত।”

    ২০১৯ সালে ইমামোলু প্রথমবার ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন এবং গত বছর পুনর্নির্বাচিত হন ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে। গ্রেপ্তারের পর জেল থেকেই এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “জনগণ এরদোয়ানকে বার্তা দিয়েছে—এই অন্যায় আর বরদাশত নয়।”

    এই রায়ের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো, তুরস্কে বিরোধী রাজনীতিবিদদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে উঠছে অবস্থান। এখন পুরো বিশ্বের নজর থাকছে তুরস্কের রাজপথ ও আদালতপাড়ার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

  • নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের সঠিক ধারায় ফিরে আসা দরকার। বুধবার সকালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ-কে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে বিএনপি। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রে যাত্রার পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন সকল রাজনৈতিক দলকে মিলেই দেশের জন্য সঠিক পথ খুঁজে নিতে হবে। যত দ্রুত নির্বাচনমুখী ট্র্যাকে দেশ ফিরবে, ততই মঙ্গল।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা ভুল। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন না হলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে। আর সে কারণেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি। নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়, বরং দুটি একসাথে চলতে পারে।”

    এক প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ‘ফ্যাসিস্ট’ পন্থায় দেশ চালাচ্ছে এবং বিএনপি হচ্ছে সেই শাসনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম। তিনি বলেন, “আমার নামে রয়েছে ১১২টি মামলা, আমি ১৩ বার জেলে গিয়েছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

    শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে ফখরুল বলেন, “আমি মনে করি, শেখ হাসিনা হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে এবং যারা গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। প্রয়োজনে দলগতভাবে বিচার হওয়াও সময়ের দাবি।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়, শান্তি চায়, গণতন্ত্র চায়। এ জন্য একটি নির্বাচিত সরকার দরকার, যে সরকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, জবাবদিহিতার জায়গায় দাঁড়াবে।

  • “গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যের ডাক”—জাতীয় ঐক্য ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার

    “গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যের ডাক”—জাতীয় ঐক্য ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শহীদদের রক্ত বৃথা না যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    খালেদা জিয়া বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র ও জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ লড়াইয়ে নিহতদের ত্যাগ আমাদের পথ দেখায়।” তিনি তাদের জন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।

    তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই দেশে একদলীয় শাসনের ভয়াবহতা চলছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে দমন করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

    বিএনপির চেয়ারপারসন এ সময় গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য তালিকা প্রণয়ন, ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, “এই রক্তের মূল্য দিতে হবে। বীরদের আত্মত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়। আমাদের সবার দায়িত্ব শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়া এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সভার শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও শহীদদের অবদান তুলে ধরা হয়।

    খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করি, জনগণের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করি এবং আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি।”