Tag: গণতন্ত্র

  • শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ আজও অপূর্ণ, গণতন্ত্র বারবার রুদ্ধ হয়েছে: তারেক রহমান

    শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ আজও অপূর্ণ, গণতন্ত্র বারবার রুদ্ধ হয়েছে: তারেক রহমান

    এবিএনএ: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ আজও গড়ে ওঠেনি। তার ভাষায়, দেশে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়েছে এবং একদলীয় শাসনের আবহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করেছে।

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় তিনি ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হওয়া শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কলম ধরেছিলেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাদের জীবনাদর্শ আজও জাতিকে প্রেরণা জোগায়।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার উদ্দেশ্য ছিল সদ্যস্বাধীন দেশকে মেধাশূন্য করে ফেলা এবং বিজয়ের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া। সেই ক্ষত আজও জাতির স্মৃতিতে গভীর বেদনার জন্ম দেয়। তবে জ্ঞানচর্চা, মুক্ত চিন্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে আদর্শ তারা রেখে গেছেন, তা একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনের শক্তি জোগায়।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লেখালেখি ও ভিন্নমতের সুযোগ এখনও নানা সংকটে আবদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর যদি আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তাহলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে।

    শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

  • তপশিল ঘোষণায় আশ্বস্ত বিএনপি: ‘গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে’—মির্জা ফখরুল

    তপশিল ঘোষণায় আশ্বস্ত বিএনপি: ‘গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে’—মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ঘোষিত তপশিল বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে—সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত এবং জনগণকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিইসির তপশিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “তপশিল ঘোষণায় আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”

    তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তারিখ ঘোষণা হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে—এটি দেশের রাজনীতিতে বড় একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ফখরুল আরও বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে এবং সব প্রার্থী এ প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর করতে সহযোগিতা করবেন।

    বিএনপি মহাসচিব মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের দিন।”

  • বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, ড. ইউনূস নিয়মিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসার সকল অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

    ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় সবাই দোয়া করুন। তাঁর অসুস্থতা শুধুমাত্র একটি পরিবার বা দলের বিষয় নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রধান উপদেষ্টা সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইন তড়িঘড়ি করে পাসের উদ্যোগ সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনো গণম্যান্ডেট ছাড়াই পাস করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

    শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা তথ্য পেয়েছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং এনজিও সংক্রান্ত একটি আইন দ্রুত পাস করাতে চাচ্ছে। এই আইনের পেছনে সরকারের এমন একটি উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা আদতে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, “জনগণের অনুমতি এবং মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক আইন পাস করা কখনোই সমীচীন হতে পারে না। আমরা মনে করি, এসব আইন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদে যথাযথ যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করাই যথাযথ হবে।”

    তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন অগণতান্ত্রিক ও তাড়াহুড়োপূর্ণ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য, কারণ এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ‘মব ভায়োলেন্স থেকে বেরিয়ে আসলেই প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র’: মির্জা ফখরুল

    ‘মব ভায়োলেন্স থেকে বেরিয়ে আসলেই প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র’: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সহনশীলতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অটুট রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে ভিন্নমতকে সম্মান করা, আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু যখন আমরা মব ভায়োলেন্স বা সহিংস ভিড়তন্ত্রে জড়িয়ে পড়ি, তখন গণতন্ত্রের আসল চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।’

    বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটা পরিবর্তনের পথে হাঁটছি। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, শিডিউল এখনও হয়নি, কিন্তু নির্বাচনই শেষ কথা নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, সেটাই আসল অর্জন।’

    গণতন্ত্রের মূল বার্তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তোমার মতের সঙ্গে আমি একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আমি আমার জীবন দিয়েও তা ধরে রাখব— এটাই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি টেকসই রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে গণতন্ত্রকে বাস্তবভাবে প্রতিপালন করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কার্যকর সংসদ, স্বচ্ছ মিডিয়া ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে।’

    রাজনীতিতে বিভাজন ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু মহল সচেতনভাবে দেশের ভিন্নমতের মানুষের মধ্যকার বিভক্তি বাড়াতে চাইছে, যাতে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে এগোনো বন্ধ হয়। এগুলো আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

    তিনি বিএনপির ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিএনপি বিপ্লবী নয়, এটি একটি লিবারাল ডেমোক্রেটিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসছি।’

    অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল হক, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

  • অস্থিরতার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা ছিলেন মওদুদ আহমদ: মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

    অস্থিরতার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা ছিলেন মওদুদ আহমদ: মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা এখন এমন এক অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি, যেখানে মানুষের আশা ও গণতন্ত্রের পথ প্রায় অন্ধকারে ঢাকা।” তিনি জানান, এই অনিশ্চয়তার সময়টিতে যে ক’জন মানুষ দেশের জন্য সত্যিকারের দিকনির্দেশনা দিতে পারতেন, তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন অন্যতম। তাঁর কণ্ঠে দুঃখের সুর—“খুব আফসোস হয়, তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন দেখে যেতে পারেননি, যা তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা করেছিলেন।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    তিনি বলেন, “মওদুদ আহমদ শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন ইতিহাসের একজন গভীর পর্যবেক্ষক। আন্তরিকভাবে ইতিহাসচর্চা ও সত্যিকারের রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন এক অনন্য প্রজ্ঞাবান ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব।”

