Tag: এনসিপি

  • টাঙ্গাইলে ছাত্রদের জোর করে এনসিপির পদযাত্রায় নেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল শহর

    টাঙ্গাইলে ছাত্রদের জোর করে এনসিপির পদযাত্রায় নেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল শহর

    এবিএনএ:  টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে জোরপূর্বক পাঠানোর ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহর। অভিযোগ উঠেছে, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রদের তাদের পদযাত্রায় নিয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ করেন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। এ সময় তাঁরা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি চলবে না’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন।

    বক্তব্যে শিক্ষার্থী সাইফুল বারী, সাবেক শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ ও সজিব আহমেদ বলেন, “২৯ জুলাই ক্লাস চলাকালীন সময়ে এনসিপির নেতারা বিদ্যালয়ে ঢুকে ছাত্রদের সমাবেশে যেতে বাধ্য করেন। এতে শিক্ষক ও নেতাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাস বাতিল করে ছুটি দিতে বাধ্য হন।”

    তাঁরা আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের খেলার মাঠ নয়। যারা ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি রইল।”

    এ বিষয়ে এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ভবিষ্যতে এনসিপির কোনো প্রোগ্রামে তাদের ডাকা হবে না।”

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, “বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এনসিপির নেতারা ছাত্র চেয়েছিলেন, তবে আমরা তা অস্বীকার করেছি। পরে হয়তো ছুটির পর কেউ স্বেচ্ছায় গিয়েছেন।”

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ১টায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রাটি শামছুল হক তোরণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিরালা মোড়ে শেষ হয়।

  • মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি, আহত অন্তত ৩০

    মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি, আহত অন্তত ৩০

    এবিএনএ:  কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যখন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেলে। পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সম্প্রচারিত একটি টিভি প্রতিবেদনের প্রতিবাদে এনসিপি ও ছাত্রলীগ সমর্থিত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবাদে পৃথক একটি মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

    দুই পক্ষের কর্মসূচি মুরাদনগর উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রথমে উত্তেজনা, পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় উভয়পক্ষ।

    এই ঘটনায় সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন: স্টার নিউজের আব্দুল্লাহ আল মারুফ, খোলা কাগজের শাহ ইমরান, বার্তা ২৪-এর মহিন নাসের খান রাফি, হাবিবুর রহমান মুন্না, মাহফুজ আনোয়ার সৌরভ ও এসএ টিভির ক্যামেরাম্যান মো. বাপ্পি।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বাকিদের কুমিল্লা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মিনাজুল হক জানান, “আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিতে বিএনপির লোকজন হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির মতো ইট ছোঁড়া হচ্ছে।”

    অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বলেন, “ছাত্রদলের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল। হঠাৎ এনসিপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন আমাদের অফিসের সামনে এসে হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হন।”

    মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) আমিন কাদের খান বলেন, “দুই পক্ষের কর্মসূচি একত্রে হওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” তিনি জানান, এখনো কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি, তবে উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের সভা-সমাবেশের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

    মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সেদিনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ছিল ফ্যাসিস্ট কায়দার। তারা নির্বিচারে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে। পরে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের ঘটনা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।”

    আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিন ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সাধারণ জনতা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী রাস্তা দখলে নিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়।

    ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জে জারি হয় ১৪৪ ধারা এবং শুরু হয় নির্বিচারে গ্রেপ্তার। আসকের তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নিরীহ মানুষের ঘরে ঘরে অভিযান চালানো হয়, যেসব এলাকায় কোনো সহিংসতা হয়নি সেখানেও হয়রানি চলে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত ইমন তালুকদার, রমজান কাজী, দীপ্ত সাহা ও সোহেল মোল্লার মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে দাফন বা সৎকারে বাধ্য করা হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২১ জুলাই তিনজনের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

    আসকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ সংক্রান্ত ৮টি মামলা হয়েছে, যার ৬টির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ৫,৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৮ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। আসামিদের মধ্যে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপস্থিতিও রয়েছে।

    এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৮ শিশুকে আটক করেছে, যাদের অনেককেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যদিও তাদের পরিবার দাবি করেছে, এসব শিশুরা সংঘর্ষে সম্পৃক্ত ছিল না।

    তথ্য সংগ্রহে গেলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের কথাও উল্লেখ করেছে আসক। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা কোনো মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করেনি এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক সমাবেশে বাধা দেওয়া কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়। আগে থেকেই পুলিশ সতর্ক থাকলে এ রকম প্রাণহানি হতো না।”

    আসক জোর দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং নির্দোষ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    সর্বমোট মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫০ জনকে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ৩১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

    মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় বাদী হয়েছেন জেলার বাসিন্দা তানিয়া জামান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্ল্যা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০০ থেকে ১,০০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএম নাসির আহম্মেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম জুলকদর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মুনির হিটলার, সাবেক জিপি দেলোয়ার হোসেন সরদার, জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু এবং মুকসুদপুরের সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল।

    এছাড়াও কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও ওড়াকান্দি এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার নামও এজাহারে রয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলা ও উচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

  • বিএনপি-জামায়াতসহ ৪ দলের সঙ্গে রাতে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

    বিএনপি-জামায়াতসহ ৪ দলের সঙ্গে রাতে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ: রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশের চলমান সংকট ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাত ৯টায় এই বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতের নায়েবে আমীর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

    সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, সোমবার রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ করেন মাইলস্টোন কলেজ ও আশপাশের শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।

    এছাড়াও মাইলস্টোন ও এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের গেটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর গুলিস্তান ও সচিবালয় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে সাধারণ মানুষকেও অংশ নিতে দেখা যায়।

    এই পটভূমিতে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টার এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • নিবন্ধনের দৌড়ে ১৪৪ দল, কিন্তু নেই গঠনতন্ত্র, কমিটি, কার্যালয়: ইসির চিঠিতে অস্বস্তিতে সব দল

    নিবন্ধনের দৌড়ে ১৪৪ দল, কিন্তু নেই গঠনতন্ত্র, কমিটি, কার্যালয়: ইসির চিঠিতে অস্বস্তিতে সব দল

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করতে আগ্রহী ১৪৪টি দল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও তাদের অধিকাংশই নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এসব দলের অনেকেরই নেই গঠনতন্ত্র, সক্রিয় কেন্দ্রীয় বা জেলা কমিটি কিংবা নিজস্ব কার্যালয়ের ঠিকানা।

    নিয়ম অনুযায়ী, ইসি আবেদনপত্র যাচাই করে প্রতিটি দলকে ১৫ দিনের সময় দিয়েছে তথ্যের ঘাটতি পূরণে। ১৫ জুলাই থেকে শুরু করে দুই ধাপে প্রথমে ৬২টি এবং পরে আরও ৮২টি দলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঘাটতির বিস্তারিত উল্লেখ করে যথাযথ নথিপত্র জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    আইনি শর্তানুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, একটি সচল কেন্দ্রীয় কার্যালয়, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলার কার্যকর কমিটি, ১০০ উপজেলা বা মহানগরে কার্যালয় এবং প্রতিটি কার্যালয়ে ২০০ ভোটার সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া ১০টি নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ ও নিবন্ধন ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হয়।

    এনসিপির আবেদনেও একাধিক ঘাটতি পাওয়া গেছে। ইসি থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের তালিকা, অফিস ভাড়া সংক্রান্ত দলিল, ভোটার সদস্যদের পূর্ণ তালিকা ও গঠনতন্ত্রের মধ্যে সংসদীয় বোর্ডের প্রার্থী মনোনয়নের বিধান অনুপস্থিত। এমনকি কিছু জায়গায় একই ভোটারের নাম একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, তাদের আবেদনে যে ত্রুটিগুলো পাওয়া গেছে, তা সংশোধনের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া হবে।

