Tag: গণতন্ত্র

  • সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের সঙ্গে তার পরিবারও রক্ত দিয়ে অংশীদার হয়েছে। বাংলাদেশ সবার—এই বার্তা তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদল জনগণের ভোটের মাধ্যমে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে সেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একসময় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্যাতন, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বড় রূপ নেয়। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।

  • একুশের চেতনায় গণতন্ত্রের নতুন অঙ্গীকার: অধিকার ও সমতায় দেশ গড়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    একুশের চেতনায় গণতন্ত্রের নতুন অঙ্গীকার: অধিকার ও সমতায় দেশ গড়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    এবিএনএ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একুশের মূল দর্শন ছিল জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা ও সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা। এই আদর্শকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা আরও দৃঢ় করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

    বাণীতে তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    একুশে ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম শুধু ভাষার দাবিতে সীমিত ছিল না; এই আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকারের বীজ বপন করে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও মজবুত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পথ সুগম হয়—এমন মূল্যায়নও উঠে আসে তার বক্তব্যে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাতৃভাষার জন্য বাঙালির ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজ একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে ভাষার অধিকার ও বৈচিত্র্য রক্ষার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

    দেশে ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন এবং সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। ভাষা শহীদসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • জনরায় উপেক্ষা মানেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা—বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের তীব্র হুঁশিয়ারি

    জনরায় উপেক্ষা মানেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা—বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের তীব্র হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতারা। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায় উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতি ফ্যাসিবাদের মতোই ভয়াবহ হতে পারে।

    ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে অনিয়ম, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার ও গণতন্ত্রের পক্ষে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা অগ্রাহ্য করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতারা।

    বিক্ষোভ শেষে নেতারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে রাজপথের কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

  • ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘ; এই পথে মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতিই হবে বিরোধী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দলটি সামগ্রিক ফলাফল স্বীকার করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

    নির্বাচনী সময়ে মাঠে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নানা চাপ ও হয়রানির মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিয়েছে। ফলাফলে হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি; সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী ব্লক হিসেবে দলটির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    তিনি অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তাই বিরোধী দলে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রেখে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ অব্যাহত থাকবে। দলটি নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায়।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সদ্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জাতির জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বলেন তিনি। ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন।

    আসন্ন সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের বার্তা—জনগণের ম্যান্ডেট কোনো ছাড়পত্র নয়; এটি শর্তযুক্ত দায়িত্ব। সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা। শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অঙ্গীকারে দলটি অবিচল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • ক্ষমতায় ফেরার পর সামনে কঠিন বাস্তবতা: অর্থনীতি সচল ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ—মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতায় ফেরার পর সামনে কঠিন বাস্তবতা: অর্থনীতি সচল ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ—মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: আগামী সরকার দায়িত্ব নিলে অর্থনীতি সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির লাগাম টানাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—এমন মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, দেশের অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর ও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মতে, বহু ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে।

    তবে এই সাফল্যের মাঝেও বেদনার কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই ঐতিহাসিক বিজয় দেখে যেতে পারেননি—এটি দলের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।

    গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। ভোটের সংস্কৃতি নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্যভাবে চালু থাকলে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হওয়া এবং দলটির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির আলোকে পরবর্তী সময়ে দলটির ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ধারিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • ভোট দিয়ে বেরিয়ে তারেক রহমানের বার্তা: বিএনপি জিতলে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা ফিরবে দেশে

    ভোট দিয়ে বেরিয়ে তারেক রহমানের বার্তা: বিএনপি জিতলে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা ফিরবে দেশে

    এবিএনএ: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল সরকার গঠন করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। ভোটাধিকার প্রয়োগের পর বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সকাল সাড়ে নয়টার পর গুলশান মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন তারেক রহমান। ভোট শেষে বেরিয়ে এসে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর ভোট দিতে পেরে ব্যক্তিগতভাবে স্বস্তি অনুভব করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে বিএনপির বিজয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলেও উল্লেখ করেন।

    সারাদেশে ভোটের আগের রাতে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এটি ইতিবাচক দিক। তিনি ভোটারদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থেকে ভোটারদের সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

    নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। জনসংখ্যার বড় অংশকে বাদ দিয়ে অগ্রগতি সম্ভব নয়। দল ক্ষমতায় এলে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নারীদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের উদ্যোগ শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে।

    সবাইকে নিয়ে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই নতুন দিনের সূচনা করবে।

  • ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খুলনাঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে এসব রুগ্ন শিল্পকে আবারও বিকশিত করা হবে। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে সেই সুযোগ এলে শিল্পাঞ্চল ঘুরে দাঁড়াবে।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী লুটপাটের মাধ্যমে শিল্পখাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

    সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যারা প্রতারণা করে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে না—এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। মত প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের। দীর্ঘদিন ধরে যে অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে, নির্ধারিত দিনে ইনশাআল্লাহ সেই অধিকার জনগণ প্রয়োগ করবে।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এ সময় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”: জনাব তারেক রহমানের ভাষণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

    “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”: জনাব তারেক রহমানের ভাষণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

    এবিএনএ: ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আমেরিকার বর্ণবৈষম্য বিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে উচ্চারণ করেছিলেন “আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম।” এই উক্তিটি কেবল একটি আবেগঘন বাক্য ছিল না; এটি ছিল ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের এক চূড়ান্ত প্রকাশ।

    এই ভাষণের মাধ্যমে আমেরিকার সর্বজনীন মানবাধিকার ও সমতার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সেদেশের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট (১৯৬৪) ও ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট (১৯৬৫) প্রণয়নে। রাজনীতির ইতিহাসে এটি এমন একটি ভাষণ, যেখানে নৈতিক আবেদন ও রাজনৈতিক লক্ষ্যের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল।

    এই ঐতিহাসিক ঘটনার বাষট্টি বছর পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের উপস্থিতিতে নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উচ্চারণ করলেন “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।” অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বরণ অনুষ্ঠান—কোন প্রতিবাদ সভা বা রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। সঙ্গত কারণেই তিনি তাঁর এই “প্ল্যান”-এর বিস্তারিত বিবরণ এই ভাষণে দেননি। তবু তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ ও উচ্চারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে নতুন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক-নৈতিক রূপরেখার অভাস পাওয়া যায়।

    জনাব তারেক রহমান বেশ পরিষ্কার কন্ঠেই বলেছেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।” কোন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এমন কথা প্রত্যাশিত হলেও, তাঁর ভাষণের শব্দচয়ন ও ভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে, এই বক্তব্য নিছক আনুষ্ঠানিক নয়। তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণটির অন্তর্নিহিত দর্শন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক-নৈতিক রূপরেখা অন্তত: দশটি মৌলিক স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হল:

    ১/ অকর্তৃত্ববাদী মনস্তত্ত্ব: সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ ‘আমিত্বে’ ভরপুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জনাব তারেক রহমানের ভাষণে এই আমিত্ব ছিল অনুপস্থিত। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তাঁর ভাষণে তিনি “আমরা” এবং “সকলে মিলে” – এ ধরনের শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব – যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।” লক্ষণীয় যে, “আমি” শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গায়, যেমন রাব্বুল অলামীনের অশেষ রহমতে আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি” বা “এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব।” ভাষা ব্যবহারে আমিত্বের এই অনুপস্থিতি যুক্তিসঙ্গতভাবেই ইঙ্গিত দেয় যে, জনাব তারেক রহমান অকর্তৃত্ববাদী মনোভাব ধারণ করেন এবং সম্ভাব্য রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার বদলে সম্মিলিত মতামত এবং অংশগ্রহণমূল রাজনীতিকে গুরুত্ব দিতে চান।

    ২/ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণের প্রথম অংশেই বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন “আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।” স্বৈরতান্ত্রিক সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন “শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন।” অর্থাৎ বাকস্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশের মানুষের আকাঙ্খা ও আত্মত্যাগের বিষয়টিকে তিনি একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে দেখছেন। কাজেই, মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার একটি অঙ্গীকার তাঁর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় থাকবে – এই প্রত্যাশা খুবই যৌক্তিক।

    ৩/ গণতান্ত্রিক-অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ: এ বিষয়টি লক্ষ্ করার মত যে, জনাব তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসাবে আসেনি, বরং এ দু’টো বিষয় সবসময় একসাথে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন “এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। …গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।” এখান থেকে বোঝা যায়, তিনি যথার্থই উপলব্ধি করেছেন যে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ছাড়া কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে একসাথে বিবেচনা করার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রাজনৈতিক রূপরেখাকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলবে বলে আশা করা যায়।