    স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “২০১২ সালে আমরা ১৭ জন যখন প্রথমবারের মতো কারাবন্দি হলাম, তখন দেখলাম ব্যারিস্টার মওদুদ খুব দ্রুত ডিভিশন সেলের দিকে যাচ্ছেন। জানতে পারলাম, তিনি রুম নাম্বার ওয়ানে গিয়ে লিখতে বসবেন। কারাগারে তিনি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত লিখতেন, শুধু খাবারের সময় একটু উঠতেন। তাঁর লেখালেখির প্রতি যে নিষ্ঠা ছিল, তা সত্যিই অনুকরণীয়।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাসহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অবদান, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না— এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এই প্রশ্নে বিএনপি কখনোই আপস করবে না।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি।

    নির্ধারিত প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। আমরা যেকোনো মূল্যে এই মর্যাদা রক্ষা করব। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষের ভোট ও মতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।”

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক। তিনি একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।”

  • “অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ জনগণের সেবা, দলীয় স্বার্থ নয়”—হুঁশিয়ারি তারেক রহমানের

    “অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ জনগণের সেবা, দলীয় স্বার্থ নয়”—হুঁশিয়ারি তারেক রহমানের

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ জনগণের স্বার্থে, কোনো দলের নয়—এ কথা জোর দিয়ে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হলো একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

    শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আয়োজিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ কারও দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন নয়। বিএনপি সবসময় ভিন্ন মতকে শ্রদ্ধা করে, আর মতভেদের জায়গায় আমরা রাখি ‘নোট অফ ডিসেন্ট’। এটাই আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।”

    হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় যেন কেউ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই এই স্বাধীন বাংলাদেশের সমান নাগরিক। বিএনপির কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থই সবার আগে।”

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “ফ্যাসিবাদের সময়ে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা করা হয়েছিল, শত শত কর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছিলেন। কারণ দেশে তখন আইনের শাসন ছিল না।”

    তারেক রহমান বলেন, “ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু—কোনো নাগরিকই নিরাপদ নয়। ন্যায়বিচারই পারে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রামু বৌদ্ধ বিহার বা নাসিরনগর হামলার মতো ঘটনাগুলোর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। বিএনপি সবসময় নাগরিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।”

    বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে বলেন, “দেশ অস্থিতিশীল হলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।”

    তিনি বলেন, “গুপ্ত কৌশলে অপশক্তি যাতে দেশকে অস্থিতিশীল না করতে পারে, তার জন্য জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা জরুরি। বিএনপি সহযোগিতা ও সমঝোতার রাজনীতি বজায় রাখবে।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় এলে বিএনপি প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের ফার্মাস কার্ড, এবং বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেবে।

    তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জন্য থাকবে সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা।”

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবু সোমনাথ দে, উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা।

  • বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    এবিএনএ:  বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “আজ যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে। কিন্তু এ বাস্তবতা ঠেকাতে নানা রকম অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। অতীতে স্বৈরাচারী শাসকদের মতো বর্তমানেও বিএনপিকে রুখে দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

    তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যারা বিজয় ঠেকাতে শর্তের বেড়াজাল তৈরি করছেন, তাদের বলবো রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবিলা করুন।”

    পিআর পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। তবে রাজনৈতিক মতভেদের মধ্যেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য আছে, যা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

    সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন তারা গণতন্ত্রের উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করছেন। গণতান্ত্রিক শক্তির বিরোধ এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যাতে সুযোগ নেয় পলাতক স্বৈরাচার।”

  • কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটবে অদ্ভুত ঘটনা, সতর্ক করলেন মেজর (অব.) হাফিজ

    কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটবে অদ্ভুত ঘটনা, সতর্ক করলেন মেজর (অব.) হাফিজ

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে এক “অদ্ভুত ঘটনা” ঘটতে যাচ্ছে। তার মতে, বিশ্বের সব দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সংবিধান সংশোধন করেন, অথচ বাংলাদেশে তা করছেন একদল অনির্বাচিত ব্যক্তি।

    মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    হাফিজ বলেন, “যারা আমেরিকা, লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন, ১৭ বছরের কোনো আন্দোলন বা জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে অংশ নেননি, তারাই এখন সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চাইছেন।”

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থ হলে জিয়া জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে সামনে আসেন।

    যুবশক্তির প্রসঙ্গে হাফিজ বলেন, “বিশ্ব আমাদের দরিদ্র দেশের কাতারে ফেলতে চায়। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার ডলার সমৃদ্ধ পরাশক্তির চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ধনী, কারণ এদেশে আবু সাঈদের মতো সাহসী সন্তান জন্ম নেয়।”

    তিনি উল্লেখ করেন, “নিরস্ত্র হয়েও যারা গণতন্ত্রের জন্য গুলি খেয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। আমাদের গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।