Tag: গণতন্ত্র

  • ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ: তারেক রহমান

    ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ: তারেক রহমান

    এবিএনএ: গুম, খুন ও নানা ধরনের নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    তারেক রহমান বলেন, যদি আবারও দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালিত একটি সরকার দরকার—যে সরকার নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

    নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের কষ্ট যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। বিভিন্ন বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের সামনে তৈরি হওয়া গণতান্ত্রিক সুযোগ নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।

    শেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করতে না পারে।

  • খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, মানুষের ভালোবাসার শক্ত বার্তা দেখছে বিএনপি

    খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, মানুষের ভালোবাসার শক্ত বার্তা দেখছে বিএনপি

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতিকে দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জানাজায় মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের ভবনের ছাদ পর্যন্ত মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। নীতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়া আজীবন সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন, দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মাটি, মানুষ ও স্বাধীনতার প্রতি তার ভালোবাসাই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে তার প্রয়াণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক তৈরি করেছে। তাই তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় জানাজায় মানুষের চোখে জল দেখা গেছে। এই আবেগই প্রমাণ করে, খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি ছিলেন মানুষের আস্থার প্রতীক।

    বিএনপি মহাসচিবের মতে, খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনকে তিনি যেভাবে ধারণ করেছিলেন, সেই পথ ধরেই তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন—এমন প্রত্যাশা মানুষের।

    আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি দলকে দুর্বল করবে না; বরং মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

  • মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক গভীর শূন্যতার দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবিচল নেতৃত্বের প্রতীক—তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে দলীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই প্রয়াণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও দেশবাসীর দোয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হার মানেন তিনি।

    একসময় যিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ ও লাজুক গৃহবধূ, সময়ের প্রয়োজনে তিনিই হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা, এক-এগারোর রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন হয়ে ওঠে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস।

    ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুল রাজনীতিতে আসেন অনিচ্ছায়। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের সংকটময় মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজপথে নামেন। ১৯৮৩ সালে বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক যাত্রা।

    স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে এনে দেয় ‘আপোষহীন নেত্রী’র স্বীকৃতি। দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলনের পর ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

    তার শাসনামলে শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। যমুনা সেতু, মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা, মোবাইল ফোন খাত উন্মুক্তকরণ—সবই তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল।

    পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি কারাবরণ, গৃহবন্দিত্ব ও চিকিৎসাবঞ্চনার মতো অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবু কখনো আপস করেননি, কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। তার এই অবিচলতা তাকে ইতিহাসে গণতন্ত্রের এক অমর প্রতীকে পরিণত করেছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের পর তিনি নিঃশর্ত মুক্তি পান। মুক্তির পর প্রতিহিংসার পরিবর্তে তিনি আহ্বান জানান শান্তি, সহনশীলতা ও ঐক্যের।

    আজ তিনি নেই, কিন্তু তার আদর্শ, সাহস ও ত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এবং থাকবেন—এক অটল ধ্রুবতারা।

  • বারবার শান্তির বার্তা তারেক রহমানের: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় গণসংবর্ধনা মঞ্চে

    বারবার শান্তির বার্তা তারেক রহমানের: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় গণসংবর্ধনা মঞ্চে

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিই মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা। জনগণের দোয়ায় প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পারায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পরপর তিনবার বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই।” তারেক রহমানের ভাষায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে একজন মা নিশ্চিন্তে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারেন।

    তিনি আরও বলেন, যে দেশে মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে—সেই বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য। ১৯৭১ সালে যেমন দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালেও জনগণ সম্মিলিতভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, আজ দেশের মানুষ আবার কথা বলার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং মজবুত অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

    এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনার মঞ্চে পৌঁছালে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ৩০০ ফিট সড়ক ও আশপাশের এলাকা। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপস্থিত জনতার ভালোবাসার জবাব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত তার গাড়িবহরকে ঘিরে দেখা যায় বিপুল জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

  • সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা সরকার দৃঢ়ভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অল্প কিছু গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সেই আদর্শের সঙ্গে যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সমাজে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করা জরুরি।

    সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংবাদকর্মীদের ওপর আঘাত মানেই সত্য ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

    মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিকেই অস্বীকার করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিতর্ক নয়—মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও সত্য ইতিহাস চর্চাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।

    তাঁদের মতে, স্বাধীনতা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি জাতির ইতিহাসে নেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বস্তরের জনযুদ্ধ, যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং যার সশস্ত্র সূচনা ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে। এই যুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের যথাযথ সম্মান জানানো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

    বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণ অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনও ইতিহাসে নিজ নিজ গুরুত্ব নিয়ে স্থান পাবে। কোনো ব্যক্তি বা দলকে অস্বীকার করতে গিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করার সুযোগ নেই।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়িয়ে দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। এটি বাদ দিলে জাতির পরিচয়ও মুছে যাবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর যে প্রশ্নগুলো উঠছে, তা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফল। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়া। কিন্তু দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা সেই স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। উভয় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানবিক মর্যাদা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। একাত্তরের বিজয় ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে, আর চব্বিশের বিজয় কর্তৃত্ববাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে—এই লড়াই এখনও চলমান।

    বিশিষ্টজনদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সূচনাবিন্দু হতে হবে মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাস বিকৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নই জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।

  • স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে: মির্জা ফখরুল

    স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে দেশের জনগণ তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

    তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনবে।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। এ কারণেই বিজয় দিবস বিএনপির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    বিজয় দিবসের সকালে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

    প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পুরো জাতি, একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনায় নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে রাজনৈতিক দলগুলো।

  • বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    বিজয় দিবস হোক দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান বিজয় দিবসকে দেশের নতুন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, এই দিন হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দিন।

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীনতা এবং লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন জাতিসত্তা। এ বিজয় আমাদের দায়িত্ব দেয় দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে স্বাধীনতার আলো স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হলেও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন করে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন উৎখাত হবে, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

    তিনি বলেন, “চলুন, স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিই। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই মিলে হাতে হাত রেখে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাই।”

  • সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১৫ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    প্রধান অতিথি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

    জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন—ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানান তিনি। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)।যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • ১৬ ডিসেম্বর: গৌরবের বিজয়, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও জাতির আবেগের মহাকাব্য: তারেক রহমান

    ১৬ ডিসেম্বর: গৌরবের বিজয়, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও জাতির আবেগের মহাকাব্য: তারেক রহমান

    এবিএনএ: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে অহংকার, আনন্দ ও বেদনার এক অনন্য অধ্যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে জাতি বিজয় অর্জন করে। এ উপলক্ষে তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানান এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    তারেক রহমান বলেন, একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রত্যাশা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র সংকুচিত করা হয়েছে এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

    গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ফলে সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বারবার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজয় দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এখন সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বিজয় দিবসে সবাইকে বিভাজন ও সহিংসতা পরিহার করে মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।