    অন্যান্য দলগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। অন্তত ৩০টি দলের নেতারা ইসির চিঠিতে উল্লেখিত ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। অনেকেই গঠনতন্ত্র, অফিসের কাগজপত্র, এমনকি নিবন্ধন ফিও জমা দেননি।

    কিছু দলের অবস্থা আরও দুর্বল। যেমন—বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পার্টি, জাস্টিস পার্টি, তৃণমূল জনতা পার্টি, মুক্তি ঐক্যদল, জনজোট পার্টি, ইনসাফ দল, বেকার মুক্তি পরিষদ, ইউনাইটেড পার্টি, আজাদী পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট পার্টির ঘাটতি অনেক বেশি।

    ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “সব দলের তথ্যেই ঘাটতি রয়েছে। ১৫ দিনের সময়সীমা শেষে যারা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের আবেদন বাতিল হবে।”

    নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই চালানো হবে, এবং কোনো ধরনের অসংগতি ধরা পড়লে তা দলটির নিবন্ধনপ্রাপ্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

    এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান প্রমাণ করছে—নিবন্ধন শুধু দল গঠনের ঘোষণা দিয়ে নয়, বাস্তব কাঠামো ও সাংগঠনিক উপস্থিতি দিয়েই অর্জন করতে হবে।

  • গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ না কাটায় ফের বাড়ানো হয়েছে কারফিউ। শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ কার্যকর থাকবে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে শনিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল থাকবে, তবে শহরের রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল এখনো সীমিত।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির একটি পদযাত্রা কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ওই সংঘর্ষে গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওইদিনের সংঘর্ষে ৫ ঘণ্টার ভেতর প্রাণ হারান অন্তত চারজন, যাদের একজন বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মারা যান।

    সংঘর্ষের সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এরপর বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত থাকায় সরকার কারফিউ তুলে না নিয়ে তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার বিরতি দিয়ে কারফিউ জারি থাকে। এরপর বিকালে আবারও কারফিউ বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আংশিক শিথিলতা থাকলেও, রাত ৮টার পর পুনরায় কঠোর কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

  • কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও প্রাণহানির পরদিন কোটালীপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে দেড় হাজার নেতাকর্মীকে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কোটালীপাড়া থানার এসআই উত্তম কুমার সেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এতে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১ হাজার ৩৪৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল আলিম, মহিবউল্লাহ শেখ, সিরাজুল শেখ, দীপ্ত কাজী, প্রিন্স অধিকারী, মোরশালিন মুন্সী, রিফাত বিশ্বাস, সাগর শেখ, মানিক শেখ, সজল দাড়িয়া, আব্দুল হাকিম ও টুটুল হাওলাদার।

    তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ওয়াবদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়েছে।

    এর আগে বুধবার গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পদযাত্রা চলাকালে সংঘর্ষে প্রাণ হারান পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল রানা, ইমন এবং রিকশাচালক রমজান মুন্সী।

    সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপিনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ আলী আরও একটি মামলা করেন, যাতে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবারও কারফিউ কার্যকর রাখা হয়।

    স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রশাসন বলছে, শান্তি বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতভর মুকসুদপুর ও কাশিয়ানি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ।

    তিনি জানান, কাশিয়ানির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ২৪ জন, মুকসুদপুর এলাকায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জনকে সদর থানার একটি মামলায়, ২০ জনকে কাশিয়ানির মামলায় এবং বাকি ১০ জনকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এদিকে সদর থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, তাঁদের থানার দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির গোপালগঞ্জ সমাবেশ শুরুর আগেই শহরের পৌর পার্কে দলটির মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা চেয়ার ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কড়া নজরদারির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন থানায় নতুন করে আরও মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

  • গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    এবিএনএ,গোপালগঞ্জ :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির পর গোপালগঞ্জে জারি করা কারফিউর সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন করে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।”

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছিল। পরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এবার তা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কারফিউ চলাকালীন জরুরি সেবার বাহন ব্যতীত অন্য সব ধরনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

    এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে গোপালগঞ্জ জুড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।