    ৪/ নারীর অধিকার ও প্রত্যাশা সুপ্রতিষ্ঠিত করা: সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উগ্রবাদীর কর্মকাণ্ডের কারণে নারীর অধিকার ইস্যুটি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় খুবই জাজ্বল্যমান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আশার কথা হল, জনাব তারেক রহমানের ভাষণে নারীর অধিকার ইস্যুটি গতানুগতিক ধারায় আসেনি, বরং তিনি এর সাথে যুক্ত করেছেন চমৎকার একটি ধারণা ‘নারীর প্রত্যাশা’। তিনি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছেন, নারীর অধিকার ও উন্নয়ন হবে নারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী; নারীর অধিকার ও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারিত হবে তাঁদের দ্বারাই – কোন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার দিয়ে নয়। এই প্রগতির ইঙ্গিতবাহী অভিনবত্ব খুবই আশা জাগানিয়া একটি বিষয়।

    ৫/ নাগরিকের সর্বজনীন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: স্বৈরতান্ত্রিক-ফ্যাসিস্ট শাসনামলের গুম-খুনের কথা উল্লেখ করে জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে সেই রক্তের ঋণ শোধ করতেই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা-শ্রেণি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা যাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নিরাপত্তা হতে হবে এতটাই সার্বিক যতটা সার্বিক নিরাপত্তা একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য প্রত্যাশা করেন। কাজেই, জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণ থেকে আমরা এই প্রত্যাশা করতে পারি যে, তাঁর রাজনৈতিক রূপরেখায় নাগরিকের সর্বজনীন এবং সার্বিক নিরাপত্তা একটি মৌলিক ও আবশ্যিক বিষয় হিসাবে বিদ্যমান আছে।

    ৬/ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় উজ্জীবিত ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম: জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ এর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং বিশেষভাবে ২০২৪ এর গণঅভ্যূত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, এগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে আনার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ ও এর জনগণকে রক্ষা করা। জনগণের এই রক্তাক্ত বিপ্লবসমূহ সম্পর্কে জনাব তারেক রহমানের দৃপ্ত উচ্চারণ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, যে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” – এর অবতারণা করেছেন, তাঁর ভিত্তিমূলে রয়েছে এই বিপ্লবসমূহের চেতনা যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে প্রেরণা যোগাবে।

    ৭/ ইসলামী মূল্যবোধ ও আধুনিক-উদারনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়: বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসাধারণ একই সাথে ধর্মপ্রাণ এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ বিরোধী। তাঁরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সমতার ভিত্তিতে শান্তিতে বসবাসে আগ্রহী। তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণে এই জন-অভিপ্রায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শুরু করে এক পর্যায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমরা সকলে নবী করিম (সা.) -এর যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা করার এই প্রতিজ্ঞার পাশাপাশি তিনি এটিও নিশ্চিত করেছেন যে, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তিনি উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবেন না; বরং, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমতা ও সম-অধিকারের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছেন “এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন “যেকোন ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে – এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।” কাজেই, তাঁর ভাষণ থেকে এমন অনুমান করা যৌক্তিক যে, ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে সকল ধর্মমতের মানুষের সমতা ও সম-অধিকারের নিশ্চয়তার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও উদারনৈতিক রাষ্ট্র কায়েম করা তাঁর ‘প্ল্যান’-এর অংশ।

    ৮/ অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ভাবনা: জনাব তারেক রহমান তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন, সেখানে তিনি তাঁর ভাষায় “আরো যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ আছেন” তাঁদেরকে নিয়েই সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা বলেছেন। কাজেই, তাঁর রাষ্ট্র ভাবনায় কেবল তিনি বা তাঁর দল নয়, বরং অন্তর্ভুক্ত আছে সকল দল। শুধুমাত্র যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলমতকেই তিনি তাঁর পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করছেন এমন নয়, তিনি চাইছেন সকল শ্রেণি-পেশা-ধর্মের মানুষকে এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করতে। তিনি যেমন রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের অর্ন্তভূক্তি ও অংশগ্রহণের কথা জোর দিয়ে বলেছেন, তেমনই তাঁর এই অর্ন্তভূক্তিমূলক পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি চল্লিশ লক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষও। রাষ্ট্র গঠনে সকলের এই অন্তর্ভুক্তি প্রকারন্তরে রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানাকেই প্রতিফলিত করে।

    ৯/ রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা: জনাব তারেক রহমানের ভাষণে বারবার ধৈর্যধারণের কথা এসেছে। সকল সমস্যাকে তিনি ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করার পরামর্শ দিয়েছেন; উস্কানির মুখেও সকলকে ধীর এবং শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর ভাষণও ছিল সম্পূর্ণরূপে উস্কানিমুক্ত যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, এমনকি তাঁর ও তাঁর পরিবার যে শক্তির নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও তিনি কোন কঠোর শব্দচয়ন করেননি। এ থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় এমন একটি বাংলাদেশ থাকবে যেখানে পারস্পরিক হানাহানির বদলে রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পাবে।

    ১০/ শান্তিই রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় লক্ষ্য: বাংলাদেশের জনগণের যত সংগ্রাম, যত ত্যাগ আছে, তার মূল লক্ষ্য শান্তিতে বসবাস করার চিরাচরিত প্রত্যাশা। আর জনগণের এই চিরাচরিত প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি করে জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দৃপ্তভাবে উচ্চারণ করেন “আমরা দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই।” যে শান্তির কথা তিনি এখানে বলেছেন, তা নিরাপদ নাগরিক জীবনের প্রতিশ্রুতি বহন করে; এটি এমন এক সামাজিক অবস্থা, যেখানে নাগরিকগণ ভিন্নমত পোষণ করেও নিরাপদে থাকবেন এবং রাষ্ট্রকে ভয় নয়, বরং আস্থার জায়গা হিসাবে দেখবেন। এমন একটি শান্তিময় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক রূপরেখায় থাকবে, সেই ইঙ্গিতই তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণের কেন্দ্রীয় উপজীব্য বিষয়।

    দোদুল্যমানতা ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত ২০২৫ সাল শেষ হল দেশের সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব, দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, জাতির সর্বোচ্চ অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে ২০২৬ এর শুরুটা তাই কেবল বেদনা বিধুর নয়, ভয় এবং আশঙ্কারও বটে। সন্দেহ নেই, এই ভয় এবং আশঙ্কার সময়ে জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণটি খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে বারবার ফিরে আসবে। এ ধারণা অমূলক নয় যে, বাষট্টি বছর আগে দেয়া মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র -এর ভাষণটির মতই জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” খ্যাত ভাষণটিও ঐতিহাসিক এবং কালোত্তীর্ণ একটি ভাষণ হিসাবে ভবিষ্যতে বিবেচিত হবে।

    লেখক:- প্রফেসর ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর
    দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • দেশ বদলাতে হলে আগে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে: তরুণদের সামনে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা

    দেশ বদলাতে হলে আগে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে: তরুণদের সামনে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: রাষ্ট্র পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত দুই দশকে দেশের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ‘দ্য প্ল্যান–ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তরুণদের নানা প্রশ্ন ও মতামতের উত্তর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

    তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, “দেশকে পরিচ্ছন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে আগে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন কখনো স্থায়ী হতে পারে না।” বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তরুণ সমাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের চার কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানকে এই কার্ড দেওয়া হবে।

    এই কার্ডের আওতায় মাসিক দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য আলাদা সহায়তা কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা সরাসরি জানান।

  • আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংখ্যালঘুর অধিকার কেন বারবার উপেক্ষিত হয়?

    আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংখ্যালঘুর অধিকার কেন বারবার উপেক্ষিত হয়?

    এবিএনএ: গণতন্ত্র ও আইনের শাসন দুর্বল হলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার কখনোই পূর্ণতা পায় না—এমন মত দিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রান্তিকীকরণ এখন কেবল একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং পুরো অঞ্চলজুড়েই এটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

    রোববার রাজধানীতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘সবার জন্য গণতন্ত্র: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, যখন বলা হয় অধিকার সবার জন্য, তখন দলিত, আদিবাসী বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা সংগঠনের প্রয়োজন কেন—এই প্রশ্ন উঠে আসে। বাস্তবতা হলো, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। এ অবস্থা কাটাতে সমষ্টিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার মূলত মানবাধিকার। যে রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, সেখানে মানবাধিকার সংকট তৈরি হয় না। তবে ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতি মানবিক মূল্যবোধের বিপরীতমুখী হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

    তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং সংসদে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ সরকারকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

    ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের কথা শোনার মানসিকতা সরকারের মধ্যে নেই। ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে তারা একাধিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন।

    ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, বর্তমানে দেশে যে সহিংসতা ও ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে, তা সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই কি সেই বাংলাদেশ, যার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম?

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, সংখ্যালঘুরা কথা বলতে ভয় পায়, কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের কার্যকর সংযোগ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকেই এই ভয়ের পরিবেশ ভাঙতে এগিয়ে আসতে হবে।

    ‘নিজেরা করি’-এর সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, ‘মাইনরিটি’ শব্দটি একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া, যা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিক করে রাখে। গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলেও সংখ্যালঘুরা এখনো মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।

    সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ থাকলেও সংবিধানে তাদের অধিকার বাস্তবায়নের কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সংখ্যালঘুদের কথা থাকলেও বাস্তবে তার বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

    পল্লব চাকমা ও ইলিরা দেওয়ান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে যদি সংখ্যালঘু অধিকার স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।